Main Menu

মুক্তি

 
 

আমরা যে অবস্থা দেখছি তা দীর্ঘকাল থাকবে না, স্বাভাবিক বিকাশের সুযোগ সৃষ্টি হবে — আবুল কাসেম ফজলুল হক

প্রথম ও দ্বিতীয় পর্বের পর ৩. অনুপ সাদি: এখানে গরীবরা শাসন ক্ষমতায় গেলেই যে ধনী হয়ে যাচ্ছে তা কিন্তু নয়? আবুল কাসেম ফজলুল হক: না, বাস্তবে দেখা যায় গরীবরা শাসন ক্ষমতায় গেলে ধনী হয়ে যায়। ব্যতিক্রম যে নেই তা নয়। ব্যতিক্রম দুর্লভ। রাশিয়া, চীন_ এসব দেশ তো একটা পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করেছে। তাদের সামনে আদর্শ ছিল। কিন্তু বাস্তবে দেখা গেল যে, একটা সময়ের ব্যবধানে যারা রাষ্ট্র ক্ষমতায় যাচ্ছে তারা আনুষঙ্গিক অন্য ক্ষমতা, যেমন_ শিক্ষা-দীক্ষার সুযোগ নিচ্ছে, অর্থনৈতিক ক্ষমতা-সম্পদ অর্জন করছে, রাষ্ট্রে চাকরি-বাকরির ব্যবস্থা থাকলে সেইখানে তাদের ছেলেমেয়েরা বেশি সুযোগ নিচ্ছে।Read More


সংগ্রামের পথ ছাড়া মুক্তির আর কোনো পথ নেই — আবুল কাসেম ফজলুল হক

প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় পর্বের পর ৪. অনুপ সাদি: বাঙলা ভাগ হয়ে যে সমস্যাটা হলো, অনেক লোকের মাইগ্রেশন ঘটলো, লাখ লাখ লোক শরণার্থী হলো, দুর্বিষহ জীবনযাত্রা ………….। আবুল কাসেম ফজলুল হক: বহু লোকের প্রাণ গেছে, বহু লোক পথের ভিখারি হয়েছে, সে এক মর্মান্তিক ইতিহাস। আবার কিছু লোক নানা সুযোগ সুবিধা নিয়ে ধনী হয়েছে, ক্ষমতাবান হয়েছে। পশ্চিম বাঙলায় বিভিন্ন ক্ষেত্রে যারা কর্তৃত্ব করছে, সন্ধান করলে দেখবে তাদের অনেকগুলো পরিবারই এখান থেকে রিফিউজি হিসেবে, বাস্তুত্যাগী হয়ে, ওখানে গিয়ে প্রতিষ্ঠা অর্জন করেছে। আমাদের ঢাকার সংস্কৃতিতে বাঙলাদেশে যারা কর্তৃত্ব করছে রাজনীতিবিদদের, বুদ্ধিজীবিদের ও ব্যবসায়ীদেরRead More


ভি. আই. লেনিনের গ্রন্থ ‘কী করতে হবে’ বিষয়ক আলোচনা

কী করতে হবে? আমাদের আন্দোলনের জরুরি প্রশ্নগুলি, (ইংরেজিতে: What Is to Be Done? Burning Questions of Our Movement) হচ্ছে ভ্লাদিমির লেনিনের লেখা বই যা ১৯০১ সালের শরৎকাল থেকে ১৯০২ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যে লিখিত এবং ১৯০২ সালে প্রকাশিত। এটি একটি রাজনৈতিক প্রচারপুস্তিকা যার শিরোনাম নেয়া হয় উনিশ শতকের রুশ বিপ্লবী নিকোলাই চেরনিশেভস্কি (১৮২৮-৮৯) লিখিত একই নামের উপন্যাস থেকে। মার্কসবাদী কমিউনিস্ট পার্টি গঠনের জন্য সংগ্রামের ক্ষেত্রে এই বই চূড়ান্ত ভূমিকা পালন করে। বৈপ্লবিক মার্কসবাদ সংক্রান্ত অপূর্ব এই বইটিতে রুশ কমিউনিস্টগণ[১] বহু জরুরি প্রশ্নের উত্তর খুঁজে পান। এই বইতে শ্রমিক আন্দোলনের সচেতনRead More


