Main Menu

মানুষ

 
 

বাঙলাদেশে রাজনৈতিক দল গঠনের প্রক্রিয়ায় আগে মনোযোগ দেয়া উচিত — আবুল কাসেম ফজলুল হক

প্রথম পর্বের পর ২. অনুপ সাদি: বাঙলাদেশ তাহলে কতটুকু গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র? গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র না হলে অগণতন্ত্রের চিত্রগুলো কোথায় কোথায় দেখা যাচ্ছে? আবুল কাসেম ফজলুল হক: বাঙলাদেশের মানুষের মধ্যে কখনো কখনো গণতন্ত্রের আকাঙ্ক্ষা দেখা দিয়েছে, বেশ প্রবলভাবেই দেখা দিয়েছে। আমি আমার অভিজ্ঞতায় দেখেছি, পাকিস্থান প্রতিষ্ঠার পরে ১৯৫৪ সালের নির্বাচনের আগে গণতন্ত্রের কথা রাজনৈতিক নেতারা প্রচার করেছেন, তাতে জনগণের মধ্যে গণতন্ত্রের নামে প্রবল আবেগ সৃষ্টি হয়েছে। পরে গণতন্ত্রের আকাঙ্ক্ষা দেখেছি ১৯৯০ সালে_ এরশাদ সরকারের পতনের পরে। পত্র-পত্রিকায় গণতন্ত্র সম্পর্কে অনেক লেখা হয়েছে। কিন্তু ধারণাগুলো বাস্তবসম্মত রূপ নিয়ে বিকশিত হয়নি। তাত্ত্বিকভাবে গণতন্ত্রের আদর্শ-রূপ-রীতি-পদ্ধতিRead More


গ্রন্থাগার: মহাজগতের কল্লোল

জীব যেমন জীবাশ্ম হয়ে ভূ-ত্বকের স্তরে স্তরে লক্ষ লক্ষ বছর ধরে নিজেদের অস্তিত্বকে চিহ্নিত করে রেখেছে, তেমনি মানুষের কর্মপ্রেরণার সকল চিহ্ন আটকা পড়ে আছে গ্রন্থাগারে। এখানে অক্ষরের বুকে আঁকা আছে মানবসৃষ্ট সকল জ্ঞান, সকল ভাবনা, তাদের আশা আর স্বপ্ন। যেইমাত্র মানুষ জ্ঞান ও অভিজ্ঞতার আলোকে নিজেকে বদলাতে শিখল, বদলে দিতে শিখল তার পার্শ্ববর্তি পরিবেশকে, সেইমাত্র সে নিজের জ্ঞান ও ভাবকে জানাতে চাইল অন্যের কাছে। নিজের ভাবকে অন্যের কাছে জানাতে গিয়েই প্রয়োজন পড়লো কথা, সংগীত, শব্দকে অক্ষরের চিহ্নে ধরে রাখবার। মানুষের লক্ষ বছরের ভাবনার কোলাহল তাই রূপ পেয়েছে শত কোটি পুস্তকেরRead More


আবুল কাসেম ফজলুল হকঃ প্রজ্ঞার প্রতিমূর্তি

যেসব মানুষের মাঝখানে আবুল কাসেম ফজলুল হক বেঁচে আছেন সেসব মানুষের জন্যই তিনি ভেবেছেন এবং তাদের জন্যই তিনি কলম ধরেছেন। বার বছর বয়সে তিনি লিখে প্রকাশ করতে শুরু করেছিলেন এবং তা এখনো শরতের ছন্দময় স্নিগ্ধ মৃদু হাওয়ার মতোই অব্যাহত আছে। তিনি লিখেছেন বলেই আমরা তার লেখা পড়েছি এবং তার চিন্তার সাথে পরিচিত হয়েছি। আমরা বুঝতে চেষ্টা করেছি যে মানুষটি ‘সৌন্দর্য ও সৌন্দর্যানুরাগ’ নিয়ে লেখা শুরু করেছিলেন তা আজ সূর্যালোকের পাখায় ভর করে বিকশিত হতে হতে বাংলাদেশের আকাশে ছড়িয়ে পড়েছে। আমরা এখন স্থির হয়ে দেখতে পারছি যে মানুষটি রবীন্দ্রনাথের (১৮৬১-১৯৪১) মতোRead More


