Main Menu

মার্কস

 
 

লেনিনবাদী দৃষ্টিতে সংশোধনবাদ কী এবং কেন প্রতিরোধ করতে হবে

সংশোধনবাদ বা শোধনবাদ (ইংরেজি: Revisionism) বলতে বুঝতে হবে কোনো মতাদর্শকে বা তত্ত্বকে বিজ্ঞানের মতো অনুধাবন ও অনুশীলন না করে তাকে স্বতন্ত্রভাবে পুনঃপরীক্ষা করা। সংশোধনবাদ হলো মার্কসবাদের সংশোধিত তত্ত্ব। অর্থাৎ সংশোধনবাদ হলো মার্কসবাদের পরিপূর্ণভাবে বিকৃতি, এটি প্রলেতারিয়েতের বৈপ্লবিক সংগ্রাম বিরোধি, প্রলেতারিয়েতের একনায়কত্বের বিরোধী, শ্রেণিসংগ্রাম বিরোধি, বুর্জোয়া শ্রেণির দলগুলোর বিপরীতে শ্রমিক শ্রেণির নিজস্ব দল কমিউনিস্ট পার্টি গঠনের বিরোধি, শ্রমিক শ্রেণির আন্তর্জাতিকতা বিরোধী তথা বিপ্লব বিরোধী তত্ত্ব। সংশোধনবাদ হলো বৈজ্ঞানিক কমিউনিজমের তত্ত্ব ও প্রয়োগ বিরোধি এক মতবাদ।   সংশোধনবাদের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ধারার একটা স্বাভাবিক পরিণতি হলো সমাজতান্ত্রিক আন্দোলনের চুড়ান্ত লক্ষ্যের প্রতি তারRead More


কমিউনিস্ট লীগের ইতিহাস

‘কমিউনিস্ট লীগ’ হচ্ছে প্রলেতারিয়েতের প্রথম আন্তর্জাতিক কমিউনিস্ট সংগঠন। এটি প্রতিষ্ঠার আগে বিভিন্ন দেশের সমাজতন্ত্রী ও অগ্রণী শ্রমিকদের মতাদর্শ ও সংগঠনের দিক থেকে জমায়েত করার জন্য মার্কস ও এঙ্গেলসকে প্রচুর খাটতে হয়েছিল। এই লক্ষ্য নিয়ে তাঁরা ১৮৪৬ খ্রীস্টাব্দেই ব্রাসেলসে কমিউনিস্ট করেসপন্ডেন্স কমিটি গঠন করেন। বৈজ্ঞানিক কমিউনিজমের ভাবাদর্শ প্রতিষ্ঠায় মার্কস ও এঙ্গেলস তীব্ৰ বিতর্ক চালান ভাইতলিং-এর স্কুল সমবাদী কমিউনিজমের বিরুদ্ধে, ‘খাটি সমাজতন্ত্র’ এবং প্রুধোঁর পেটি বুর্জোয়া কল্পলৌকিকতার বিরুদ্ধে, — শ্রমিক ও কারিগর নিয়ে গঠিত গুপ্ত সমিতি ‘ন্যায় লীগের’ সদস্যদের ওপর প্রুধোঁর প্রভাব ছিলো। জার্মানি, ফ্রান্স, সুইজারল্যান্ড ও ইংল্যান্ডে সংগঠন ছিলো এ লীগের।Read More


ভারতে ব্রিটিশ শাসনের ভবিষ্যৎ ফলাফল — কার্ল মার্কস

লন্ডন, শুক্রবার, ২২ জুলাই, ১৮৫৩ এ চিঠিতে আমি ভারত সম্পর্কে আমার মন্তব্যের উপসংহার টানতে চাই। ইংরেজ প্রভুত্ব ভারতে প্রতিষ্ঠিত হল কি করে ? মহা মোগলদের একচ্ছত্র ক্ষমতা ভেঙে ফেলেছিল মোগল শাসনকর্তারা। শাসনকর্তাদের ক্ষমতা চূর্ণ করল মারাঠারা। মারাঠাদের ক্ষমতা ভাঙল আফগানরা; এবং সবাই যখন সবার সঙ্গে সংগ্রামে লিপ্ত, তখন প্রবেশ করল ব্রিটেন এবং সকলকেই অধীন করতে সক্ষম হলো। দেশটা শুধু হিন্দু আর মুসলমানেই বিভক্ত নয়, বিভক্ত উপজাতিতে বর্ণাশ্রম-জাতিভেদে; এমন একটা স্থিতি সাম্যের ভিত্তিতে সমাজটার কাঠামো গড়ে উঠেছিল যা এসেছে সমাজের সভ্যদের মধ্যস্থ একটা পারস্পরিক বিরাগ ও প্রথাবদ্ধ পরস্পর বিচ্ছিন্নতা থেকে; এমনRead More


