Main Menu

বুর্জোয়া

 
 

চীনা সমাজের শ্রেণি বিশ্লেষণ — মাও সেতুং

মার্চ ১৯২৬ কমরেড মাও সে তুং এই প্রবন্ধটি লিখেছিলেন ১৯২৬ সালের মার্চ মাসে। সে সময়ে পার্টির ভেতরে যে দু’ধরনের বিচ্যুতি ছিলো, তার বিরোধিতা করার জন্যই তিনি এই প্রবন্ধটি লিখেছিলেন। তৎকালে পার্টির ভেতরকার প্রথম বিচ্যুতির প্রবক্তা ছিল ছেন তুসিউ। এরা কেবলমাত্র কুওমিনতাঙের সঙ্গে সহযোগিতা করতেই মনোযোগ দিয়েছিল এবং কৃষকদেরকে ভুলে গিয়েছিল—এটা ছিল দক্ষিণপন্থী সুবিধাবাদ। দ্বিতীয় বিচ্যুতির প্রবক্তা ছিল চাং কুও-থাও। এরা কেবলমাত্র শ্রমিক-আন্দোলনের উপরই মনোযোগ দিয়েছিল এবং তারাও ভুলে গিয়েছিল কৃষকদেরকে—এটা ছিল ‘বামপন্থী’ সুবিধাবাদ। বিপ্লবের শক্তির অপর্যাপ্ততা সম্বন্ধে উভয় সুবিধাবাদী বিচ্যুতির সমর্থকরাই সচেতন ছিলো। কিন্তু উভয়ের কেউই জানত না যে, কোথায়Read More


পুঁজিপতি বামনদের কালে অমৃতের বিশ্বকে তৈরির ডাক দিয়ে যাই

অনেক, অজস্র, অগণন মানুষ দেখি; সড়কে, অভারব্রিজে, ফুটপাথে, হাটে, বন্দরে, ঘাটে; লঞ্চে-বাসে-ট্রেনে। শুধু মানুষ মানুষ আর মানুষ। অনুন্নত পুঁজিবাদী দেশের বুর্জোয়া আর ক্ষুদে বুর্জোয়া মালিকদের কাছে মানুষ হলো পণ্য উৎপাদনের যন্ত্র আর পণ্য ক্রয়ের প্রাণী। এই বুর্জোয়া আর ক্ষুদে বুর্জোয়ারা কোনো নিয়ম নীতি শৃঙ্খলা মানে না; তারা সমস্ত আইনকেই ৪২০ বা ফোরটুয়েন্টি ধারায় ফেলে হাজারো অপরাধে সর্বোচ্চ দু’চার মাস জেলের শাস্তি ভোগ করে বীরের বেশে বেরিয়ে পড়ে। এই অনুন্নত পুঁজিবাদের সবচেয়ে পশ্চাৎপদ নেতাদের কালে আমরা জন্মেছিলাম। এবং তার ফল হিসেবে দেখেছিলাম বামনদের মহামানব হিসেবে উপস্থাপনের নোংরা ব্যাধি। কিন্তু এই কাপুরুষদেরRead More


দ্বৈত ক্ষমতা — ভি আই লেনিন

প্রত্যেকটি বিপ্লবেরই মূল প্রশ্ন হলো রাষ্ট্রক্ষমতার প্রশ্ন। এই প্রশ্নটি উপলব্ধ না হলে বিপ্লবে সজ্ঞান অংশগ্রহণ সম্ভবপর হতে পারে না, বিপ্লব পরিচালনার তো কথাই ওঠে না। আমাদের বিপ্লব সৃষ্টি করেছে দ্বৈত ক্ষমতা, এই হলো তার খুবই লক্ষণীয় বৈশিষ্ট্য। এই ঘটনাটিকে সর্বাগ্রে উপলব্ধি করতে হবে: এটা না বুঝলে আমরা এগোতে পারি না। আমাদের জানতে হবেই কী করে সম্পূরণ আর সংশোধন করতে হয় সাবেক “সূত্ৰগুলিকে”, যেমন বলশেভিকবাদের “সূত্ৰকে”, কেননা মোটের উপর সঠিক দেখা গেলেও সেগুলির সুনির্দিষ্ট বাস্তবায়ন পৃথক প্রতিপন্ন হয়েছে। দ্বৈত ক্ষমতার কথা আগে কেউ ভাবে নি, ভাবতে পারতও না । এই দ্বৈতRead More


