আপনি যা পড়ছেন
মূলপাতা > আন্তর্জাতিক > আফ্রিকা > আফ্রিকান ন্যাশনাল কংগ্রেস বা এ. এন. সি. প্রসঙ্গে

আফ্রিকান ন্যাশনাল কংগ্রেস বা এ. এন. সি. প্রসঙ্গে

আফ্রিকান ন্যাশনাল কংগ্রেস বা এ. এন. সি. (ইংরেজি: African National Congress) দক্ষিণ আফ্রিকার একটি বামপন্থী রাজনৈতিক দল। ঐতিহাসিকভাবে দেখা যায়, দক্ষিণ আফ্রিকা ইউনিয়নের সৃষ্টি হয় প্রধানত শ্বেতাঙ্গ সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অধিকার সুরক্ষিত করার উদ্দেশ্যে। এর বিরুদ্ধে মুক্তি-আন্দোলন গড়ে ওঠে ১৯১২-তে। এই প্রথম মুক্তি-আন্দোলনেরই নাম আফ্রিকান ন্যাশনাল কংগ্রেস (এ. এন. সি.) এই মধ্যবিত্ত পার্টির আদর্শ ছিল: ব্যক্তিস্বাধীনতা, বহুজাতীয়তা এবং অহিংসা।

১৯৪৫ সাল পর্যন্ত দেশে বা বিদেশে এ. এন. সি.-র কোন প্রভাব দেখা যায়নি। চল্লিশের দশকে এ. এন. সি. জনগণের মধ্যে তার রাজনৈতিক ভিত্তি প্রসারিত করে। ১৯৪৩-এ নেলসন ম্যান্ডেলা এবং অলিভার ট্যাম্বাের নেতৃত্বে যুবলিগ প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৫০-এ সরকারবিরােধী আন্দোলনে এ. এন. সি, এই যুবলিগের বামপন্থী কর্মসূচীকেই ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করে। একই সময় ১৯৪৮-এ বর্ণবৈষম্যে দৃঢ় বিশ্বাসী একটি ‘জাতীয় দল’ সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়।

উনিশ শতকের পঞ্চাশের দশকে এ. এন. সি. গণআন্দোলনের পথ নেয় এবং একটি যুক্ত কংগ্রেস প্রতিষ্ঠিত করে । এই যুক্ত কংগ্রেস কমিউনিস্ট পার্টির দ্বারা প্রভাবিত ছিল। ১৯৫৫ সালে এ. এন. সি.-র স্বাধীনতা ঘােষণাপত্রে বলা হয়, দক্ষিণ আফ্রিকাতে যে থাকে, দক্ষিণ আফ্রিকা তারই। এর ফলে সশস্ত্র সংগ্রামে বিশ্বাসী কিছু সংখ্যালঘু বিপ্লবীর এক সংগঠন জন্ম নেয় যার নাম হয় প্যান আফ্রিকান কংগ্রেস। ১৯৬০-এ শাপভিল অস্ত্রসংগ্রামের পরে দুটি আন্দোলনই বেআইনি ঘােষিত হয়। এর পরে সশস্ত্র সংগ্রামের উদ্দেশ্যে এ. এন. সি. একটি গােপন সামরিক শাখা তৈরি করে । ১৯৬৩-৬৪-তে প্রায় সমস্ত নেতৃত্নের বিচার ও কারাবাস হয় ।

পরের দশকে এ. এন. সি. প্রায় নিশ্চুপই ছিল। ১৯৭৬-এ সােয়েটাতে ছাত্র-অভু্যত্থান হয় এবং প্রচুর যুব-বিপ্লবী দেশের বাইরে এ. এন. সি. র বিভিন্ন অস্ত্রশিক্ষা শিবিরে চলে যান। দেশের ও বিদেশের চাপের মুখে পড়েন প্রিটোরিয়ার সরকার; এ, এন. সি. আবার আন্দোলনের কেন্দ্রস্থলে চলে আসে। ১৯৮৪-৮৬-তে এক সংবিধান প্রণীত হয় যাতে কৃষ্ণাঙ্গ সংখ্যাধিকদের প্রতিনিধিত্বের কোনও ব্যবস্থা রাখা হয় না। চতুর্দিকে অসন্তোষ ও আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে। ফলে এ. এন. সি.-র যথেষ্ট প্রভাব বাড়ে।

১৯৮৯-তে আফ্রিকান সরকারের নেতৃত্ব পরিবর্তিত হয়। এফ. ডব্লু. ডি. ক্লার্ক নেলসন ম্যান্ডেলাকে মুক্ত করেন। পরের বছর সমস্ত রাজনৈতিক আন্দোলনকে আইনসম্মত বলে গ্রহণ করা হয়। একটি নতুন রাজনৈতিক ব্যবস্থায় সব আফ্রিকাবাসীর ভােটের অধিকার নিয়ে আলােচনা শুরু হয়। এ. এন. সি. অস্ত্রসংগ্রাম থেকে বিরত হতে সম্মত হয় এবং সরকারসহ বিভিন্ন দলের সঙ্গে আলােচনা আরম্ভ হয়। ১৯৯২ সালে সরকার ও এ. এন. সি.-র মধ্যে চুক্তি সম্পন্ন হয়। ১৯৯৪-তে এ. এন. সি. নির্বাচনে জয়ী হয় এবং নেলসন ম্যান্ডেলা দক্ষিণ আফ্রিকার রাষ্ট্রপতি হন।

তথ্যসূত্র:

১. গঙ্গোপাধ্যায়, সৌরেন্দ্রমোহন. রাজনীতির অভিধান, আনন্দ পাবলিশার্স প্রা. লি. কলকাতা, তৃতীয় মুদ্রণ, জুলাই ২০১৩, পৃষ্ঠা ৫৪-৫৫।

আরো পড়ুন:  দক্ষিণ আফ্রিকা কৃষিপ্রধান দেশ
Anup Sadi
অনুপ সাদির প্রথম কবিতার বই “পৃথিবীর রাষ্ট্রনীতি আর তোমাদের বংশবাতি” প্রকাশিত হয় ২০০৪ সালে। তাঁর মোট প্রকাশিত গ্রন্থ ১০টি। সাম্প্রতিক সময়ে প্রকাশিত তাঁর “সমাজতন্ত্র” ও “মার্কসবাদ” গ্রন্থ দুটি পাঠকমহলে ব্যাপকভাবে সমাদৃত হয়েছে। ২০১০ সালে সম্পাদনা করেন “বাঙালির গণতান্ত্রিক চিন্তাধারা” নামের একটি প্রবন্ধগ্রন্থ। জন্ম ১৬ জুন, ১৯৭৭। তিনি লেখাপড়া করেছেন ঢাকা কলেজ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। ২০০০ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি সাহিত্যে এম এ পাস করেন।

Leave a Reply

Top
You cannot copy content of this page