You are here
Home > আন্তর্জাতিক > এশিয়া > ভারত > আসামে সংকট, দায়ী কে?

আসামে সংকট, দায়ী কে?

গত তিন হাজার বছর ধরে দিল্লি আর উত্তর ভারত মিলে বাংলাসহ পূর্বের দেশগুলোকে শোষণ করছে। ১৯৪৭ সালে দিল্লি ও বোম্বাইয়ের পুঁজিপতিরা দাঙ্গা লাগিয়ে বাংলাকে ভাগ করেছে। সাহায্য করেছিল কলকাতার কিছু শিল্পপতি। আসল কথা হচ্ছে পূর্বের দেশসমূহকে লুট করার জন্যেই পূর্বের দেশসমূহের জনগণকে বিভক্ত করা হয়েছে এবং শাসন করা হয়েছে। গত শতক থেকেই এই পূর্বের দেশসমূহকে লুটের ব্যাপারে এখনকার বিজেপি এবং আগের কংগ্রেসের মধ্যে বিন্দুমাত্র ফারাক নেই। আর এই কাজে গত অর্ধ শতক ধরে সহায়তা করে চলেছে ভারতীয় জনগণের শত্রু সংশোধনবাদী ভুয়া কমিউনিস্টদের দুটি দল সিপিআই এবং সিপিএম। সেই ভাগ করো এবং শাসন করো নীতিতে কাজ করে এইবার আসামে সমস্যা তৈরি করেছে কংগ্রেস এবং বিজেপি।

পূর্বদেশ ঐতিহাসিক কাল হতেই প্রাকৃতিক সম্পদে বলিয়ান। এই সম্পদ লুটের জন্যই হাজার বছর ধরে পশ্চিমের পথ দিয়ে এসেছে লুটেরারা। লুট করে নিয়ে গেছে পূর্বদেশের জাতিসমূহের সম্পদ। কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধ বা তারও আগে থেকেই এই লুট চলছে। কখনো তা মহাভারত গঠনের নামে কখনো দক্ষিণ এশিয়া গঠনের নামে, কখনো সার্ক গঠনের নামে।

সুলতানী আমল থেকে বাংলাসহ পার্শ্ববর্তী সব অঞ্চল লুট হয়েছে দিল্লির দ্বারা। পূর্বদেশসমূহকে লুটের প্রক্রিয়ায় আফগান পাকিস্তানের সাম্রাজ্যমদমত্তরা পর্যন্ত জড়িয়েছে, সেই লুট একদা লন্ডন পর্যন্ত পৌঁছেছে। ১৯৪৭ সালে পূর্বদেশের একটি অংশের, মূলত কলকাতার পুঁজিপতিরা যোগ দিয়েছে দিল্লি সাম্রাজ্যের সাথে। বোম্বাই, দিল্লি আর করাচীর পুঁজিপতিরা দাঙ্গা বাঁধিয়ে পূর্বদেশকে লুট করার চক্রান্তে সেসময় সফল হয়েছে। এরপর বহুবার তারা বারবার পূর্বের দেশসমূহে দাঙ্গা লাগিয়েছে, অরুনাচল, আসাম  ও মনিপুরে গণহত্যা চালিয়েছে।

সর্বশেষ দিল্লি আর পশ্চিমাদের চক্রান্ত সমস্যা তৈরি করেছে আসাম আর আরাকানে। আরাকানকে এখন লুট করছে সাংহাই, বেইজিং, কুনমিং, দিল্লি এবং রেঙ্গুনের পুঁজিপতিরা। আরাকানে রোহিংগাদের উপর চলমান গণহত্যায় নরেন মোদি যে লাফ মেরে এই গণহত্যাকে সাহায্য করতে রেঙ্গুন সফরে গিয়েছিল গত বছর তা নিপীড়িতরা নিশ্চয় ভোলেনি। ২০১৭ সালের শেষ দিন আসামে যে নাগরিক তালিকা ‘ন্যাশনাল রেজিস্টার অব সিটিজেনস’ (এনআরসি) তৈরি করা হয়েছে তাতে নেই প্রায় অর্ধেক মানুষের নাম। টাইমস অব ইন্ডিয়া এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে যে এই প্রক্রিয়ার ফলে আসামে ‘৩৮ লাখ অবৈধ নাগরিক চিহ্নিত’[১] হয়েছে। আর এই তালিকা তৈরির সময় এসব বাংলাভাষী মানুষের ভোটার কার্ড, রেশন কার্ড, আধার কার্ড, জমির দলিল, পাসপোর্ট, প্যান কার্ড, অন্যান্য সব সরকারি নথিপত্র বা যা কিছু ডকুমেন্ট ছিলো তাদের সাথে, সব কিছু যাচাই ও পরীক্ষার নামে সেসব মানুষের কাছ থেকে হাতিয়ে নেয়া হয়েছিল এবং সেগুলো আর কেউই ফেরত পায়নি।

