আপনি যা পড়ছেন
মূলপাতা > প্রকৃতি > নদী > নাগর নদ এখন মরা খালের মতো প্রবাহিত হয়

নাগর নদ এখন মরা খালের মতো প্রবাহিত হয়

নাগর নদ বা নাগর লোয়ার নদী বাংলাদেশের বগুড়া ও নাটোর জেলার একটি নদী। এটি আত্রাই উপজেলা এবং সিংড়া উপজেলার সীমানা চিহ্নিত করে প্রবাহিত হয়েছে। বগুড়া ও নাটোর জেলা মিলিয়ে এই নদীর দৈর্ঘ্য ৬৫ কিলোমিটার।[১] বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড বা “পাউবো” কর্তৃক নাগর লোয়ার নদীর প্রদত্ত পরিচিতি নম্বর উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের নদী নং ৬৬।[২] 

প্রবাহ: এই নদী বগুড়া জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার পৌর এলাকায় প্রবহমান করতোয়া (নীলফামারী) নদী থেকে উৎপন্ন হয়েছে। অতপর এই নদীর প্রবাহ নাটোর জেলার সিংড়া উপজেলার পৌরসভা পর্যন্ত প্রবাহিত হয়ে আত্রাই (নওগাঁ-নাটোর) নদীর জলধারায় পতিত হয়েছে।[৩] 

বর্তমান অবস্থা: দুপচাঁচিয়ায় দীর্ঘদিন খনন ও সংস্কার না করায় ঐতিহ্যবাহী নাগর নদ মরা খালে পরিণত হয়েছে। ফলে আশপাশের জনগণের জমিতে সেচ ও প্রত্যহিক কাজে পানির অভাব দেখা দিয়েছে। মাছ না থাকায় অনেক জেলে পরিবার বেকার। অনেক সাধারণ কৃষকরা শাকসবজি চাষাবাদ ও বীজতলা তৈরি করছেন। ভুক্তভোগীরা নদটি খনন করে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা কামনা করেছেন। উপজেলার প্রবীণ ব্যক্তিরা জানান, আশির দশক পর্যন্ত এ নদী পথে বড় বড় পাল তোলা নৌকায় দেশের বিভিন্ন স্থানে মালামাল পরিবহণ করা হতো। নদের দুইপা শের জমিতে  সেচ দেয়া ছাড়াও আশপাশেশর জনগণ পানিতে গোসল ও  অন্যান্য কাজ করত। এলাকার অনেকে এ নদে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করতেন।

দীর্ঘদিন সংস্কার না করায় নাগর নদটি বর্তমানে নাব্যতা হারিয়েছে। জৌলুসপূর্ণ নাগর নদ আজ মরা খালে পরিণত হয়েছে। শুধু  বর্ষা মউসুমে পানি থাকে। পানি বেশি হলে নদীর তীরবর্তী এলাকায় বন্যা হয়। দুপচাঁচিয়া বাজারের প্রবীণ ব্যক্তি শ্যাম সুন্দর আগরওয়ালা, ডা. আনোয়ার হোসেন,  সন্তোষ চৌধুরী, তালোড়া বাজারের পূর্ণমাসী রাজভর, দোগাছি গ্রামের তমজেদ সরদার জানান, আশির দশক পর্যন্ত দুপচাঁচিয়া তেমাথা বাজার ঘাট, ধাপ সুলতানগর ঘাট ও তালোড়া দেওগ্রাম রাস্তায় নাগর নদের সীতার ঘাটে বড় বড় পালতোলা নৌকা সব সময় বিভিন্ন মালামাল উঠানাম করতে দেখ যেত।  কিন্তু বর্তমানে পানি শূন্য নাগর নদের করুন দশা। হাঁটু পানি তো দূরে থাক, কোনো কোনো স্থানে নদের তলদেশে পায়ের গোড়ালিও ভেজে না। বর্তমান নাগর নদের তীরবর্তী অনেক কৃষকগণ ফসল,  শাকসবজি ও বীজতলা তৈরির জন্য খননের মাধ্যমে নাগর নদের ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনাতে সরকারের কাছে অনুরোধ জানিয়েছেন।[৪] 

তথ্যসূত্র:

১. ড. অশোক বিশ্বাস, বাংলাদেশের নদীকোষ, গতিধারা, ঢাকা, ফেব্রুয়ারি ২০১১, পৃষ্ঠা ২৪০।

২. মোহাম্মদ রাজ্জাক, মানিক (ফেব্রুয়ারি ২০১৫)। “উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের নদী”। বাংলাদেশের নদনদী: বর্তমান গতিপ্রকৃতি (প্রথম সংস্করণ)। ঢাকা: কথাপ্রকাশ। পৃ: ১৩২।

৩. পূর্বোক্ত, পৃ: ১৩২।

৪. বগুড়া ব্যুরো; “দুপচাঁচিয়ার নাগর নদ এখন মরা খাল” ২ জানুয়ারি, ২০১০, দৈনিক যুগান্তর, আজকের ফিচার।

আরো পড়ুন

Anup Sadi
অনুপ সাদির প্রথম কবিতার বই “পৃথিবীর রাষ্ট্রনীতি আর তোমাদের বংশবাতি” প্রকাশিত হয় ২০০৪ সালে। তাঁর মোট প্রকাশিত গ্রন্থ ১০টি। সাম্প্রতিক সময়ে প্রকাশিত তাঁর “সমাজতন্ত্র” ও “মার্কসবাদ” গ্রন্থ দুটি পাঠকমহলে ব্যাপকভাবে সমাদৃত হয়েছে। ২০১০ সালে সম্পাদনা করেন “বাঙালির গণতান্ত্রিক চিন্তাধারা” নামের একটি প্রবন্ধগ্রন্থ। জন্ম ১৬ জুন, ১৯৭৭। তিনি লেখাপড়া করেছেন ঢাকা কলেজ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। ২০০০ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি সাহিত্যে এম এ পাস করেন।

Leave a Reply

Top