Main Menu

আসামের জেলাগুলোর তালিকা

বাংলাদেশ রাষ্ট্র হিসেবে দুর্বল। এই দুর্বলতার জন্য মূলত বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ কারণই প্রধান। এরপরই কারণ হিসেবে আসে সাম্রাজ্যবাদ। কিন্তু বাংলাদেশের প্রতিবেশী দেশ ভারত ও তার রাজধানী দিল্লির পুঁজিপতি এবং তাদের বিস্তারবাদও একটি বড় কারণ আমাদের দুর্বলতা ও ব্যর্থতার জন্য। এই দিল্লি, তার আধিপত্যবাদী লুটেরা মনোভাব, পার্শ্ববর্তী দেশ ও জাতিসমূহকে শোষণ ইত্যাদি দিল্লিকে শক্তিশালী করেছে। দিল্লি এবং তার লুটপাটকারী বৈশিষ্ট্য বুঝতে হলে আমাদের আরো মনোযোগ দিতে হবে খুব কাছের অঞ্চলগুলোতে। আমাদের পার্শ্ববর্তী সাতবোনী দেশসমূহ বা সেভেন সিস্টার্সকে বোঝা দরকার সবার আগে। আসাম হচ্ছে এই সাতবোনী দেশের একটি দেশ।

আসামে দীর্ঘদিন ধরে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা এবং অসমীয়া জাতিদম্ভী আচরণ বিরাজমান। বড় জাতিদর্পী অসমীয়া জাতি সেখানকার অন্যান্য ছোট ও দুর্বল জাতিসমূহ এবং জনগণের উপর নির্যাতন, নিপীড়ন ও শোষণ চালায়। এই শোষণ ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে সেখানে দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন চলে আসছে। আসামের রাজনৈতিক সংকট একটি দীর্ঘমেয়াদী বিষয়।

এই বিষয়ে পড়ুন, অনুপ সাদির প্রবন্ধ আসামে সংকট, দায়ী কে?

আসাম বা অসম (অসমীয়া: অসম অখ়ম্‌) বর্তমান বিস্তারবাদী ভারতের একটি দখলী দেশ। বাংলাদেশের উত্তরপূর্বে অবস্থিত এই রাজ্যটি হিমালয়ের দক্ষিণে অবস্থিত এবং এর অভ্যন্তরে রয়েছে ব্রহ্মপুত্র নদ, বরাক উপত্যকা এবং উত্তর কাছাড় পর্বতমালা। ভারত এই অঞ্চলে দখল করে রেখেছে আরো ছয়টি রাজ্য, যথা অরুণাচল প্রদেশ, নাগাল্যান্ড, মণিপুর, মিজোরাম, ত্রিপুরা, এবং মেঘালয় এবং আসাম অন্যান্য ছয়টি দেশ দ্বারা আসাম বেষ্টিত। এই সাতটি দেশকে একত্রে সাতবোনী দেশ বলা হয়। শিলিগুড়ি করিডোর বা চিকেন নেক দ্বারা ভারত আসামসহ প্রতিটি দেশের উপর তার আধিপত্য বজায় রাখছে। এই শিলিগুড়ি করিডোর হচ্ছে একটি সংকীর্ণ অংশ যার দ্বারা ভারতের মূল ভূখণ্ডের সাথে এই সাতটি দেশ সংযুক্ত। এছাড়াও আসামের আন্তর্জাতিক সীমানা রয়েছে প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভূটান এবং বাংলাদেশের সঙ্গে।

১৮২৬ খ্রিস্টাব্দে ইয়াণ্ডাবু চুক্তির মাধ্যমে আসাম প্রথম উপনিবেশবাদী ব্রিটিশদের অধীনে আসে।  এই আসাম প্রধানত চা, রেশম, পেট্রোলিয়াম এবং জীববৈচিত্রের জন্য বিখ্যাত। আসাম সাফল্যের সঙ্গে একশিঙি গণ্ডার সংরক্ষণ করে এই মহাবিপন্ন প্রজাতিটিকে বিলুপ্তির হাত থেকে রক্ষা করতে পেরেছে। এছাড়াও এখানে বাঘ, বিভিন্ন প্রজাতির পাখি সংরক্ষিত রয়েছে। এশীয় হাতির অন্যতম বাসস্থান হল আসাম। এই রাজ্যটি বন্যপ্রাণী পর্যটনের ক্ষেত্রে ক্রমেই একটি গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল হয়ে উঠছে।

আসামকে জানার প্রধান উদ্দেশ্য হচ্ছে পূর্বদেশসমূহের জাতিসমূহ ও জনগণের ভেতর নিবিড় ঐক্য গড়ে তোলা। সেই উদ্দেশ্যেই আসামের বর্তমানের ২৭টি জেলার সংক্ষিপ্ত নাম এবং সেগুলোর একটি মানচিত্র এখানে প্রদান করা হয়েছে। এই জেলাগুলোর মধ্যে ওদালগুরি, কোকড়াঝাড়, চিরাং ও বাক্সা জেলা বড়োলেণ্ড স্বায়ত্বশাসিত এলাকার অন্তর্ভুক্ত। এখানে জানার জন্য অসমের জেলাগুলোর একটি তালিকা পাঠকদের উদ্দেশ্যে প্রদান করা হলো।

ক্রম জেলার নাম ক্রম জেলার নাম
ওদালগুরি জেলা ১৫ ধুবড়ী জেলা
করিমগঞ্জ জেলা ১৬ ধেমাজি জেলা
কাছাড় জেলা ১৭ নগাঁও জেলা
কামরূপ জেলা ১৮ নলবাড়ি জেলা
কামরূপ মহানগর জেলা ১৯ বঙাইগাঁও জেলা
কার্বি আংলং জেলা ২০ বরপেটা জেলা
কোকড়াঝাড় জেলা ২১ বাক্সা জেলা
গোয়ালপাড়া জেলা ২২ মরিগাঁও জেলা
গোলাঘাট জেলা ২৩ যোরহাট জেলা
১০ চিরাং জেলা ২৪ লখিমপুর জেলা
১১ ডিব্রুগড় জেলা ২৫ শিবসাগর জেলা
১২ ডিমা হাছাও জেলা ২৬ শোণিতপুর জেলা
১৩ তিনসুকিয়া জেলা ২৭ হাইলাকান্দি জেলা
১৪ দরং জেলা

 

আরো পড়ুন

অনুপ সাদির প্রথম কবিতার বই পৃথিবীর রাষ্ট্রনীতি আর তোমাদের বংশবাতি প্রকাশিত হয় ২০০৪ সালে। তাঁর মোট প্রকাশিত গ্রন্থ ১০টি। সাম্প্রতিক সময়ে প্রকাশিত তাঁর সমাজতন্ত্র মার্কসবাদ গ্রন্থ দুটি পাঠকমহলে ব্যাপকভাবে সমাদৃত হয়েছে। ২০১০ সালে সম্পাদনা করেন বাঙালির গণতান্ত্রিক চিন্তাধারা নামের একটি প্রবন্ধগ্রন্থ।

জন্ম ১৬ জুন, ১৯৭৭। তিনি লেখাপড়া করেছেন ঢাকা কলেজ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। ২০০০ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি সাহিত্যে এম এ পাস করেন।






Related News

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *