You are here
Home > পুঁজিবাদ > ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস প্রসঙ্গে — ভি আই লেনিন

ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস প্রসঙ্গে — ভি আই লেনিন

প্রথম অংশ পড়তে এই লিংকে যান

এঙ্গেলস সোশ্যালিস্ট হয়ে ওঠেন কেবল ইংল্যান্ডেই। ম্যাঞ্চেস্টারে তিনি তদানীন্তন ইংরেজ শ্রমিক আন্দোলনের কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং ইংরেজ সমাজতন্ত্রী প্রকাশনাগুলিতে লিখতে শুরু করেন। ১৮৪৮ সালে জার্মানিতে ফেরার পথে প্যারিসে মার্কসের সঙ্গে তাঁর সাক্ষাৎ পরিচয় হয়, চিঠিপত্রের যোগাযোগ আগেই ঘটেছিল। মার্কসও প্যারিসে ফরাসী সমাজতন্ত্রী ও ফরাসি জীবনের প্রভাবে সমাজতন্ত্রী হয়ে উঠেছিলেন। দুই বন্ধু এখানে একত্রে লেখেন ‘পবিত্র পরিবার অথবা সমালোচনামূলক সমালোচনীয় সমালোচনা’। বইটি প্রকাশিত হয় ‘ইংল্যান্ডে শ্র্রমিক শ্রেণীর অবস্থা’র এক বছর আগে, এবং তার বেশির ভাগটাই মার্কসের লেখা; বিপ্লবী বস্তুবাদী সমাজতন্ত্রের প্রধান যে সব কথা আগে বলেছি, তারই বুনিয়াদ পেশ করা হয় এই বইয়ে। দার্শনিক বাউয়ের ভ্রাতারা ও তাঁদের অনুগামীদের ব্যঙ্গ নাম হলো ‘পবিত্র পরিবার’। এই ভদ্রলোকেরা এমন সমালোচনা প্রচার করতেন, যা সবকিছু বাস্তবতার উর্ধ্বে, পার্টি ও রাজনীতির উর্ধ্বে, সমস্ত ব্যবহারিক ক্রিয়াকলাপ তা বর্জন করে পরিপার্শ্বের জগত ও তার ঘটনাবলী নিয়ে কেবল ‘সমালোচনামূলক’ ভাবনায় ব্যাপৃত । শ্রীমান বাউয়েরা সমালোচনায় অসমর্থ জনগণ হিসাবে প্রলেতারিয়েতের প্রতি নাক উঁচু ভাব করতেন। এই কান্ডজ্ঞানহীন ও ক্ষতিকর ধারার বিরুদ্ধে মার্কস ও এঙ্গেলস দৃঢ়চিত্তে দাঁড়ান। শাসক শ্রেণী ও রাষ্ট্র কর্তৃক দলিত শ্রমিক, এই বাস্তব একটি মানবিক ব্যক্তিসত্তার নামে তাঁরা শুধু ভাবনা নয়, উন্নত সমাজ গঠনের জন্যে সংগ্রামের দাবি করেন। সেরূপ সংগ্রাম চালাতে সমর্থ ও তাতে স্বার্থসম্পন্ন যে শক্তি, সেটা তাঁরা অবশ্যই দেখেন প্রলেতারিয়েতের মধ্যেই। ‘পবিত্র পরিবারের’ আগেই মার্কস ও রুগের ‘জার্মান ফরাসি পত্রিকায়’ এঙ্গেলসের ‘অর্থশাস্ত্র বিষয়ে সমালোচামূলক নিবন্ধ’[৩] ছাপা হয়, এতে সমাজতন্ত্রের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে বর্তমান অর্থনৈতিক ব্যবস্থার মূল ঘটনাগুলিকে দেখা হয় ব্যক্তি মালিকানার প্রভুত্বের অনিবার্য পরিণাম হিসাবে। মার্কসের রচনায় যে বিজ্ঞানে পুরো একটা বিপ্লব ঘটে যায় সেই অর্থশাস্ত্রের চর্চা করার জন্যে মার্কস যে সিদ্ধান্ত নেন, তার পেছনে এঙ্গেলসের সঙ্গে যোগাযোগের ঘটনাটা নিঃসন্দেহে সাহায্য করেছে।

