Main Menu

সমাজতন্ত্র প্রলেতারিয়েতের মুক্তির পদ্ধতি সংক্রান্ত মতবাদ

সমাজতন্ত্র বা সমাজবাদ (ইংরেজি: Socialism) হচ্ছে এমন একটি সামাজিক এবং অর্থনৈতিক ব্যবস্থা যার বৈশিষ্ট্য হচ্ছে উৎপাদনের উপকরণের সামাজিক মালিকানা এবং অর্থনীতির একটি সমবায়ভিত্তিক ব্যবস্থাপনা। এছাড়াও একই সাথে এটি একটি রাজনৈতিক মতবাদ ও আন্দোলন যার লক্ষ্য হচ্ছে এই ধরনের সমাজব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা। অর্থাৎ এটি এমন একটি সামাজিক ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থা যেখানে সম্পদ ও অর্থের মালিকানা সামাজিক বা রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণাধীন অর্থাৎ এতে কোনো ব্যক্তিমালিকানা থাকে না। সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থায় জনসাধারণের প্রয়োজন অনুসারে দ্রব্য উৎপাদন হয়। সমাজতান্ত্রিক অর্থনীতিতে একটি দেশের কলকারখানা, খনি, জমি ইত্যাদি সামাজিক, সর্বজনীন বা রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি হিসেবে পরিগণিত হয়। সর্বজনীন ভূমি, সর্বজনীন কলকারখানা ও সর্বজনীন শ্রমই হচ্ছে সমাজতন্ত্র। 

সমাজতন্ত্র হলো সাম্যবাদী সমাজের প্রথম পর্যায়। উৎপাদনের উপায়ে সমাজতান্ত্রিক মালিকানা হলো এর অর্থনৈতিক ভিত্তি। সমাজতন্ত্র উৎখাত ঘটায় ব্যক্তিগত মালিকানার এবং মানুষে মানুষে শোষণের। বিলোপ ঘটায় অর্থনৈতিক সঙ্কটের ও বেকারির, উন্মুক্ত করে উৎপাদনী শক্তির পরিকল্পিত বিকাশ ও উৎপাদন সম্পর্কের পূর্ণতর রূপদানের প্রান্তর। সমাজতন্ত্রের আমলে সামাজিক উৎপাদনের লক্ষ্য হচ্ছে জনগণের স্বচ্ছলতা বৃদ্ধি ও সমাজের প্রতিটি লোকের সার্বিক বিকাশ। সমাজতন্ত্রের মূলনীতি হলো প্রত্যেকে কাজ করবে তার সামর্থ্য অনুযায়ী এবং প্রত্যেকে গ্রহণ করবে তার শ্রম অনুযায়ী।[১]

সমাজতন্ত্রের মূল অর্থনৈতিক নিয়ম হচ্ছে সামাজিক উৎপাদনের নিরবচ্ছিন্ন বৃদ্ধি ও উৎকর্ষসাধনের মাধ্যমে সমাজের সকল সদস্যের পূর্ণ স্বচ্ছলতা ও সর্বাঙ্গীণ স্বাধীন বিকাশ নিশ্চিতকরণ। এ নিয়মটি সমাজতান্ত্রিক উৎপাদনের সর্বোচ্চ লক্ষ্য ও তা অর্জনের উপায়গুলো প্রকাশ করে।[২]

সমাজতন্ত্র মূলত প্রলেতারিয়েতের চেষ্টায় গড়ে ওঠে। এই পর্যায়ে পৌঁছতে হলে প্রয়োজন সমাজতান্ত্রিক সম্পর্কের পরিপূর্ণ বাস্তবায়নের এক দীর্ঘ, জটিল এবং বহু দিক থেকে দ্বান্দ্বিক প্রক্রিয়া। সঠিকভাবে বললে, সমাজতন্ত্রের সম্পূর্ণকরণই হলো সাম্যবাদের দিকে ক্রমান্বয়িক অগ্রগতি। সমাজতন্ত্র একটি পরিকল্পিত বাস্তব অর্থব্যবস্থা। ঐতিহাসিকভাবে প্রলেতারিয়েত সাম্যবাদ নামে এমন এক সমাজব্যবস্থা নির্মাণ করবে যা শ্রেণি বিলোপের উদ্দেশ্যে নিবেদিত এবং প্রতিষ্ঠিত করবে সুযোগের পরিপূর্ণ সাম্য। সুসামঞ্জস্য বিকশিত মানুষ গড়ে তোলার জন্য সমস্ত পরিস্থিতি ও পূর্বশর্ত গড়ে তুলবে সমাজতন্ত্র।