যুগল প্রতিজ্ঞা

তীরের শীতল হাওয়ারা ভিড় জমিয়েছিলো সে রাতে— ছোট ঘরটির ভাঁজে ভাঁজে আনন্দের ঢেউ লুটিয়ে পড়ছিলো, আমাদের আলোর প্লাবনে ভাসিয়েছিলো একটি মোমবাতি, ওটি ছিলো অন্ধকার গহ্বর পেরিয়ে আসা এক লড়াকু মশাল।   জগতের নিষ্ঠুর নিয়মে যে প্রাণ পালকের মতো ঝরে পড়ে— আমরা ছিলাম তারই ভেতর থেকে উঠে আসা একজোড়া প্রাণ; তখন আমাদের চার চোখ ছিলো রাঙা স্বপ্নে আঁকা, নিরব পলক আন্দোলিত হয়েছিলো অনুভূতির কোলাহলে, সভ্যতার মিথ্যা মরীচিকাকে পিষে যে ঢেউ আসে শৃঙ্খল ছেড়ে স্রোতের বিপরীতে চলার জন্য, আমরা ভেসে চলেছিলাম মুক্তির অসীম প্রত্যয়ে;— যেখান থেকে বয়ে আসছিলো আরো অনেক শ্রমিকের গান।Read More


সমাজতান্ত্রিক সমাজ গড়তে সমাজতান্ত্রিক শিক্ষার গুরুত্ব

বিশ শতকের প্রথমার্ধে জনগণকে সুশিক্ষিত করার কথা বলা হতো; পাকিস্তানকালিন সময়েও জনগণকে সুশিক্ষা দেয়ার কথা বলা হয়েছে; কিন্তু বাংলাদেশ হবার পরে সুশিক্ষা বা শিক্ষার পরিবর্তে স্বাক্ষরতা শব্দটি চালু করা হয়। একবিংশ শতাব্দীর শূন্য দশকের বাংলাদেশে শিক্ষা সংক্রান্ত আলাপ-আলোচনা, লেখালেখি, চিন্তার প্রকাশ নেই বললেই চলে। এই সময়ে দেশবাসির মনে শিক্ষার গুরুত্ব খুবই যতসামান্য। এখন জনগণকে শিক্ষিত করার পরিবর্তে স্বাক্ষর করে তোলার চেষ্টা করা হচ্ছে যাতে নিরক্ষর লোকজন টিপসই না দেয়; অন্তত নাম স্বাক্ষর করতে বা পত্র-পত্রিকা, বিজ্ঞাপন, সাইনবোর্ড ইত্যাদি পড়তে পারে। কিন্তু শিক্ষার গুরুত্ব কি বাস্তবেই লোপ পেয়েছে? শিক্ষা মানুষকে জ্ঞানার্জনেRead More


মার্কসবাদী বিশ্বদৃষ্টিতে ধর্মের স্বরূপ বিশ্লেষণ

কার্ল মার্কস ও ফ্রিডরিখ এঙ্গেলসের দ্বারা প্রতিষ্ঠিত প্রলেতারিয় বিশ্বদৃষ্টিভঙ্গির ভিত্তি হচ্ছে প্রকৃতি এবং সমাজ বিকাশের নিয়মাবলীর আবিষ্কার ও অনুশীলন। প্রকৃতিবিজ্ঞান ও সমাজবিজ্ঞানের আলোচনায় মার্কসবাদ যেসব ক্ষেত্রে ধর্ম সংক্রান্ত আলোচনার প্রয়োজনবোধ করেছে শুধু সেসব আলোচনা থেকেই মার্কসবাদী দৃষ্টিতে ধর্মের বিশ্লেষণ পাওয়া যায়। ধর্মকে মার্কসবাদের স্রষ্টাগণ বিশিষ্ট বা স্বতন্ত্র কোনো বিষয় মনে করেননি। বরং তাঁরা এটিকে মনে করেছিলেন মানুষের জীবন যে অবস্থা ও ব্যবস্থার ভেতরে থাকে, সেই অবস্থা ও ব্যবস্থার সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয় হিসেবে। মার্কসবাদ অনুসারে দর্শন, বিজ্ঞান, শিল্প, সাহিত্য ইত্যাদি বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চার আগে মানুষের প্রয়োজন অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান ইত্যাদি বৈষয়িক প্রয়োজনRead More


নারী-শ্রমিকদের প্রথম সারা রুশ কংগ্রেসে বক্তৃতা — লেনিন

১৯ নভেম্বর, ১৯১৮[১] (প্রচন্ড স্বাগতধ্বনি তুলে কংগ্রেসের নারী-শ্রমিকরা লেনিনকে অভিবাদন জানায়।) কমরেডগণ, কতকগুলি দিক থেকে প্রলেতারিয় ফৌজের নারী অংশের কংগ্রেসের বিশেষ জরুরি তাৎপর্য বর্তমান, কারণ সমস্ত দেশেই নারীদের আন্দোলনে আসা কঠিনতর হয়েছিল। সমাজতান্ত্রিক পরিবর্তন হতে পারে না যদি মেহনতি নারীদের বৃহত অংশটা তাতে ব্যাপকভাবে যোগ না দেয়। সমস্ত সভ্য দেশে, এমনকি সবচেয়ে অগ্রণী দেশেও মেয়েদের অবস্থা এমনই যে তাদের সাংসারিক বাঁদি বলা হয়, আর সেটা অকারণে নয়। কোনো পুঁজিবাদি রাষ্ট্রেই এমনকি সবচেয়ে মুক্ত প্রজাতন্ত্রেও নারীদের পূর্ণ সমাধিকার নেই। সোভিয়েত প্রজাতন্ত্রের কর্তব্য হল সর্বপ্রথমে নারী অধিকারের সমস্ত সীমাবদ্ধতা দূর করা। বুর্জোয়াRead More


মার্কসের দৃষ্টিতে মানুষ

মানুষই হলো মার্কস এঙ্গেলসের জীবনবীক্ষার কেন্দ্রীয় বিষয়। বর্তমানকে বদলাবার প্রয়োজন তারা অনুভব করেছিলেন এই মানব প্রজাতির জন্যই। প্রাণী হিসেবে ‘মনুষ্য’ নাম প্রযুক্ত হলেও সামাজিক প্রাণী হিসেবে বা নৃতাত্ত্বিক অবস্থা থেকে বর্তমান মনুষ্য হিসেবে ‘মানুষ’ শব্দটি একই সাধারণ অর্থ প্রকাশ করে না। মার্কস প্রাকৃতিক ও মানবিক এই দুই অর্থে মানুষকে দেখেছেন। অর্থাৎ মার্কসের মানব প্রকৃতি সম্পর্কিত দৃষ্টিভঙ্গিতে প্রকৃতিবাদ ও মানবতাবাদের অপূর্ব সমন্বয় ঘটেছে। একদিকে মানুষ প্রকৃতির অংশ, প্রাকৃতিক সত্তা, প্রকৃতিরই সৃষ্টি, বিবর্তনের পথে সক্রিয় ভাবে পরিবেশ ও পরিস্থিতির সাথে ক্রিয়া প্রতিক্রিয়া গঠন-পুনর্গঠনের পথে নিজেকে গড়ে তুলেছে। এটিই তার প্রাকৃতিক সত্তা। অন্যদিকেRead More


মুক্তি প্রসঙ্গে মার্কসবাদ

মুক্তি বা স্বাধীনতা (ইংরেজি Freedom বা Liberty) হচ্ছে একটি সমাজে মানুষের সম্ভাবনার পূর্ণ উন্নতির সংস্থান করে মানুষের নিজ কর্মসমূহ নির্ধারণ করার সামর্থ্য ও অধিকার। মুক্তি ব্যক্তিগতভাবে একজনও উপভোগ করতে পারেন কিন্তু তা সমাজের ভেতরেই করতে হয়। ব্যক্তিগত গুণগুলো সমাজের ভেতরেই বিভিন্ন দিকে কর্ষণ করা যায়, তাই শুধু সমাজের ভেতরেই ব্যক্তিগত মুক্তি সম্ভব। মানুষের উন্নতির জন্য, তার চাহিদা পূরণের জন্য, তার সামর্থ্য ও প্রতিভা প্রয়োগের জন্য সমাজের উপর, সমাজসৃষ্ট পরিস্থিতির উপরই ব্যক্তি স্বাধীনতা নির্ভরশীল। অতীতে রাষ্ট্রে ও সমাজে কেবল ব্যক্তিগত মুক্তি তারাই অর্জন করতে পেরেছিলো যারা শাসক শ্রেণির সাথে সম্পর্ক তৈরিRead More