সংবিধান সভা সম্বন্ধে থিসিস — ভি আই লেনিন

১. সংবিধান সভা বসাবার দাবিটা ছিলো বৈপ্লবিক সোশ্যাল-ডেমোক্রাসির কর্মসূচির খুবই ন্যায়সংগত একটা অঙ্গ, তার কারণ কোনো বুর্জোয়া প্রজাতন্ত্রে সংবিধান সভা হলো গণতান্ত্রিকতার সর্বোচ্চ আকার, আর কারণ হলো এই যে, কেরেনস্কির নেতৃত্বাধীন সাম্রাজ্যবাদী প্রজাতন্ত্র প্রাক-পার্লামেণ্ট স্থাপন করার সাহায্যে নির্বাচনে জয়াচুরি এবং নানা উপায়ে গণতান্ত্রিকতা লঙ্ঘনের আয়োজন করছিলো। ২. সংবিধান সভা বসাবার দাবি তোলার সঙ্গে সঙ্গে বৈপ্লবিক সোশ্যাল-ডেমোক্রাসি ১৯১৭ সালের বিপ্লবের শুরু থেকে বারংবার জোর দিয়ে বলেছে, সংবিধান সভা সহ সাধারণ বুর্জোয়া প্রজাতন্ত্রের চেয়ে উন্নততর আকারের গণতান্ত্রিকতা হলো সোভিয়েত প্রজাতন্ত্র। ৩. বুর্জোয়া ব্যবস্থা থেকে সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থায় উত্তরণের জন্য, প্রলেতারিয়েতের একনায়কত্বের জন্য (শ্রমিক,Read More


সদর দফতরে কামান দাগো — মাও সেতুং

আমার প্রথম বড় হরফের পোস্টার চিনের প্রথম মার্কসবাদী-লেনিনবাদি বড় হরফের পোস্টার এবং ‘পিপলস ডেইলি’-তে এর উপর ভাষ্যকারের নিবন্ধ_এগুলো বাস্তবিকই চমৎকারভাবে লিখিত। কমরেডগণ, এগুলো পুনরায় পড়ুন। কিন্তু বিগত পঞ্চাশ দিন বা অনুরূপ সময়ে কেন্দ্র থেকে শুরু করে নিচে স্থানীয় স্তর পর্যন্ত কিছু নেতৃস্থানীয় কমরেড পুরোপুরি উল্টোভাবে কাজ করেছে। বুর্জোয়াদের প্রতিক্রিয়াশীল অবস্থান গ্রহণ করে তারা এক বুর্জোয়া একনায়কত্ব চাপিয়ে দিয়েছে এবং সর্বহারার মহান সাংস্কৃতিক বিপ্লবের উত্তাল তরঙ্গময় আন্দোলনকে আঘাত করেছে। তারা তথ্যগুলোকে উল্টে দিয়েছে এবং কালো ও সাদাকে গুলিয়ে ফেলেছে, বিপ্লবীদেরকে ঘেরাও করেছে ও দমন করেছে, তাদের নিজেদের থেকে ভিন্ন এমন মতামতগুলোকেRead More


লেনিনবাদী দৃষ্টিতে সংস্কৃতি ও সাংস্কৃতিক বিপ্লব

মানুষেরই শুধু সংস্কৃতি আছে যা অন্য প্রাণীর নেই; আর এই সংস্কৃতিই তার জীবনকে উন্নত করে। মানুষের ইতিহাস অন্য প্রাণী থেকে পৃথক হয়েছে তার সংস্কৃতির কারণে। সংস্কৃতির শক্তিতে মানুষ বেঁচে থাকে, সংস্কৃতির সাহায্যে সে প্রকৃতির সঙ্গে লড়াই করে, প্রকৃতিকে কাজে লাগায়, পরিবেশকে উন্নত করে। সংস্কৃতি মানুষের জীবন, পরিবেশ, কর্ম, উদ্দেশ্য ও বেঁচে থাকার প্রক্রিয়াকে উন্নত, সুন্দর, রুচিশীল, সত্যপরায়ণ, ন্যায়বোধসম্পন্ন ও আধুনিক করে। সংস্কৃতির সাহায্যে মানুষ অতীতের অন্যায়কে বর্জন করবার ধারণা পায়, নতুন ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করে, নতুন মূল্যবোধ তৈরি করে, কর্মপদ্ধতিতে নৈপুণ্য অর্জন করে, অর্থাৎ মানুষের শিল্প-সাহিত্য, দর্শন, বিজ্ঞান, রাজনীতি, সমাজ ইত্যাদিরRead More


মার্কস ও নিউ রাইনিশ গেজেট — ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস

আমরা যাকে জার্মান কমিউনিস্ট পার্টি বলতাম, ফেব্রুয়ারি বিপ্লবের আরম্ভে তা ছিলো শুধু একটি স্বল্পসংখ্যকের কোষকেন্দ্র, ছিল গোপন প্রচারমূলক সমিতি হিসাবে সংগঠিত কমিউনিস্ট লীগ। সেই সময়ে জার্মানিতে সংঘ ও সভা সমিতির কোনো অধিকার ছিলো না বলেই লীগকে গুপ্ত সংগঠন হতে হয়েছিলো। বিদেশের বিভিন্ন শ্রমিক সংস্থা থেকে লীগ তার সদস্য সংগ্রহ করতো। এইসব সংস্থা ছাড়াও জার্মান দেশেই এর প্রায় ত্রিশটি সমিতি বা বিভাগ ছিলো আর নানা জায়গায় বিচ্ছিন্নভাবে সদস্য ছিলো। এই ক্ষুদ্র সংগ্রামী বাহিনীর ছিলো একজন প্রথম শ্রেণির নেতা। তিনি মার্কস। সবাই স্বেচ্ছায় তার নেতৃত্ব মেনে নিত। আর তাঁরই দৌলতে লীগ নীতিRead More


মার্কসবাদী তত্ত্বের বিকাশে লেনিনের সৃজনশীল অবদান – জে. ভি. স্তালিন

(প্রথম মার্কিন শ্রমিক প্রতিনিধিদলের সাথে সাক্ষাৎকার থেকে উদ্ধৃত অংশ) ৯ সেপ্টেম্বর, ১৯২৭ ১. প্রতিনিধিদল কর্তৃক উত্থাপিত প্রশ্নাবলী ও কমরেড স্তালিনের জবাব প্রথম প্রশ্ন: মার্কসবাদের প্রয়োগের ক্ষেত্রে লেনিন ও কমিউনিস্ট পার্টি নতুন কি কি নীতি সংযোজন করেছেন? এটা বলা কি সঙ্গত হবে যে, লেনিন বিশ্বাস করতেন “সৃজনশীল বিপ্লবে”, আর মার্কস অনুরক্ত ছিলেন অর্থনেতিক শক্তিগুলোর বিকাশের পরিণতির জন্য বিলম্ব করার পক্ষে? উত্তর: আমার মতে, মার্কসবাদের ক্ষেত্রে লেনিন কোনো “নতুন নীতি” “সংযোজনও” করেননি, মার্কসবাদের “পুরানো” নীতিমালার কোনোটির বিলোপও ঘটাননি। লেনিন ছিলেন মার্কস ও এঙ্গেলস-এর সবচেয়ে অনুগত ও বিশিষ্ট শিক্ষার্থী, আর সে অবস্থায় তিনিRead More


ভূমি থেকে কৃষিজীবী জনগণের উচ্ছেদ — কার্ল মার্কস

ইংলন্ডে ভূমিদাসপ্রথা কার্য্যত অদৃশ্য হয় ১৪শ শতকের শেষ ভাগে। তখনকার এবং আরো বেশি করে ১৫শ শতকের জনগণের বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশই[১] ছিলো মুক্ত কৃষক-মালিক, তা তাদের স্বত্বাধিকার যে সামন্ত পাট্টাতেই ঢাকা থাক না কেন। বড়ো বড়ো সামন্ত মহালগুলিতে সাবেকী যে গোমস্তা ছিলো নিজেই একজন ভূমিদাস, তার জায়গায় এসে দাঁড়ায় মুক্ত খামারী। কৃষিতে যারা মজুরি খাটত তাদের একাংশ ছিলো কৃষক, তারা তাদের অবসরটা কাজে লাগাত বড়ো বড়ো খামারে খেটে; আর একাংশ ছিলো একটা স্বাধীন, বিশেষ শ্রেণীর মজুরি-শ্রমিক, কিন্তু সংখ্যায় তারা তুলনামলকভাবে ও মাথাগুনতিতে ছিলো খুবই কম। এই শেষোক্তরাও আবার কার্যত ছিল চাষীই,Read More


ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি, তার ইতিহাস ও ফলাফল — কার্ল মার্কস

লন্ডন, শুক্রবার ২৪শে জুন, ১৮৫৩ ভারত বিষয়ে বিধান প্রণয়ন স্থগিত রাখার জন্য লর্ড স্ট্যানলির মোশনের উপর বিতর্ক আজ সন্ধ্যা পর্যন্ত মুলতুবী রাখা হয়েছে। ১৭৮৩ সালের পরে ইংলন্ডে এই প্রথম ভারত প্রশ্ন মন্ত্রিসভা-টেকা-না-টেকার প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। কেন হল? ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির সত্যকার সূত্রপাত হিসাবে ১৭০২ সালের অতি পূর্ববর্তী কোনো যুগকে নির্দিষ্ট করা চলে না, ওই সময়টায় পূর্ব ভারতীয় বাণিজ্যের একচেটিয়া দাবি করে বিভিন্ন সংঘ একটি একক কোম্পানিতে মিলিত হয়। তার আগে পর্যন্ত আদি ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির অস্তিত্বই বারে বারে বিপন্ন হয়েছে, ক্রমওয়েলের প্রটেক্টরেটের সময় একবার বেশ কয়েক বছর ধরে তা স্থগিতRead More