সমাজতন্ত্র হচ্ছে মানব আত্ম-বিচ্ছিন্নতার উচ্ছেদ, সত্যিকারের মানবসত্ত্বা হিসেবে মানুষের প্রত্যাবর্তন। মানুষ ও প্রকৃতির এবং মানুষের সাথে মানুষের বৈরিতার চূড়ান্ত অবসান। এটি হলো অস্তিত্ব ও সারমর্ম, উদ্দেশ্যকরণ ও স্বঘোষণা, স্বাধীনতা ও প্রয়োজনীয়তা, ব্যক্তি ও প্রজাতির মধ্যকার সংঘাতের সত্যিকারের সমাধান। এটি হলো ইতিহাসের ধাঁধাঁর সচেতন সমাধান।[৩] 

সমাজতন্ত্র পরিবর্তন ঘটাবে অর্থনৈতিক জীবন এবং সামাজিক সম্পর্কের সংগঠন ও পরিচালনার নানা রূপে। ইতিহাসে একমাত্র প্রলেতারিয়েত শ্রেণিই স্বহস্তে ক্ষমতা নেয় নিজের প্রভুত্ব চিরস্থায়ী করবার জন্য নয়, তাদের ক্ষমতা গ্রহণের উদ্দেশ্য হচ্ছে সাধারণভাবে সমস্ত শ্রেণি ও শোষণ অবসানের এবং রাষ্ট্রকে শুকিয়ে মরার সম্ভাবনা তৈরির জন্য। শ্রেণি আধিপত্য ও শ্রেণি শোষণের ফল যে রাষ্ট্র তা সমাজতন্ত্র বিনির্মাণের পর সাম্যবাদ কায়েম হবার কালে অপ্রয়োজনীয় হয়ে পড়বে এবং সাম্যবাদী গণশাসনে রূপান্তরিত হবে এবং এই প্রক্রিয়াটি দীর্ঘ সময় ধরে বাস্তবায়নের লড়াই চালাবে প্রলেতারিয়েত শ্রেণি। রাষ্ট্রের অস্তিত্বের ঐতিহাসিক প্রয়োজনীয়তা কেবল তখনই ফুরিয়ে যাবে যখন দুনিয়ায় যুদ্ধের আশংকা ও শ্রেণিতে শ্রেণিতে বৈরিতা পরিপূর্ণরূপে বিলুপ্ত হবে। এ পরিস্থিতি গড়ে উঠবে যখন সারা পৃথিবীতে, অন্তত বেশিরভাগ দেশে প্রতিষ্ঠিত হবে সমাজতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থা। সমাজ সামন্তবাদ ও পুঁজিবাদ থেকে সমাজতন্ত্রের দিকে অগ্রসর হবার সংগে সংগে জনগণের আচার আচরণে ক্রমাগত বেড়ে উঠবে সমাজতান্ত্রিক নৈতিক প্রেরণার ভূমিকা, প্রত্যেকেই সমাজের কাছে নিজের দায়িত্ব পালন করে যাবে সচেতনভাবে বিবেকের সাথে। ফলে বেড়ে যাবে সামাজিক আত্মশাসনের পরিমাণ।

সমাজতন্ত্র আপনা থেকে আবির্ভূত হবে না। শ্রেণিসংগ্রামের ফলে প্রলেতারিয়েতের সুতীব্র চেষ্টায় এটি নির্মাণ করতে হবে। সংক্ষেপে সমাজতন্ত্রের জন্য লড়াইটি হচ্ছে পুঁজির শাসনের বিরুদ্ধে ক্রমাগত চালিত তীব্র শ্রেণিসংগ্রাম। এই শ্রেণিসংগ্রাম চালাবে মুখ্যত ও প্রধানত প্রলেতারিয়েত যাদের শ্রমশক্তি বিক্রি করা ছাড়া বেঁচে থাকার অন্য কোনো উপায় নেই অর্থাৎ এই মজুরি শ্রমিকেরা পুঁজির উপরে সরাসরি নিভর্রশীল। এক্ষেত্রে শ্রেণিসংগ্রাম হবে পুঁজিবাদের বিরুদ্ধে লড়াই ও সমাজতান্ত্রিক সমাজ সংগঠিত করা। সমাজতন্ত্র ও সাম্যবাদ কোনো একক মস্তিষ্কের আবিষ্কার নয়; এ হলো ইতিহাসের অনিবার্য এগিয়ে চলার ফলশ্রুতি। এ প্রসঙ্গে এঙ্গেলস লিখেছেন,

“সমাজতন্ত্র কোনো অলৌকিক প্রাজ্ঞের আকস্মিক আবিষ্কার নয়। সমাজতন্ত্র হচ্ছে ঐতিহাসিকভাবে বিকশিত দুটি দ্বন্দ্বমান শ্রেণি প্রলেতারিয়েত এবং বুর্জোয়ার অনিবার্য সংগ্রামেরই পরিণাম। সমাজতন্ত্রের কাজ হলো যথাসম্ভব নিখুঁত অটুট একটা সমাজব্যবস্থা তৈরি করা নয়, তার কাজ হলো সেই ঐতিহাসিক অর্থনৈতিক ঘটনা পরম্পরা অনুধাবন করা যা থেকে এই শ্রেণিগুলো ও তাদের বৈরিতার অনিবার্য উদ্ভব এবং তৎসৃষ্ট অর্থনৈতিক অবস্থার মধ্যে সে সংঘাত দূরীকরণের উপায় বের করা।”[৪]

সমাজতান্ত্রিক বিপ্লব হলো সর্বোচ্চ ধরনের বিপ্লব যা সমস্ত রকমের পুঁজির শাসন, মানুষ কর্তৃক মানুষের যাবতীয় শোষণ এবং সামাজিক শ্রেণিগত বৈরিতার অবসান করে। এই বিপ্লব সমাজের সমাজতন্ত্রে উত্তরণের একটি নিজস্ব নিয়ম। এই বিপ্লবের প্রয়োজন ঘটে সামাজিক উৎপাদনের ব্যক্তিগত মালিকানায় রূপান্তরের বৈশিষ্ট্যের বিপরীতে উৎপাদন উপায়ের সামাজিক মালিকানাভিত্তিক নতুন সামাজিক সম্পর্ক প্রতিস্থাপনের তাৎপর্য থেকে। ব্যক্তিগত মালিকানায় যে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্ম হয় তার বিপরীতে সামাজিক মালিকানার ফলে দেখা দেয় শোষণমুক্ত কর্মীদের শ্রমজনিত সমাজতান্ত্রিক প্রতিযোগিতা। এটি হলো মানবজাতির ইতিহাসে একটি অভূতপূর্ব ব্যাপার। ভ্লাদিমির লেনিন লিখেছেন,

“সমাজতন্ত্র প্রতিযোগিতাকে শুধু যে নির্বাপিত করে না, তাই নয়, বরং উল্টো, এই প্রথম তাকে যথার্থই ব্যাপকভাবে, যথার্থই গণ পরিসরে প্রয়োগের, যথার্থই অধিকাংশ মেহনতিকে এমন কাজের ক্ষেত্রে টেনে আনার সম্ভাবনা সৃষ্টি করে, যেখানে তারা নিজেকে প্রকাশ করতে, নিজেদের নানা দক্ষতা উন্মুক্ত করতে, প্রতিভার স্ফুরণ ঘটাতে পারে, যেগুলি জনগণের মধ্যে অজস্র ঝর্ণাধারার মতো আর যেগুলিকে পুঁজিবাদ হাজারে হাজারে ও লক্ষে লক্ষে বিধ্বংস, দমিত করেছিল, টুঁটি টিপে ধরেছিল।”[৫]

সমাজতান্ত্রিক বিপ্লব মূলত মানুষের সব ধরনের বিকাশের যথাসম্ভব চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে অর্থনৈতিক ও সামাজিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার একটি দীর্ঘ যুগ। এই বিপ্লব হচ্ছে শোষকদের বিরুদ্ধে প্রলেতারিয়েত ও তার মিত্র শ্রেণিদের শ্রেণিসংগ্রামের পরিণাম। প্রলেতারিয় বিপ্লবের পর্যায়কে অতিক্রম ও শ্রেণিসংগ্রামের নানা ধরন কেবল সমাজতান্ত্রিক ধারায় সমাজের মৌলিক পরিবর্তন ঘটাতে পারে। এটি যে কোনো দেশে শোষকদের বিরুদ্ধে সংগ্রামেরই কেবল শর্তাধীন নয়, বিশ্ব পুঁজির বিরুদ্ধে প্রলেতারিয়েতের আন্তর্জাতিক সংগ্রামের সংগেও তা ঘনিষ্ঠভাবে সংশ্লিষ্ট। প্রলেতারীয় আন্তর্জাতিকতা সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবের একটি নীতি ও তার চূড়ান্ত বিজয়ের একটি প্রয়োজনীয় শর্ত। 