ফয়েরবাখ সম্বন্ধে থিসিসসমূহ — কার্ল মার্কস

ফয়েরবাখ সম্বন্ধে থিসিসসমূহ[১] ১ ফয়েরবাখের বস্তুবাদ সমেত পূর্ববর্তী সমস্ত বস্তুবাদের প্রধান দোষ এই যে, তাতে বস্তুকে [Gegenstand]. বাস্তবতাকে, সংবেদ্যতাকে কেবল বিষয় [Objekt] রূপে বা ধ্যান রূপে ধরা হয়েছে, মানবিক সংবেদনগত ক্রিয়া হিসেবে, ব্যবহারিক কর্ম হিসেবে দেখা হয় নি, আত্মগতভাবে [subjectively] দেখা হয় নি। ফলে বস্তুবাদের বিপরীতে সক্রিয় দিকটি বিকশিত হয়েছে ভাববাদ দিয়ে, কিন্তু তা কেবল বিমূর্তভাবে, কেননা ভাববাদ অবশ্য সংবেদনগত ক্রিয়া ঠিক যা সেইভাবে সেটাকে জানে না। ফয়েরবাখ চান সংবেদনগত বিষয়কে চিন্তাগত বিষয় থেকে সত্যই পথক করতে, কিন্তু খোদ মানবিক ক্রিয়াটাকে, তিনি নৈর্ব্যক্তিক [gegenstāndliche] ক্রিয়া হিসেবে ধরেন না। অতএব, ‘খ্রিস্টধর্মেরRead More


মার্কসবাদী দৃষ্টিতে ইতিহাস

ইতিহাস বিষয়ে এঙ্গেলসের দক্ষতা ছিলো মার্কসের চেয়ে বিস্তৃত। মার্কস তাই বলেছিলেন যে, ইতিহাসের বস্তুবাদী ধারনায় এঙ্গেলস একেবারে নিজস্ব পদ্ধতিতে পৌঁছেছিলেন। এঙ্গেলস কিন্তু বলেছেন, ‘মানুষের ইতিহাসের বিকাশের নিয়ম’ মার্কসের দুটি মূল্যবান আবিষ্কারের অন্যতম।[১] ইতিহাস অর্থ কেবল ঘটনাবলির বর্ণনা নয়। যেকোনো সময়ের বাস্তব অবস্থা, নানা শর্ত, বিভিন্ন সম্পর্কের অন্তর্ভেদ করাই হলো ইতিহাসের দৃষ্টি। রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক এই অর্থে ইতিহাস হচ্ছে ঐতিহাসিক বিজ্ঞান। অর্থনৈতিক গঠন হলো সমাজের প্রকৃত ভিত্তি। উৎপাদন সম্পর্ক উন্নত পর্যায়ের প্রয়োজনে বদলায়। বুর্জোয়া উৎপাদন ব্যবস্থাই হলো আজ পর্যন্ত সর্বাপেক্ষা প্রগতিশীল অর্থনৈতিক সংগঠন। এই পর্যায়েই শেষ বিরোধমূলক অর্থনৈতিক গঠনের অস্তিত্ব। এরপর আরম্ভ হবেRead More