১৮৪৫ সাল থেকে ১৮৪৭ সাল পর্যন্ত সময়টা এঙ্গেলস ব্রাসেলস ও প্যারিসে কাটান, এবং তাঁর বৈজ্ঞানিক চর্চার সঙ্গে সঙ্গে ব্রাসেলস ও প্যারিসের জার্মান শ্রমিকদের মধ্যে ব্যবহারিক কাজকে মিলিয়ে নেন। এইখানে গুপ্ত জার্মান সমিতি ‘কমিউনিস্ট লীগের’ সঙ্গে মার্কস ও এঙ্গেলসের যোগাযোগ হয়, এ সব তাঁদের উপর ভার দেয় তাঁদের রচিত সমাজতন্ত্রের মূলনীতি উপস্থিত করার জন্যে। এইভাবেই জন্ম নেয় ১৮৪৮ সালে ছাপা মার্কস ও এঙ্গেলসের সুবিখ্যাত ‘কমিউনিস্ট পার্টির ইশতেহার’। ছোট এই পুস্তিকাখানি বহু বৃহৎ গ্রন্থের মূল্য ধরে; সভ্য জগতের সমস্ত সংগঠিত ও সংগ্রামী প্রলেতারিয়েত আজও তার প্রেরণায় সজীব ও সচল।

১৮৪৮ সালের যে বিপ্লব প্রথমে ফ্রান্সে শুরু হয়ে পরে পশ্চিম ইউরোপের অন্যান্য দেশেও বিস্তৃত হয়, তাতে মার্কস ও এঙ্গেলস দেশে ফেরেন। সেখানে, প্রুশিয়ার রাইন অঞ্চলে তাঁরা কলোন থেকে প্রকাশিত গণতান্ত্রিক ‘নতুন রাইনিশ গেজেটের’ প্রধান হয়ে উঠেন। রাইনিশ প্রুশিয়ার সমস্ত বিপ্লবী গণতান্ত্রিক প্রচেষ্টার প্রাণকেন্দ্র হয়ে ওঠেন দুই বন্ধু। প্রতিক্রিয়াশীল শক্তির কবল থেকে জনগণের স্বার্থ ও স্বাধীনতা রক্ষা করে যান শেষ মাত্রা পর্যন্ত। সবাই জানেন, প্রতিক্রিয়াশীল শক্তি জয়লাভ করে। ‘নতুন রাইনিশ গেজেট’ নিষিদ্ধ হয়, মার্কস দেশান্তরী জীবনযাত্রার সময় প্রুশিয় নাগরিকত্ব হারিয়েছিলেন, তাঁকে নির্বাসিত করা হয়, আর এঙ্গেলস সশস্ত্র গণবিদ্রোহে অংশ নেন, তিনটি সংঘর্ষে লড়াই করেন স্বাধীনতার জন্য, এবং বিদ্রোহীদের পরাজয়ের পর সুইজারল্যান্ড হয়ে লন্ডনে পালায়ন করেন।