মার্কসবাদের তিনটি উৎস

মার্কসবাদ বলতে কোনো নির্দিষ্ট বিষয়ের মতবাদকে বোঝায় না। এর মধ্যে দর্শন, রাজনীতি, অর্থনীতি, ইতিহাস, সমাজ ইত্যাদি বিভিন্ন বিষয় এবং এসব বিষয় সম্পর্কিত বিভিন্ন মতবাদের সমাবেশ ঘটেছে। মানুষ, তার সমাজ এবং তার আশপাশের প্রকৃতিকে কেন্দ্র করেই মার্কসবাদের মধ্যে বিভিন্ন বিষয় ও মতবাদের উদ্ভব ঘটেছে। এসব বিভিন্ন বিষয়ের মধ্যে দর্শন, রাজনীতি ও অর্থনীতি হচ্ছে তিনটি প্রধান বিষয়। ভ্লাদিমির লেনিন প্রথম মার্কসবাদের তিনটি উৎস সম্পর্কে ধারণা দেন এবং দেখান যে এই তিনটি উৎস থেকে তিনটি দিকের বা অঙ্গের উদ্ভব ঘটেছে। মার্কস তাঁর মতবাদ গড়ে তোলার ক্ষেত্রে পূর্বসূরিদের চিন্তা দ্বারা অনুপ্রাণিত ও প্রভাবিত হন।Read More


মার্কসের দৃষ্টিতে মানুষ

মানুষই হলো মার্কস এঙ্গেলসের জীবনবীক্ষার কেন্দ্রীয় বিষয়। বর্তমানকে বদলাবার প্রয়োজন তারা অনুভব করেছিলেন এই মানব প্রজাতির জন্যই। প্রাণী হিসেবে ‘মনুষ্য’ নাম প্রযুক্ত হলেও সামাজিক প্রাণী হিসেবে বা নৃতাত্ত্বিক অবস্থা থেকে বর্তমান মনুষ্য হিসেবে ‘মানুষ’ শব্দটি একই সাধারণ অর্থ প্রকাশ করে না। মার্কস প্রাকৃতিক ও মানবিক এই দুই অর্থে মানুষকে দেখেছেন। অর্থাৎ মার্কসের মানব প্রকৃতি সম্পর্কিত দৃষ্টিভঙ্গিতে প্রকৃতিবাদ ও মানবতাবাদের অপূর্ব সমন্বয় ঘটেছে। একদিকে মানুষ প্রকৃতির অংশ, প্রাকৃতিক সত্তা, প্রকৃতিরই সৃষ্টি, বিবর্তনের পথে সক্রিয় ভাবে পরিবেশ ও পরিস্থিতির সাথে ক্রিয়া প্রতিক্রিয়া গঠন-পুনর্গঠনের পথে নিজেকে গড়ে তুলেছে। এটিই তার প্রাকৃতিক সত্তা। অন্যদিকেRead More


ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস প্রসঙ্গে — ভি আই লেনিন

নিভে গেল মনীষার কীবা সে প্রদীপ, কীবা সে হৃদয় হায় থামালো স্পন্দন।[১] নতুন পঞ্জিকা অনুসারে ১৮৯৫ সালের ৫ আগস্ট (২৪ জুলাই) লন্ডনে ফ্রিডরিখ এঙ্গেলসের মৃত্যু হয়েছে। স্বীয় বন্ধু কার্ল মার্কসের (১৮৮৩) মৃত্যুর পর এঙ্গেলসই ছিলেন গোটা সভ্য দুনিয়ার আধুনিক প্রলেতারিয়েতের সবচেয়ে বিখ্যাত মনীষী ও গুরু। কার্ল মার্কসের সঙ্গে ফ্রেডারিক এঙ্গেলসের পরিচয়ের পর থেকে দুই বন্ধুর জীবনকর্ম হয়ে উঠে তাঁদের সাধারণ আদর্শ। তাই প্রলেতারিয়েতের জন্য ফ্রেডারিক এঙ্গেলস কী করেছেন সেটা বোঝার জন্য আধুনিক শ্রমিক আন্দোলনের বিকাশে মার্কসের মতবাদ ও ক্রিয়াকলাপের তাৎপর্য হৃদয়ঙ্গম করা দরকার। মার্কস ও এঙ্গেলস সর্বপ্রথম দেখান যে, শ্রমিকRead More


প্রথম আন্তর্জাতিকের কার্যক্রম ও ভূমিকা

কার্ল মার্কস ও ফ্রিডরিখ এঙ্গেলসের জীবনে তত্ত্ব ও কর্ম সমান্তরালভাবে চলেছে। তত্ত্ব চর্চা ও বৈপ্লবিক ব্যবহারিক ক্রিয়াকলাপ ছিলো একটি আরেকটির সাথে অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িত এবং সেগুলো পরস্পরকে সমৃদ্ধ করতো। ১৮৬৪ সালে ‘পুঁজি’র প্রথম খণ্ডের কাজ যখন শেষ হবার পথে, মার্কস তখন তাঁর কাজ থামিয়ে দিয়ে নিজের সর্বশক্তি নিয়োগ করেন প্রথম আন্তর্জাতিক তথা আন্তর্জাতিক শ্রমিক সমিতি সংগঠনের কাজে। সেই বছর ট্রেড ইউনিয়ন নেতা জি. ওগডেন এবং ডব্লিউ. আর. ক্রেমার-এর উদ্যোগে লন্ডনে প্রতিষ্ঠিত হয় দি ইন্টারন্যাশনাল ওয়ার্কিংমেনস এসোসিয়েশন। এই আন্তর্জাতিকের সূচনা ঘটে একসারি দেশের শ্রমিক ও গণতান্ত্রিক সংগঠনগুলোর সভার মাধ্যমে এবং প্রথম সভাটিRead More