You cannot copy content of this page
আপনি যা পড়ছেন
মূলপাতা > দর্শন > রাষ্ট্রদর্শন > স্বাধীনতা সম্পর্কে মন্টেস্কুর ধারণা প্রসঙ্গে

স্বাধীনতা সম্পর্কে মন্টেস্কুর ধারণা প্রসঙ্গে

চার্লস দ্য মন্টেস্কুর বিখ্যাত গ্রন্থ The spirit of law-তে স্বাধীনতা বিষয়ক আলোচনাটি অত্যন্ত গুরুত্ব পেয়েছে। জন্মভূমি ফ্রান্সের স্বৈরতান্ত্রিক শাসকদের অত্যাচার ও নিপীড়নমূলক আচরণ মন্টেস্কুর হৃদয়কে বড়ই আঘাত দিত। স্বৈরাচারী শাসকরা সেখানেও জনগণের চিন্তা ও কর্মের স্বাধীনতায় বিশ্বাসী ছিল না। আবার তিনি স্বাধীনতা বলতে যা খুশি তা করাকে বুঝায়নি। যা খুশি তা করা হলে সমাজে অনাচার ও নৈরাজ্য নেমে আসে। মন্টেস্কু আইনের বিধান অনুযায়ী কাজ করাকে স্বাধীনতা বলেছেন। ব্যাপক অর্থে মানুষ যখন নিজের ইচ্ছেমত কাজ করার অধিকার পায়, তখন তার স্বাধীনতা আছে বলে মনে করা হয়। মন্টেস্কু আইনের বিধান অনুযায়ী কাজ করাকে স্বাধীনতা বলেছেন। মন্টেস্কু আরো বলেন, রাজনৈতিক স্বাধীনতা যা খুশি তা করার সাথে সংশ্লিষ্ট নয় তবে আইন যা অনুমোদন দেয় তা শুধু করতে পারে।

মন্টেস্কু ছিলেন স্বাধীনতার একনিষ্ঠ ভক্ত। কিভাবে জনগণের স্বাধীনতা রক্ষা করা যায় এ নিয়ে তিনি নানা ধরণের গবেষণা শুরু করেন। এ জন্যে তিনি ইংল্যান্ড ভ্রমণ করেন। ইংল্যান্ডের জনগণের স্বাধীনতা দেখে তিনি অভিভূত হন। ইংল্যান্ড থেকে ফিরে এসে তিনি জনগণের স্বাধীনতা সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেন। যা খুশি তা করাকে মন্টেস্কু স্বাধীনতা বলেননি। তার মতে, যা খুশি তা করা হলো স্বৈরাচারের নামান্তর। স্বৈরাচার থেকে আসে নৈরাজ্য। স্বাধীনতা স্বৈরাচারিতা কখনও সহাবস্থানে চলতে পারে না। তিনি স্বাধীনতার সংজ্ঞা ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি থেকে প্রদান করেন। তাঁর মতে, আইনের বিধান অনুযায়ী কাজ করাই হলো স্বাধীনতা। তাঁর স্বাধীনতা সংক্রান্ত ধারনাটি ব্যক্ত হয়েছে ইংরেজি এই বাক্যে যেখানে তিনি বলেছেন, “Political liberty does not consist in unlimited freedom, but is a right of doing whatever the laws permit”.

মন্টেস্কুর স্বাধীনতা সম্পর্কিত চিন্তা দুই প্রকার স্বাধীনতার কথা বলে। সেগুলো হচ্ছে রাজনৈতিক স্বাধীনতা বা Political Liberty এবং নাগরিক স্বাধীনতা বা Civil Liberty)। মন্টেস্কু মনে করেন, মানুষের আইন অনুসারে যা করার অধিকার আছে এবং নিরাপত্তার সাথে যদি তা করতে পারে তাহলেই তাকে রাজনৈতিক অধিকার বলে অভিহিত করা যায়। তাঁর মতে রাজনৈতিক স্বাধীনতার জন্ম সংবিধান থেকে। রাষ্ট্র ও মানুষের সম্পর্কের নিরিখে জন্ম হয় রাজনৈতিক স্বাধীনতার। এ স্বাধীনতা স্বৈরশাসনের বিপরীতে অবস্থান করে।

অন্যদিকে নাগরিক স্বাধীনতা ব্যক্তির সাথে ব্যক্তির সম্পর্কের ভিত্তিতে গড়ে ওঠে। ব্যক্তি বা নাগরিক স্বাধীনতার জন্য সংবিধানের তেমন প্রয়োজন নেই বলে মন্টেস্কু মনে করেন। ব্যক্তির আচার-আচরণ ইত্যাদির উপর নাগরিক স্বাধীনতা নির্ভর করে।

মন্টেস্কু মনে করেন, স্বাধীনতাকে যথার্থ ও অর্থবহ করতে হলে প্রয়োজন শাসকের স্বেচ্ছাচারিতার অবসান। তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন, মানুষের আনুগত্য কোনো ব্যক্তি নির্ভর না হয়ে আইনের প্রতি প্রদর্শিত হলে তখনই যথার্থ স্বাধীনতার উন্মেষ ঘটে। আর সংবিধানই হচ্ছে আইনের উৎসভূমি। স্বাধীনতার জন্য প্রয়োজন সত্যিকারের সরকার। এ ধরণের সরকারে যাবতীয় ক্ষমতা নিয়ন্ত্রিত ও ভারসাম্য অবস্থায় থাকে। মন্টেস্কুর মতে, মানুষের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার জন্য ক্ষমতাকে বিভাজন করা প্রয়োজন। তাঁর মতে, শাসনক্ষমতাকে এমনভাবে বিন্যস্ত করতে হবে যাতে সকল ক্ষমতা একই ব্যক্তির হাতে কেন্দ্রীভূত না থাকে এবং যাতে একজনের ক্ষমতা দ্বারা অন্যজনের ক্ষমতাকে সীমিত ও নিয়ন্ত্রিত করতে পারে।

তথ্যসূত্র:

১. ওদুদ, মো. আবদুল (১৪ এপ্রিল ২০১৪)। “চার্লস দ্য মন্টেস্কু”। রাষ্ট্রদর্শন (২ সংস্করণ)। ঢাকা: মনন পাবলিকেশন। পৃষ্ঠা ৩১৮-৩১৯।

Anup Sadi
অনুপ সাদির প্রথম কবিতার বই “পৃথিবীর রাষ্ট্রনীতি আর তোমাদের বংশবাতি” প্রকাশিত হয় ২০০৪ সালে। তাঁর মোট প্রকাশিত গ্রন্থ ১০টি। সাম্প্রতিক সময়ে প্রকাশিত তাঁর “সমাজতন্ত্র” ও “মার্কসবাদ” গ্রন্থ দুটি পাঠকমহলে ব্যাপকভাবে সমাদৃত হয়েছে। ২০১০ সালে সম্পাদনা করেন “বাঙালির গণতান্ত্রিক চিন্তাধারা” নামের একটি প্রবন্ধগ্রন্থ। জন্ম ১৬ জুন, ১৯৭৭। তিনি লেখাপড়া করেছেন ঢাকা কলেজ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। ২০০০ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি সাহিত্যে এম এ পাস করেন।

Leave a Reply

Top