মার্কসের দৃষ্টিতে মানুষ

মানুষই হলো মার্কস এঙ্গেলসের জীবনবীক্ষার কেন্দ্রীয় বিষয়। বর্তমানকে বদলাবার প্রয়োজন তারা অনুভব করেছিলেন এই মানব প্রজাতির জন্যই। প্রাণী হিসেবে ‘মনুষ্য’ নাম প্রযুক্ত হলেও সামাজিক প্রাণী হিসেবে বা নৃতাত্ত্বিক অবস্থা থেকে বর্তমান মনুষ্য হিসেবে ‘মানুষ’ শব্দটি একই সাধারণ অর্থ প্রকাশ করে না। মার্কস প্রাকৃতিক ও মানবিক এই দুই অর্থে মানুষকে দেখেছেন। অর্থাৎ মার্কসের মানব প্রকৃতি সম্পর্কিত দৃষ্টিভঙ্গিতে প্রকৃতিবাদ ও মানবতাবাদের অপূর্ব সমন্বয় ঘটেছে। একদিকে মানুষ প্রকৃতির অংশ, প্রাকৃতিক সত্তা, প্রকৃতিরই সৃষ্টি, বিবর্তনের পথে সক্রিয় ভাবে পরিবেশ ও পরিস্থিতির সাথে ক্রিয়া প্রতিক্রিয়া গঠন-পুনর্গঠনের পথে নিজেকে গড়ে তুলেছে। এটিই তার প্রাকৃতিক সত্তা। অন্যদিকেRead More


সাংস্কৃতিক বিপ্লবের স্বরূপ

সমাজতান্ত্রিক সমাজ বহন করে আনে পুঁজিবাদী সমাজের নানা চিহ্ন, ধারনা ও স্মারক। এসব চিহ্ন ও ধারনা থেকে হুট করে মুক্তি পাওয়া সম্ভব নয়। মানবসমাজ দাস, সামন্ত ও পুঁজিবাদকে অতিক্রম করলেও শোষণের ধারা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়নি। এই শোষণের ধারা ও পুরনো সমাজের পশ্চাৎপদ চিহ্নগুলো থেকে মুক্তির লক্ষ্যে প্রলেতারিয়েতকে একনায়কত্ব কায়েমের পর চালাতে হয় এক অনিবার্য সাংস্কৃতিক বিপ্লব (ইংরেজি: Cultural Revolution)। সাংস্কৃতিক বিপ্লবের সংজ্ঞা দিতে গিয়ে সমীরণ মজুমদার লিখেছেন, “সাংস্কৃতিক বিপ্লব হলো এত দিন ধরে চলে আসা ধ্যান-ধারনা, আচার-ব্যবহার, স্বভাব-চরিত্র, কাজ-কর্ম প্রভৃতি যা কিছু সমাজের জঙ্গমত্বের পথে অন্তরায় তার বিরুদ্ধে ঘোষিত একRead More


জনগণের লড়াকু রাজনৈতিক দার্শনিক বিশ্বকোষীয় মানুষ

আমরা যে সময় অতিক্রম করছি তা যেন রেনেসাঁ পূর্ববর্তী ইউরোপের মধ্যযুগের সাথে তুলনীয়। বাংলাদেশ ভারতে অনাচারের এক পিরামিড তৈরি হয়েছে এবং উচ্চবিত্ত আর মধ্যবিত্তরা পাপাচারের জগদ্দল পাথরকে চিরস্থায়ী করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। এই অবস্থা থেকে বের হবার জন্য দরকার লড়াইয়ের এক দীর্ঘমেয়াদী প্রস্তুতির। দরকার আন্তর্জাতিক এক এক জ্ঞানগত আন্দোলন ও নবজাগরণ এবং শুরুটা হওয়া দরকার এখনই। এই জ্ঞানগত আন্দোলন যুক্ত করবে রাজনৈতিক আন্দোলনকে এবং  ব্যাপ্ত করবে প্রকৃতিবিজ্ঞান ও সমাজবিজ্ঞানের সমস্ত শাখাকে এবং দর্শনের সমস্ত দিককে। এই জ্ঞানগত রাজনৈতিক আন্দোলন সম্পন্ন করবে মানুষের অতীতসৃষ্ট সমস্ত জ্ঞানের সংশ্লেষণ এবং পশ্চাৎপদতাকে ছুঁড়ে ফেলে দেবে।Read More