Main Menu

ফ্যানির প্রতি _ জন কিটস

অনুবাদঃ অনুপ সাদি*

আরোগ্যকারি প্রকৃতি! রক্তে আমার আনো উচ্ছ্বাস!

আমাকে দাও বিশ্রাম, আমার হৃদয় শান্ত করো কবিতায়;

আমার হৃদয়ে দাও সতেজ নিশ্বাস

তুলে ধরো আমাকে তোমার তেপায়ায়।

হে মহান প্রকৃতি! একটি বিষয় দাও! একটি বিষয় দাও কবিতার!

স্বপ্ন দেখতে দাও আমাকে আবার।

আমি আসি_ আমি দেখি তোমাকে, তুমি আছো তাই

নিষ্প্রাণ বাতাসে তুমি ইশারায় ডেকো না আমায়!

 

ওগো প্রিয়তমা, তুমিই বসতি আমার সব

দুঃখ, আনন্দ, আশা আর ভয়ের,_

আজ রাতে আমি ভাবি, তোমার সৌন্দর্য আনন্দের

এমন এক হাসি, যা অতি চমৎকার

দারুণ উজ্জ্বল ও আলোকময় আর

তোমার আকুল, নত বেদনার্ত চোখ মনোমুগ্ধকর,

নরম বিস্ময়ে হারায়

আমি দেখি বারবার দেখি তোমায়।

 

এখন কে লোভ নিয়ে খায় আমার ভোজের খাবার?

আমার রূপালি চাঁদকে কোন দৃষ্টি অন্ধকারে ঢাকে?

আহা! তুমি এক মুহূর্তও ধরতে দিওনা অন্যকে হাত তোমার;

জ্বালাও, জ্বালাও প্রেমের আগুন

তোমার কাছে এই নিবেদন

তোমার প্রেম এত শীঘ্র দিও না অন্য কাউকে।

তোমার উদারতায় তুমি আমাকে বাঁচাও,

আমার জন্য তোমার মনে রোমান্স জাগাও।

 

মিষ্টি প্রেম রেখো! যদিও সংগীত উষ্ণ বাতাসের মাঝে

ইন্দ্রিয়পরিতৃপ্তিকর আবেগে পূর্ণ স্বপ্ন

যদিও সাঁতারে ফুলমালার নাচ সানন্দে বিরাজে;

হও এপ্রিলের আনন্দময় দিন,

হাসিখুশি, শীতল, উজ্জ্বল, রঙিন

একটি নাতিশীতোষ্ণ পদ্মফুল, সুন্দরের মতো নাতিশীতোষ্ণ,

তারপরই চারদিকে স্বর্গসুখ থাকবে!

একটি উষ্ণ জুন মাস আমার জন্য আসবে।

 

কেন তুমি বলবে এসব, ও আমার ফ্যানি! সত্য নয় তা;

তোমার নরম হাত রাখো হৃদয়ের শীতল দিকে,

সেখানে থাক হৃদস্পন্দনঃ স্বীকার কর নতুন কিছুই না_

অবশ্যই নারী হয় না এক

সমুদ্রে ভেসে চলা ক্ষুদ্র পালক,

ছুটে চলে স্রোতে বাতাসে অনেকেরই দিকে।

আঘাত পাওয়া বল যেমন তৃণভূমিতে

ছুটে চলে দুর্বার অনিশ্চিত গতিতে।

 

আমি জানি এটা_ খুব হতাশার তার কাছে, যে তোমাকে

ভালবাসে আমারই মতো, ও আমার প্রিয়তম ফ্যানি!

যার হৃদয় তোমার জন্য সবখানেই কাঁপতে থাকে,

অথবা যখন তুমি ঘুরে বেড়াও,

সাহস রাখো অভাবীর ঘরেও।

ভালোবাসো, একমুখী প্রেমের যন্ত্রণা আছে এটা আমি মানিঃ

ওগো সুন্দরী, মুক্ত রাখো আমাকে।

ঈর্ষার বেদনাদায়ক যন্ত্রণা থেকে।

 

আহা! যদি তুমি পুরস্কৃত করো আমার প্রশমিত আত্মাকে

এক ঘণ্টার রংহীন, নির্জীব, অহংকার চূর্ণ করতে;

অপবিত্র করতে দিও না আমার পবিত্র প্রেমের সাগরকে,

অথবা কঠিন ও রূঢ় এক

হাত ভাঙতে পারে না দীক্ষার কেক;

নতুন ফোঁটা ফুল পারে না কেউ ছুঁতে;

যদি না_ আমার চোখ বন্ধ হয়। হায়,

হায় প্রেম হায়! শেষ ঘুমে আমি আমার নিজেকে হারাই।

* বি. দ্র. এই কবিতাটি অনুবাদ করা হয়েছিল তাহা ইয়াসিনের অনুরোধে এবং কবিতাটি তাহা ইয়াসিনের বই নজরুলের জীবনবোধ ও চিন্তাধারা গ্রন্থে সংকলিত আছে। কবিতাটি অনুবাদ করা হয়েছিল ১৬-১৮ সেপ্টেম্বর, ২০০৭ তারিখে; শেখ সাহেববাজার, আজিমপুর, ঢাকায় অবস্থানকালীন সময়ে।

ইংরেজি কবিতাটি পড়ুনঃ Ode To Fanny

আরো পড়ুন

অনুপ সাদির প্রথম কবিতার বই পৃথিবীর রাষ্ট্রনীতি আর তোমাদের বংশবাতি প্রকাশিত হয় ২০০৪ সালে। তাঁর মোট প্রকাশিত গ্রন্থ ১০টি। সাম্প্রতিক সময়ে প্রকাশিত তাঁর সমাজতন্ত্র মার্কসবাদ গ্রন্থ দুটি পাঠকমহলে ব্যাপকভাবে সমাদৃত হয়েছে। ২০১০ সালে সম্পাদনা করেন বাঙালির গণতান্ত্রিক চিন্তাধারা নামের একটি প্রবন্ধগ্রন্থ।

জন্ম ১৬ জুন, ১৯৭৭। তিনি লেখাপড়া করেছেন ঢাকা কলেজ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। ২০০০ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি সাহিত্যে এম এ পাস করেন।






Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *