Main Menu

শ্রেণি

 
 

চীনা সমাজের শ্রেণি বিশ্লেষণ — মাও সেতুং

মার্চ ১৯২৬ কমরেড মাও সে তুং এই প্রবন্ধটি লিখেছিলেন ১৯২৬ সালের মার্চ মাসে। সে সময়ে পার্টির ভেতরে যে দু’ধরনের বিচ্যুতি ছিলো, তার বিরোধিতা করার জন্যই তিনি এই প্রবন্ধটি লিখেছিলেন। তৎকালে পার্টির ভেতরকার প্রথম বিচ্যুতির প্রবক্তা ছিল ছেন তুসিউ। এরা কেবলমাত্র কুওমিনতাঙের সঙ্গে সহযোগিতা করতেই মনোযোগ দিয়েছিল এবং কৃষকদেরকে ভুলে গিয়েছিল—এটা ছিল দক্ষিণপন্থী সুবিধাবাদ। দ্বিতীয় বিচ্যুতির প্রবক্তা ছিল চাং কুও-থাও। এরা কেবলমাত্র শ্রমিক-আন্দোলনের উপরই মনোযোগ দিয়েছিল এবং তারাও ভুলে গিয়েছিল কৃষকদেরকে—এটা ছিল ‘বামপন্থী’ সুবিধাবাদ। বিপ্লবের শক্তির অপর্যাপ্ততা সম্বন্ধে উভয় সুবিধাবাদী বিচ্যুতির সমর্থকরাই সচেতন ছিলো। কিন্তু উভয়ের কেউই জানত না যে, কোথায়Read More


আশ্চর্য ভবিষ্যতবাণী —ভি আই লেনিন

ঈশ্বরের কৃপায় আজকাল আর কেউ দৈবরহস্যে বিশ্বাসী নয়। বিস্ময়কর দৈববাণী এখন রপকথার গল্প। কিন্তু বৈজ্ঞানিক ভবিষ্যদ্বাণী সত্য বটে। আর আজকাল যখন প্রায়ই লজ্জাকর হতাশা এবং এমন কি নৈরাশ্যও দেখা যায় তখন এমন একটি বৈজ্ঞানিক ভবিষ্যদ্বাণী স্মরণ করা যাক যা সত্য প্রমাণিত হয়েছে। ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস ১৮৮৭ সালে সিগিজমুন্ডে বর্কখেইম লিখিত ‘১৮০৬-১৮০৭ সালের জামার্ন শ্রেষ্ঠ দেশপ্রেমিকদের স্মরণে’ (‘Zur Erinnerung für die deutschen Mordspatrioten 1806-1807″) পুস্তিকার মুখবন্ধে  আসন্ন যুদ্ধ সম্পর্কে লিখেছিলেন। (এটা হল ১৮৮৮ সালে হটিঙ্গেন-জুরিখ থেকে ‘সোশ্যাল-ডেমোক্র্যাটিক লাইব্রেরি’ প্রকাশিত পুন্তিকা নং XXIV.) ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস ত্রিশ বছরের বেশি সময় আগে এভাবেই ভাবী বিশ্বযুদ্ধRead More


শ্রেণি ও শ্রেণিসংগ্রাম — মাও সেতুং

সভাপতি মাও সেতুং-এর উদ্ধৃতি ২. শ্রেণি ও শ্রেণিসংগ্রাম *** শ্রেণি সংগ্রাম – কতকগুলো শ্রেণি জয়লাভ করে, আর কতকগুলো বা ধ্বংস হয়। এটাই ইতিহাস, এটাই হাজার হাজার বছরের সভ্যতার ইতিহাস। এই দৃষ্টিকোণ থেকে ইতিহাসকে ব্যাখ্যা করা হচ্ছে ঐতিহাসিক বস্তুবাদ, এই দৃষ্টিকোণের বিপক্ষে দাঁড়ানোই হচ্ছে ঐতিহাসিক ভাববাদ। “ভ্রম ত্যাগ করো, সংগ্রামের জন্য প্রস্তুত হও” (১৪ আগস্ট, ১৯৪৯) *** শ্রেণি সমাজে, প্রত্যেকেই একটা নির্দিষ্ট শ্রেণির সদস্য হিসেবে বাস করে, তাই ব্যতিক্রমহীনভাবে প্রত্যেক প্রকারের চিন্তাধারার উপর শ্রেণির ছাপ থাকে। অনুশীলন সম্পর্কে (জুলাই ১৯৩৭) *** সমাজের পরিবর্তনের কারণ হচ্ছে প্রধানত সমাজের ভেতরকার দ্বন্দ্বের বিকাশ, অর্থাৎRead More


রাজনৈতিক দল কী ও কেন

কোনো শ্রেণি বা তার স্তরের সর্বাপেক্ষা সক্রিয় ও সংগঠিত অংশ হচ্ছে দল বা পার্টি বা রাজনৈতিক দল (ইংরেজিতে Political Party)। রাজনৈতিক দলগুলোর অস্তিত্ব জড়িত সমাজের শ্রেণিবিভক্তি ও এইসব শ্রেণির বহুবিভাগের সংগে, শ্রেণিসমূহের এবং তার অঙ্গদলগুলোর স্বার্থের পার্থক্যের সংগে। রাজনৈতিক দল হলো গুরুত্বপূর্ণ সেই হাতিয়ার যার সাহায্যে শ্রেণি তার স্বার্থের জন্য, ক্ষমতার জন্য সংগ্রাম করে। আধুনিক সমাজের শ্রেণিকাঠামো ভেদে পার্টিও বিভিন্ন ধরনের হতে পারে_বুর্জোয়া, প্রলেতারিয় বা শ্রমিক শ্রেণির, সামন্তবাদি, কৃষক, ক্ষুদে-বুর্জোয়া ও অন্যান্য। অরাজনৈতিক সামাজিক সংগঠনের সাথে রাজনৈতিক দলের পার্থক্য এখানেই যে, তা নির্দিষ্ট লক্ষ্যে পরিচালিত হয় এবং ক্ষমতা দখলের প্রচেষ্টায়Read More


সমাজতন্ত্র প্রলেতারিয়েতের মুক্তির পদ্ধতি সংক্রান্ত মতবাদ

সমাজতন্ত্র বা সমাজবাদ (ইংরেজি: Socialism) হচ্ছে এমন একটি সামাজিক এবং অর্থনৈতিক ব্যবস্থা যার বৈশিষ্ট্য হচ্ছে উৎপাদনের উপকরণের সামাজিক মালিকানা এবং অর্থনীতির একটি সমবায়ভিত্তিক ব্যবস্থাপনা। এছাড়াও একই সাথে এটি একটি রাজনৈতিক মতবাদ ও আন্দোলন যার লক্ষ্য হচ্ছে এই ধরনের সমাজব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা। অর্থাৎ এটি এমন একটি সামাজিক ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থা যেখানে সম্পদ ও অর্থের মালিকানা সামাজিক বা রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণাধীন অর্থাৎ এতে কোনো ব্যক্তিমালিকানা থাকে না। সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থায় জনসাধারণের প্রয়োজন অনুসারে দ্রব্য উৎপাদন হয়। সমাজতান্ত্রিক অর্থনীতিতে একটি দেশের কলকারখানা, খনি, জমি ইত্যাদি সামাজিক, সর্বজনীন বা রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি হিসেবে পরিগণিত হয়। সর্বজনীন ভূমি,Read More


সমাজতন্ত্রের ব্যুৎপত্তিগত অর্থ ও ধারনার উদ্ভব,

সমাজতন্ত্রের ইংরেজি ‘socialism’ শব্দটি ল্যাটিন শব্দ sociare থেকে এসেছে। ল্যাটিন শব্দটির অর্থ সংযুক্ত করা বা অংশীদার করা। এই সম্পর্কিত, রোমান ভাষায় এবং পরবর্তীতে মধ্যযুগের আইনে আরো কুশলী শব্দ হল societas. পরের societas শব্দটি দ্বারা বোঝাতো সাহচর্য এবং সংঘ বা সহযোগিতা। এছাড়াও শব্দটি দ্বারা আরো আইনানুগ ধারণায় বোঝাতো মুক্তমানুষের মধ্যে সম্মতিসূচক চুক্তি।[১] সেইন্ট সাইমন ছিলেন একজন কল্পলৌকিক সমাজতন্ত্রী যিনি সমাজতন্ত্র শব্দটি তৈরি করেন। ফরাসি বিপ্লবোত্তরকালে ব্যক্তিবাদের উদার তত্ত্বের বৈসাদৃশ্য বোঝাতে সমাজতন্ত্র শব্দটি তৈরি করা হয়। ব্যক্তিবাদ মূলত জোর দেয় যে জনগণকে একজন আরেকজনের থেকে বিচ্ছিন্ন থেকে ক্রিয়া করতে হয় বা ক্রিয়াRead More


শ্রেণিসংগ্রাম — জে. ভি. স্তালিন

‘শ্রমিক শ্রেণির ঐক্যই কেবল পারে ধনিক শ্রেণির ঐক্যকে টলিয়ে দিতে’ — কার্ল মার্কস আজকের সমাজ অত্যন্ত জটিল! এ’হলো রং- বেরংয়ের শ্রেণি ও গোষ্ঠীগুলির জোড়াতালি — বৃহৎ মাঝারি ও পেটি বুর্জোয়া; বৃহৎ মাঝারি ও পেটি বুর্জোয়া সামন্ততান্ত্রিক জমিদার; দিনমজুর, অদক্ষ শ্রমিক ও দক্ষ কারখানা-শ্রমিক; উচ্চতম, মাঝারি ও নিম্নতম যাজকমন্ডলী; উচ্চতন, মাঝারি ও ক্ষুদে আমলাতন্ত্র; নানামতের বুদ্ধিজীবী সম্প্রদায় এবং অনুরূপ নানা রকমের অন্যান্য গোষ্ঠী। আমাদের সমাজের এই হলো বহুবর্ণ ছবি! কিন্তু এটাও স্পষ্ট যে সমাজ যত বেশি বিকশিত হতে থাকে, ততই অধিকতর স্পষ্টভাবে দুটি প্রধান প্রবণতা এই জটিলতার মধ্যেও ফুটে ওঠে এবংRead More


বৈরি সমাজ বিকাশের চালিকাশক্তি শ্রেণিসংগ্রামের স্বরূপ

শ্রেণিসংগ্রাম (Class struggle) হচ্ছে শ্রেণি বিভক্ত সমাজে পরস্পরবিরোধী স্বার্থসংশ্লিষ্ট মুখ্য দুটি শ্রেণির মধ্যে প্রকট আকারের দ্বন্দ্ব-সংঘাত বা সংঘর্ষ যা বৈরি উৎপাদন সম্পর্কের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। শ্রেণি বিভক্ত সমাজব্যবস্থা শুরুর পরে দাসপ্রথা থেকে শুরু করে যত সমাজ দেখা দিয়েছে তাদের ইতিহাস হলো শ্রেণিগুলোর মধ্যে সংগ্রাম, শোষিত ও শোষক, নিপীড়িত ও নিপীড়ক শ্রেণিগুলোর মধ্যে সংগ্রামের ইতিহাস। এটি হচ্ছে বিপরীত স্বার্থের বহনকারী সামাজিক শ্রেণিগুলোর মধ্যেকার লড়াই। যেসব সামাজিক শ্রেণির স্বার্থ আপোষহীনরূপে বিপরীত সেইসব শ্রেণির মধ্যে পারস্পরিক সংগ্রামকে বলা হয় শ্রেণিসংগ্রাম। অর্থাৎ সুবিধাভোগী, অত্যাচারী, পরজীবীদের বিরুদ্ধে অধিকারহীন, অত্যাচারিত ও মেহনতিদের ব্যাপক জনগণের সংগ্রামই হচ্ছে শ্রেণিসংগ্রাম।Read More


সমাজতান্ত্রিক সমাজের শ্রেণি কাঠামোর প্রকৃতি

সমাজতান্ত্রিক সমাজে দুই প্রধান শ্রেণি হলও শ্রমিক শ্রেণি ও সমবায়ী কৃষক। পুঁজিবাদী সমাজে যে প্রলেতারিয়েত উৎপাদনের উপায় থেকে বঞ্চিত এবং পুঁজিবাদীদের নিকট নিজেদের শ্রমশক্তি বিক্রয়ে বাধ্য সেই প্রলেতারিয়েত সমাজতান্ত্রিক সমাজে নেই। বরং সমাজতন্ত্রে শ্রমিক শ্রেণি সমগ্র জনগণের সংগে উৎপাদনী উপায়ের মালিক এবং শোষণ থেকে মুক্ত। প্রলেতারিয়েতের এজনায়কত্ব কায়েম এবং উত্তরণ পর্ব শুরু হবার পর থেকে শ্রমিক শ্রেণির আপেক্ষিক গুরুত্ব ক্রমাগত বাড়তে থাকে। বদলে যায় তাদের গুণগত গঠন, সংস্কৃতি ও শিক্ষার মান। সমাজতন্ত্রে বৈরি শ্রেণি নেই, কেননা কলকারখানা, ভূমি, সবই সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্রের সম্পত্তি। সমাজতন্ত্রে শ্রেণিশোষণ বিলুপ্ত হয়। শুরু হয় সমাজতান্ত্রিক অর্থনীতি।Read More


সাম্যবাদ মানুষের সর্বাঙ্গীণ বিকাশের সর্বোচ্চ সামাজিক স্তর

মার্কস ও এঙ্গেলস সমাজতন্ত্র ও সাম্যবাদের স্পষ্ট পার্থক্যরেখা আঁকেননি, এমনকি তাঁরা সমাজতন্ত্র ও সাম্যবাদের জন্য কোনো রকমের কল্পনারও আশ্রয় নেননি। তাঁরা সমাজতন্ত্রকে বহুক্ষেত্রে সাম্যবাদ হিসেবেই দেখেছেন। সমাজতন্ত্রকে মধ্যবর্তী একটা উৎপাদনব্যবস্থা হিসেবে দেখেননি। তাঁরা দেখিয়েছেন যে পুঁজিবাদের স্বাভাবিক অনিবার্য উত্তরণ ঘটবে এবং পুঁজিবাদকে বাতিল করে সেই প্রক্রিয়াকে পরিচালিত করবে প্রলেতারিয়েত শ্রেণি। উৎপাদন বৃদ্ধি পেলে ক্রমাগত সমাজরূপেরও পরিবর্তন ঘটবে। ক্রমাগত সমস্ত কাজ সামাজিকভাবে সাধিত হবে এবং প্রয়োজন ফুরিয়ে যাবে রাষ্ট্রের। এটাই হলো সাম্যবাদের স্তর যা পুঁজিবাদ পরবর্তী নতুন সমাজব্যবস্থা। সাম্যবাদ হচ্ছে সাচ্চা আর পূর্ণ মানবতার সমাজ, যেখানে থাকে সমস্ত মানুষের সর্বাঙ্গীণ বিকাশেরRead More