You cannot copy content of this page
আপনি যা পড়ছেন
মূলপাতা > আন্তর্জাতিক > ইউরোপ > গ্রিস ইউরোপের পুঁজিবাদী রাষ্ট্র

গ্রিস ইউরোপের পুঁজিবাদী রাষ্ট্র

বলকান উপদ্বীপের দক্ষিণে ও অদূরবর্তী দ্বীপগুলিতে অবস্থিত গ্রীস আয়তনের (প্রায় ১ লক্ষ ৩২ হাজার বর্গকিলোমিটার) দিক থেকে পর্তুগালের চেয়ে বৃহত্তর হলেও জনসংখ্যা (৯০ লক্ষ) ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের মানের হিসাবে এর চেয়ে নিম্নপর্যায়ে অবস্থিত।

গ্রীস মাক্ষিক, কয়লা, লিগনাইট, অ্যাজবেসটস, নিকেল, টিন, দস্তা, ক্রোমিয়াম, লৌহ ও ম্যাঙ্গানিজ আকরিকের সমৃদ্ধ খনির অধিকারী। উষ্ণ ভূমধ্যসাগরধৌত দেশের উপ-উষ্ণমণ্ডলীয় জলবায়ু, কৃষির নিবিড় চাষভিত্তিক শাখা উন্নয়নের বিশেষ অনুকূল।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর গ্রীস বৃহৎ সাম্রাজ্যবাদী দেশগুলির রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামরিক শক্তির প্রভাবাধীন ছিল। এদেশের উপর আরোপিত সামরিক ব্যয়ের দুর্ভার বোঝাই তার অর্থনৈতিক অনগ্রসরতার কারণ। জাতীয় স্বার্থের প্রতি বেইমান দেশের সামরিক একনায়কত্বের শাসনই উন্নয়নে বাধা সৃষ্টি করেছিল।

১৯৭৪ সালে রাজনৈতিক মঞ্চ থেকে সামরিক জান্তার অপসারণ গ্রীসের গণতান্ত্রিক শক্তির বিরাট সাফল্য হিসাবে চিহ্নিত। অতংপর ১৯৮১ সালে গ্রীসের নির্বাচনে গণতান্ত্রিক শক্তি বিরাট সাফল্য লাভ করে। এমতাবস্থায় দেশে প্রগতিশীল পরিবর্তন এবং অর্থনীতি ও সংস্কৃতি অনুকূল পর্বেশর্ত দেখা দিয়েছে।

আজিকার গ্রীস বিদেশী একচেটিয়া পুঁজির উপর নির্ভরশীল একটি শিল্প-কৃষিসমৃদ্ধ দেশ। কৃষি ও বনশিল্প তার অর্থনৈতিক কাঠামোর মূল উপাদান। বনশিল্প ও মাছশিকারে দেশের কর্মরত জনসংখ্যার ৪০ শতাংশ নিযুক্ত। তার শিল্প ও নির্মাণ অপেক্ষাকৃত উন্নত মানের এবং জনসংখ্যার ২৫ শতাংশ এতে কর্মরত।

হালকা ও খাদ্য শিল্প গ্রীসের প্রধান দুটি শিল্পশাখা। স্থানীয় কাঁচামাল সহ বহুল পরিমাণে আমদানিকৃত কাঁচামাল ও জ্বালানি ব্যবহারকারী ভারী শিল্পগুলিতে সম্প্রতি উন্নতিমুখী অবস্থা দেখা দিয়েছে। এ কৃষিতে এখনো জমিদারি প্রথা বর্তমান রয়েছে। চাষাবাদ অভ্যন্তরীণ চাহিদাপূরণের জন্য শস্য ও চিনি-বীট সহ রপ্তানিযোগ্য সামগ্রী (তামাক, লেবুজাতীয় ফল, জলপাই, কিসমিস, মদ) উৎপাদনে বিশেষীকৃত। চাষাবাদ ও পশুপালনের মৌলিক সামগ্রীতে গ্রীস স্বয়ংসম্পূর্ণ নয় এবং সে এগুলি আমদানি করে।

বিশাল বাণিজ্যিক নৌবহর (২৯ কোটি রেজিস্টাড টনের মোট বহনক্ষমতাসম্পন্ন ৩৩ হাজারের বেশি জাহাজ) গ্রীসের বহিবাণিজ্যেই শুধু নয়, সমস্ত অর্থনীতিতেও গুরত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বিদেশী মুদ্রাজনের উৎস হিসাবে তার পর্যটন শিল্পের আয়ও বৃদ্ধি পাচ্ছে।

গ্রীসে গণতান্ত্রিক পরিবর্তনের পরবর্তী বিকাশ ও মজবুতি, ন্যাটো থেকে দেশের শরিকানা প্রত্যাহার এবং সাম্রাজ্যবাদী বৃহৎ শক্তিগুলির পৃষ্ঠাপোষকতা থেকে মুক্তিলাভ, সমাজতান্ত্রিক দেশগুলির সঙ্গে বহুমুখী সহযোগিতা স্থাপন—এসবই গ্রীক জনগণের স্বার্থানুকূল। দেশের প্রগতিশীল শক্তি ধারাবাহিক গণতান্ত্রিক উন্নয়ন ও পরিবর্তনের জন্য, জাতীয় স্বাধীনতার জন্য অটল সংগ্রাম চালাচ্ছে।

তথ্যসূত্রঃ

১. কনস্তানতিন স্পিদচেঙ্কো, অনুবাদ: দ্বিজেন শর্মা: বিশ্বের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ভূগোল, প্রগতি প্রকাশন, মস্কো, বাংলা অনুবাদ ১৯৮২, পৃ: ২০৬-২০৭।

আরো পড়ুন:  স্পেন ইউরোপের সাম্রাজ্যবাদী দেশ
Dolon Prova
জন্ম ৮ জানুয়ারি ১৯৮৯। বাংলাদেশের ময়মনসিংহে আনন্দমোহন কলেজ থেকে বিএ সম্মান ও এমএ পাশ করেছেন। তাঁর প্রকাশিত প্রথম কবিতাগ্রন্থ “স্বপ্নের পাখিরা ওড়ে যৌথ খামারে”। বিভিন্ন সাময়িকীতে তাঁর কবিতা প্রকাশিত হয়েছে। এছাড়া শিক্ষা জীবনের বিভিন্ন সময় রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক কাজের সাথে যুক্ত ছিলেন। বর্তমানে রোদ্দুরে ডট কমের সম্পাদক।

Leave a Reply

Top