Main Menu

সুন্দরবনে ক্যামেরার ফাঁদ পদ্ধতিতে বাঘ জরিপের কাজ শেষ, বিশ্লেষণ বাকি

সুন্দরবনে ক্যামেরার ফাঁদ (ক্যামেরা ট্রাপিং) পদ্ধতিতে বাঘ গণনা শুরু হয়েছিল গত ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮। সুন্দরবনের খুলনা ও শরণখোলা রেঞ্জের দুটি বন্যপ্রাণি অভয়ারণ্যের ৪৭৮ বর্গকিলোমিটার এলাকায় করা হয়েছিল এই পর্যবেক্ষণ। বন বিভাগ তখন জানিয়েছিল, ২৩৯টি পয়েন্টের গাছ বা খুঁটির সঙ্গে ৬৭০টি ক্যামেরা বসিয়ে বাঘ মনিটরিং করা হবে। জানা গেছে, পুরো কার্যক্রম পরিচালনা করেছেন বন বিভাগ ও ওয়াইল্ড টিমের ৬০ সদস্য।

সুন্দরবনের বাঘের সেই জরিপের ক্যামেরার ফাঁদ পদ্ধতির কাজ শেষে হয়েছে। এখন বিশ্লেষণের কাজ শুরু হবে। বাংলাদেশ, ভাত, নেপাল এবং ভুটান সরকার -এই চার দেশে যৌথভাবে এই বাঘ জরিপের কাজ করছে। ২০ মে রবিবার দুপুরে সুন্দরবনের করমজল পরিদর্শনে এসে বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ খুলনার বিভাগীয় বনকর্মকর্তা মােঃ মদিনুল আহসান এ কথা জানান। বাঘের প্রাচুর্যতা কেমন তা জানার জন্যই এই জরিপ কাজ চলছে। সুন্দরবনের যে ২৩৯ স্থানে ক্যামেরার ফাঁদের কাজ করা হয়েছিলাে তা শেষ হয়েছে গত ১২মে। চার দেশ মিলে প্রাপ্ত উপাত্ত বিশ্লেষণ (ডাটা এনালাইসিস)  শেষে প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে। পৃথিবীর যেসকল স্থানে বাঘ আছে এমন ১৩টি দেশে এভাবে জরিপ কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়ে থাকে। বিভাগীয় বন কর্মকতা মােঃ মদিনুল আহসান আরো জানান, ২০১৩/১৪ সালে জরিপে সুন্দরবনে মোট বাঘে সংখ্যা ছিলাে ১০৬টি।

সমগ্র সুন্দরবনে এখন স্মার্ট পেট্রোলিং করা হয়। আশা করা হচ্ছে এবার বাঘের সংখ্যা বাড়বে। বাঘ সুন্দরবনের খাদ্যাভাবের কারণে লােকালয়ে আসছে এবং মানুষ তাদের পিটিয়ে হত্যা করছে কী না এমন এক প্রশ্নের জবাবে বিভাগীয় বন কর্মকর্তা জানান এটা মােটেই ঠিক না। নানা কারণে বাঘ লােকালয়ে আসতে পারে। দুই বছর বয়স হলে বাঘের নিজস্ব এলাকার প্রয়ােজন হয়, সেকারণে বাঘ বনের বাইরে আসতে পারে। বাঘ বৃদ্ধ হয়ে গেলে বলে তার জন্য খাদ্য যােগাড় কঠিন হয়ে যেতে পারে। সে জন্য সহজে খাদ্য যােগাড়ের উদ্দেশে বাঘ লোকালয়ে আসতে পারে। অথবা ছোট বেলায় বাঘ তার মায়ের সাথে হয়ত লােকালয়ে আসছিলো। সেই অভ্যাসের কারণেও বাঘ বনের বাইরে আসতে পারে। সুন্দরবনের করমজল পরিদর্শনকালে খুলনা বিভাগীয় বনকর্মকর্তা (বন্যপ্রাণী) মােঃ মদিনুল আহসানের সাথে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মৎস্য বিশেষজ্ঞ মফিজুর রহমান, ওয়াইল্ড লাইফ রেঞ্জ কর্মকর্তা রাজু আহমেদ, সুন্দরবনের করমজলের ওসি আজাদুল কবির প্রমুখ।

আরো পড়ুন






Related News

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *