Main Menu

পাতলা পায়খানা নিরাময়ের ১০টি ভেষজ চিকিৎসা

অতিসার বা পাতলা দাস্ত বা পাতলা পায়খানা প্রাথমিক পর্যায়ে একটি সাধারণ অসুখ। খাদ্যাভ্যাস, হজমে সমস্যা, অম্ল বা গ্যাস্টিক, পরিচ্ছন্নতা ইত্যাদি কারণে হতে পারে। এই সমস্যার নিরাময় করতে কিছু ভেষজ উপায় উল্লেখ করা হলও।

১. খুব পাতলা দাস্ত হচ্ছে, থামানো যাচ্ছে না, তখন নাভির চারিদিকে একটু শক্ত করে আমলকী বেটে আল দিয়ে তার মাঝে আদার রসে ভেজানো ন্যাকড়া দেওয়া, আর একটু একটু করে আদার রস ওতে ঢেলে দিতে হয় এবং খেতেও দেওয়া হয়। এর দ্বারা ওটা থেমে যাবে। এ মুষ্টিযোগ আজকালের নয়, ৮ থেকে ৯ শত বৎসর পূর্বেকার (চক্রদত্ত সংগ্রহ)।

২. আমগাছের ছালের উপরের স্তরটা চেছে ফেলে দিয়ে সেই ছাল গাভীর দুধের সাথে বেঁটে খেলে পেট গুড় গুড় শব্দ ও পাতলা দাস্ত বন্ধ হবে এবং সেজন্য দাহ ও বেদন নষ্ট হয়। আমের কচি পাতা ও কাঁচা কদবেলের শাঁস সমভাবে বেঁটে চাল ধোঁয়া পানি দিয়ে খেলে পক্কাতিসারের উপশম হবে।

৩. নতুন বা পুরাতন অতিসারে ডালিমের খোসা চূর্ণ ১ থেকে ৩ গ্রাম মাত্রায় মধু সহ সেবন করতে হবে। এছাড়া ডালিমের খোসা ২০ থেকে ২৫ গ্রাম আধ সের জলে সিদ্ধ করে ১ কাপের মতো থাকতে নামিয়ে ছেকে খেলে অতিসার সেরে যায়।

৪. যাঁদের পাতলা ও সবুজাভ দান্ত হতে থাকে সেক্ষেত্রে পদ্মের ফেকড়ি বা নতির (যাকে মৃণাল বলা হয়) ২ থেকে ৩ চা চামচ রস চাল ধোয়া জলের সঙ্গে ১০।১২ ফোঁটা মধু মিশিয়ে খেতে দিলে ওটার নিবৃত্তি হয়।

৫. পাতলা দাস্ত হয় তার সঙ্গে আম সংযুক্ত আছে, সেক্ষেত্রে বাবলার কচিপাতা ৩ থেকে ৪ গ্রাম আধ পোয়া জল সিদ্ধ করে এক ছটাক থাকতে নামিয়ে ছেকে, অল্প চিনি মিশিয়ে সেটা একবার বা দুইবারে খেতে হয়। এর দ্বারা ওটা সেরে যায়; তবে ঐ পাতা সিদ্ধ করার সময় কুড়চির ছাল ৩ থেকে ৪ গ্রাম দিয়ে থাকেন অনেক বৈদ্য, অবশ্য এটা চক্রদত্তের ব্যবস্থা।

৬. অতিসারের (পাতলা দাস্ত) বেগ খুব অথচ অল্প অল্প মল নির্গত হয় এবং তাতে কুন্থও হয় প্রবল, তখন বেতে বা বতুয়া শাকের রস দই ও ডালিমের রসের সঙ্গে তিল তৈল যোগে পাক করে সেবন করলে বিশেষ ফল পাওয়া যায়।

