Main Menu

পুঁজি

 
 

লেনিনবাদী দৃষ্টিতে সংশোধনবাদ কী এবং কেন প্রতিরোধ করতে হবে

সংশোধনবাদ বা শোধনবাদ (ইংরেজি: Revisionism) বলতে বুঝতে হবে কোনো মতাদর্শকে বা তত্ত্বকে বিজ্ঞানের মতো অনুধাবন ও অনুশীলন না করে তাকে স্বতন্ত্রভাবে পুনঃপরীক্ষা করা। সংশোধনবাদ হলো মার্কসবাদের সংশোধিত তত্ত্ব। অর্থাৎ সংশোধনবাদ হলো মার্কসবাদের পরিপূর্ণভাবে বিকৃতি, এটি প্রলেতারিয়েতের বৈপ্লবিক সংগ্রাম বিরোধি, প্রলেতারিয়েতের একনায়কত্বের বিরোধী, শ্রেণিসংগ্রাম বিরোধি, বুর্জোয়া শ্রেণির দলগুলোর বিপরীতে শ্রমিক শ্রেণির নিজস্ব দল কমিউনিস্ট পার্টি গঠনের বিরোধি, শ্রমিক শ্রেণির আন্তর্জাতিকতা বিরোধী তথা বিপ্লব বিরোধী তত্ত্ব। সংশোধনবাদ হলো বৈজ্ঞানিক কমিউনিজমের তত্ত্ব ও প্রয়োগ বিরোধি এক মতবাদ।   সংশোধনবাদের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ধারার একটা স্বাভাবিক পরিণতি হলো সমাজতান্ত্রিক আন্দোলনের চুড়ান্ত লক্ষ্যের প্রতি তারRead More


মেহনতি ও শোষিত মানুষের অধিকার ঘোষণা — ভি আই লেনিন

সংবিধান সভার সিদ্ধান্ত:[১] ১. ক) রাশিয়া এতদ্বারা শ্রমিক, সৈনিক এবং কৃষক প্রতিনিধিদের সোভিয়েতসমূহের প্রজাতন্ত্র বলে ঘোষিত হলো। কেন্দ্রীয় আর স্থানিক সমস্ত ক্ষমতা ন্যস্ত হলো এইসব সোভিয়েতের হাতে। খ) স্বাধীন জাতিসমূহের অবাধ সম্মিলনের নীতি অনুসারে সোভিয়েত জাতীয় প্রজাতন্ত্রগুলির ফেডারেশন হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হলো রাশিয়া সোভিয়েত প্রজাতন্ত্র। ২. মানুষের উপর মানুষের যাবতীয় শোষণ লোপ করা, সমাজের শ্রেণিবিভাগ সম্পূর্ণভাবে দূর করা, শোষকদের প্রতিরোধ নির্মমভাবে দমন করা, সমাজের সমাজতান্ত্রিক সংগঠন কায়েম করা এবং সমস্ত দেশে সমাজতন্ত্রের বিজয় ঘটানোই এটার মূল লক্ষ্য, তাই সংবিধান সভার আরও সিদ্ধান্ত: ক) ভূমিতে ব্যক্তিগত মালিকানা এতদ্দারা লোপ হলো। সমস্ত ঘরবাড়ি,Read More


হুমায়ূন আহমেদঃ লুটপাটের অর্থনীতির লাঠিয়াল

১৯৭১ পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের পাঁচ প্রতিক্রিয়াশীল জনপ্রিয় লেখকের একজন হুমায়ূন আহমেদ (১৯৪৮-২০১২)। হিমু, মিসির আলীর মতো দায়িত্ব ও কাণ্ডজ্ঞানহীন চরিত্র সৃষ্টি করে তিনি লক্ষ লক্ষ তারুণ্যকে পথভ্রষ্ট করেছিলেন। বাংলাদেশের এক বিশাল সংখ্যার তারুণ্যকে অরাজনৈতিক, দায়িত্বহীন, কাণ্ডজ্ঞানহীন, অবৈজ্ঞানিক, যৌনতাগ্রস্ত, হতাশাগ্রস্ত, অবসাদগ্রস্ত, উন্নাসিক, আত্মভোলা, নিস্ক্রিয়, ব্যধিগ্রস্ত, কর্মবিমুখ ও প্রতিক্রিয়াশীল করতে হুমায়ুন আহমেদের সৃষ্ট চরিত্রগুলো গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে গত চার দশকে। এর মাঝেও দুটি উপন্যাস ও দু’একটি নাটকের জন্য তিনি কিছু মানুষের শ্রদ্ধা ও ব্যবসায়িক মুনাফার জন্য প্রকাশকদের সম্মান পাবেন আরো বেশ কিছু দিন। যে মানুষ মানুষ গড়ার পেশা শিক্ষকতা ছেড়ে প্রকাশক আরRead More


কবিতা জানাতে চায়

কবিতা নিরবে পাড়ি দেয় এক যুগ থেকে অন্য যুগে, সে ছবি আঁকে, সিন্দুকে বন্দি থাকা ইতিহাসের কষ্ট নিয়ে, সে প্রশ্ন করে, প্রতিবাদ জানায় সময়ের দাবি তুলে ধরে।   একটি কবিতা জানাতে চায় কৃষকের ন্যায্য পাওনার ভাষা, সভ্যতা গড়ে যে শ্রমিক তার কতটুকু মজুরি? উত্তপ্ত পথকে জুতা আর প্রখর তাপকে ছাতা বানায় যে বৃদ্ধ হকার;— পুঁজির বোঝা ঠেলে ঠেলে প্রশ্ন ওঠে, তাঁদের পাওনার শোধ কতোটা এগোলো?   পথের ফুল জানতে চায় পুঁজির লালসা কেন এতো বেশি কেন শ্রমিকের শত্রু আর কবিতার শত্রুরা এক হয়ে যায়, তাই তরুণ চোখে আগুন জ্বেলে কবিতাRead More


কার্ল মার্কসের পুঁজি গ্রন্থ প্রসঙ্গে একটি আলোচনা

পুঁজি বা ডাস কাপিটাল (জার্মান Das Kapital; ইংরেজি Capital; বাংলা পুঁজি) কার্ল মার্কসের লেখা পুঁজিবাদের সমালোচনামূলক একটি বই। এই বই সমাজ প্রগতি সম্বন্ধে তৎকালীন প্রচলিত অভিমতে বিপ্লব ঘটিয়েছিল এবং অর্থনীতিকে এক বিজ্ঞানসম্মত ভিত্তির উপরে স্থাপন করেছিল। পুঁজিবাদের অর্থনৈতিক সম্পর্কগুলো, তার দুই বিপরীত প্রধান শ্রেণি প্রলেতারিয়েত ও বুর্জোয়ার অভ্যন্তরীণ বৈরিতা, পুঁজিপতিদের স্বার্থ সুরক্ষাকারী বুর্জোয়া রাজনৈতিক উপরিকাঠামো, মুক্তি ও সমতা সম্পর্কিত বুর্জোয়া ধ্যানধারণা এবং বুর্জোয়া পরিবার ও দৈনন্দিন অন্যান্য দিক সমেত এক জীবন্ত সামাজিক অর্থনৈতিক গঠনরূপ হিসেবে পুঁজিবাদ সম্বন্ধীয় এক সামগ্রিক অনুসন্ধান চালান কার্ল মার্কস তাঁর এই সত্যিকারের বিশ্বকোষসুলভ মহাগ্রন্থে।[১] ‘পুঁজি’ বইখানিরRead More


পুঁজির উদ্ভব গ্রন্থের সূচিপত্র

পুঁজির উদ্ভব — কার্ল মার্কস* ১. আদি সঞ্চয়ের রহস্য ২. ভূমি থেকে কৃষিজীবী জনগণের উচ্ছেদ ৩. পনের শতকের শেষ থেকে উৎখাতদের বিরদ্ধে রক্তাক্ত বিধান। পার্লামেণ্টের আইনে মজুরির অবনমন ৪. পুঁজিবাদী খামারীর উদ্ভব ৫. শিল্পের ওপর কৃষি বিপ্লবের প্রতিক্রিয়া। শিল্প পুঁজির জন্য ঘরোয়া বাজার সৃষ্টি ৬. শিল্প পুঁজিপতির উদ্ভব ৭. পুঁজিবাদী সঞ্চয়ের ঐতিহাসিক প্রবণতা ৮. উপনিবেশনের আধুনিক তত্ত্ব *  পুঁজির উদ্ভব হচ্ছে কার্ল মার্কস লিখিত পুঁজি গ্রন্থের প্রথম খণ্ডের অষ্টম অংশ। এখানে রোদ্দুরে ডট কমে এই অষ্টম অংশের ২৬-৩৩ অধ্যায় প্রকাশ করা হচ্ছে।   পুঁজির আদি সঞ্চয় প্রক্রিয়ার সংক্ষেপিত রূপ পাঠকRead More


কমিউনিস্ট পার্টির ইশতেহার, রক্ষণশীল অথবা বুর্জোয়া সমাজতন্ত্র

— কার্ল মার্কস ও ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস ৩ সমাজতন্ত্রী ও কমিউনিস্ট সাহিত্য ২. রক্ষণশীল অথবা বুর্জেয়া সমাজতন্ত্র বুর্জোয়া সমাজের অস্তিত্বটা ক্রমাগত বজায় রাখার উদ্দেশ্যেই বুর্জোয়া শ্রেণির একাংশ সামাজিক অভাব-অভিযোগের প্রতিকার চায় । এই অংশের মধ্যে পড়ে অর্থনীতিবিদেরা, লোকহিত ব্ৰতীরা, মানবতাবাদীরা, শ্রমিক শ্রেণীর অবস্থার উন্নয়নকারীরা, দুঃস্থ-ত্ৰাণ সংগঠকেরা, পশুক্লেশ নিবারণী সভার সদস্যরা, মাদকতা নিবারণের গোঁড়া প্রচারকেরা, সম্ভবপর সবরকম ধরনের খুচরো সংস্কারকরা। সমাজতন্ত্রের এই রূপটি পরিপূর্ণ মতধারা হিসাবেও সংরচিত হয়ে উঠেছে। এই রূপটার নিদর্শন হিসাবে আমরা প্রুঁধোর ‘দারিদ্র্যের দর্শন’-এর উল্লেখ করতে পারি। সমাজতান্ত্ৰিক বুর্জোয়ারা আধুনিক সামাজিক অবস্থার সুবিধাটা পুরোপুরি চায়, চায় না তৎপ্রসূত অবশ্যম্ভাবীRead More


কমিউনিস্ট পার্টির ইশতেহার, প্রলেতারিয়েত ও কমিউনিস্টগণ

— কার্ল মার্কস ও ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস দ্বিতীয় অংশ প্রথম অংশ পড়ুন এই লিংক থেকে পরিবারের উচ্ছেদ! উগ্র চরমপন্থীরা পর্যন্ত কমিউনিস্টদের এই গৰ্হিত প্ৰস্তাবে ক্ষেপে ওঠে। আধুনিক পরিবার অর্থাৎ বুর্জোয়া পরিবারের প্রতিষ্ঠা কোন ভিত্তির উপর? সে ভিত্তি হলো পুঁজি, ব্যক্তিগত লাভ। এই পরিবারের পূর্ণ বিকশিত রূপটি শুধু বুর্জোয়া শ্রেণির মধ্যেই আবদ্ধ। কিন্তু এই অবস্থারই অনুপূরণ দেখা যাবে প্রলেতারীয়দের পক্ষে পরিবারের কার্যত অনুপস্থিতিতে এবং প্রকাশ্য পতিতাবৃত্তির ভিতর। অনুপূরক এই অবস্থার অবসানের সঙ্গে সঙ্গে বুর্জোয়া পরিবারের লোপও অবশ্যম্ভাবী, পুঁজির উচ্ছেদের সঙ্গেই আসবে উভয়ের অন্তর্ধান। আমাদের বিরুদ্ধে কি এই অভিযোগ যে সন্তানের উপর পিতামাতারRead More


কার্ল মার্কসের জীবন — ভি আই লেনিন

নতুন পঞ্জিকা অনুসারে কার্ল মার্কসের জন্ম হয় ১৮১৮ সালে ৫ মে ত্রিয়ের শহরে (প্রুশিয়ার রাইন অঞ্চলে)। তার পিতা ছিলেন আইনজীবী, ধর্মে ইহুদি, ১৮২৪ সালে তিনি প্রটেস্টান্ট ধর্ম গ্রহণ করেন। পরিবারটি ছিল সচ্ছল ও সংস্কৃতিবান, কিন্তু বিপ্লবী নয়। ত্রিয়েরের স্কুল থেকে পাশ করে মার্কস প্রথমে বন এবং পরে বার্লিন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন ও আইনশাস্ত্র পড়েন, কিন্তু বিশেষ ভাবে অধ্যায়ন করেন ইতিহান ও দর্শন। এপিকিউরাসের দর্শন সম্পর্কে বিশ্ববিদ্যালয় থিসিস পেশ করে ১৮৪১ সালে তিনি পাঠ সাঙ্গ করেন। দৃষ্টিভঙ্গির দিক থেকে মার্কস তখনও ছিলেন হেগেলপন্থী ভাববাদী।বার্লিনে তিনি ‘বামপন্থী হেগেলবাদী’ (ব্রুনো বাউয়ের প্রমুখ) গোষ্ঠীরRead More


আদি সঞ্চয়ের রহস্য — কার্ল মার্কস

আমরা দেখেছি টাকা পরিবর্তিত হয় পুঁজিতে; পুঁজি মারফত উদ্বৃত্ত মূল্য গড়ে ওঠে, এবং উদ্বৃত্ত মূল্য থেকে আসে আরো পুঁজি। কিন্তু পুঁজি সঞ্চয় মানে আগে ধরে নিতে হয় উদ্বৃত্ত মূল্য, উদ্বৃত্ত মূল্যের ক্ষেত্রে আগে পুঁজিবাদী উৎপাদন, পুঁজিবাদী উৎপাদনের ক্ষেত্রে আবার আগে পণ্য উৎপাদন-কর্তাদের হাতে যথেস্ট পরিমাণ পুঁজি ও শ্রমশক্তির অস্তিত্ব ধরে নিতে হয়। সমস্ত গতিধারাটা তাই একটা দুষ্টচক্রে আবর্তিত হচ্ছে বলে মনে হয়, তা থেকে আমরা বেরিয়ে আসতে পারি কেবল পুঁজিবাদী সঞ্চয়ের আগে একটা ‘আদি’ সঞ্চয়ের (অ্যাডাম স্মিথের “পূর্ব সঞ্চয়”) কথা ধরে নিলে, এমন সঞ্চয় যা পুঁজিবাদী উৎপাদন পদ্ধতির ফল নয়,Read More