You cannot copy content of this page
আপনি যা পড়ছেন
মূলপাতা > রাজনীতি > মার্কসবাদী যুদ্ধতত্ত্ব যুদ্ধের কারণকে আপাত-আধা-অর্থনৈতিক হিসেবে উল্লেখ করে

মার্কসবাদী যুদ্ধতত্ত্ব যুদ্ধের কারণকে আপাত-আধা-অর্থনৈতিক হিসেবে উল্লেখ করে

যুদ্ধ

মার্কসবাদী যুদ্ধতত্ত্ব বা যুদ্ধের মার্কসবাদী তত্ত্বটি (ইংরেজি: The Marxist theory of war) যুদ্ধের কারণকে আপাত-আধা-অর্থনৈতিক হিসেবে উল্লেখ করে। মার্কসবাদীরা মনে করেন যে সশস্ত্র শ্রেণিযুদ্ধ ব্যতীত শোষিত শ্রেণির মুক্তি সম্ভব নয়। মার্কসবাদীগণ যুদ্ধকে মোটা দাগে দুভাবে ভাগ করেছেন। তাঁদের কাছে যুদ্ধ ন্যায় যুদ্ধ ও অন্যায় যুদ্ধ নামে দুই ধরনের যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছে।

মার্কসবাদী অনেকে মনে করেন যে সমাজতান্ত্রিক দেশগুলির সাথে সাম্রাজ্যবাদী দেশগুলির যুদ্ধ অনিবার্য এবং শােষণমুক্ত আদর্শ সমাজ স্থাপন করতে হলে সাম্রাজ্যবাদী শক্তিগুলিকে যুদ্ধে পরাজিত করতেই হবে।[১] এই তত্ত্ব বলে যে সমস্ত আধুনিক যুদ্ধ বড় সাম্রাজ্যবাদী শক্তির মধ্যে সম্পদ এবং বাজারের জন্য প্রতিযোগিতার কারণে ঘটেছিল; এবং এই মার্কসবাদী তত্ত্ব আরো দাবি করে যে এই যুদ্ধগুলি মুক্তবাজার এবং শ্রেণিব্যবস্থার একটি প্রাকৃতিক ফলাফল। মার্কসবাদী তত্ত্বের একটি অংশ হলো একবার বিশ্ব বিপ্লব ঘটার ফলে মুক্ত বাজার এবং শ্রেণি ব্যবস্থা উৎপাটিত করা গেলে যুদ্ধ অদৃশ্য হয়ে যাবে।

ন্যায় যুদ্ধতত্ত্ব ও অন্যায় যুদ্ধ

ন্যায় যুদ্ধতত্ত্ব (লাতিন: jus bellum justum) হচ্ছে এমন একটি সামরিক নৈতিকতার মতবাদ বা ঐতিহ্য যা সামরিক নেতা, ধর্মতত্ত্ববিদ, নীতিবিদ এবং নীতিনির্ধারক দ্বারা অধ্যয়ন করা হয়। এই যুদ্ধতত্ত্ব সাধারণভাবে অন্যায় যুদ্ধ এবং শান্তিবাদ কে বিরোধীতা করে থাকে। এই মতবাদের উদ্দেশ্য হলো যুদ্ধের নৈতিকতাকে অনেকগুলো মানদণ্ডের মধ্য দিয়ে বিশ্লেষণের মাধ্যমে যুদ্ধ ন্যায্য কিনা তা নিশ্চিত করে, অর্থাৎ সেই মানদণ্ড বা নির্ণায়কগুলো যুদ্ধকে ন্যায়সঙ্গত হিসেবে পরিমাপ বা আলোচনা করে দেখে। ন্যায় যুদ্ধ তত্ত্বের তিন মানদণ্ড রয়েছে, প্রথমটি প্রতিষ্ঠা করতে চায় অন্যায় যুদ্ধে বিরুদ্ধে যুদ্ধে যাওয়ার অধিকার, এবং দ্বিতীয়টি প্রতিষ্ঠা করতে চায় যুদ্ধের মধ্যে সঠিক আচরণ করা এবং তৃতীয়টি প্রতিষ্ঠিত শান্তিবাদের বিরোধীতা করা।