পুঁজিবাদের পর অর্জিত সমাজতান্ত্রিক সমাজে ‘প্রত্যেকের হাতে হাতে থাকে কাজ’। মানুষের মতো মানুষ হিসেবে বেঁচে থাকার জন্য এখানে সব মানুষকে কাজের অধিকার দেয়া হয়। কাজের সৌন্দর্যকে বাস্তবায়িত করে তোলাই এই সমাজের মূল উদ্দেশ্য। সমাজতান্ত্রিক সমাজ বিষয়ক বক্তব্যে ভ্লাদিমির লেনিন লিখেছেন,

“আমরা চাই একটা নতুন উন্নততর সমাজব্যবস্থা: উন্নত সে সমাজে ধনী গরীব থাকা চলবে না; মেহনত করতে হবে সকলকেই। সাধারণ মেহনতের যা ফল তা শুধু মুষ্টিমেয় ধনীর ভোগে যাবে না, সমস্ত মেহনতি মানুষের ভোগেই তা লাগা চাই। যন্ত্রপাতি এবং অন্যান্য আধুনিক কলকব্জাকে লাগাতে হবে সকলের মেহনত লাঘব করার কাজে, তা দিয়ে কোটি কোটি মানুষকে বঞ্চিত করে অল্প কিছু মানুষের ধনী হওয়া চলবে না।”[৬]

সমাজতন্ত্র শোষণ উৎখাত করে। শোষণ উৎখাত করতে হলে স্বাভাবিকভাবেই উৎখাত করতে হবে মুনাফাসহ সকল রকমের ফাটকা কারবার। চে গ্যেভারা সমাজতন্ত্র নির্মাণের ক্ষেত্রে মুনাফা উৎখাতের পক্ষে কথা বলেছেন,

“পুঁজিবাদের ভোঁতা অস্ত্র দিয়ে সমাজতন্ত্র কায়েম সম্ভব নয়। পণ্যকে পুঁজিবাদী অর্থনীতির কাছে রেখে মুনাফা আর ব্যক্তিস্বার্থ চরিতার্থ করার প্রবণতাকে প্রশ্রয় দিলে তা শেষ পর্যন্ত কানা গলিতে নিয়েই ফেলবে। বিভ্রান্তি এড়িয়ে অনেক পথ পাড়ি দিয়ে লক্ষ্যের কাছাকাছি পৌঁছে ভুল বাঁক নিলেই বিপদ।”[৭]

মাও সেতুং একটি নির্দিষ্ট দেশে সমাজতান্ত্রিক সমাজের নির্মাণকাল ও তার চরিত্র সম্পর্কে বলতে গিয়ে বলেছেন,

“সমাজতান্ত্রিক সমাজ একটি বেশ দীর্ঘ ঐতিহাসিক সময়কাল ধরে থাকবে। সমাজতন্ত্রের ঐতিহাসিক পর্যায়কাল জুড়ে শ্রেণিসমূহ, শ্রেণিদ্বন্দ্ব ও শ্রেণিসংগ্রাম রয়েছে, সমাজতান্ত্রিক পথ ও পুঁজিবাদি পথের মধ্যকার সংগ্রাম রয়েছে, এবং পুঁজিবাদের পুনরুত্থানের বিপদ রয়েছে। আমাদেরকে অবশ্যই এই সংগ্রামের দীর্ঘস্থায়ী ও জটিল চরিত্রকে স্বীকৃতি দিতে হবে। আমাদের সতর্কতাকে অবশ্যই বাড়াতে হবে। আমাদেরকে অবশ্যই সমাজতান্ত্রিক শিক্ষা চালাতে হবে। শ্রেণিদ্বন্দ্ব ও শ্রেণিসংগ্রামকে অবশ্যই আমাদের সঠিকভাবে বুঝতে হবে ও মীমাংসা করতে হবে, আমাদের ও শত্রুর মধ্যকার দ্বন্দ্ব থেকে জনগণের মধ্যকার দ্বন্দ্বগুলোকে পৃথক করতে হবে এবং তাদেরকে সঠিকভাবে মীমাংসা করতে হবে। নচেৎ আমাদের মতো একটি সমাজতান্ত্রিক দেশ তার বিপরীতে রূপান্তরিত হবে এবং অধপতিত হবে; পুঁজিবাদের পুনরুত্থান ঘটবে। এখন থেকে এটা আমাদেরকে প্রতি বছর, প্রতি মাসে ও প্রতিদিনই স্মরণ করতে হবে যাতে এই সমস্যা সম্পর্কে আমরা তুলনামূলকভাবে ভাল ধারনা অর্জন করতে পারি এবং যাতে আমাদের একটি মার্কসবাদী লেনিনবাদী লাইন থাকে।[৮]