 ৭.  অতিসার বা পাতলা পায়খানা বর্ণচোরা আমের মতো ভিতরে রং ধরে আছে অথচ বাহ্যিক প্রকাশ পাচ্ছে না এই রকম যে ক্ষেত্রে অর্থাৎ কাদা কাদা দাস্ত হয়, পেটে দুর্গন্ধও থাকে, সঙ্গে আমও যে নেই তা নয়, এই রকম অতিসারে ১০ থেকে ১৫ গ্রাম শুকানো কুল তিন কাপ জলে সিদ্ধ করে এক কাপ থাকতে নামিয়ে, ছেঁকে খেতে দিলে উপকার যে হবে না তা নয়, তবে এর সঙ্গে একটু সাদা দই মিশিয়ে খেলে ভাল ফল হয়, আর যদি সে সময়ে ডালিম  (Punicagrallatum ) পাওয়া যায়, তা হলে তার সঙ্গে ২ থেকে ১ চা চামচ রস মিশিয়ে খেলে আর কথা নেই; এটাতে উপকার হবেই; তবে একটা কথা, সব সময়ে তো ডালিম পাওয়া যায় না, তাই কুল সিদ্ধ করার সময় ডলিমের খোসা ৫ গ্রাম আন্দাজ মিলিয়ে সিদ্ধ করলেও উপকার হবে।

এছাড়া শুকনো কুলের গুড়া ৩ থেকে ৪ গ্রাম একটু সাদা দই মিশিয়ে খেলেও উপকার হয়। এই অতিসারের ক্ষেত্রে ষষ্ঠ শতকের আচার্য বাগভট তাঁর সংগ্রহ গ্রন্থে লিখেছেন যে, কুলের বীজের গুড়া কাজ করে।

৮. যে অতিসার পিত্তবিকারজনিত কারণে হয়, এর লক্ষণ হলও অল্প প্রস্রাব ও মলটা খুবই তরল হবে, মলত্যাগ করার সময় মলদ্বার জ্বালা করবে, আর এই মলের রং প্রতিবারেই যেন বদলে যায় কখনও ঘাসের রং, কখনও হলুদ, কখনও বা পচা পাতার রং ; এক্ষেত্রে ২৫ গ্রাম ধনে বেটে নিয়ে ২৫ গ্রাম গাওয়া ঘি, জল প্রায় আধ পোয়া একসঙ্গে একটি পাত্রে পাক করে, জলটা মরে গেলে কিন্তু ভাঁজা যাবে না। ওটা নামিয়ে, ছেঁকে, সকালে ও বিকালে দুবারে অর্ধেকটা আর বাকী অর্ধেকটা পরের দিন দুবারে খেতে হবে, এর দ্বারা ঐ পিত্তবিকারের অতিসার সেরে যাবে।

 ৯. পাতলা দাস্ত-তার সঙ্গে আম থাকে, সশব্দে মল নির্গত হয়, বায়ু-নিঃসরণে আতঙ্ক এই বুঝি একটু, গলে যাবে, এক্ষেত্রে বহেড় চূর্ণ আধ গ্রাম (৩ থেকে ৪ রতি) ও মুথো (cyperus rotundus) ২৫০ মিলিগ্রাম একসঙ্গে সকালে ও বিকালে দুইবার জলসহ খেতে হয়, এর দ্বারা দু’দিনের মধ্যেই এই অতিসার প্রশমিত হবে।

১০. ডালিমের খোসা ও বেলশুঁঠের চূর্ণ সমভাগে মিশিয়ে ২ থেকে ৩ গ্রাম মাত্রায় মধু সহ সেবনেও চমৎকার ফল পাওয়া যায়।

সতর্কীকরণ: ঘরে প্রস্তুতকৃত যে কোনো ভেষজ ওষুধ নিজ দায়িত্বে ব্যবহার করুন।

তথ্যসূত্রঃ

১. আয়ূর্বেদাচার্য শিবকালী ভট্টাচার্য: চিরঞ্জীব বনৌষধি খন্ড ১ ও ২, আনন্দ পাবলিশার্স প্রাইভেট লিমিটেড, কলকাতা।

আরো পড়ুন






Related News

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *