Main Menu

বাগান তৈরির বিস্তারিত প্রক্রিয়া

এক খণ্ড জমিতে কয়েকটি আলংকারিক উদ্ভিদ লাগিয়ে দিলেই বাগান রচিত হয় না। চিত্ত বিনোদন যেহেতু বাগানের মূখ্য উদ্দেশ্য, সেজন্য বাগান এমনভাবে তৈরি করতে হবে যাতে সেখানে গেলে আগন্তুকের মন আনন্দে ভরে উঠে। এজন্য সুচিন্তিতভাবে ও পরিকল্পিত উপায়ে বাগান তৈরি করতে হয়। একটি আদর্শ গণোদ্যানের বৈশিষ্ট্য ও নির্মাণ প্রক্রিয়া নিচে সংক্ষেপে আলোচনা করা হলো।

স্থান নির্বাচনে মনোযোগ দিন

উন্নত দেশসমূহে আজকাল বাসগৃহ, অফিস, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বা গৃহের ডিজাইন তৈরির সময় বাগান তৈরি ও আলংকারিক উদ্ভিদ জন্মাবার ব্যবস্থা বিবেচনা করা হয়। এ বিষয়ে বিশেষজ্ঞরা আছেন, এদেরকে বলা হয় landscape architect. ভবন সংলগ্ন বাগানের বেলায় মনে রাখতে হবে, সম্ভব হলে ভবনের দক্ষিণ দিক বাগানের জন্য খালি রাখা উচিত, কারণ উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য সার্বক্ষণিক সূর্যের আলো প্রয়োজন। তা সম্ভব না হলে পূর্ব বা পশ্চিম পাশে বাগান করা যেতে পারে। বাংলাদেশে উঁচু ভবনের উত্তর দিক বাগানের জন্য উপযোগি নয়।

পার্ক বা গণোদ্যানের বেলায় স্থান নির্বাচন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বড় বড় শহরে অল্প সংখ্যক বড় বাগান না করে শহরের সর্বত্র অধিক সংখ্যক ছোট বাগান তৈরি করা যেতে পারে যাতে শহরের বেশির ভাগ লোক বাগানের সুবিধা ভোগ করতে পারেন। গণোদ্যান জনবসতির কাছাকাছি এবং যাতায়াতের ভালো ব্যবস্থাযুক্ত স্থানে স্থাপন করা উচিত।

পরিকল্পনা ও নকসা প্রণয়ন

একটি বাগানে কি কি সুযোগ সুবিধা থাকবে তা নির্ভর করে বাগানের আয়তন এবং উদ্দেশ্যের উপর। বড় আকারের গণোদ্যানে সাধারণত যেসব জিনিস থাকে তার মধ্যে রয়েছে সীমানা দেয়াল ও প্রবেশ দ্বার, লন, হাঁটাপথ, ফুলের কেয়ারী, বিশ্রাম ছাউনী, বসার বেঞ্চ, নার্সারী, অফিস ভবন, উদ্ভিদ নিবাস, পারগোলা ও কৃত্রিম ফোয়ারা। শিলা উদ্যান এবং জলাশয় থাকলে উদ্যানের সৌন্দর্য বহুলাংশে বৃদ্ধি পায়।

বাগান রাতারাতি তৈরি হয় না। চিন্তা ভাবনা করে একটি পরিকল্পনা তৈরি করবার পর পর্যায়ক্রমে তা বাস্তবায়ন করাই যুক্তিযুক্ত। প্রথমেই ঠিক করতে হবে বাগানে কি কি সুযোগ সুবিধা থাকবে এবং নির্মিতব্য কাঠামোর সংখ্যা, আকার, আকৃতি ও অবস্থান কি রকম হবে। এগুলো যুক্ত করে তৈরি ম্যাপকে বলা হয় বাগানের নকশা (lay out)। ভাল নকশা তৈরি করতে হলে একদিকে যেমন অভিজ্ঞতা প্রয়োজন অপর দিকে তেমনই দূরদৃষ্টি (imagination) আবশ্যক।

পার্ক বা গণোদ্যানের ডিজাইন সাধারণত দু’রকমের হয়ে থাকে, যথা-সিমেট্রিক (symmetric) বা ফরম্যাল (formal) এবং এসিমেট্রিক বা ইনফরম্যাল। প্রথমোক্ত ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ বাগানকে দুই বা ততোধিক ভাগে ভাগ করলে প্রত্যেক ভাগ একই রকম মনে হবে । ইনফরম্যাল বাগান কোনো বিশেষ জ্যামিতিক প্যাটার্নে তৈরি হয় না, এর এক এক অংশ একেক রকম। অনিয়মিত আকারের ও টিলাময় জমি সুন্দর ইনফরম্যাল বাগান তৈরির জন্য অধিক উপযোগী।

একটি বাগানে কি কি উপাদান (element) থাকবে তা নির্ভর করে বাগানের আয়তন, অবস্থান ও উদ্দেশ্যের উপর। গণোদ্যানে যেসব উপাদান থাকা উচিত সে বিষয়ে নিচে আলোচনা করা হলো। নকসায় উপাদানসমূহের অবস্থান দেখাতে হবে। সীমানা দেয়াল ও বাগানের সীমানা অবশ্যই দেয়াল দিয়ে ঘেরা থাকবে। দেয়াল কেবল জন্তু-জানোয়ার থেকে বাগানকে রক্ষা করে না, বাগানের সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্যও এটা প্রয়োজন। দেয়ালের উচ্চতা কম বেশি দেড় মিটারের মতো হওয়া উচিত। পারিবারিক বাগানের দেয়ালের উচ্চতা আরো বেশি হওয়া বাঞ্ছনীয় যাতে বাইরের লোক দ্বারা বাগানের প্রাইভেসি ভঙ্গ না হয়। নিম্নাংশ ইট ও উপরের অংশ লোহার ভারি গ্রিল দিয়ে তৈরি দেয়াল খুবই আকর্ষণীয়। অন্যথায়, কংক্রিটের খুঁটি ও কাঁটা তার দিয়ে বেড়া তৈরি করে বেড়া বরাবর উঁচু গাছবেড়া বা হেজ জন্মিয়ে, অথবা লতানো উদ্ভিদ দিয়ে ঢেকে তারের বেড়ার আকর্ষণীয়তা বৃদ্ধি করা যেতে পারে। সীমানা দেয়ালের কয়েক স্থানে বাগানে প্রবেশের ফটক থাকবে, ফটকের সংখ্যা প্রয়োজন অনুযায়ী নির্ণয় করতে হবে। খিলান (arch) এর আকৃতিতে নির্মিত প্রবেশ দ্বার দেখতে আকর্ষণীয়। লোহার ফ্রেম অথবা ইট-কংক্রিট দিয়ে সুন্দর আর্কিটেকচারাল ডিজাইন অনুযায়ী খিলান তৈরি করা উচিত।

তৃণাঞ্চল বা লন (lawn):

লন বাগানের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ। ছোট-বড় সকল বাগানের জন্যই লন অপরিহার্য। ক্ষুদ্র পারিবারিক বাগানেও একটি লন থাকা উচিত। বৃহৎ গণোদ্যানের বিভিন্ন অংশে বিভিন্ন আকারের কয়েকটি লন থাকে। লন তৈরি ও রক্ষাবেক্ষণ সম্বন্ধে বিস্তারিত আলোচনা পড়ুন:

বাগানের জন্য লন তৈরি ও রক্ষণাবেক্ষণ পদ্ধতি

হাঁটাপথ:

বাগানের বিভিন্ন অংশে যাতায়াতের জন্য সমস্ত বাগানব্যাপী হাঁটাপথের একটি জাল বিস্তৃত থাকবে। ফরম্যাল (formal) বাগানে হাঁটাপথ সাধারণত জ্যামিতিক প্যাটার্নে তৈরি করা হয়। ইনফরম্যাল (informal) বাগানের হাঁটাপথ সরল ও দীর্ঘ না হয়ে বাঁকানো হলে অধিক সুন্দর দেখায়। হাঁটাপথের প্রস্থ বাগানের আয়তনের উপর নির্ভরশীল। গণোদ্যানের ক্ষেত্রে প্রস্থ কমপক্ষে দেড় মিটার হওয়া উচিত যাতে দু’জন লোক পাশাপাশি সচ্ছন্দে হাঁটতে পারে। অবশ্য স্থান বিশেষে প্রয়োজনবোধে পথের প্রস্থ বাড়ানো যেতে পারে। পারিবারিক বাগানে সবসময় স্থানাভাব থাকে। এক্ষেত্রে পথের প্রস্থ ৩০-৪০ সেন্টিমিটারই যথেষ্ট।

হাঁটাপথ নানাভাবে তৈরি করা যায়। কংক্রিটের পুরু স্ল্যাব বসিয়ে এটা তৈরি করা সব দিক দিয়ে সুবিধাজনক। বিকল্প হিসেবে ইট বিছিয়েও হাঁটাপথ তৈরি করা যেতে পারে। কংক্রিট বা পিচঢালা পথ যতদূর সম্ভব বর্জনীয়, কারণ কোনো সময় পথের অবস্থান পরিবর্তন করতে হলে খরচ ও ঝামেলা বেড়ে যায়।

খিলান  ও নিকুঞ্জ (Arch and Pergola or Arbor):

কিছু দূরে স্থাপিত দুটো খুঁটির উপরিভাগ ধনুকের আকারে উপরের দিকে বাঁকানো কোনো কিছু দিয়ে যুক্ত করলে খিলান তৈরি হয়। খুঁটি ও এদের সংযোগকারী অংশ লোহার ফ্রেম অথবা কংক্রিট দিয়ে তৈরি করা যেতে পারে। আমাদের দেশে অনেক বাড়ীর প্রবেশ দ্বারে খিলান অথবা রূপান্তরিত খিলান দেখতে পাওয়া যায়। অধিকাংশ ক্ষেত্রে এসব খিলানের খুঁটি কংক্রিট বা ইটের এবং উপরের অংশ লোহার তৈরি। কয়েকটি খিলান পাশাপাশি স্থাপন করলে সুড়ঙ্গের আকারের যে স্থাপনা তৈরি হয় তার নাম পারগোলা । এটি একটি লাতিন শব্দ। অতি প্রাচীনকাল থেকে বাগানে পারগোলার ব্যবহার চলে আসছে। সাধারণত বাগানের বিভিন্ন অংশের সংযোগ স্থলে হাঁটাপথের উপরে পারগোলা স্থাপন করা হয় এবং সব ক্ষেত্রেই এগুলোর উপরে লতানো উদ্ভিদ উঠিয়ে দেয়া হয়। চওড়া পারগোলার ভেতরে উভয় পার্শ্বে বসার বেঞ্চের ব্যবস্থা থাকতে পারে। লতানো আলংকারিক উদ্ভিদ জন্মাবার সুবিধার্থে বাগানের বিভিন্ন স্থানে লোহার বা কাঠের তৈরি খিলান অথবা অন্য ডিজাইনের বাউনী স্থাপন করা যেতে পারে ।

জলাশয় ও সেতু (pond or pool):

জলাশয় বাংলাদেশের লোকের জীবন যাত্রার সাথে অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িত। তাই গণোদ্যানে এক বা একাধিক জলাশয়ের উপস্থিতি কাঙ্খিত। জলাশয় কেবল বাগানের সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য নয়, জলজ উদ্ভিদ জন্মানোর জন্যও এটা প্রয়োজন। আমাদের জাতীয় ফুল শাপলা জলাশয় ছাড়া জন্মানো যায় না। অনিয়মিত আকৃতির জলাশয় অধিক আকর্ষণীয়। জলাশয়ের এক বা একাধিক বাধানো ঘাট থাকা বাঞ্ছনীয়। আর্থিক সীমাবদ্ধতা না থাকলে জলাশয়ের কোনো এক অংশে দুপার যুক্ত করে সেতু নির্মাণ করা যেতে পারে, এতে বাগানের সৌন্দর্য অনেক বৃদ্ধি পাবে। পারিবারিক বাগানে জলাশয় নির্মাণের জন্য জমি সাধারণত থাকে না। ইচ্ছে করলে বড় আকারের মাটির গামলা মাটিতে পুঁতে তাতে জলজ উদ্ভিদ জন্মানো যেতে পারে, তবে লক্ষ্য রাখতে হবে গামলার পানি যেন মশার জন্মস্থানে পরিণত না হয়।

শিলা উদ্যান (rock garden) ও ধাপ (terrace):