প্রলেতারিয়েত শোষকরূপে বিরাজিত বুর্জোয়াকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে রাষ্ট্রক্ষমতাকে নিজেদের  হাতে নেয় এবং প্রলেতারিয়েতের একনায়কত্ব কায়েম করে। এই একনায়কত্ব অত্যাবশ্যক আর তাতে সাফল্যের একটা নিশ্চায়ক হলো কমিউনিস্ট পার্টির নেতৃত্বের ভূমিকা। সাধারণভবে সমাজকে প্রাধান্য দিয়ে একটি সমতার সমাজ বিনির্মাণের উদ্দেশ্যে কমিউনিস্ট পার্টি দীর্ঘকালীন শ্রেণিসংগ্রাম চালিয়ে সাম্যবাদী সমাজের পথ বিকশিত করে। সাম্যবাদী সমাজ  তৈরি হলেই শুরু হবে প্রকৃত মানুষের ইতিহাস।[৯]

তথ্যসূত্র ও সহায়ক গ্রন্থ:

১. খারিস সাবিরভ; কমিউনিজম কী; প্রগতি প্রকাশন মস্কো; ১৯৮৮; পৃষ্ঠা ৩৩৮।

২. সোফিয়া খোলদ; সমাজবিদ্যার সংক্ষিপ্ত শব্দকোষ; প্রগতি প্রকাশন, মস্কো; ১৯৯০; পৃষ্ঠা ১৭২।

৩. এরিক ফ্রম, মার্কসের মানুষ, মনোজ দে ও জাভেদ হুসেন অনূদিত, বাঙলায়ন, ঢাকা, ফ্রেব্রুয়ারি, ২০১০, পৃষ্ঠা ৬৬-৬৭।

৪. ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস, কল্পলৌকিক ও বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্র; ইংরেজি বাক্যগুলো এইরকমঃ Socialism was no longer an accidental discovery of this or that ingenious brain, but the necessary outcome of the struggle between two historically developed classes — the proletariat and the bourgeoisie. Its task was no longer to manufacture a system of society as perfect as possible, but to examine the historic-economic succession of events from which these classes and their antagonism had of necessity sprung, and to discover in the economic conditions thus created the means of ending the conflict.

৪ V.I. Lenin, How to Organize Competition? Collected works, Vol. 26, Moscow, 1972, p 404

৬. লেনিন, গ্রামের গরিবদের প্রতি, ১৯০৩

৭. চে গ্যেভারা; সমাজতন্ত্র ও কিউবার মানুষ, ১৯৬৫

৮. মাও সেতুং; ১৯৬২; ৮ম কেন্দ্রিয় কমিটির ১০ম প্লেনারি অধিবেশন, ৯ম পার্টি কংগ্রেসের দলিলে উদ্ধৃত।

৯. আরো দেখুন, আ. ন. ইয়াকভলেভ ও অন্যান্য, রাজনীতির মূলকথা, প্রগতি প্রকাশন, মস্কো, ১৯৭৫। প্রবন্ধটি আমার [অনুপ সাদি] রচিত ভাষাপ্রকাশ ঢাকা থেকে ২০১৫ সালে প্রকাশিত সমাজতন্ত্র গ্রন্থের ১১-১৭ পৃষ্ঠা থেকে নেয়া হয়েছে এবং রোদ্দুরেতে প্রকাশ করা হলো। প্রবন্ধটির রচনাকাল ২০ আগস্ট, ২০১৪।

আরো পড়ুন






Related News

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *