Main Menu

শোষণ

 
 

পুঁজিবাদের সাধারণ সংকট প্রসঙ্গে

ধনতন্ত্র বা পুঁজিবাদের বর্তমান অবস্থার মার্কসবাদী বিশ্লেষণে ‘পুঁজিবাদের সাধারণ সংকট’ (ইংরেজি: General crisis of Capitalism) একটি গুরুত্বপূর্ণ কথা। মার্কসীয় বিশ্লেষণের অনুসারীদের মতে পুঁজিবাদের গোড়াকার প্রগতিশীল ভূমিকা আর বজায় নেই। পুঁজিবাদী অর্থনৈতিক ব্যবস্থা শক্তিহীন হয়ে পড়েছে। পুঁজিবাদী রাষ্ট্র এবং ব্যবস্থা এখনো শক্তিশালী। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন, ফ্রান্স, জার্মানি, জাপানসহ বিভিন্ন দেশে পুঁজিবাদী ব্যবস্থা বিদ্যমান। কিন্তু এই অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় তেজী-মন্দার চক্র ক্রমাধিক পরিমাণে তীব্র হয়ে উঠছে। কর্মহীন বেকারের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। ক্রমাধিক পরিমাণে লাভে পণ্য বিক্রি করতে না পারার সমস্যা বাড়ছে। কিন্তু এই সংকট থেকে মুক্তি পাবার চেষ্টাও পুঁজিবাদী ব্যবস্থা করছে। ব্যবস্থা মাত্রই তারRead More


আসামে সংকট, দায়ী কে?

গত তিন হাজার বছর ধরে দিল্লি আর উত্তর ভারত মিলে বাংলাসহ পূর্বের দেশগুলোকে শোষণ করছে। ১৯৪৭ সালে দিল্লি ও বোম্বাইয়ের পুঁজিপতিরা দাঙ্গা লাগিয়ে বাংলাকে ভাগ করেছে। সাহায্য করেছিল কলকাতার কিছু শিল্পপতি। আসল কথা হচ্ছে পূর্বের দেশসমূহকে লুট করার জন্যেই পূর্বের দেশসমূহের জনগণকে বিভক্ত করা হয়েছে এবং শাসন করা হয়েছে। গত শতক থেকেই এই পূর্বের দেশসমূহকে লুটের ব্যাপারে এখনকার বিজেপি এবং আগের কংগ্রেসের মধ্যে বিন্দুমাত্র ফারাক নেই। আর এই কাজে গত অর্ধ শতক ধরে সহায়তা করে চলেছে ভারতীয় জনগণের শত্রু সংশোধনবাদী ভুয়া কমিউনিস্টদের দুটি দল সিপিআই এবং সিপিএম। সেই ভাগ করোRead More


রাশিয়া এবং তার পূর্বাঞ্চলের মুসলমানদের প্রতি আবেদন — স্তালিন ও লেনিন

—- অনুবাদক : ইভান অরক্ষিত সহযোদ্ধা ও ভাইয়েরা![১] রাশিয়াতে বিশাল বিশাল ঘটনা ঘটছে। অন্যান্য দেশগুলিকে পৃথক করার জন্য যে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ হচ্ছিল সেটার সমাপ্তি সন্নিকটে। মানুষের পৃথিবীতে মানুষকে দাসত্বে আবদ্ধকারী এবং ডাকাতদের শাসন প্রায় সমাপ্তির পথে। রুশ বিপ্লবের জোয়ারে দাসত্ব ও ভূমিদাসত্বের পুরানো পৃথিবীটা ভেঙে টুকরো টুকরো হয়ে যাচ্ছে … একটি নতুন পৃথিবী জন্ম নিচ্ছে, শ্রমজীবি এবং স্বাধীন মানুষের একটি পৃথিবী। এই বিপ্লবের শীর্ষে রয়েছেন রাশিয়ার কৃষক ও শ্রমিকের সরকার, গনকমিসারের সোভিয়েতসমূহ। সারা রাশিয়া ছেয়ে গেছে শ্রমিক, কৃষক এবং সেনাদের বিপ্লবী সোভিয়েতে। এই রাষ্ট্রের ক্ষমতা জনগণের হাতে। রাশিয়ার খেটে খাওয়াRead More


জ্ঞান প্রসঙ্গে

জ্ঞান হচ্ছে অর্থনৈতিক ভিত্তির উপরিকাঠামো আবার এই জ্ঞান ভিত্তিকে প্রভাবিত করে এবং বদলেও ফেলে। জ্ঞান অর্থনৈতিক শোষণের একটি বাইপ্রোডাক্ট। যারা শোষণ তৈরি করতে পারেনি, তারা সভ্য হতে পারেনি, আদিম গোষ্ঠীবদ্ধ সমাজে থেকে গেছে। গত ১০০০ বছরে শহরগুলো কেন শোষণের কেন্দ্র হয়েছে, কেন শহরগুলোর চেয়ে রাষ্ট্র বেশি শক্তিশালী হয়েছে, এই প্রশ্নের দিকে তাকালেই আমরা দেখব জ্ঞান কেন্দ্রীভূত হয়েছে শহরে, সাথে প্রযুক্তিকেও টেনে এনেছে। এই জ্ঞানের কেন্দ্রগুলো পরস্পরের উপরে আক্রমণ চালিয়েছে। দুর্দশা আর যুদ্ধের কারণ যে দাস, সামন্তবাদী আর পুঁজিবাদী অর্থনীতির নানা ধরনের, অগ্রবর্তী ও পশ্চাৎবর্তী অর্থনীতির দ্বন্দ্বের ফল তা অনেক সময়Read More


মেহনতি ও শোষিত মানুষের অধিকার ঘোষণা — ভি আই লেনিন

সংবিধান সভার সিদ্ধান্ত:[১] ১. ক) রাশিয়া এতদ্বারা শ্রমিক, সৈনিক এবং কৃষক প্রতিনিধিদের সোভিয়েতসমূহের প্রজাতন্ত্র বলে ঘোষিত হলো। কেন্দ্রীয় আর স্থানিক সমস্ত ক্ষমতা ন্যস্ত হলো এইসব সোভিয়েতের হাতে। খ) স্বাধীন জাতিসমূহের অবাধ সম্মিলনের নীতি অনুসারে সোভিয়েত জাতীয় প্রজাতন্ত্রগুলির ফেডারেশন হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হলো রাশিয়া সোভিয়েত প্রজাতন্ত্র। ২. মানুষের উপর মানুষের যাবতীয় শোষণ লোপ করা, সমাজের শ্রেণিবিভাগ সম্পূর্ণভাবে দূর করা, শোষকদের প্রতিরোধ নির্মমভাবে দমন করা, সমাজের সমাজতান্ত্রিক সংগঠন কায়েম করা এবং সমস্ত দেশে সমাজতন্ত্রের বিজয় ঘটানোই এটার মূল লক্ষ্য, তাই সংবিধান সভার আরও সিদ্ধান্ত: ক) ভূমিতে ব্যক্তিগত মালিকানা এতদ্দারা লোপ হলো। সমস্ত ঘরবাড়ি,Read More


জনগণের গণতান্ত্রিক আচরণের অনুশীলন প্রসঙ্গে

জনগণ গণতন্ত্র চান এবং এই গণতন্ত্রের একটি পশ্চাৎপদ রূপ দাস সমাজেই দেখা গেছিল। পরবর্তীতে আধুনিক সমাজে গণতন্ত্রকে ফিরিয়ে আনেন মূলত উঠতি বুর্জোয়ারা এবং তাদের সমর্থক কতিপয় মহান দার্শনিক। বুর্জোয়ারা মূলত সামন্তবাদকে ভেঙে ফেলেন এবং ব্যক্তিগত সম্পত্তি ও মুনাফার মাধ্যমে ভুমিদাসকে নিক্ষেপ করেন শহরে মজুরি শ্রমিক হিসেবে। ফলে পুঁজিবাদী সমাজের গণতন্ত্র থেকে যায় পুঁজিবাদী শোষণ ও লুটের গণতন্ত্র। সাম্রাজ্যবাদ দ্বারা নিপীড়িত দেশসমূহে গণতন্ত্রকে জনগণের মাঝে প্রচার করা দরকার। গণতন্ত্রের ভালো-মন্দ জনগণের মাঝে উপস্থাপন করা দরকার। জোর করে বা হুকুমনামা জারি করে বা আমলাতান্ত্রিক নির্দেশে বা বলপ্রয়োগের মাধ্যমে কাউকে গণতান্ত্রিক করা যায়Read More


সমাজতন্ত্র প্রলেতারিয়েতের মুক্তির পদ্ধতি সংক্রান্ত মতবাদ

সমাজতন্ত্র বা সমাজবাদ (ইংরেজি: Socialism) হচ্ছে এমন একটি সামাজিক এবং অর্থনৈতিক ব্যবস্থা যার বৈশিষ্ট্য হচ্ছে উৎপাদনের উপকরণের সামাজিক মালিকানা এবং অর্থনীতির একটি সমবায়ভিত্তিক ব্যবস্থাপনা। এছাড়াও একই সাথে এটি একটি রাজনৈতিক মতবাদ ও আন্দোলন যার লক্ষ্য হচ্ছে এই ধরনের সমাজব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা। অর্থাৎ এটি এমন একটি সামাজিক ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থা যেখানে সম্পদ ও অর্থের মালিকানা সামাজিক বা রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণাধীন অর্থাৎ এতে কোনো ব্যক্তিমালিকানা থাকে না। সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থায় জনসাধারণের প্রয়োজন অনুসারে দ্রব্য উৎপাদন হয়। সমাজতান্ত্রিক অর্থনীতিতে একটি দেশের কলকারখানা, খনি, জমি ইত্যাদি সামাজিক, সর্বজনীন বা রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি হিসেবে পরিগণিত হয়। সর্বজনীন ভূমি,Read More


সমাজতন্ত্রের ব্যুৎপত্তিগত অর্থ ও ধারনার উদ্ভব,

সমাজতন্ত্রের ইংরেজি ‘socialism’ শব্দটি ল্যাটিন শব্দ sociare থেকে এসেছে। ল্যাটিন শব্দটির অর্থ সংযুক্ত করা বা অংশীদার করা। এই সম্পর্কিত, রোমান ভাষায় এবং পরবর্তীতে মধ্যযুগের আইনে আরো কুশলী শব্দ হল societas. পরের societas শব্দটি দ্বারা বোঝাতো সাহচর্য এবং সংঘ বা সহযোগিতা। এছাড়াও শব্দটি দ্বারা আরো আইনানুগ ধারণায় বোঝাতো মুক্তমানুষের মধ্যে সম্মতিসূচক চুক্তি।[১] সেইন্ট সাইমন ছিলেন একজন কল্পলৌকিক সমাজতন্ত্রী যিনি সমাজতন্ত্র শব্দটি তৈরি করেন। ফরাসি বিপ্লবোত্তরকালে ব্যক্তিবাদের উদার তত্ত্বের বৈসাদৃশ্য বোঝাতে সমাজতন্ত্র শব্দটি তৈরি করা হয়। ব্যক্তিবাদ মূলত জোর দেয় যে জনগণকে একজন আরেকজনের থেকে বিচ্ছিন্ন থেকে ক্রিয়া করতে হয় বা ক্রিয়াRead More


সমাজতন্ত্র ও সাম্যবাদের পার্থক্যরেখাগুলো কোথায় ও কীভাবে?

সাম্যবাদী সমাজের গঠনের ধারনা গড়ে উঠেছে তার দুটি পর্ব বা স্তর বা ধাপ সমাজতন্ত্র (Socialism) ও সাম্যবাদের (Communism) বৈশিষ্ট্যকে নিয়ে। এই দুই পর্বের মধ্যে অনেক মিল আছে যেহেতু সেগুলো হলও একই ব্যবস্থার দুটি পর্ব। এই দুই পর্বের ভেতরে বেশ কিছু পার্থক্যও বিরাজমান, এবং এই পার্থক্যগুলো সাম্যবাদী সমাজের বিকাশের নিম্নতম ও উচ্চতম পর্বের প্রকাশ। পুঁজিবাদের পতনের পর সামাজিক সম্পর্কের নতুন সাম্যবাদী পর্যায়ে পৌঁছতে হলে প্রথম পর্যায় সমাজতন্ত্রকে অতিক্রম করতে হবে। সাম্যবাদী সমাজে পৌঁছতে হলে সমাজতান্ত্রিক সম্পর্ক সম্পূর্ণকরণের এক জটিল দীর্ঘ, এবং নানাভাবে বৈর এক প্রক্রিয়া পাড়ি দিতে হয়। অন্যভাবে বললে সমাজতন্ত্রেরRead More


কবি সমর সেন বাঙালি মধ্যবিত্তের কুণ্ডলায়িত জীবনের চিত্রকর

সমর সেন (১০ অক্টোবর, ১৯১৬ — ২৩ আগস্ট, ১৯৮৭) বাংলা ভাষার সেই মহান কবি যিনি মধ্যবিত্তের ছ্যাবলামো কামনা বাসনাকে কবিতায় তুলে এনেছিলেন। তাঁর ছোটো ছোটো কবিতাগুলো মধ্যবিত্তের সুশীল পশ্চাৎদেশে একাধিক লাথি মেরে গেছে। সেইসব লাথিতে তীব্র জোর না থাকায় বাঙালির বোধোদয় আজো ঘটেনি। মধ্যবিত্ত বাঙালির পেছনে লাত্থি দেবার জন্য আমাদেরকে অপেক্ষা করতে হয়েছে কবি নবারুণ ভট্টাচার্য (জুন ২৩, ১৯৪৮ — জুলাই ৩১, ২০১৪) পর্যন্ত যার শব্দের ধার টাকা আর ক্ষমতালোভি মধ্যবিত্তকেও তীব্রভাবে আঘাত করতে পেরেছিলো। সমর সেনের কবিতা সম্পর্কে বলতে গিয়ে ড. অসিতকুমার বন্দ্যোপাধ্যায় লিখেছেন, “কবি সমর সেনের প্রধান অবলম্বনRead More