পাথর উদ্যান বা শিলা উদ্যান, আলোকচিত্র: Sb2s3

সমতল জমির বাগান দেখতে এক ঘেয়ে। এতে বৈচিত্র্য আনতে বাগানে কৃত্রিম উপায়ে শিলা উদ্যান তৈরি করা যেতে পারে। শিলা উদ্যানের জন্য অতিরিক্ত খরচ হবে সত্য, কিন্তু বাগানের সৌন্দর্য অনেক বৃদ্ধি পাবে। বাগানের বিশেষ বিশেষ স্থানে কৃত্রিম উপায়ে ধাপও তৈরি করা যেতে পারে। কৃত্রিম ধাপ পারিবারিক বাগানের জন্য অধিক উপযোগী। শিলা উদ্যান ও ধাপের রক্ষণাবেক্ষণ এবং উদ্ভিদ নির্বাচন খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

কৃত্রিম ফোয়ারা (fountain):

বাগানের বিশেষ বিশেষ স্থানে কৃত্রিম ফোয়ারা স্থাপন করতে পারলে সৌন্দর্য বহুলাংশে বৃদ্ধি পায়। যথাযথভাবে আলোকিত ফোয়ারা অত্যন্ত আকর্ষণীয়।

ফুলের কেয়ারী (flower bed):

বিভিন্ন ডিজাইনের ফুলের কেয়ারী

মৌসুমী ফুল বাদ দিয়ে কোনো ফুলের বাগান কল্পনা করা যায় না। মৌসুমী ফুল অবশ্যই কেয়ারীতে লাগাতে হয়। কেয়ারী সাধারণত হাঁটাপথের দুপাশে, সীমানা দেয়ালের পাশে এবং লনের কিনারে স্থাপন করা হয়। ফুলের কেয়ারীর ডিজাইন বিচিত্র রকমের হতে পারে। মুড়িযুক্ত কেয়ারী খুবই আকর্ষণীয়। কেউ কেউ হঁট দিয়ে কেয়ারীর মুড়ি তৈরি করেন যা আকর্ষণীয় হয় না। উদ্ভিদের তৈরি মুড়ি সুদৃশ্য। এ কাজের জন্য Alternanthera amabilis (Amaranthaceae) একটি আদর্শ উদ্ভিদ। হালকা বেগুনী বর্ণের পাতাবিশিষ্ট অতি ক্ষুদ্র ও ঝোপালো এ উদ্ভিদটি অত্যন্ত কষ্টসহিষ্ণু এবং বার বার ছাটাই করলেও ক্ষতিগ্রস্ত হয় না। এটা দিয়ে অক্ষরও তৈরি করা যায়।

বিশ্রাম ছাউনী ও বেঞ্চ:

বিশ্রাম ছাউনী ও বেঞ্চ বাগানের অত্যাবশ্যক উপাদান। এগুলোর সংখ্যা প্রয়োজন অনুযায়ী নির্ধারণ করতে হবে। বাংলাদেশের লোকজন গ্রীষ্মের প্রচণ্ড গরমের সময় বাগানে বেশি সময় কাটায়, তবে অনেকেই শীতকালে বাগানের রৌদ্রযুক্ত স্থানে বসে থাকতে ভালবাসে। এজন্য বাগানের সর্বত্রই বেঞ্চ স্থাপন করা যেতে পারে। বিশ্রাম ছাউনীর প্রধান উদ্দেশ্য বৃষ্টির সময় আশ্রয় নেয়া। এসব ছাউনী গণোদ্যানের সর্বত্র ছড়ানো থাকা উচিত।

আলোকসজ্জার ব্যবস্থা:

বাংলাদেশে গণোদ্যানের সংখ্যা খুব কম। যে কয়টি আছে রাতের বেলা সেগুলো অপরাধীদের বিচরণ ক্ষেত্রে পরিণত হয়। যথাযথ আলোকসজ্জার মাধ্যমে গণোদ্যানকে রাতের বেলাও নাগরিকদের ব্যবহারের উপযোগি করা যায়। তাছাড়া, সুপরিকল্পিত আলোক সজ্জা স্থানীয় সৌন্দর্য বৃদ্ধিরও সহায়ক।

উদ্ভিদ নিবাস (conservatory):