শ্রেণিগুলোকে বিলুপ্ত না করে এবং সমাজতন্ত্র সৃষ্টি না করে যুদ্ধকে বিলুপ্ত করা অসম্ভব। লেনিন তাঁর সমাজতন্ত্র ও যুদ্ধ প্রবন্ধে বলেছেন,

“মার্কসবাদীরা সবসময়ই বিভিন্ন জাতিগুলির মধ্যে যুদ্ধকে বর্বরোচিত এবং পাশবিক বলে নিন্দা করেছেন। কিন্তু যুদ্ধ সম্পর্কে আমাদের মনোভাব বুর্জোয়া শান্তিবাদীদের (শান্তির পক্ষাবলম্বীদের ও প্রচারকদের) এবং নৈরাজ্যবাদীদের মনোভাব থেকে নীতিগতভাবে পৃথক। প্রথমোক্তদের সঙ্গে আমাদের পার্থক্য এইখানে যে, আমরা একদিকে বিভিন্ন যুদ্ধের মধ্যেকার অনিবার্য সম্পর্ককে বুঝি, অপরদিকে যুদ্ধগুলির সঙ্গে একটি দেশের অভ্যন্তরীণ শ্রেণী-সংগ্রামের অনিবার্য সম্পর্ককেও বুঝি, আমরা বুঝি শ্রেণীগুলিকে বিলুপ্ত না করে এবং সমাজতন্ত্র সৃষ্টি না করে যুদ্ধকেও বিলুপ্ত করা অসম্ভব; উৎপীড়ক শ্রেণীর বিরুদ্ধে উৎপীড়িত শ্রেণীগুলির যুদ্ধ, দাসমালিকদের বিরুদ্ধে ক্রীতদাসদের যুদ্ধ, জমিদারদের বিরুদ্ধে ভূমিদাসদের যুদ্ধ, বুর্জোয়াদের বিরুদ্ধে মজুরী শ্রমিকদের যুদ্ধ—এই গৃহযুদ্ধগুলির ন্যায্যতা, প্রগতিশীলতা এবং প্রয়োজনীয়তাকে আমরা পরোপুরি স্বীকৃতি দিই। অমিরা মার্কসবাদীরা শান্তিবাদী ও নৈরাজ্যবাদী উভয়ের থেকে এখানেই পৃথক যে, ঐতিহাসিক ভাবে প্রত্যেকটি যুদ্ধকে স্বতন্ত্রভাবে অধ্যয়নের (মার্কসের দ্বান্দ্বিক বস্তুবাদী দৃষ্টিভঙ্গীর আলোকে) প্রয়োজনকে আমরা স্বীকার করি”।[২]

মাও সেতুংয়ের কাছে যুদ্ধ হচ্ছে দুই প্রকার। তিনি বিপ্লবী যুদ্ধ বা ন্যায় যুদ্ধের পক্ষে। ইতিহাস জুড়েই দেখা গেছে যারা বিপ্লবী যুদ্ধে নৈতিক দিক থেকে এগিয়ে ছিলো তারাই জিতেছে। যারা যুদ্ধ লাগাবার জন্যে গোঁ ধরেছিল এবং যারা অন্যায় যুদ্ধগুলো চাপিয়ে দিয়েছিল তারাই পরাজিত হয়েছে। মাও সেতুং লিখেছেন,

“আমরা অগ্রসর প্রযুক্তি গ্রহণ করবো, কিন্তু তা একটা নির্দিষ্ট সময়ের জন্য পশ্চাৎপদ প্রযুক্তির প্রয়োজনীয়তা ও অপরিহার্যতাকে বাতিল করতে পারে না। ইতিহাসের সূচনা থেকে বিপ্লবি যুদ্ধে সর্বদাই তারাই জয়ী হয়েছে যাদের হাতে অস্ত্রশস্ত্র ছিল কম এবং যারা অস্ত্রপাতির ক্ষেত্রে সুবিধা পেয়েছে তারা পরাজিত হয়েছে। আমাদের গৃহযুদ্ধের সময়, জাপবিরোধি প্রতিরোধ যুদ্ধের সময় এবং মুক্তিযুদ্ধের সময়, আমাদের দেশব্যাপী রাজনৈতিক ক্ষমতা ও আধুনিক অস্ত্রাগারের অভাব ছিল। যদি সবচেয়ে আধুনিক অস্ত্রপাতি না থাকার কারণে যুদ্ধ করতে কেউ না পারে তাহলে তা নিজেকে নিরস্ত্র করারই সামিল।”[৩]

লেনিনবাদী যুদ্ধতত্ত্ব বিশ্লেষণ

ভি আই লেনিনের মতে যুদ্ধ হচ্ছে অন্যভাবে বলতে গেলে সহিংস উপায়ে রাজনীতির ধারাবাহিকতা। মাও সেতুংও যুদ্ধকে বলেছেন রাজনীতির বর্ধিত রূপ।[৪]; লেনিন তাঁর সমাজতন্ত্র ও যুদ্ধ পুস্তিকায় যুদ্ধ সম্পর্কে আলোচনা করেছেন। তিনি উক্ত পুস্তিকায় কার্ল ভন ক্লজউইৎজের প্রবাদ বাক্যটিকে উল্লেখ করেন। মূলত ক্লজউইৎজের কথাটিই লেনিন এবং মাও সেতুং গ্রহণ করেছেন। হেগেলবাদী ক্লজউইৎজের যুদ্ধ বিশ্লেষণ মানবেতিহাসের যুদ্ধ সংক্রান্ত এক গুরুত্বপূর্ণ বিশ্লেষণ। কার্ল ভন ক্লজউইৎজের (ইংরেজি: Carl von Clausewitz) ভাষায় “war is nothing but a continuation of political intercourse with an admixture of other means.”[৫]

আরো পড়ুন:  আগ্রাসন হচ্ছে কোনো সম্প্রদায়কে উৎখাতের উদ্দেশ্যে গােষ্ঠী বা দেশের আক্রমণাত্মক ব্যবহার

মূল নিবন্ধ: লেনিনবাদী যুদ্ধতত্ত্ব

যুদ্ধ হচ্ছে শ্রেণিগুলোর উদ্ভবের ফল।[৬] সমাজ যতদিন শ্রেণিবিভক্ত থাকবে, যতদিন মানুষের দ্বারা মানুষের শোষণ থাকবে, ততদিন যুদ্ধ অনিবার্য। যুদ্ধ ছাড়া এই শোষণ ধ্বংস হতে পারে না এবং যুদ্ধ সবসময় ও সর্বত্র শোষকেরাই শুরু করে, শাসক ও উৎপীড়ক শ্রেণিগুলোই শুরু করে।[৭] লেনিন লিখেছেন যে যুদ্ধ সম্পর্কে কমিউনিস্টগণ কখনোই ভাবাবেগপ্রসূত দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করেনি। যুদ্ধকে কমিউনিস্টগণ মানব সমাজে বিরোধ নিষ্পত্তির পাশবিক পদ্ধতি বলে দ্বিধাহীনভাবে নিন্দা করেন।

ঐতিহাসিক বস্তুবাদ সবকিছু নির্ধারণ করে, অস্ত্র নয়

ঐতিহাসিক বস্তুবাদ সমাজবিকাশের পথ দেখায়, অস্ত্র সবকিছু নির্ধারণ করে না। তবে আধুনিক সংশোধনবাদীরা প্রচার করে যে, পারমাণবিক অস্ত্রশস্ত্রের উদ্ভবের ফলে সমাজবিকাশের নিয়মগুলি আর কার্যকর থাকছে না এবং যুদ্ধ ও শান্তি সম্পর্কে মার্কসবাদী-লেনিনবাদী তত্ত্ব সেকেলে হয়ে গেছে। মূলত ইতালির পার্টির নেতা কমরেড তোগলিয়াত্তিরা ১৯৬০-এর দশকে এসব কথাবার্তা প্রচার করতেন।[৮] অনেকেই সাম্রাজ্যবাদীদের আধুনিক মারণাস্ত্র দেখে মনে করেন যে, তারাই সর্বদা জিতবে। কিন্তু বাস্তবে কী তাই ঘটে? যুদ্ধকে কি অনবরত ভয় পেতে হয়, বা জনগণ কী আদৌ যুদ্ধকে ভয় পান? ইতিহাস জুড়েই দেখা যায়, অস্ত্রই যুদ্ধের নির্ণায়ক উপাদান নয়। মাও সেতুং দেখিয়েছেন,

“অস্ত্র হচ্ছে যুদ্ধের একটা গুরুত্বপূর্ণ উপাদান, কিন্তু নির্ধারক উপাদান নয়; নির্ধারক উপাদান হচ্ছে মানুষ, বস্তু নয়। শক্তির তুলনা শুধু সামরিক ও অর্থনৈতিক শক্তির তুলনাই নয়, বরং জনশক্তি ও নৈতিক শক্তিরও তুলনা। সামরিক ও অর্থনৈতিক শক্তি অপরিহার্যরূপেই মানুষের দ্বারা পরিচালিত হয়।”[৯]

গণ যুদ্ধ

সাম্যবাদী রাজনীতিবিদদের মধ্যে মাও সেতুং যুদ্ধ নিয়ে সবচেয়ে বেশি আলোচনা ও পরীক্ষা নিরীক্ষা করেছেন। যুদ্ধ কী, যুদ্ধের উদ্ভব, কারণ, ফলাফল এবং ততসংক্রান্ত আলোচনায় তাঁর কোনো ক্লান্তি ছিলো না। যুদ্ধের উদ্ভব সম্পর্কে মাও বলেছেন,

শ্রেণি ও শ্রেণির মধ্যে, জাতি ও জাতির মধ্যে, রাষ্ট্র ও রাষ্ট্রের মধ্যে, রাজনৈতিক দল ও রাজনৈতিক দলের মধ্যে দ্বন্দ্ব যখন একটা নির্দিষ্ট পর্যায়ে বিকশিত হয়ে উঠে, তখন সে দ্বন্দ্বগুলোর মীমাংসার জন্য সংগ্রামের উচ্চতম রূপই হচ্ছে যুদ্ধ — যা ব্যক্তিগত সম্পত্তি ও শ্রেণির উদ্ভব থেকেই আরম্ভ হয়েছে।[১০]

মাও সেতুং বিশ্বাস করতেন যে শান্তিপূর্ণ কমিউনিস্ট শৃঙ্খলা অর্জনের জন্য জনগণের কাছ থেকে সহিংসতা ও সমর্থন জরুরি। এক্ষেত্রে মাও-এর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জগুলির মধ্যে একটি ছিল বিপ্লবের পক্ষে শক্তিশালী সামরিক সমর্থন প্রতিষ্ঠা করা এবং সশস্ত্র বাহিনীকে পার্টির চেয়ে অধিক শক্তিশালী হওয়ার হাত থেকে বিরত রাখা। মাও সেতুং যুদ্ধকে বিপরীতের একত্ব হিসেবে দেখেছেন,

“যুদ্ধে, আক্রমণ ও প্রতিরক্ষা, অগ্রাভিযান ও পশ্চাদপসরণ এবং বিজয় ও পরাজয় সবই হচ্ছে পরস্পর বিরোধী ব্যাপার। একটি ছাড়া অপরটির অস্তিত্ব থাকতে পারে না। দুটি দিক একই সংগে পরস্পর প্রতিদ্বন্দ্বী ও নির্ভরশীল এবং এটাই একটা যুদ্ধের সমগ্রতাকে গঠন করে, এর বিকাশকে সামনে ঠেলে দেয় এবং এর সমস্যাগুলোর সমাধান করে।”[১১]

গণযুদ্ধ, যাকে দীর্ঘমেয়াদী জনগণের যুদ্ধও বলা হয়, হচ্ছে একটি মাওবাদী সামরিক কৌশল। চীনা কমিউনিস্ট বিপ্লবী নেতা মাও সেতুং (১৮৯৩-১৯৭৬) দ্বারা প্রথম বিকশিত করেন। গণযুদ্ধের পেছনের মূল ধারণাটি হচ্ছে এই যে জনসংখ্যার সমর্থন রক্ষা করা এবং শত্রুদের গ্রামাঞ্চলের দিকে গভীরভাবে প্রলুব্ধ করা; শত্রুরা গ্রামাঞ্চলে আসলে জনগণ তাদেরকে চলমান যুদ্ধ এবং গেরিলা যুদ্ধের মাধ্যমে আক্রমণ করবে। এটি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে সাম্রাজ্যবাদী জাপানি সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে এবং চীনের গৃহযুদ্ধে চীনা সোভিয়েত প্রজাতন্ত্রের মাধ্যমে চীনা কমিউনিস্টরা ব্যবহার করেছিল।

আরো পড়ুন:  বাঙালির যুদ্ধচিন্তা হচ্ছে বঙ্গ অঞ্চলের জনগণের নিজ সম্পদ রক্ষার সাধারণ লড়াই

যুদ্ধ সংক্রান্ত আলোচনা করতে হলে শোষণ সম্পর্কেও দুয়েকটি কথা বলা দরকার। শোষণের সাথেই সম্পর্ক আছে দাস, সামন্ত ও পুঁজিবাদী যুগ সৃষ্টির। অর্থাৎ সভ্যতা বলতে, বা সমাজের অগ্রগতি বলতে যা বোঝানো হয়, তা মূলত এই শোষণেরই রকমফের। আর শোষণ চালু করার সবচেয়ে বড় পদ্ধতি হচ্ছে নিজেদের স্বাধীনতা রক্ষা এবং অন্য অঞ্চল ও সেসব অঞ্চলের লোককে পরাধীন করা; অন্যকে পরাধীন করার উপায়ই হচ্ছে যুদ্ধ।

তথ্যসূত্র:

১. গৌরীপদ ভট্টাচার্য, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক, পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য পুস্তক পর্ষদ, কলকাতা, পঞ্চম সংস্করণ ডিসেম্বর ১৯৯১, পৃষ্ঠা ১৬৫-১৬৮।
২. ভি আই লেনিন, সমাজতন্ত্র ও যুদ্ধ
৩. মাও সেতুং, ১৯৬১-৬২; ‘সোভিয়েত ইউনিয়নের রাজনৈতিক অর্থনীতি’র উপর নোট। মাও সেতুংয়ের শেষ জীবনের উদ্ধৃতি, আন্দোলন প্রকাশনা, অধ্যায় সর্বহারা শ্রেণির একনায়কত্ব, ১৬ নং উদ্ধৃতি
৪. ‘যুদ্ধ ও বিপ্লব’ প্রবন্ধটি ভি আই লেনিন শুরু করেছেন এই বলে যে, ‘যুদ্ধ হলো অন্য উপায়ে কর্মনীতির অনুবৃত্তি। প্রত্যেক যুদ্ধই সেই যুদ্ধের সৃষ্টিকারী রাজনীতিক ব্যবস্থা থেকে অবিচ্ছেদ্য’। প্রবন্ধটি ২৩ এপ্রিল, ১৯২৯ তারিখে প্রাভদায় প্রকাশিত। প্রবন্ধটি পাবেন প্রগতি প্রকাশন, মস্কো, তারিখহীন থেকে প্রকাশিত সাম্রাজ্যবাদ ও সাম্রাজ্যবাদীদের প্রসঙ্গে গ্রন্থের ১৪০-১৫২ পৃষ্ঠায়। মাও সেতুং বলেছেন ‘রাজনীতি হচ্ছে রক্তপাতহীন যুদ্ধ আর যুদ্ধ হচ্ছে রক্তপাতময় রাজনীতি’।
৫. কার্ল ভন ক্লজউইৎজ, On War, Chapter One: What is war?, Point 24.
৬. মাও সেতুং, দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ প্রসঙ্গে, নির্বাচিত রচনাবলী, খণ্ড ২
৭. ভি আই লেনিন, বিপ্লবী সেনাবাহিনী ও বিপ্লবী সরকার, সংগৃহীত রচনাবলী, এফএলপিএইচ, মস্কো ১৯৬২, খণ্ড ৮, পৃষ্ঠা ৫৭৫, এখানে নেয়া হয়েছে চীনের রেড ফ্লাগ পত্রিকার তাত্ত্বিক নিবন্ধ, সমকালীন বিশ্বে লেনিনবাদের কিছু গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা প্রসঙ্গে, কমরেড তোগলিয়াত্তি ও আমাদের মধ্যে মতপার্থক্য প্রসঙ্গে আরো মন্তব্য, ইন্টারন্যাশনাল পাবলিশার্স, ঢাকা, ফেব্রুয়ারি ১৯৯১, পৃষ্ঠা ৪৯ থেকে
৮. চীনের রেড ফ্লাগ পত্রিকার তাত্ত্বিক নিবন্ধ, সমকালীন বিশ্বে লেনিনবাদের কিছু গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা প্রসঙ্গে, কমরেড তোগলিয়াত্তি ও আমাদের মধ্যে মতপার্থক্য প্রসঙ্গে আরো মন্তব্য, ইন্টারন্যাশনাল পাবলিশার্স, ঢাকা, ফেব্রুয়ারি ১৯৯১, পৃষ্ঠা ৫৮
৯. মাও সেতুং, “দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ সম্পর্কে” মে, ১৯৩৮।
১০. মাও সেতুঙ, চীনের বিপ্লবী যুদ্ধের রণনীতির সমস্যা, ডিসেম্বর ১৯৩৬, সভাপতি মাও সেতুঙের ছয়টি সামরিক প্রবন্ধ, বিদেশী ভাষা প্রকাশনালয় পিকিং ১৯৭২ পৃষ্ঠা ২-৩
১১. মাও সেতুঙ, দ্বন্দ্ব সম্পর্কে, আগস্ট ১৯৩৭, অনুবাদ সম্পাদনা আবুল কাসেম ফজলুল হক, মাও সেতুঙ নির্বাচিত রচনাবলী, খণ্ড ১, চলন্তিকা বইঘর, ঢাকা, প্রথম বাংলা সংস্করণ অক্টোবর ১৯৯২, পৃষ্ঠা ৩১০

Anup Sadi
অনুপ সাদির প্রথম কবিতার বই “পৃথিবীর রাষ্ট্রনীতি আর তোমাদের বংশবাতি” প্রকাশিত হয় ২০০৪ সালে। তাঁর মোট প্রকাশিত গ্রন্থ ১০টি। সাম্প্রতিক সময়ে প্রকাশিত তাঁর “সমাজতন্ত্র” ও “মার্কসবাদ” গ্রন্থ দুটি পাঠকমহলে ব্যাপকভাবে সমাদৃত হয়েছে। ২০১০ সালে সম্পাদনা করেন “বাঙালির গণতান্ত্রিক চিন্তাধারা” নামের একটি প্রবন্ধগ্রন্থ। জন্ম ১৬ জুন, ১৯৭৭। তিনি লেখাপড়া করেছেন ঢাকা কলেজ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। ২০০০ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি সাহিত্যে এম এ পাস করেন।

Leave a Reply

Top