Main Menu

শ্রেণিসংগ্রাম

 
 

শ্রমিক ও যন্ত্রের বিরোধ এবং লুডবাদী আন্দোলন

ইউরোপের শিল্প বিপ্লবের ফলে একদিকে পুরোনো হস্তশিল্প ও কুটিরশিল্প ধ্বংসপ্রাপ্ত হয় আর অন্যদিকে শহরে শহরে যন্ত্রভিত্তিক শিল্পকারখানা প্রতিষ্ঠিত হয়।  শিল্প বিপ্লবের শুরুর দিকে পুঁজিবাদের নানা ক্ষতিকর অনুষঙ্গের আবির্ভাবের কারণে নতুনতর যন্ত্রপাতির নিয়োগ, অবাধ প্রতিযোগিতা, অতি উৎপাদন, মন্দা, ছাঁটাই ইত্যাদি ঘটতে থাকে এবং কর্মহীন বেকার মানুষ বাড়তে থাকে। সচেতন, রাজনৈতিক জ্ঞানসমৃদ্ধ শ্রমিকশ্রেণি পরিচালিত শ্রেণিসংগ্রাম সংগঠিত হবার পূর্বে এসব বেকার ও কর্মচ্যুত মানুষের মধ্যে এরূপ মনোভাবের উদয় হয়েছিল যে তারা বুঝেছিল তাদের এই দুরবস্থার জন্য যন্ত্র এবং কারখানাই দোষী। অষ্টাদশ শতকে একদল শ্রমিক এরূপ চিন্তা থেকে কারখানার যন্ত্রপাতি ধ্বংস করার নীতি গ্রহণRead More


আশ্চর্য ভবিষ্যতবাণী —ভি আই লেনিন

ঈশ্বরের কৃপায় আজকাল আর কেউ দৈবরহস্যে বিশ্বাসী নয়। বিস্ময়কর দৈববাণী এখন রপকথার গল্প। কিন্তু বৈজ্ঞানিক ভবিষ্যদ্বাণী সত্য বটে। আর আজকাল যখন প্রায়ই লজ্জাকর হতাশা এবং এমন কি নৈরাশ্যও দেখা যায় তখন এমন একটি বৈজ্ঞানিক ভবিষ্যদ্বাণী স্মরণ করা যাক যা সত্য প্রমাণিত হয়েছে। ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস ১৮৮৭ সালে সিগিজমুন্ডে বর্কখেইম লিখিত ‘১৮০৬-১৮০৭ সালের জামার্ন শ্রেষ্ঠ দেশপ্রেমিকদের স্মরণে’ (‘Zur Erinnerung für die deutschen Mordspatrioten 1806-1807″) পুস্তিকার মুখবন্ধে  আসন্ন যুদ্ধ সম্পর্কে লিখেছিলেন। (এটা হল ১৮৮৮ সালে হটিঙ্গেন-জুরিখ থেকে ‘সোশ্যাল-ডেমোক্র্যাটিক লাইব্রেরি’ প্রকাশিত পুন্তিকা নং XXIV.) ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস ত্রিশ বছরের বেশি সময় আগে এভাবেই ভাবী বিশ্বযুদ্ধRead More


হেমাঙ্গ বিশ্বাস বাংলা গণসংগীতের জননন্দিত মহাযোদ্ধা

হেমাঙ্গ বিশ্বাসের জন্ম ১৯১২ সালের ১৪ ডিসেম্বর; বাংলা তারিখ ২৭ অগ্রহায়ণ ১৩১৯। জন্মস্থান তৎকালীন শ্রীহট্ট বা সিলেট জেলার হবিগঞ্জ মহকুমার চুনারুঘাট উপজেলার মিরাসি গ্রামে। সে হিসেবে তিনি ছিলেন বাংলাদেশের সিলেটের মিরাশির বাসিন্দা। তাঁর পিতার নাম হ রকুমার বিশ্বাস ও মা সরোজিনী দেবি। তাঁর মৃত্যূ তারিখ ২২ নভেম্বর ১৯৮৭। তিনি একজন বাঙালি সঙ্গীতশিল্পী, কবি, লেখক এবং সুরকার। মূলত লোকসঙ্গীতকে ভিত্তি করে গণসঙ্গীত সৃষ্টির ক্ষেত্রে তাঁর অবদান বাঙালির ইতিহাসে অবিস্মরণীয়। তিনি প্রথমে হবিগঞ্জ হাইস্কুল থেকে পাশ করার পর তিনি শ্রীহট্ট মুরারিচাঁদ কলেজে ভর্তি হন। সেখানে তিনি স্বাধীনতা আন্দোলনে জড়িয়ে পড়েন। তিনি ১৯৩২Read More


শ্রেণি ও শ্রেণিসংগ্রাম — মাও সেতুং

সভাপতি মাও সেতুং-এর উদ্ধৃতি ২. শ্রেণি ও শ্রেণিসংগ্রাম *** শ্রেণি সংগ্রাম – কতকগুলো শ্রেণি জয়লাভ করে, আর কতকগুলো বা ধ্বংস হয়। এটাই ইতিহাস, এটাই হাজার হাজার বছরের সভ্যতার ইতিহাস। এই দৃষ্টিকোণ থেকে ইতিহাসকে ব্যাখ্যা করা হচ্ছে ঐতিহাসিক বস্তুবাদ, এই দৃষ্টিকোণের বিপক্ষে দাঁড়ানোই হচ্ছে ঐতিহাসিক ভাববাদ। “ভ্রম ত্যাগ করো, সংগ্রামের জন্য প্রস্তুত হও” (১৪ আগস্ট, ১৯৪৯) *** শ্রেণি সমাজে, প্রত্যেকেই একটা নির্দিষ্ট শ্রেণির সদস্য হিসেবে বাস করে, তাই ব্যতিক্রমহীনভাবে প্রত্যেক প্রকারের চিন্তাধারার উপর শ্রেণির ছাপ থাকে। অনুশীলন সম্পর্কে (জুলাই ১৯৩৭) *** সমাজের পরিবর্তনের কারণ হচ্ছে প্রধানত সমাজের ভেতরকার দ্বন্দ্বের বিকাশ, অর্থাৎRead More


রাজনৈতিক দল কী ও কেন

কোনো শ্রেণি বা তার স্তরের সর্বাপেক্ষা সক্রিয় ও সংগঠিত অংশ হচ্ছে দল বা পার্টি বা রাজনৈতিক দল (ইংরেজিতে Political Party)। রাজনৈতিক দলগুলোর অস্তিত্ব জড়িত সমাজের শ্রেণিবিভক্তি ও এইসব শ্রেণির বহুবিভাগের সংগে, শ্রেণিসমূহের এবং তার অঙ্গদলগুলোর স্বার্থের পার্থক্যের সংগে। রাজনৈতিক দল হলো গুরুত্বপূর্ণ সেই হাতিয়ার যার সাহায্যে শ্রেণি তার স্বার্থের জন্য, ক্ষমতার জন্য সংগ্রাম করে। আধুনিক সমাজের শ্রেণিকাঠামো ভেদে পার্টিও বিভিন্ন ধরনের হতে পারে_বুর্জোয়া, প্রলেতারিয় বা শ্রমিক শ্রেণির, সামন্তবাদি, কৃষক, ক্ষুদে-বুর্জোয়া ও অন্যান্য। অরাজনৈতিক সামাজিক সংগঠনের সাথে রাজনৈতিক দলের পার্থক্য এখানেই যে, তা নির্দিষ্ট লক্ষ্যে পরিচালিত হয় এবং ক্ষমতা দখলের প্রচেষ্টায়Read More


সমাজতন্ত্র প্রলেতারিয়েতের মুক্তির পদ্ধতি সংক্রান্ত মতবাদ

সমাজতন্ত্র বা সমাজবাদ (ইংরেজি: Socialism) হচ্ছে এমন একটি সামাজিক এবং অর্থনৈতিক ব্যবস্থা যার বৈশিষ্ট্য হচ্ছে উৎপাদনের উপকরণের সামাজিক মালিকানা এবং অর্থনীতির একটি সমবায়ভিত্তিক ব্যবস্থাপনা। এছাড়াও একই সাথে এটি একটি রাজনৈতিক মতবাদ ও আন্দোলন যার লক্ষ্য হচ্ছে এই ধরনের সমাজব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা। অর্থাৎ এটি এমন একটি সামাজিক ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থা যেখানে সম্পদ ও অর্থের মালিকানা সামাজিক বা রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণাধীন অর্থাৎ এতে কোনো ব্যক্তিমালিকানা থাকে না। সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থায় জনসাধারণের প্রয়োজন অনুসারে দ্রব্য উৎপাদন হয়। সমাজতান্ত্রিক অর্থনীতিতে একটি দেশের কলকারখানা, খনি, জমি ইত্যাদি সামাজিক, সর্বজনীন বা রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি হিসেবে পরিগণিত হয়। সর্বজনীন ভূমি,Read More


সমাজতন্ত্রের ব্যুৎপত্তিগত অর্থ ও ধারনার উদ্ভব,

সমাজতন্ত্রের ইংরেজি ‘socialism’ শব্দটি ল্যাটিন শব্দ sociare থেকে এসেছে। ল্যাটিন শব্দটির অর্থ সংযুক্ত করা বা অংশীদার করা। এই সম্পর্কিত, রোমান ভাষায় এবং পরবর্তীতে মধ্যযুগের আইনে আরো কুশলী শব্দ হল societas. পরের societas শব্দটি দ্বারা বোঝাতো সাহচর্য এবং সংঘ বা সহযোগিতা। এছাড়াও শব্দটি দ্বারা আরো আইনানুগ ধারণায় বোঝাতো মুক্তমানুষের মধ্যে সম্মতিসূচক চুক্তি।[১] সেইন্ট সাইমন ছিলেন একজন কল্পলৌকিক সমাজতন্ত্রী যিনি সমাজতন্ত্র শব্দটি তৈরি করেন। ফরাসি বিপ্লবোত্তরকালে ব্যক্তিবাদের উদার তত্ত্বের বৈসাদৃশ্য বোঝাতে সমাজতন্ত্র শব্দটি তৈরি করা হয়। ব্যক্তিবাদ মূলত জোর দেয় যে জনগণকে একজন আরেকজনের থেকে বিচ্ছিন্ন থেকে ক্রিয়া করতে হয় বা ক্রিয়াRead More


ইয়োসেফ ব্লক সমীপে এঙ্গেলস

লন্ডন ২১-২২ সেপ্টেম্বর ১৮৯০[১] … ইতিহাসের বস্তুবাদী ধারণা অনুসারে বাস্তব জীবনের উৎপাদন ও পুনরুৎপাদনই হচ্ছে ইতিহাসে শেষ পর্যন্ত নির্ধারক বস্তু। এর বেশি কিছু মার্কস বা আমি কখনো বলিনি। অতএব, কেউ যদি তাকে বিকৃত করে এই দাঁড় করায় যে, অর্থনৈতিক ব্যাপারই হচ্ছে একমাত্র নির্ধারক বস্তু, তাহলে সে প্রতিপাদ্যটিকে একটি অর্থহীন, অমূর্ত, নির্বোধ উক্তিতে পরিণত করে। অর্থনৈতিক পরিস্থিতি হলো ভিত্তি, কিন্তু উপরিকাঠামোর বিভিন্ন বস্তু যেমন, শ্রেণিসংগ্রামের রাজনৈতিক রূপগুলি এবং তার ফলাফল: সাফল্যমণ্ডিত সংগ্রামের পর বিজয়ী শ্রেণি কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত সংবিধান ইত্যাদি, বিচার ব্যবস্থা, এমনকি যোগদানকারীদের মস্তিষ্কে এই সমস্ত বাস্তব সংগ্রামের প্রতিফলন, রাজনৈতিক, আইনগত,Read More


লেনিনবাদের ভিত্তি পুস্তকের ভূমিকা — জে ভি স্তালিন

লেনিন স্মরণে প্রবিষ্ট ছাত্রদের প্রতি উৎসর্গিত  বিষয়বস্তু হিসেবে লেনিনবাদের ভিত্তি খুবই ব্যাপক। এ সম্বন্ধে পুরোপুরি আলোচনা করতে গেলে সম্পূর্ণ একটা বই লেগে যাবে। সত্যি কথা বলতে কি, অনেকগুলি বইই দরকার হবে। সুতরাং স্বভাবতই, আমার বক্তৃতার মধ্যে লেনিনবাদের সম্পূর্ণ আলোচনা থাকবে এমন আশা করা যায় না। বড়ো জোর, এতে লেনিনবাদের ভিত্তি সম্বন্ধে একটা মোটামুটি চুম্বক অংশ দেওয়া চলতে পারে। লেনিনবাদ সম্বন্ধে সাফল্যের সঙ্গে আলোচনা করতে গেলে যে মূল বিষয়গুলো সম্পর্কে নতুন দৃষ্টিভঙ্গির দরকার তা লিপিবদ্ধ করার জন্য_ এই সংক্ষিপ্ত চুম্বক অংশ দেওয়া প্রয়োজন বলে আমি মনে করি। লেনিনবাদের ভিত্তি ব্যাখ্যা করারRead More


শ্রেণিসংগ্রাম — জে. ভি. স্তালিন

‘শ্রমিক শ্রেণির ঐক্যই কেবল পারে ধনিক শ্রেণির ঐক্যকে টলিয়ে দিতে’ — কার্ল মার্কস আজকের সমাজ অত্যন্ত জটিল! এ’হলো রং- বেরংয়ের শ্রেণি ও গোষ্ঠীগুলির জোড়াতালি — বৃহৎ মাঝারি ও পেটি বুর্জোয়া; বৃহৎ মাঝারি ও পেটি বুর্জোয়া সামন্ততান্ত্রিক জমিদার; দিনমজুর, অদক্ষ শ্রমিক ও দক্ষ কারখানা-শ্রমিক; উচ্চতম, মাঝারি ও নিম্নতম যাজকমন্ডলী; উচ্চতন, মাঝারি ও ক্ষুদে আমলাতন্ত্র; নানামতের বুদ্ধিজীবী সম্প্রদায় এবং অনুরূপ নানা রকমের অন্যান্য গোষ্ঠী। আমাদের সমাজের এই হলো বহুবর্ণ ছবি! কিন্তু এটাও স্পষ্ট যে সমাজ যত বেশি বিকশিত হতে থাকে, ততই অধিকতর স্পষ্টভাবে দুটি প্রধান প্রবণতা এই জটিলতার মধ্যেও ফুটে ওঠে এবংRead More