Main Menu

কমিউনিস্ট পার্টির ইশতেহার, প্রলেতারিয়েত ও কমিউনিস্টগণ

— কার্ল মার্কস ও ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস

দ্বিতীয় অংশ

প্রথম অংশ পড়ুন এই লিংক থেকে

পরিবারের উচ্ছেদ! উগ্র চরমপন্থীরা পর্যন্ত কমিউনিস্টদের এই গৰ্হিত প্ৰস্তাবে ক্ষেপে ওঠে।

আধুনিক পরিবার অর্থাৎ বুর্জোয়া পরিবারের প্রতিষ্ঠা কোন ভিত্তির উপর? সে ভিত্তি হলো পুঁজি, ব্যক্তিগত লাভ। এই পরিবারের পূর্ণ বিকশিত রূপটি শুধু বুর্জোয়া শ্রেণির মধ্যেই আবদ্ধ। কিন্তু এই অবস্থারই অনুপূরণ দেখা যাবে প্রলেতারীয়দের পক্ষে পরিবারের কার্যত অনুপস্থিতিতে এবং প্রকাশ্য পতিতাবৃত্তির ভিতর।

অনুপূরক এই অবস্থার অবসানের সঙ্গে সঙ্গে বুর্জোয়া পরিবারের লোপও অবশ্যম্ভাবী, পুঁজির উচ্ছেদের সঙ্গেই আসবে উভয়ের অন্তর্ধান।

আমাদের বিরুদ্ধে কি এই অভিযোগ যে সন্তানের উপর পিতামাতার শোষণ শেষ করে দিতে চাই? এ দোষ আমরা অস্বীকার করব না।

কিন্তু আপনারা বলবেন যে আমরা সবচেয়ে পবিত্র সম্পর্ক ধ্বংস করে দিই যখন আমরা পারিবারিক শিক্ষার স্থানে বসাই সামাজিক শিক্ষাকে।

আর আপনাদের শিক্ষাটা! সেটাও কি সামাজিক নয়? সামাজিক যে অবস্থার আওতায় শিক্ষাদান চলে তা দিয়ে, সমাজের সাক্ষাৎ কিংবা অপ্রত্যক্ষ হস্তক্ষেপ মারফত, স্কুল ইত্যাদির মাধ্যমে কি সে শিক্ষা নিয়ন্ত্রিত হয় না? শিক্ষা ব্যাপারে সমাজের হস্তক্ষেপ কমিউনিস্টদের উদ্ভাবন নয়; তারা চায় শুধু হস্তক্ষেপের প্রকৃতিটা বদলাতে, শাসক শ্রেণির প্রভাব থেকে শিক্ষাকে উদ্ধার করতে।

আধুনিক যন্ত্রশিল্পের ক্রিয়ায় মজুরদের মধ্যে সকল পারিবারিক বন্ধন যত বেশি মাত্রায় ছিন্ন হতে থাকে, তাদের ছেলেমেয়েরা যত বেশি করে সামান্য বেচাকেনার বস্তু ও পরিশ্রমের হাতিয়ারে পরিণত হতে থাকে, ততই পরিবার ও শিক্ষা বিষয়ে বাপ-মার সঙ্গে ছেলেমেয়েদের পবিত্র সম্বন্ধ বিষয়ে বুর্জোয়াদের বাগাড়ম্বর ঘূণ্য হয়ে ওঠে।

সমস্ত বুর্জোয়া শ্রেণি সমস্বরে চীৎকার করে বলে—কিন্তু তোমরা কমিউনিস্টরা যে মেয়েদের সাধারণ সম্পত্তি করে ফেলতে চাও।

বুর্জোয়া নিজের স্ত্রীকে নিতান্ত উৎপাদনের হাতিয়ার হিসাবেই দেখে থাকে। তাই যখন সে শোনে যে উৎপাদনের হাতিয়ারগুলি সমবেতভাবে ব্যবহার করার কথা উঠেছে, তখন স্বভাবতই মেয়েদের ভাগ্যেও তেমনি সকলের ভোগ্য হতে হবে, এছাড়া আর কোনও সিদ্ধান্তে সে আসতে পারে না |

ঘুণাক্ষরেও তার মনে সন্দেহ জাগে না যে আসল লক্ষ্য হল উৎপাদনের হাতিয়ার মাত্র হয়ে থাকার দশা থেকে মেয়েদের মুক্তিসাধন।

তাছাড়া, মেয়েদের উপর এই সাধারণ অধিকারটা কমিউনিস্টরা প্রকাশ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিষ্ঠা করবে। এই ভান করে আমাদের বুর্জোয়ারা যে এত ধর্মক্ৰোধ দেখায় তার চেয়ে হাস্যাস্পদ আর কিছু নেই। মেয়েদের সাধারণ সম্পত্তি করার প্রয়োজন কমিউনিস্টদের নেই; প্ৰায় স্মরণাতীতকাল থেকে সে প্রথার প্রচলন আছে।

