Main Menu

বস্তুবাদ

 
 

নৈরাজ্যবাদ অথবা সমাজতন্ত্র — জোসেফ স্তালিন

ডিসেম্বর ১৯০৬ – জানুয়ারি ১৯০৭ আমরা সেই ধরনের লোক নই, যারা নৈরাজ্যবাদ শব্দটার উল্লেখ হলেই অবজ্ঞাভরে মুখ ফিরিয়ে এবং উন্নাসিকভাবে হাত নেড়ে বলে, ‘ও সম্পর্কে সময় নষ্ট করে কি হবে? ওটা তো আলোচনারই যোগ্য নয়!’ আমরা মনে করি এ রকম সস্তা সমালোচনা মর্যাদাহানিকর ও নিরর্থক। আমরা আবার সে ধরনের লোকও নই, যারা এই চিন্তা করে নিজেদের সান্তনা দেই যে নৈরাজ্যবাদীদের ‘পেছনে কোনো ব্যাপক জনসাধারণ নেই এবং সেজন্য তারা ততটা বিপজ্জনক নয়।’ আজ কার কত বেশি বা কম গণসমর্থন আছে তা গুরুত্বপূর্ণ নয়, যা গুরুত্বপূর্ণ, তা হলো মতবাদের সারবস্তু। যদি নৈরাজ্যবাদীদেরRead More


আবুল কাসেম ফজলুল হকঃ প্রজ্ঞার প্রতিমূর্তি

যেসব মানুষের মাঝখানে আবুল কাসেম ফজলুল হক বেঁচে আছেন সেসব মানুষের জন্যই তিনি ভেবেছেন এবং তাদের জন্যই তিনি কলম ধরেছেন। বার বছর বয়সে তিনি লিখে প্রকাশ করতে শুরু করেছিলেন এবং তা এখনো শরতের ছন্দময় স্নিগ্ধ মৃদু হাওয়ার মতোই অব্যাহত আছে। তিনি লিখেছেন বলেই আমরা তার লেখা পড়েছি এবং তার চিন্তার সাথে পরিচিত হয়েছি। আমরা বুঝতে চেষ্টা করেছি যে মানুষটি ‘সৌন্দর্য ও সৌন্দর্যানুরাগ’ নিয়ে লেখা শুরু করেছিলেন তা আজ সূর্যালোকের পাখায় ভর করে বিকশিত হতে হতে বাংলাদেশের আকাশে ছড়িয়ে পড়েছে। আমরা এখন স্থির হয়ে দেখতে পারছি যে মানুষটি রবীন্দ্রনাথের (১৮৬১-১৯৪১) মতোRead More


ইয়োসেফ ব্লক সমীপে এঙ্গেলস

লন্ডন ২১-২২ সেপ্টেম্বর ১৮৯০[১] … ইতিহাসের বস্তুবাদী ধারণা অনুসারে বাস্তব জীবনের উৎপাদন ও পুনরুৎপাদনই হচ্ছে ইতিহাসে শেষ পর্যন্ত নির্ধারক বস্তু। এর বেশি কিছু মার্কস বা আমি কখনো বলিনি। অতএব, কেউ যদি তাকে বিকৃত করে এই দাঁড় করায় যে, অর্থনৈতিক ব্যাপারই হচ্ছে একমাত্র নির্ধারক বস্তু, তাহলে সে প্রতিপাদ্যটিকে একটি অর্থহীন, অমূর্ত, নির্বোধ উক্তিতে পরিণত করে। অর্থনৈতিক পরিস্থিতি হলো ভিত্তি, কিন্তু উপরিকাঠামোর বিভিন্ন বস্তু যেমন, শ্রেণিসংগ্রামের রাজনৈতিক রূপগুলি এবং তার ফলাফল: সাফল্যমণ্ডিত সংগ্রামের পর বিজয়ী শ্রেণি কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত সংবিধান ইত্যাদি, বিচার ব্যবস্থা, এমনকি যোগদানকারীদের মস্তিষ্কে এই সমস্ত বাস্তব সংগ্রামের প্রতিফলন, রাজনৈতিক, আইনগত,Read More


ফয়েরবাখ সম্বন্ধে থিসিসসমূহ — কার্ল মার্কস

ফয়েরবাখ সম্বন্ধে থিসিসসমূহ[১] ১ ফয়েরবাখের বস্তুবাদ সমেত পূর্ববর্তী সমস্ত বস্তুবাদের প্রধান দোষ এই যে, তাতে বস্তুকে [Gegenstand]. বাস্তবতাকে, সংবেদ্যতাকে কেবল বিষয় [Objekt] রূপে বা ধ্যান রূপে ধরা হয়েছে, মানবিক সংবেদনগত ক্রিয়া হিসেবে, ব্যবহারিক কর্ম হিসেবে দেখা হয় নি, আত্মগতভাবে [subjectively] দেখা হয় নি। ফলে বস্তুবাদের বিপরীতে সক্রিয় দিকটি বিকশিত হয়েছে ভাববাদ দিয়ে, কিন্তু তা কেবল বিমূর্তভাবে, কেননা ভাববাদ অবশ্য সংবেদনগত ক্রিয়া ঠিক যা সেইভাবে সেটাকে জানে না। ফয়েরবাখ চান সংবেদনগত বিষয়কে চিন্তাগত বিষয় থেকে সত্যই পথক করতে, কিন্তু খোদ মানবিক ক্রিয়াটাকে, তিনি নৈর্ব্যক্তিক [gegenstāndliche] ক্রিয়া হিসেবে ধরেন না। অতএব, ‘খ্রিস্টধর্মেরRead More


ঐতিহাসিক বস্তুবাদ হচ্ছে সমাজ জীবনে দ্বান্দ্বিক বস্তুবাদের মূলনীতিগুলোর প্রয়োগ

মার্কসীয় তত্ত্বের মূলনীতি (ইংরেজি: Basic Principles of Marxism) হিসেবে সাধারণত ৬টি নীতি বিশেষভাবে বিবেচিত হয়। এগুলো যথাক্রমে হলো ১. দ্বান্দ্বিক বস্তুবাদ, ২. ঐতিহাসিক বস্তুবাদ, ৩. শ্রেণিসংগ্রাম, ৪. উদ্বৃত্ত মূল্যের তত্ত্ব, ৫. বিপ্লব বিষয়ক তত্ত্ব এবং ৬. রাষ্ট্রতত্ত্ব। এই নীতিগুলোর মধ্যে এখানে ঐতিহাসিক বস্তুবাদ নিয়ে আলোচনা করা হলো। ঐতিহাসিক বস্তুবাদ (ইংরেজি Historical materialism) বা ইতিহাসের বস্তুবাদী ধারনা (ইংরেজি Materialist conception of history) হচ্ছে সমাজ বিকাশের সর্বাধিক সাধারণ নিয়মাবলী ও চালিকাশক্তি সম্পর্কিত তত্ত্ব এবং মার্কসবাদী-লেনিনবাদী দর্শনের অঙ্গীভূত অংশ। এক কথায় সমাজজীবনের অনুশীলনে দ্বান্দ্বিক বস্তুবাদের মূলনীতিগুলোর প্রয়োগকে বলা হয় ঐতিহাসিক বস্তুবাদ। সামাজিক জীবনধারাRead More


লেনিনের বই বস্তুবাদ ও প্রত্যক্ষ-বিচারবাদের ওপরে আলোচনা

বস্তুবাদ ও প্রত্যক্ষ-বিচারবাদ ভ্লাদিমির লেনিন লেখেন ১৯০৯ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে অক্টোবর মাসে। এই গ্রন্থে তিনি মার্কসবাদী দর্শনের বিরোধীদের স্বরূপ উদঘাটন করেন। তিনি এই গ্রন্থে আরো দেখান যে দর্শন ও রাজনীতির মধ্যে ঘনিষ্ঠ সংযোগ বর্তমান।[১] এই গ্রন্থটির পুরো নাম বস্তুবাদ ও প্রত্যক্ষ-বিচারবাদ: এক প্রতিক্রিয়াশীল দার্শনিক মত প্রসঙ্গে বিচারমূলক মন্তব্য (ইংরেজিতে: Materialism and Empirio-criticism: Critical Comments on a Reactionary Philosophy)। লেনিনের জীবদ্দশায় গ্রন্থটির দুটি সংস্করণ প্রকাশিত হয়, প্রথম সংস্করণ প্রকাশিত হয় ১৯০৯ সালে এবং দ্বিতীয় সংস্করণ প্রকাশিত হয় ১৯২০ সালে। ১৯০৮ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে অক্টোবরের মধ্যে প্রায় নয় মাস সময় নিয়ে লেনিনRead More


মার্কসবাদের তাত্ত্বিক ভিত্তি দ্বান্দ্বিক বস্তুবাদ

হেগেলের দ্বন্দ্ববাদ ও ফয়েরবাখের বস্তুবাদ থেকে সংশ্লেষণের মাধ্যমে এসেছে মার্কসীয় দ্বান্দ্বিক বস্তুবাদ। অর্থাৎ হেগেলের দ্বন্দ্ববাদ ও ফয়েরবাখের বস্তুবাদের সমালোচনার মধ্য দিয়ে মার্কসবাদের অন্যতম একটি উপাদানের উদ্ভব হয়েছে। মার্কস হেগেলের ভাববাদ বর্জন করে তাঁর দ্বন্দ্ববাদকে এবং ফয়েরবাখের যান্ত্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বর্জন করে তাঁর বস্তুবাদকে গ্রহণ করে যে দর্শন গড়ে তোলেন তাকেই দ্বান্দ্বিক বস্তুবাদ (ইংরেজি: Dialectical Materialism) বলা হয়। দ্বান্দ্বিক বস্তুবাদ হচ্ছে বাস্তবতা বুঝবার পথ, এই বাস্তবতা হতে পারে চিন্তাসমূহ, আবেগসমূহ, বা বস্তুগত দুনিয়া। সহজভাবে বলতে গেলে এই প্রণালীবিদ্যা হচ্ছে দ্বন্দ্ববাদ এবং বস্তুবাদের সংশ্লেষণ। মার্কসবাদের তাত্ত্বিক ভিত্তি হচ্ছে এই বস্তুবাদী দ্বন্দ্বতত্ত্ব আর সাম্যবাদRead More