এইসব হচ্ছে আসামের জনগণকে শোষণ করে দিল্লির তখতে তাউসে লুটের সম্পদ আরো বাড়ানোর জন্য। দিল্লি গত সাত দশকে আসামে একটি “আধিপত্যবাদী অসমিয়া রাজনৈতিক সমাজ” তৈরি করেছে। এরাই মূলত দিল্লির বিস্তারবাদী নীতি বাস্তবায়ন করে জনগণের উপর নিপীড়ন শোষণ ও গণহত্যা চালাচ্ছে। এই নিপীড়কদের ভেতরে আছে কংগ্রেস-বিজেপি এবং উভয় দলের শিল্পপতিরা, যারা গত সাত দশকে “বেপরোয়াভাবে অসমিয়াকরণের নীতি অনুসরণ করেছে”। অথচ আসামে “অসমিয়াদের সঙ্গে আছে প্রচুর বাঙালি, হিন্দিভাষী, বড়ো জনগোষ্ঠী, ডিমাসা-কার্বি-মিশিং-আহোম-মৈতৈ-মণিপুরি-বিষ্ণুপ্রিয়া মণিপুরি-মারা প্রভৃতি ক্ষুদ্র জনসমাজ।”[২] অর্থাৎ Divide and Rule Policy” আসামে ভালোই শিকড় গেড়েছে। দিল্লির বিস্তারবাদের সমর্থক আসামের আধিপত্যবাদী জাতিদম্ভী শাসকদের বিস্তারবাদী এই প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে চাই পূর্বদেশের নিপীড়িত সকল জাতি ও জনগণের নিবিড় ঐক্য।

এই শোষণ এবং লুটের হিসাব পূর্বের দেশসমূহের জনগণের কড়ায় গণ্ডায় হিসাব মিটিয়ে নেয়া দরকার। পূর্বদেশের জনগণের উচিত পশ্চিমাদের এই অন্যায়কে বানচাল করে এগিয়ে যাওয়া। পূর্বদেশের নিপীড়িত জাতি ও জনগণ এক হও।

তথ্যসূত্র:
১. আনিস রায়হান, আসামে নাগরিকত্ব সংকট: ভবিষ্যৎ কী?, ৬ জানুয়ারি, ২০১৮, কলাম, বাংলা ট্রিবিউন, সম্পাদক: জুলফিকার রাসেল, প্রকাশক: কাজী আনিস আহমেদ, লিংক http://www.banglatribune.com/columns/opinion/280089/

২ তপোধীর ভট্টাচার্য, ৬ জানুয়ারি, ২০১৮, আসামে বাঙালি বিতাড়নের মুষল পর্ব, দৈনিক প্রথম আলো, আন্তর্জাতিক পাতা, প্রিন্ট সংস্করণ। লিংক http://www.prothomalo.com/opinion/article/1401831/

আরো পড়ুন

Anup Sadi
অনুপ সাদির প্রথম বই প্রকাশিত হয় ২০০৪ সালে। তাঁর মোট প্রকাশিত গ্রন্থ ১০টি। সাম্প্রতিক সময়ে প্রকাশিত তাঁর সমাজতন্ত্র মার্কসবাদ গ্রন্থ দুটি পাঠকমহলে ব্যাপকভাবে সমাদৃত হয়েছে। ২০১০ সালে সম্পাদনা করেন বাঙালির গণতান্ত্রিক চিন্তাধারা নামের একটি প্রবন্ধগ্রন্থ। জন্ম ১৬ জুন, ১৯৭৭। তিনি লেখাপড়া করেছেন ঢাকা কলেজ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। ২০০০ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি সাহিত্যে এম এ পাস করেন।

Leave a Reply

Top