সামান্য বেশ্যার কথা না হয় ছেড়ে দেওয়াই হল, মজুরদের স্ত্রী-কন্যা হাতে পেয়েও আমাদের বুর্জোয়ারা সন্তুষ্ট নয়, পরস্পরের স্ত্রীকে ফুঁসলে আনাতেই তাদের পরম আনন্দ।

বুর্জোয়া বিবাহ হলো আসলে অনেকে মিলে সাধারণ স্ত্রী রাখার ব্যবস্থা। সুতরাং কমিউনিস্টদের বিরুদ্ধে বড় জোর এই বলে অভিযোগ আনা সম্ভব যে ভণ্ডামির আড়ালে মেয়েদের উপর সাধারণ যে অধিকার লুকানো রয়েছে সেটাকে এরা প্রকাশ্য আইনসম্মত রূপ দিতে চায়। এটুকু ছাড়া এ কথা স্বতঃসিদ্ধ যে আধুনিক উৎপাদন-পদ্ধতি লোপের সঙ্গে সঙ্গে সেই পদ্ধতি থেকে উদ্ভূত মেয়েদের উপর সাধারণ অধিকারেরও অবসান আসবে, অর্থাৎ প্রকাশ্য ও গোপন দুই ধরনের বেশ্যাবৃত্তিই শেষ হয়ে যাবে।

কমিউনিস্টদের বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ করে যে তারা চায় স্বদেশ ও জাতিসত্তার বিলোপ।

মেহনতীদের দেশ নেই। তাদের যা নেই তা আমরা কেড়ে নিতে পারি না। প্রলেতারিয়েতকে যেহেতু সর্বাগ্রে রাজনৈতিক আধিপত্য অর্জন করতে হবে, দেশের পরিচালক শ্রেণির পদে উঠতে হবে, নিজেকেই জাতি হয়ে উঠতে হবে, তাই সেদিক থেকে প্রলেতারিয়েত নিজেই জাতি, যদিও কথাটার বুর্জোয়া অর্থে নয়।

বুর্জোয়া শ্রেণির বিকাশ, বাণিজ্যের স্বাধীনতা, জগৎজোড়া বাজার, উৎপাদন-পদ্ধতি এবং তার অনুগামী জীবনযাত্রার ধরনে একটা সাৰ্বজনীন ভাব — এই সবের জন্যই জাতিগত পার্থক্য ও জাতিবিরোধ দিনের পর দিন ক্রমেই মিলিয়ে যাচ্ছে।

প্রলেতারিয়েতের আধিপত্য তাদের আরও দ্রুত অবসানের কারণ হবে। প্রলেতারিয়েতের মুক্তির অন্যতম প্রধান শর্তই হলো মিলিত প্ৰচেষ্টা, অন্তত অগ্রণী সভ্য দেশগুলির মিলিত প্ৰচেষ্টা।

যে পরিমাণে ব্যক্তির উপর অন্য ব্যক্তির শোষণ শেষ করা যাবে, সেই অনুপাতে এক জাতি কর্তৃক অপর জাতির শোষণটাও বন্ধ হয়ে আসবে। যে পরিমাণে জাতির মধ্যে শ্রেণি-বিরোধ শেষ হবে, সেই অনুপাতে এক জাতির প্রতি অন্য জাতির শক্ৰতাও মিলিয়ে যাবে।

ধর্ম, দর্শন এবং সাধারণ ভাবাদর্শের দিক থেকে কমিউনিজমের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হয় তা গুরুত্বসহকারে বিবেচিত হবারও যোগ্য নয়।

মানুষের বৈষয়িক অস্তিত্বের অবস্থা, সামাজিক সম্পর্ক ও সমাজ জীবনের প্রতিটি বদলের সঙ্গে সঙ্গে তার ধারণা, মতামত ও বিশ্বাস, এক কথায় মানুষের চেতনা যে বদলে যায়, এ কথা বুঝতে কি গভীর অন্তদৃষ্টি লাগে?