এমন অনেক সুদৃশ্য উদ্ভিদ রয়েছে যেগুলো বাগানের খোলা জায়গায় জন্মানো সহজ নয়। এদের মধ্যে অর্কিড, ফার্ন, ক্যাকটাস ও বিভিন্ন পাতাবাহারী উদ্ভিদ উল্লেখযোগ্য। এ জাতীয় উদ্ভিদের জন্য আলাদা পরিবেশ প্রয়োজন এবং এজন্য বিশেষ ধরনের ঘর বা উদ্ভিদ নিবাস তৈরি করতে হয়। সাধারণত ছায়াপ্রিয় উদ্ভিদ জন্মানোর জন্য ছায়াঘর (lath house) এবং বিশেষ ধরনের পরিবেশ সৃষ্টির জন্য কাচঘর (green house) তৈরি করা হয়। বড় বাগানে একাধিক উদ্ভিদ নিবাস থাকতে পারে। পারিবারিক উদ্যানেও বিশেষ বিশেষ জাতের ফুলের জন্য ক্ষুদ্র উদ্ভিদ নিবাস তৈরি করা যেতে পারে, যেমন অর্কিড ঘর, ফার্ণ ঘর ত্যাদি। বোটানিক্যাল গার্ডেনের জন্য উদ্ভিদ নিবাস অপরিহার্য।

অফিস ও নার্সারী: বড় আকারের গনোদ্যানে কর্মচারীদের বসার জন্য অফিস, বাগানের রক্ষণাবেক্ষণের জন্য ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি রাখার জন্য গুদাম এবং চারা উৎপাদনের জন্য নার্সারী থাকে। এগুলো বাগানের এক কিনারে স্থাপন করে আকর্ষণীয় বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা যেতে পারে যাতে বাগানের আকর্ষণীয়তা ক্ষুন্ন না হয়।

ভূমি উন্নয়ন, সেচ ও নিষ্কাশন ব্যবস্থা স্থাপন

বাগানের মাটির প্রকৃতির উপর গাছপালা জন্মানোর কৃতকার্যতা নির্ভর করে। দোআঁশ মাটি উদ্ভিদের জন্য সবচেয়ে উপযোগী। বাগানের জন্য নির্বাচিত স্থানের মাটি যদি এঁটেল হয় তবে এর সাথে বালু মিশিয়ে এবং অত্যধিক বেলে হলে কাদামাটি মিশিয়ে মাটির বুনট উন্নত করা যেতে পারে। ঢাকা শহরের মাটি এঁটেল। এর সাথে ১০-১৫ সেমি পরিমাণ বালু বা ভিটিবালু উপরের ২৫-৩০ সেমি মাটির সাথে মিশিয়ে দিলে পরবর্তীকালে মাটির ব্যবস্থাপনা অনেক সহজ হয়।

সমতল অঞ্চলে সুষ্ঠু নিষ্কাশন ব্যবস্থার অভাবই বাগান তৈরির বড় অন্তরায়। এদেশে সাধারণত খোলা নালা কেটে পানি নিষ্কাশন করা হয়, কিন্তু বাগানের ভিতর নালার উপস্থিতি পীড়াদায়ক। যদি সম্ভব হয়, তাহলে বাগানের জমি স্থানে স্থানে এমনভাবে ঢালু করে দিতে হবে যাতে বৃষ্টির পর পানি গড়িয়ে আপনা-আপনি বাগানের বাইরে চলে যায়। যদি তা সম্ভব না হয় তবে মাটির নীচে স্থাপিত পাইপ দিয়ে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা উচিত।

গাছপালা জন্মাতে সবসময়ই সেচের প্রয়োজন। ক্ষুদ্র বাগানে নলের সাহায্যে যথাস্থানে সেচের পানি পৌছিয়ে দেয়া চলে। বড় বাগানে মাটির নীচে পাইপ বসিয়ে পানি সরবরাহের ব্যবস্থা করতে হবে।

উপরোক্ত কাজ করা শেষ হলে নেমে পড়তে হবে বাগানের জন্য সঠিক উদ্ভিদ নির্বাচন করার কাজে। কি রকমের উদ্ভিদ নির্বাচন করবেন সেজন্য পড়ুন:

বাগানের জন্য উদ্ভিদ নির্বাচনের পদ্ধতি

তথ্যসূত্র:

১. ড. মোহাম্মদ মামুনুর রশিদ, ফুলের চাষ, দিব্যপ্রকাশ ঢাকা, দিব্যপ্রকাশ সংস্করণ বইমেলা ২০০৩, পৃষ্ঠা ৬৭-৭৩।

আরো পড়ুন






Related News

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *