You cannot copy content of this page
আপনি যা পড়ছেন
মূলপাতা > Posts tagged "সাম্যবাদী কবিতা"

লাল টুকটুকে দিন

তুমিই আমার মিছিলের সেই মুখ—/ এ-প্রান্ত থেকে ও-প্রান্ত যাকে খুঁজে/ বেলা গেল।/ ফিরে দেখি সে আগন্তুক/ ঘর আলো ক’রে ব’সে আছে পিলসুজে।/ দিনে দূরে ঠেলে দিনান্তে নিলে কাছে।/ ঠা-ঠা রোদ্দুরে পাইনি কোথাও ছায়া,/ নীল সমুদ্র পুড়ে গেছে সেই আঁচে/ চোখ মুছি—/ তুমি স্বপ্ন !/ না, তুমি মায়া ? আরো পড়ুন

আমার কাজ

আমি চাই কথাগুলোকে পায়ের ওপর দাঁড় করাতে। আমি চাই যেন চোখ ফোটে প্রত্যেকটি ছায়ার। স্থির ছবিকে আমি চাই হাঁটাতে। আমাকে কেউ কবি বলুক আমি চাই না। কাঁধে কাঁধ লাগিয়ে জীবনের শেষদিন পর্যন্ত যেন আমি হেঁটে যাই। আমি যেন আমার কলমটা ট্রাক্টরের পাশে নামিয়ে রেখে বলতে পারি— এই আমার ছুটি ভাই, আমাকে একটু আগুন দাও।

দীক্ষিতের গান

পালাবার পথে ধুলো-ওড়ানোর দঙ্গলে, ভাই আমিও ছিলাম একজন; আজ প্রাণপণে তাই ভীরুতার মুখে লাথি মেরে লাল ঝান্ডা ওঠাই। গা থেকে পাঁকের গলিত গন্ধ ধুয়ে মুছে দাও স্বপ্নজড়িত জীবনের দ্বিধা চাবুকে ছোটাও হাঁটু ছিঁড়ে যাক, দুপায়ে রক্তকদম ফোটাও। বিপদ তাড়ানো আওয়াজে আজকে হাঁকো হৈ হৈ ফাঁসিতে দিয়েছি জীবন, মরতেও পিছপাও নই গৃহকলহকে দূরে ঠেলে এসো একজোট হই। চাপা বিদ্যুতে খেলে

পৃথিবীর রাষ্ট্রনীতি আর তোমাদের বংশবাতি

মনে রাখো তোমাদের দশদিক এখন বড়ই কুটিল, মনে রাখো তোমার নিঃশ্বাস-প্রশ্বাস থামতে বসেছে, ধীর ও জটিল তোমার রক্তমাখা সরীসৃপের মতো গতি, তোমার বংশের সাথে গাছপালা পাঠ চুকায় ক্রান্তিকালের মোড়ে, তবুও কোথায় কোনো এক সুতোর টান অনুভূত হতে পারে প্রাণ আছে বলে আবিষ্কৃত জগদীশের আবিষ্কারে।   গাছ হতে শিশু জন্ম নেয়, তুমি শিশুর কান্না থামাও,   রুমঝুমির ঝুনঝুন শব্দে

উর্বর

যুগের বণিকেরা ইতিহাসকে ঝোলায় ঢুকিয়ে সময়ের সঞ্চয় নিয়ে গতিশীল ট্রেনের মতো ছুটে যায় এক যুগ থেকে আরেক যুগে, এসবের মাঝে হারায় চেনা রং, চেনা ছোঁয়া, ছুঁয়ে দেওয়া স্মৃতি, প্রেমিকের প্রেম, অবসর দিন, অলস দুপুরে বয়ে যাওয়া হাওয়া, হারায় চেনা ক্ষণে কৃষকের ভূমি, গড়ে ওঠা কলে পুঁজি কালের শ্রম। হারিয়ে যাওয়া সব যখন পুড়ে ছাই তখনও পোড়া ভূমি সক্ষম থাকে একটি সবুজ

পালিশ

রঙিন চশমা দিয়ে ওপাশ দেখছি, এপাশে নেই অনেক কিছুই, হাঁড়ি শুষে যে প্রাণশক্তি তারা নিয়েছে, তার উপহার হিসেবে পেয়েছি একটি পালিশ করা দিন, ওপাশে ছটফটে প্রাণ;— এপাশে শূন্য হাঁড়ি। টাকা যে রং ছড়ায় আমরাও তা মাখি, মলিন দেহ রঙিন করে টাকার রং তুলি, যুগের সত্যকে ভুলিয়ে দিবে যদি গা ঘেঁষে থাকো, যন্ত্রণা আজ মালিশ হবে পালিশ দিন

তুমি এক নক্ষত্র

(ফিদেল ক্যাস্ত্রোর প্রতি)   আজ রাতে করুণ ছন্দগুলো চারপাশে ভিড় করবে যদিও তারপরও ভালোবাসি তোমার রেখে যাওয়া দিনগুলোকে, তোমাকে ভালবেসেছি বলে ভালো লাগে স্রোতের বিপরীতে চলা, ভালো লাগে কড়া রোদে শ্রমিকের সাথে নিজেকে মেশাতে, পিচঢালা পথের মিছিলে এক পা, দু’পাকে হাজারো পায়ে মেলাতে, ফেলে আসা ভুল থেকে নতুন করে পথ চলা শিখতে। ফেলে আসা ভুল থেকে নতুন করে

আশা

সারা মাঠ ঘুরেছে যে কৃষক তার রোদে পোড়া পেশীর ঘাম ঝরা শ্রম একটু একটু করে হারায় মহাজনের ঘরে।   এক ঋতুতে চাষ করে জমি, এক ঋতুতে আশা বপন, আরেক ঋতুতে টেনে যায় সে আরো কিছুদিন বাঁচার হাঁপর।   ঢি ঢি পড়ে গেছে সারা আকাশে, মেঘের কোলে মেঘ অনেক তো হলো সূর্যস্নান তেল চিটচিটে দেহে, এবার একটু সুখে বৃষ্টি নামুক মাটির

আলোর কাছাকাছি

খসে যাওয়া তারার মতো পা পিছলে পড়ে যে শরীর- অনেকের নেশা মিটায় প্রতি রাতে, সেও যেতে চায় আলোর কাছাকাছি ঝলমলে হতে।   আলোর কাছাকাছি যেতে চায় বলে যে মাঠ আজও সবুজ হয় নি, খটখটে পতিত পড়ে আছে সেখানেও চাষ হবে বলে কচি পোকার ব্যস্ততা চলে।   দখিন হাওয়ারা এসে নবীন পাতায় কম্পন তোলেনি বলে যে গাছ বন্ধ্যা হয়ে আছে;— তারও

স্বপ্নবাজ বীর

আমরা পাশাপাশি দাঁড়িয়ে অশান্ত গ্রহের মাঝে, যেখানে জীবনের স্বপ্নকে গ্রাস করে নকল সুখের মরীচিকারাশি। চিন্তার বিশাল জগতকে আবদ্ধ করতে চায় হতাশায় জড়িত ব্যর্থ নগরবাসি রূপে, এখানে জুজুর ভয়ে মাথা নত করে প্রেমিকেরা।   তবুও স্বপ্ন দেখে, জীবনকে বাঁচিয়ে রেখে, ক্ষুদ্র নুড়ি নিয়ে নিত্য খেলা করি, তার নিচে বাড়তে থাকে আমাদের স্বপ্ন, জমতে থাকে সুপ্ত শক্তিরা। পথ ভুলানো মরীচিকাকে পরাজিত করে বীরেরা যখন

Top