বৈষয়িক উৎপাদন পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে সেই অনুপাতে মানসিক সৃষ্টির প্রকৃতিতেও পরিবর্তন আসে, এছাড়া চিন্তার ইতিহাস আর কী প্রমাণ করে? প্ৰতি যুগেই যে সব ধারণা আধিপত্য করেছে তারা চিরকালই তখনকার শাসক শ্রেণিরই ধারণা ।

লোকে যখন এমন ধারণার কথা বলে যা সমাজে বিপ্লব আনছে, তখন শুধু এই সত্যই প্ৰকাশ করা হয় যে পুরানো সমাজের মধ্যে নূতন এক সমাজের উপাদান সৃষ্টি হয়েছে, এবং অস্তিত্বের পুরানো অবস্থার ভাঙনের সঙ্গে সঙ্গে পুরানো ধারণার বিলোপ তাল রেখে চলছে।

প্রাচীন জগতের যখন অস্তিম অবস্থা, তখনই খৃষ্টান ধর্ম পুরানো ধর্মগুলিকে পরাস্ত করেছিলো। খৃষ্টান ধারণা যখন আঠারো শতকে যুক্তিবাদী ধারণার কাছে হার মানে তখন সামন্ত সমাজেরও মৃত্যু সংগ্রাম চলেছিলো সেদিনের বিপ্লবী বুর্জোয়া শ্রেণির সঙ্গে। ধর্মমতের স্বাধীনতা, বিবেকের মুক্তি শুধু জ্ঞানের রাজ্যে অবাধ প্রতিযোগিতার আধিপত্যটাকেই রূপ দিল ।

বলা হবে যে “ঐতিহাসিক বিকাশের সঙ্গে সঙ্গে নিঃসন্দেহে ধর্মীয়, নৈতিক, দার্শনিক এবং আইনী ধারণাগুলিতে পরিবর্তন ঘটেছে। কিন্তু সে পরিবর্তন সত্ত্বেও নিয়ত টিকে থেকেছে ধর্ম, নৈতিকতা, দর্শন, রাজনীতি ও আইন।

তাছাড়া স্বাধীনতা, ন্যায় ইত্যাদি চিরন্তন সত্য আছে, সমাজের সকল অবস্থাতেই তারা বিদ্যমান। কিন্তু কমিউনিজম চিরন্তন সত্যকেই উড়িয়ে দেয়, ধর্ম ও নৈতিকতাকে নূতন ভিত্তিতে পুনর্গঠিত না করে তা সব ধর্ম ও সব নৈতিকতারই উচ্ছেদ করে ; তাই তা ইতিহাসের সকল অতীত অভিজ্ঞতার পরিপন্থী।”

এই অভিযোগ কোথায় এসে দাঁড়ায়? সকল অতীত সমাজের ইতিহাস হল শ্রেণি-বিরোধের বিকাশ, বিভিন্ন যুগে সে বিরোধ ভিন্ন ভিন্ন রূপ পরিগ্রহ করেছে।

কিন্তু যে রূপই নিক একটা ব্যাপার অতীতের সকল যুগেই বর্তমান যথা, সমাজের এক অংশ কর্তৃক অপর অংশকে শোষণ। তাই এতে আশ্চর্য হবার কিছু নেই যে অতীত যুগের সামাজিক চেতনায় যত বিভিন্নতা ও বিচিত্ৰতাই প্ৰকাশ পাক না কেন, তা কয়েকটি নির্দিষ্ট সাধারণ রূপ যা সাধারণ ধারণার মধ্যেই আবদ্ধ থেকেছে, শ্রেণি-বিরোধের সম্পূর্ণ লুপ্তির আগে তা পুরোপুরি অদৃশ্য হতে পারে না।

কমিউনিস্ট বিপ্লব হল চিরাচরিত সম্পত্তি সম্পর্কের সঙ্গে একেবারে আমূল বিচ্ছেদ; এই বিপ্লবের বিকাশে যে চিরাচরিত ধারণার সঙ্গেও একেবারে আমূল একটা বিচ্ছেদ নিহিত, তাতে আর আশ্চর্য কি।

কিন্তু কমিউনিজমের বিরুদ্ধে বুর্জেয়া আপত্তির প্রসঙ্গ যাক ।

আগে আমরা দেখেছি যে শ্রমিক শ্রেণির বিপ্লবে প্রথম ধাপ হল প্রলেতারিয়েতকে শাসক শ্রেণির পদে উন্নতি করা, গণতন্ত্রের সংগ্রামকে জয়যুক্ত করা।

বুর্জোয়াদের হাত থেকে ক্রমে ক্রমে সমস্ত পুঁজি কেড়ে নেওয়ার জন্য, রাষ্ট্র অর্থাৎ শাসক শ্রেণণি রূপে সংগঠিত প্রলেতারিয়েতের হাতে উৎপাদনের সমস্ত উপকরণ কেন্দ্রীভূত করার জন্য এবং উৎপাদন-শক্তির মোট সমষ্টিটাকে যথাসম্ভব দ্রুত গতিতে বাড়িয়ে তোলার জন্য প্রলেতারিয়েত তার রাজনৈতিক আধিপত্য ব্যবহার করবে ।

শুরুতে অবশ্যই সম্পত্তির অধিকার এবং বুর্জোয়া উৎপাদন পরিস্থিতির উপর স্বৈরাচারী আক্রমণ ছাড়া এ কাজ সম্পন্ন হতে পারে না; সুতরাং তা করতে হবে এমন সব ব্যবস্থা মারফত যা অর্থনীতির দিক থেকে অপর্যাপ্ত ও অযৌক্তিক মনে হবে, কিন্তু যাত্রাপথে এরা নিজ সীমা ছড়িয়ে যাবে এবং পুরানো সমাজ ব্যবস্থার উপর আরও আক্রমণ প্রয়োজনীয় করে তুলবো; উৎপাদনপদ্ধতির সম্পূর্ণ বিপ্লবীকরণের উপায় হিসাবে যা অপরিহার্য।

ভিন্ন ভিন্ন দেশে অবশ্যই এই ব্যবস্থাগুলি হবে বিভিন্ন।

তা সত্ত্বেও সবচেয়ে অগ্রসর দেশগুলিতে নিম্নলিখিত ব্যবস্থাগুলি মোটের ওপর সাধারণভাবে প্ৰযোজ্য:

১। জমি মালিকানার অবসান; জমির সমস্ত খাজনা জনসাধারণের হিতাৰ্থে ব্যয় ।

২। উচ্চমাত্রায় ক্রমবর্ধমান হারে আয়কর।

৩। সবরকমের উত্তরাধিকার বিলোপ ।

৪। সমস্ত দেশত্যাগী ও বিদ্রোহীদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্তি ।

৫। রাষ্ট্রীয় পুঁজি ও নিরঙ্কুশ একচেটিয়াসহ একটি জাতীয় ব্যাঙ্ক মারফত সমস্ত ক্রেডিট রাষ্ট্রের হাতে কেন্দ্রীকরণ।

৬। যোগাযোগ ও পরিবহনের সমস্ত উপায় রাষ্ট্রের হাতে কেন্দ্রীকরণ।

৭। রাষ্ট্ৰীয় মালিকানাধীন কলকারখানা ও উৎপাদন-উপকরণের প্রসার; পতিত জমির আবাদ এবং এক সাধারণ পরিকল্পনা অনুযায়ী সমগ্র জমির উন্নতিসাধন।

৮। সকলের পক্ষে সমান শ্রমবাধ্যতা। শিল্পবাহিনী গঠন, বিশেষত কৃষিকার্যের জন্য।

৯। কৃষিকার্যের সঙ্গে যন্ত্রশিল্পের সংযুক্তি; সারা দেশের জনসংখ্যার আরো বেশি সমভাবে বণ্টন মারফত ক্ৰমে ক্ৰমে শহর ও গ্রামের প্রভেদ লোপ |

১০। সরকারী বিদ্যালয়ে সকল শিশুর বিনা খরচে শিক্ষা। ফ্যাক্টরিতে বর্তমান ধরনের শিশু শ্রমের অবসান। শিল্পোৎপাদনের সঙ্গে শিক্ষার সংযুক্তি ইত্যাদি।

বিকাশের গতিপথে যখন শ্রেণি-পাৰ্থক্য অদৃশ্য হয়ে যাবে, সমস্ত উৎপাদন যখন গোটা জাতির এক বিপুল সমিতির হাতে কেন্দ্রীভূত হবে, তখন সরকারি (পাবলিক) শক্তির রাজনৈতিক চরিত্র আর থাকবে না। সঠিক অর্থে রাজনৈতিক ক্ষমতা হলো এক শ্রেণির উপর অত্যাচার চালাবার জন্য অপর শ্রেণির সংগঠিত শক্তি মাত্র। বুর্জোয়া শ্রেণির সঙ্গে লড়াই-এর ভিতর অবস্থার চাপে যদি প্রলেতারিয়েত নিজেকে শ্রেণি হিসাবে সংগঠিত করতে বাধ্য হয়, বিপ্লবের মাধ্যমে তারা যদি নিজেদের শাসক শ্রেণিতে পরিণত করে ও শাসক শ্রেণি হিসাবে উৎপাদনের পুরাতন ব্যবস্থাকে তারা যদি ঝেঁটিয়ে বিদায় করে, তাহলে সেই পুরানো অবস্থার সঙ্গে সঙ্গে শ্রেণিবিরোধ তথা সবরকম শ্রেণির অস্তিত্বটাই দূর করে বসবে এবং তাতে করে শ্রেণি হিসাবে তাদের স্বীয় আধিপত্যেরও অবসান ঘটাবে।

শ্রেণি ও শ্রেণি-বিরোধ সংবলিত পুরানো বুর্জেীয়া সমাজের স্থান নেবে এক সমিতি যার মধ্যে প্ৰত্যেকটি লোকেরই স্বাধীন বিকাশ হবে সকলের স্বাধীন বিকাশের শর্ত।

কমিউনিস্ট ইশতেহারের সূচিপত্রে যান এই লিংক থেকে

আরো পড়ুন






Related News

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *