আপনি যা পড়ছেন
মূলপাতা > খবর > চার্বাক সুমনের ব্যঙ্গ উপন্যাস ‘সদর ভাইয়ের অমর কাহিনি’ প্রকাশিত হয়েছে

চার্বাক সুমনের ব্যঙ্গ উপন্যাস ‘সদর ভাইয়ের অমর কাহিনি’ প্রকাশিত হয়েছে

সদর ভাইয়ের অমর কাহিনি

ভূমিকা: অনুপ সাদি

প্রকাশক: টাঙ্গন

প্রথম প্রকাশ: ১ ডিসেম্বর, ২০১৮

পৃষ্ঠা: ১০৪

প্রচ্ছদ শিল্পী: সমর মজুমদার

আইএসবিএন: ৯৭৮-৯৮৪-৩৪-৫৪৩৪-৮

চার্বাক সুমনের ব্যঙ্গ উপন্যাস ‘সদর ভাইয়ের অমর কাহিনি’ প্রকাশিত হয়েছে একুশের বই মেলাকে উপলক্ষ্য করে। প্রকাশ করেছে টাঙ্গন প্রকাশন। বইটির আলোচনা পাঠক ইতোমধ্যে বিভিন্ন মাধ্যমে পড়ে থাকবেন। বইটির কিছু কিছু অংশ ‘দল ভাঙা নেতা’ নামে বিভিন্ন পত্রিকা ও লিটল ম্যগে প্রকাশিত হয়েছিল। পাঠক সে সময় বইটিকে যথেষ্ট সমাদর করিছিলেন। পূর্বের লেখাটিকে আরও সংযোজিত ও পরিমার্জিত করে প্রকাশ করা হয়েছে।

আঙ্গিক ও হাস্যরস সৃজনে বইটিকে বাংলা সাহিত্যে একটি নতুন সংযোজন বলা চলে। স্যাটায়ার লিখেছেন অনেকে কিন্তু এভাবে কেউ লেখেননি। বইটিকে কয়েকটি পর্বে বিভাজন করে বক্তব্য উপস্থাপন করেছেন লেখক। বই-এর পর্বগুলোর নাম নিচে দেয়া হলো:

১. চাহিলে রস চেপ তাল

২. কলসীর তল কানা

৩. ঠুক্ করিল ডিম্ব ফাটিল

৪. একমাত্র হালাল বিপ্লবী দল

৫. আগাইয়া থাকা মনুষ্য

৬. গুরু কহিল মুরিদ ভাবিল

৭. কূর্ম সকল করিল দল

৮. ডাব গাছে নারকেল ধরে

৯. ব্যাঙের মাথায় ছাতা

১০. হইলেন তিনি খাঁটি অথরিটি’

 

বইটির প্রকাশক গ্রন্থের আলোচনা অংশে বলেন, মূলত লেখক এ গ্রন্থের মাধ্যমে পাঠকের সামনে উপস্থাপন করেছেন বছরের পর বছর ধরে বামপন্থী দলগুলোর একই ধরনের কর্মকাণ্ড। বামপন্থীরা এ বঙ্গে মানুষকে সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবের স্বপ্ন দেখিয়ে আসছে এবং বারবার ভেঙে যাচ্ছে তারঁ নমুনাপত্র বলা যেতে পারে এই বইটি।

বইটি শুধু যে বাম রাজনীতি একটি বাস্তব রূপায়ন তাই নয় এটি একটি নিঁখুত শিল্পও। শুধু একটি হাস্যরসাত্মক শিল্প রূপেও বইটি বিবেচনারযোগ্য।

লেখক অনুপ সাদি এই বইয়ের ভূমিকায় বলেন, ‘গল্পটি শুরু হয়েছে গল্পকার লু স্যুনের ‘আ কিউ-এর সত্য কাহিনি’র কথা স্মরণ করে। আ কিউ-এর দিন কাটে মানুষের মাথার উকুন বেছে দিয়ে আর লাঠি পেটা হয়ে, আমাদের নেতাজীর কার্যকলাপও কম চমকপ্রদ নয়। নেতার দীর্ঘ জীবনের পরতে পরতে লুকিয়ে আছে ভাঁড়ামো, উচ্চাশা, কুযুক্তিপনা, ভণ্ডামো ও অবৈজ্ঞানিকতা। বিপ্লব ও সাম্যবাদ সম্পর্কে তাদের তথাকথিত বিহ্বলতা তাকে পরিণত হরেছে ভাঁড়ে। কিন্তু নেতা সদর ভাই এবং তার অনুসারীরা দমবার পাত্র নন।’

প্রথম পর্বে লেখক চার্বাক সুমন লিখেছেন, নেতা ছোটবেলায় থাবা ভরে খুব বেশি মাটি খেয়েছিলেন তাই তিনি হয়ে উঠেছেন মাটির মানুষ এবং জাতির অনেক বড় নেতা। অনুসারীরা জোট করতে চাইলে নেতা বলেন, ‘জোট হইতে পারে না; ইহা আমাদের নীতির সহিত যাইতেছে না। আমাদিগকে মোচা গঠন করিতে হইবে।’ এবং মোচার মেয়াদ তিন মাসের বেশি হবে না।

উপন্যাসের কয়েকটি সংলাপ লক্ষ্য করুন:

‘আমি হইলাম আহ্বায়ক, এখন কমিটি গঠন হইবার প্রয়োজন নাই। কী করিতে হইবে আমিই বলিব।

: তুমি কতদিন আহ্বায়ক থাকিবে?

: যতদিন পৃথিবী ধ্বংস হইয়া না যায় অথবা ইস্রাফিল সিঙ্গায় ফুঁক না দেন।’

: ‘এঙ্গেলস ৮৮’ দ্বারা কী বোঝায়? ইহার তাৎপর্য তো বুঝিলাম না।’

: আমার নেতা চল্লিশ বছরে বহুবার দল ভাঙিয়াছেন। প্রতিবার তিনি দল ভাঙেন আর নাম দেন- মার্কস ১, মার্কস ২; এভাবে একশ পূর্ণ হইলে নাম দেন লেনিন১, লেনিন২। তিনি মাও চে, ফিদেল শেষ করিয়া এঙ্গেলস ধরিয়াছেন। বেচারা এঙ্গেলস অবহেলিত –তাঁহার নামে কেহ দলের নাম রাখে না। তাই নেতা এই সিরিজ দুইশ পর্যন্ত বাড়াইবেন ঠিক করিয়াছেন। নেতা কহিয়াছেন পরের সিরিজ তার বাপের নামে খুলিবেন। তারপর দাদা-দাদি, নানা-নানি সমাপ্ত হইলে নিজের নামে দল খুলিবেন। নেতাকে আবেদন করিয়াছি যেন আমার নামেও একটা দল খুলিয়া দেন। ইতিহাসে অমর হইতে বড় ইচ্ছা।’

বাংলাদেশ ও পৃথিবীর বাস্তবতায় আমরা দেখতে পাই বাম দলগুলো কিছুদিন পর পর মতবাদিক বিতর্কে মেতে ওঠে; যতবার বিতর্ক ততবার দল ভাঙার সংবাদ পাওয়া যায় আর বিতর্কেও মীমাংসা প্রায় কোনো বারই হয় না। বই-এর সর্বশেষ বিতর্কটি বাঁধে অথরিটি নিয়ে। লেখক এ বিষয়টিকে কীভাবে উপস্থাপন করেছেন লক্ষ্য করুন:

‘আমরা একযোগে সবার বই পড়িতে বলি না। মাও-এর বই পড়িলে লেনিনের বই পড়া চলিবে না। লেনিন পড়িলে স্তালিন প্রভৃতি কেন পড়িবেন? ভেজ্ – নন্ ভেজ্ একসাথে চলিবে না।’

: আমরা ভেজ্ – নন্ ভেজ্ মানি না বটে; কিন্তু আপনারা যে শনিবারে লাউ, বিষুদবারে শাটিমাছ আর শুকুরবারে মুলা খান তার কী হইবে? অনেক দিন হইল কবিরাজি করিতেছি; কিন্তু এমন অনাসৃষ্টি আর দেখি নাই।’

গল্পকার রনজিত সরকার বলেন, ‘স্মরণীয় ও প্রচার করার মত একটি বই। বইটি নিয়ে কিছু লেখার ইচ্ছা আছে।’ বাসুদেব বিশ্বাস বলেন, ‘এরূপ সরস ও হাস্য কখনো দেখিনি। বাম রাজনীতি যারা করছেন এবং করেছে তাদের সবার পড়া উচিত।’ কবি ও লেখিকা মনি বলেন, ‘বইটির পৃষ্ঠা উল্টেই অবাক হয়েছি। বইটির নাম, লেখকের নাম, উপন্যাসের পর্বগুলোর নাম সবই বিস্ময়কর। দলের নাম যেখানে ‘পোকা আম স্বাদে মিঠা’ তখন পড়তে কে না চাইবে?’

প্রকাশক বলেন, ‘বইটি প্রকাশ করে খুবই ভাল লাগছে। এমন বই সব সময় লেখা হয় না। বইটিকে পাঠক সমাদর করবেন আশা করছি। প্রকাশ করার সঙ্গে সঙ্গে প্রচুর ফোন পাচ্ছি; অনেকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। সকলের সহযোগিতা প্রত্যাশা করছি।’

লেখক চার্বাক সুমন বলেন, ‘বইটি লেখা শুরু করেছিলাম বেশ কিছু বছর পূর্বে; বের হলো এবারের বই মেলাকে উদ্দেশ্য করে। কেউ একবারও প্রশ্ন করেননি বইটি কেন সাধু ভাষায় লিখেছি। তাই মনে হচ্ছে ভাব ও ভাষায় কোনো বিরোধ ঘটেনি। মানিয়ে গেছে এর ভাষা ও বিষয়ে। বইটি প্রকাশ করতে সহযোগিতা করেছেন লেখক অনুপ সাদি। তাঁকে বিশেষ করে কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। বইটি প্রকাশ করতে আরও উৎসাহিত করেছেন কবি দোলন প্রভা। সকলের সহযোগিতা ছাড়া হয়তো বইটি প্রকাশ করতে আরও দেরি হতো।’

আরো পড়ুন

Leave a Reply

Top