You cannot copy content of this page
আপনি যা পড়ছেন
মূলপাতা > প্রকৃতি > নদী > সীমান্ত নদী > চেল্লাখালি বাংলাদেশ ও মেঘালয়ের একটি আন্তঃসীমান্ত নদী

চেল্লাখালি বাংলাদেশ ও মেঘালয়ের একটি আন্তঃসীমান্ত নদী

চেল্লাখালি নদী বা চিল্লাখালি নদী বা চিতলখালি নদী (ইংরেজি: Chellakhali River) বাংলাদেশ ভারতের একটি আন্তঃসীমান্ত নদী। নদীটি ভারতের মেঘালয় রাজ্যের পশ্চিম গারো পাহাড় জেলা এবং বাংলাদেশের শেরপুর জেলার মধ্য দিয়ে প্রবাহমান। বাংলাদেশ অংশে নদীটির দৈর্ঘ্য ২৫ কিলোমিটার, প্রস্থ ৫২ মিটার, গভীরতা ৬ মিটার এবং প্রকৃতি সর্পিলাকার।বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড বা পাউবো কর্তৃক চেল্লাখালি নদীর প্রদত্ত পরিচিতি নম্বর উত্তর-পূর্বাঞ্চলের নদী নং ২৮।[১] এই নদী অববাহিকার আয়তন ১১৮ বর্গকিলোমিটার।[২]

প্রবাহ: চেল্লাখালি নদীর জন্ম ভারতের মেঘালয় রাজ্যের পশ্চিম গারো পাহাড় জেলার বনভূমি থেকে। এটি শেরপুর জেলার নালিতাবাড়ি উপজেলার পোড়াগাঁও ইউনিয়নের সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে নেমে এসেছে। এরপর কলসপুর ইউনিয়ন পর্যন্ত প্রবাহিত হয়ে এর প্রবাহ দুটি ধারায় বিভাজিত হয়েছে। একটি ধারা গোল্লার বিলের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে নালিতাবাড়ি পৌরসভার কাছে এবং অপরটি বালুঘাটা নামক স্থানে মালিঝি নদীতে পতিত হয়েছে। স্থানীয়ভাবে নদীটির নাম চেল্লাখালি হলেও পাউবো এটিকে চিতলখালি হিসেবে উল্লেখ করে থাকে।[৩] মালিশী,চিল্লাখালী ও ভােগাই নদী মিলিত হয়ে কংস নদ হয়েছে।[৪]

উজানে নদীটির প্রশস্ততা ভাটির তুলনায় অধিক। নালিতাবাড়ি উপজেলার বাঘবেড় ইউনিয়নের কচুবাড়ি নামক স্থানে স্লুইসগেট থাকায় নদীতে সারাবছর পানিপ্রবাহ থাকে না। এজন্য নদীতে পানি প্রবাহের গড় পরিমাণ অতীতের তুলনায় কমে গেছে। তবে বর্ষাকালে স্লুইসগেট উন্মুক্ত করা হলে পানির প্রবাহ বৃদ্ধি পায় এবং স্থানে স্থানে নদীর পাড় উপচে পানি প্রবাহিত হয়। পাহাড়ি ঢলের কারণে নদী অববাহিকায় আকস্মিক বন্যাও দেখা দেয়। আকস্মিক বন্যার কারণে নদীর গতিপথ পরিবর্তিত হয়।[৫] ডিসেম্বর থেকে জুন অবধি পানিপ্রবাহ কম থাকে, যার আনুমানিক পরিমাণ ৬ ঘনসেন্টিমিটার/সেকেন্ড। তখন নদীতে পানির গভীরতা থাকে ১ মিটার। বর্ষা মৌসুমে আগস্ট-সেপ্টেম্বর মাসে পানিপ্রবাহ বৃদ্ধি পায় যা ৮.৪ মিটার হয়। নদীটি অত্যন্ত ভাঙনপ্রবণ, অন্যদিকে দিনদিন এর তলদেশ ভরাট হয়ে যাচ্ছে। সাধারণ বন্যায় নদীটি আংশিকভাবে প্লাবিত হয়।[৬]

অন্যান্য তথ্য:  চেল্লাখালি নদী নালিতাবাড়ি উপজেলা দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে।  এই নদীটি জোয়ারভাটার প্রভাবে প্রভাবিত নয় এবং নদীতে কোনো বন্যানিয়ন্ত্রণ বাঁধ, ব্যারাজ বা রেগুলেটর নেই। নদী অববাহিকার প্রকল্পের নাম চেল্লাখালি নদী প্রকল্প। বাবুমারিহাট এই নদীর তীরে অবস্থিত।[৭]

তথ্যসূত্র:

১. মানিক, মোহাম্মদ রাজ্জাক (ফেব্রুয়ারি, ২০১৫)। বাংলাদেশের নদনদী: বর্তমান গতিপ্রকৃতি। ঢাকা: কথাপ্রকাশ। পৃ: ১৩১-১৩২।

২. ড. অশোক বিশ্বাস, বাংলাদেশের নদীকোষ, গতিধারা, ঢাকা, ফেব্রুয়ারি ২০১১, পৃষ্ঠা ২০০।

৩. ড. অশোক বিশ্বাস, পূর্বোক্ত।

৪. ম ইনামুল হক, বাংলাদেশের নদনদী, অনুশীলন, ঢাকা, প্রথম সংস্করণ, জুলাই ২০১৭, পৃষ্ঠা ৫৩।

৫. মানিক, মোহাম্মদ রাজ্জাক, পূর্বোক্ত।

৬. ড. অশোক বিশ্বাস, পূর্বোক্ত।

৭. মানিক, মোহাম্মদ রাজ্জাক, পূর্বোক্ত।

Anup Sadi
অনুপ সাদির প্রথম কবিতার বই “পৃথিবীর রাষ্ট্রনীতি আর তোমাদের বংশবাতি” প্রকাশিত হয় ২০০৪ সালে। তাঁর মোট প্রকাশিত গ্রন্থ ১০টি। সাম্প্রতিক সময়ে প্রকাশিত তাঁর “সমাজতন্ত্র” ও “মার্কসবাদ” গ্রন্থ দুটি পাঠকমহলে ব্যাপকভাবে সমাদৃত হয়েছে। ২০১০ সালে সম্পাদনা করেন “বাঙালির গণতান্ত্রিক চিন্তাধারা” নামের একটি প্রবন্ধগ্রন্থ। জন্ম ১৬ জুন, ১৯৭৭। তিনি লেখাপড়া করেছেন ঢাকা কলেজ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। ২০০০ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি সাহিত্যে এম এ পাস করেন।

Leave a Reply

Top