মার্কসও সেখানে বসতি পাতেন। এঙ্গেলস অচিরেই ফের কেনানির কাজ নেন, এবং পরে ৪০-এর দশকে ম্যাঞ্চেস্টারে বাস করেন আর মার্কস থাকেন লন্ডনে, এতে তাঁদের একটা জীবন্ত মানবিক যোগাযোগ বাধা হয় না; প্রায় দৈনিক চিঠির আদান-প্রদান চলত তাঁদের। এই সব পত্রালাপে তাঁরা নিজেদের দৃষ্টিভঙ্গি ও গবেষণার বিনিময় করেন এবং একযোগে বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্র গড়ে তোলার কাজ চালিয়ে যান। ১৮৭০ সালে এঙ্গেলস লন্ডনে ফেরেন, এবং ১৮৮৩ সালে মার্কসের মৃত্যু পর্যন্ত তাঁদের কর্মভারাক্রান্ত মানসিক জীবন চালিয়ে যান। এর ফল হলো মার্কসের দিক থেকে ‘পুঁজি’, আমাদের যুগের মহত্তম অর্থশ্রাস্ত্র্রীয় রচনা, আর এঙ্গেলসের দিক থেকে ছোট-বড়ো একসারি বই। পুঁজিবাদী অর্থনীতির জটিল ঘটনাবলীর বিশ্লেষণ নিয়ে কাজ করেন মার্কস। আর অতি সহজ ভাষায়, প্রায়ই বিতর্কমূলক রচনায় সাধারণ বৈজ্ঞানিক সমস্যা এবং অতীত ও বর্তমানের বিভিন্ন ব্যাপার নিয়ে ইতিহাসের বস্তুবাদী বোধ ও মার্কসের অর্থনৈতিক তত্ত্বের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে লেখেন এঙ্গেলস। এঙ্গেলসের এই সব রচনার মধ্যে উল্লেখ করবো: দ্যুরিঙের বিরুদ্ধে বিতর্কমূলক রচনা (এখানে দর্শন, প্রাকৃতিক ও সামাজিক বিজ্ঞানের বড়ো বড়ো প্রশ্ন আলোচিত হয়েছে)[৪] ‘পরিবার ব্যক্তিগত মালিকানা ও রাষ্ট্রের উৎপত্তি’, ‘ল্যুদভিগ ফয়েরবাখ’ রুশ সরকারের বৈদেশিক নীতির উপর প্রবন্ধ, বাসস্থান সমস্যা নিয়ে চমৎকার প্রবন্ধাবলী, এবং পরিশেষে, রাশিয়ার অর্থনৈতিক বিকাশ সম্পর্কে ছোটো হলেও দুটি অতি মূল্যবান নিবন্ধ। মার্কস মারা যান, ‘পুঁজি’ বিষয়ে তার সম্পূর্ণ রচনা গুছিয়ে যেতে পারেননি। খসড়া হিসাবে তা অবশ্যই তৈরি হয়ে গিয়েছিল। বন্ধুর মৃত্যুর পর ‘পুঁজির’ দ্বিতীয় ও তৃতীয় খন্ড গুছিয়ে তোলা ও প্রকাশনের গুরুভার শ্রমে আত্মনিয়োগ করলেন এঙ্গেলস। ১৮৮৫ সালে তিনি প্রকাশ করেন দ্বিতীয় এবং ১৮৯৪ সালে তৃতীয় খন্ড (চতুর্থ খন্ড গুছিয়ে যেতে পারেন নি তিনি)। এই দুই খন্ড নিয়ে খাটতে হয়েছে অনেক। অস্ট্রীয় সোশ্যাল-ডেমোক্রাট আদলের সঠিকভাবেই বলেছেন যে, ‘পুঁজির’ দ্বিতীয় খন্ড ও তৃতীয় খন্ড প্রকাশ করে এঙ্গেলস তাঁর প্রতিভাবান বন্ধুর যে মহনীয় স্মৃতিস্তম্ভ গড়েছেন তাতে তাঁর অনিচ্ছাসত্ত্বেও অক্ষরে অক্ষরে নিজের নামটাই খোদিত হয়ে গেছে। সত্যিই এই পুঁজির এই দুই খন্ড হলো মার্কস ও এঙ্গেলস এই দুই জনের রচনা। পুরাকথায় বন্ধুত্বের অনেক মর্মস্পর্শী দৃষ্টান্তের কাহিনী শোনা যায়। ইউরোপীয় প্রলেতারিয়েত এই কথা বলতে পারে যে, তাদের বিজ্ঞান গড়ে দিয়ে গেছেন এমন দুই মনীষী ও যোদ্ধা যাঁদের পরস্পর সম্পর্ক মানবিক বন্ধুত্বের সর্বাধিক মর্মস্পর্শী সমস্ত প্রাচীন কাহিনীকেও ছাড়িয়ে যায়। এঙ্গেলস সর্বদাই, এবং সাধারণত অতি সঙ্গতভাবেই নিজেকে রেখেছেন মার্কসের পেছনে। তাঁর এক পুরনো বন্ধুর কাছে তিনি লেখেন, ‘মার্কস থাকলে আমি দোহারের কাজ করেছি’।[৫] জীবিত মার্কসের প্রতি ভালবাসায় এবং মৃতের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধায় তার সীমা ছিল না। রুক্ষ যোদ্ধা ও কঠোর এই মনীষীর ছিল এক গভীর স্নেহশীল হৃদয়।

১৮৪৮-১৮৪৯ সালের আন্দোলনের পর মার্কস ও এঙ্গেলস নির্বাসনকালে কেবল বিজ্ঞান নিয়ে ব্যাপৃত থাকেন নি। ১৮৬৪ সালে মার্কস স্থাপন করেন ‘আন্তর্জাতিক শ্রমিক সমিতি’ এবং পুরো দশ বছর ধরে তার নেতৃত্ব করেন। এ সমিতির কাজকর্মে এঙ্গেলসও সজীব অংশ নেন। শ্রমিক আন্দোলনের বিকাশ এই ‘আন্তর্জাতিক সমিতির’ কার্যকলাপের তাৎপর্য বিপুল, মার্কসের ভাবনা অনুসারে সমস্ত দেশের প্রলেতারিয়েতকে সম্মিলিত করেছে তা। কিন্তু ৭০-এর দশকে আন্তর্জাতিক সমিতি’ বন্ধ হয়ে গেলেও মার্কস ও এঙ্গেলসের ঐক্য বিধায়ক ভূমিকা থামেনি। বরং বলা যেতে পারে শ্রমিক আন্দোলনের আত্মিক নায়ক হিসাবে তাঁদের তাৎপর্য অবিরাম বেড়ে গেছে, কারণ এই আন্দোলনই বেড়ে উঠেছে অবিচ্ছিন্নভাবে। মার্কসের মৃত্যুর পর এঙ্গেলস একাই ইউরোপীয় সমাজতন্ত্রীদের উপদেষ্টা ও নেতার কাজ চালিয়ে যান। তাঁর কাছে পরামর্শ ও নির্দেশ যেমন চাইতেন জার্মান সমাজতন্ত্রীরা, সরকারি দমন সত্ত্বেও এঁদের শক্তি দ্রুত ও অবিচ্ছিন্নভাবে বেড়ে উঠে, -তেমনি চাইতেন পিছিয়ে থাকা দেশের প্রতিনিধিরা- যেমন স্পেনীয়, রুমানীয়, রুশীয়রা ভেবে চিন্তে মেপে মেপে যাঁদের পা ফেলতে হচ্ছিল। বৃদ্ধ এঙ্গেলসের জ্ঞান ও অভিজ্ঞতার ভাণ্ডার থেকে এঁরা সকলেই আহরণ করেছেন।

মার্কস এঙ্গেলসের বন্ধুত্ব প্রসঙ্গে লেনিন

মার্কস ও এঙ্গেলস দুজনেই রুশ ভাষা জানতেন, রুশী বই পড়তেন, রাশিয়া নিয়ে তাঁদের জীবন্ত আগ্রহ ছিল, রুশ বিপ্লবী আন্দোলনকে তাঁরা দরদ দিয়ে অনুসরণ করেছেন ও রুশ বিপ্লবীদের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রেখে চলেছেন। এরা দুজনেই গণতন্ত্রী থেকে সমাজতন্ত্রী হয়ে উঠেছিলেন, রাজনৈতিক স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে ঘৃণার গণতান্ত্রিক বোধ এঁদের মধ্যে ছিল প্রবল। এই প্রত্যক্ষ রাজনৈতিক অনুভূতি এবং তৎসহ রাজনৈতিক স্বৈরাচারের সঙ্গে অর্থনৈতিক পীড়নের সম্পর্ক বিষয়ে গভীর তাত্ত্বিকবোধ ও সমৃদ্ধ জীবনাভিজ্ঞতার ফলে মার্কস ও এঙ্গেলস হয়ে উঠেন বিশেষ করে রাজনৈতিক ব্যাপারেই অসাধারণ সজাগ। সেই কারনেই পরাক্রান্ত জার সরকারের বিরুদ্ধে মুষ্টিমেয় রুশ বিপ্লবীদের বীরোচিত সংগ্রাম অভিজ্ঞ এই বিপ্লবীদের হৃদয়ে অত্যন্ত সহানুভূতিশীল সাড়া জাগায়। অন্যদিকে অর্থনৈতিক সুবিধা লাভের জন্য রাজনৈতিক স্বাধীনতা অর্জন- রুশ সমাজতন্ত্রীদের এই অতি প্রত্যক্ষ ও জরুরি কর্তব্য থেকে সরে আসার হীন চেষ্টাটা তাঁদের চোখে স্বভাবতই সন্দেহজনক ঠেকেছিল এবং এমনকি সমাজিক বিপ্লবের মহাদর্শের প্রতি সরাসরি বেইমানি বলে তাঁরা গণ্য করেছিলেন। ‘প্রলেতারিয়েতের মুক্তি হওয়া চাই তাদের নিজেদের কাজ’[৬] – অবিরাম এই শিক্ষাই দিয়ে গেছেন মার্কস ও এঙ্গেলস। আর নিজেদের অর্থনৈতিক মুক্তির জন্যে সংগ্রাম করতে হলে কিছুটা রাজনৈতিক অধিকার প্রলেতারিয়েতকে জয় করতে হবে। তাছাড়া, মার্কস ও এঙ্গেলস পরিষ্কার দেখেছিলেন যে, পশ্চিম ইউরোপীয় শ্রমিক আন্দোলনের পক্ষেও রাশিয়ায় রাজনৈতিক বিপ্লবের তাৎপর্য বিপুল। স্বৈরতন্ত্রী রাশিয়া চিরকালই ছিল ইউরোপীয় প্রতিক্রিয়ার দুর্গ প্রাকার। ফ্রান্স ও জার্মনির মধ্যে দীর্ঘকালের মতো বিরোধ বপণ করে ১৮৭০ সালের যুদ্ধ রাশিয়াকে যে অসাধারণ অনুকূল আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির মধ্যে স্থাপন করেছিল তাতে অবশ্যই প্রতিক্রিয়াশীল শক্তি হিসাবে স্বৈরতান্ত্রিক রাশিয়ার তাৎপর্যটাই বেড়েছে। পোলীশ, ফিনিশ, জার্মান, আর্মেনিয়ান ও অন্যান্য ছোট ছোট জাতিদের যার পীড়ন করার দরকার নেই, দরকার নেই অবিরাম ফ্রান্সের সঙ্গে জার্মানিকে লাগানোর, তেমন এক স্বাধীন রাশিয়া থাকলেই কেবল বর্তমান ইউরোপ তার সামরিক চাপ থেকে হাঁপ ছেড়ে বাঁচবে, ইউরোপের সমস্ত প্রতিক্রিয়াশীল উপাদানগুলি দুর্বল হয়ে যাবে, এবং ইউরোপীয় শ্রমিক শ্রেণীর শক্তি বেড়ে উঠবে। তাই এঙ্গেলস পশ্চিমে শ্রমিক আন্দোলনের সাফল্যের জন্যেই রাশিয়ায় রাজনৈতিক স্বাধীনতার প্রতিষ্ঠা চেয়েছিলেন সাগ্রহে। তাঁর মধ্যে নিজেদের শ্রেষ্ঠ বন্ধুকে হারালো রুশ বিপ্লবীরা।

প্রলেতারিয়েতের মহাযোদ্ধা ও শিক্ষাগুরু ফ্রেডারিক এঙ্গেলসের স্মৃতি অক্ষয় হোক ![৭]

তথ্যসূত্র ও টীকাঃ

১. ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস প্রবন্ধের শীর্ষ উক্তিটি দেয়া হয়েছে রুশ কবি নিকোলাই আলেক্সেয়েভিচ নেক্রাসভের দব্রলিউবভ স্মরণে কবিতা থেকে।

২. মার্কস ও এঙ্গেলস একাধিকবার দেখিয়েছেন যে তাঁদের মানসিক বিকাশ বহু দিক থেকে মহান জার্মান দার্শনিকদের, বিশেষ করে হেগেলের নিকট ঋণী। এঙ্গেলস বলেছেন, ‘জার্মান দর্শন ছাড়া বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্রও সম্ভব হতো না’। এঙ্গেলস এই কথা বলেছেন জার্মানির কৃষক যুদ্ধ গ্রন্থের মুখবন্ধে।

৩. ফ্রিডরিখ এঙ্গেলসের লেখা অর্থশাস্ত্র সমালোচনা প্রসঙ্গে খসড়ার কথা বলা হচ্ছে।

৪. এঙ্গেলসের লেখা অ্যাান্টি দ্যুরিং বইয়ের কথা বলা হচ্ছে। দ্যুরিংয়ের বিজ্ঞান ও বিপ্লব বই এবং অন্যান্য লেখার জবাবে এঙ্গেলস এটি লেখেন। দুঃখের বিষয় ১৮৯৫ সালে রুশ ভাষায় এই বইটির অনুবাদ খুব অল্পই হয়েছে একথা লেনিন ফুটনোটে উল্লেখ করেছিলেন। এঙ্গেলসের কল্পলৌকিক ও বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্র বইটি রুশ ভাষায় প্রকাশিত হয় ১৮৯২ সালে। এটি মূলত অ্যান্টি-দ্যুরিং বইয়ের তিনটি অধ্যায়।

৫. ই ফ বেক্কের-এর কাছে ১৮৮৪ সালের ১৫ অক্টোবরের লেখা ফ্রিডরিখ এঙ্গেলসের চিঠির কথা বলা হচ্ছে।

৬. কার্ল মার্কস, আন্তর্জাতিক শ্রমিক সমিতির সাধারণ নিয়মাবলী, ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস, কমিউনিস্ট পার্টির ইশতেহারের ১৮৯০ সালের জার্মান সংস্করণের ভূমিকা।

৭. ভি. আই. লেনিন এঙ্গেলস বিষয়ে এই লেখাটি লিখেছিলেন ১৮৯৫ সালের শরতকালে। লেনিন রচনাবলীর দ্বিতীয় খণ্ডের ১-১৪ পৃষ্ঠায় এটি সংকলিত আছে। এখানে সংগৃহীত বাংলা অনুবাদটি প্রগতি প্রকাশন থেকে ১৯৭১ সালে প্রকাশিত মার্কস এঙ্গেলস মার্কসবাদ গ্রন্থের ৪১-৫০ পৃষ্ঠা থেকে নেয়া হয়েছে।

আরো পড়ুন

Anup Sadi
অনুপ সাদির প্রথম বই প্রকাশিত হয় ২০০৪ সালে। তাঁর মোট প্রকাশিত গ্রন্থ ১০টি। সাম্প্রতিক সময়ে প্রকাশিত তাঁর সমাজতন্ত্র মার্কসবাদ গ্রন্থ দুটি পাঠকমহলে ব্যাপকভাবে সমাদৃত হয়েছে। ২০১০ সালে সম্পাদনা করেন বাঙালির গণতান্ত্রিক চিন্তাধারা নামের একটি প্রবন্ধগ্রন্থ। জন্ম ১৬ জুন, ১৯৭৭। তিনি লেখাপড়া করেছেন ঢাকা কলেজ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। ২০০০ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি সাহিত্যে এম এ পাস করেন।

Leave a Reply

Top