You cannot copy content of this page
আপনি যা পড়ছেন
মূলপাতা > দর্শন > রাষ্ট্রদর্শন > রাষ্ট্রদর্শন হচ্ছে রাষ্ট্র, রাষ্ট্রের প্রকৃতি, পরিধি, কার্যাবলি এবং মানবজাতির প্রগতি সম্পর্কিত মতবাদ

রাষ্ট্রদর্শন হচ্ছে রাষ্ট্র, রাষ্ট্রের প্রকৃতি, পরিধি, কার্যাবলি এবং মানবজাতির প্রগতি সম্পর্কিত মতবাদ

এথেন্সের স্কুল

রাষ্ট্রদর্শন বা রাজনৈতিক দর্শন, যা রাজনৈতিক তত্ত্ব হিসাবেও পরিচিত, হলো রাজনীতি, স্বাধীনতা, ন্যায়বিচার, সম্পত্তি, অধিকার, আইন এবং কর্তৃপক্ষ দ্বারা আইনের প্রয়োগ ইত্যাদি বিষয়গুলির অধ্যয়ন। রাষ্ট্রদর্শন রাষ্ট্রের যেসব বিষয় আলোচনা করে যদি সেগুলোর প্রয়োজন হয় তাহলে সেগুলোর রূপ কেমন, কী সরকারকে বৈধ করে তোলে, কোন অধিকার এবং স্বাধীনতাকে রাষ্ট্রের রক্ষা করা উচিত, রাষ্ট্র কোন রূপ গ্রহণ করবে, আইন কী এবং নাগরিকরা কোন ধরনের সরকারকে বৈধতা দেয় এবং যদি প্রয়োজন হয় তবে কখন আইনীভাবে সরকারকে উৎখাত করা যেতে পারে ইত্যাদি প্রসঙ্গে।

রাষ্ট্রদর্শন হচ্ছে রাষ্ট্র সম্পর্কে দার্শনিক চিন্তন, রাষ্ট্রের প্রকৃতি, কার্যাবলি, মূল্য, রাষ্ট্রীয় অভিজ্ঞতার সত্যতা, জীবন ও জগতের পরম সার্থকতা হিসেবে রাষ্ট্রীয় অভিজ্ঞতার যথার্থতা সম্পর্কে দার্শনিক অনুসন্ধান লাভ। রাষ্ট্রদর্শন বলতে আমরা রাষ্ট্র, রাষ্ট্রের প্রকৃতি, পরিধি ও কার্যাবলি এবং মানব জাতির উন্নয়ন ও প্রগতি সম্পর্কিত মতবাদকে বুঝি। সামগ্রিকভাবে রাষ্ট্র সম্পর্কিত দার্শনিক চিন্তাভাবনাই হলো রাষ্ট্রদর্শন। রাষ্ট্রদর্শনের বিষয়বস্তু প্রধানত তিনটি ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য। যেমন, মানব প্রকৃতি ও তার কার্যকলাপ, জীবনের সমগ্র অনুভূতির জন্য পৃথিবীর অপরাপর বিষয়ের সাথে মানুষের সম্পর্ক এবং সমাজের পারস্পরিক সম্পর্ক।[১]

রাষ্ট্রদর্শনের বিষয়বস্তু

রাষ্ট্রই হচ্ছে রাষ্ট্রদর্শনের মূল একথা বলা যায় না। বিভিন্ন যুগে রাষ্ট্রদর্শনের বিভিন্ন সমস্যা প্রাধান্য পেয়েছে। প্রাচীনকালে বিশেষ করে গ্রিক ও রোমান চিন্তায় যে সমস্ত প্রশ্ন প্রাধান্য পেয়েছে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ন্যায়নীতির ধারণা, আদর্শ রাষ্ট্রের বৈশিষ্ট্য, শাসনের উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য, শাসকের যোগ্যতা এবং আইনের প্রয়োজনীয়তা ও লক্ষ্য, সমতার ভিত্তিতে সমাজ প্রতিষ্ঠা সম্ভব কী না প্রভৃতি।

মধ্য যুগে রাষ্ট্রদর্শনের ধারাটি ছিলো কিছুটা ভিন্ন ধর্মী। আধ্যাত্মিক ও পার্থিব শক্তির প্রাধান্যের লড়াই এই যুগের রাষ্ট্রদর্শনকে প্রভাবিত করেছে। ধর্মীয় কুসংস্কার ও অন্ধবিশ্বাসের বিরুদ্ধে সংস্কার আন্দোলন ষোড়শ শতাব্দীতে রাষ্ট্রদর্শনের অগ্রগতিকে প্রসারিত করেছে। সার্বভৌমিকতা ও জাতীয় রাষ্ট্রের ধারণাটিও এই সময় প্রচারিত হয়।

আরো পড়ুন:  নাস্তিত্ববাদ কাকে বলে?

সপ্তদশ ও অষ্টাদশ শতাব্দীর চিন্তায় প্রাধান্য পায় রাষ্ট্র ও সংগঠনের বিভিন্ন তত্ত্ব। গণতন্ত্র, প্রতিনিধিত্ব, সমতা, স্বাধীনতা প্রভৃতি ধারণা এই সময় জনপ্রিয় হয়। উনবিংশ ও বিংশ শতাব্দীতে যে বিষয়গুলো ছিলো রাজনৈতিক বিতর্কের মূলে তার মধ্যে উল্লে¬খযোগ্য হলো রাষ্ট্রের কার্যাবলি, পরিধি, রাষ্ট্র ও নাগরিকের সম্পর্ক, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক প্রভৃতি।[১]

তথ্যসূত্র:

১. ওদুদ, মো. আবদুল (১৪ এপ্রিল ২০১৪)। “রাষ্ট্রদর্শনের সংজ্ঞা, বৈশিষ্ট্য, বিকাশ ধারা, পরিধি, পদ্ধতি, যুগসমূহ, উপকারিতা ও অন্যান্য বিষয়ের সাথে সম্পর্ক”। রাষ্ট্রদর্শন (২ সংস্করণ)। ঢাকা: মনন পাবলিকেশন। পৃষ্ঠা ২৩-২৯।

Anup Sadi
অনুপ সাদির প্রথম কবিতার বই “পৃথিবীর রাষ্ট্রনীতি আর তোমাদের বংশবাতি” প্রকাশিত হয় ২০০৪ সালে। তাঁর মোট প্রকাশিত গ্রন্থ ১০টি। সাম্প্রতিক সময়ে প্রকাশিত তাঁর “সমাজতন্ত্র” ও “মার্কসবাদ” গ্রন্থ দুটি পাঠকমহলে ব্যাপকভাবে সমাদৃত হয়েছে। ২০১০ সালে সম্পাদনা করেন “বাঙালির গণতান্ত্রিক চিন্তাধারা” নামের একটি প্রবন্ধগ্রন্থ। জন্ম ১৬ জুন, ১৯৭৭। তিনি লেখাপড়া করেছেন ঢাকা কলেজ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। ২০০০ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি সাহিত্যে এম এ পাস করেন।

Leave a Reply

Top