Main Menu

প্রলেতারিয়েত

 
 

চীনা সমাজের শ্রেণি বিশ্লেষণ — মাও সেতুং

মার্চ ১৯২৬ কমরেড মাও সে তুং এই প্রবন্ধটি লিখেছিলেন ১৯২৬ সালের মার্চ মাসে। সে সময়ে পার্টির ভেতরে যে দু’ধরনের বিচ্যুতি ছিলো, তার বিরোধিতা করার জন্যই তিনি এই প্রবন্ধটি লিখেছিলেন। তৎকালে পার্টির ভেতরকার প্রথম বিচ্যুতির প্রবক্তা ছিল ছেন তুসিউ। এরা কেবলমাত্র কুওমিনতাঙের সঙ্গে সহযোগিতা করতেই মনোযোগ দিয়েছিল এবং কৃষকদেরকে ভুলে গিয়েছিল—এটা ছিল দক্ষিণপন্থী সুবিধাবাদ। দ্বিতীয় বিচ্যুতির প্রবক্তা ছিল চাং কুও-থাও। এরা কেবলমাত্র শ্রমিক-আন্দোলনের উপরই মনোযোগ দিয়েছিল এবং তারাও ভুলে গিয়েছিল কৃষকদেরকে—এটা ছিল ‘বামপন্থী’ সুবিধাবাদ। বিপ্লবের শক্তির অপর্যাপ্ততা সম্বন্ধে উভয় সুবিধাবাদী বিচ্যুতির সমর্থকরাই সচেতন ছিলো। কিন্তু উভয়ের কেউই জানত না যে, কোথায়Read More


নয়া গণতান্ত্রিক বিপ্লব প্রসঙ্গে লেনিনবাদ

নয়া গণতান্ত্রিক বিপ্লব হচ্ছে মাও সেতুং কর্তৃক সৃষ্ট একটি বৈপ্লবিক মতবাদ। লেনিন এই মতবাদের পূর্ব প্রতিনিধি, যিনি এই বিপ্লবের গোড়াপত্তন এবং বিশ্লেষণ প্রদান করেন। যদিও লেনিন নয়া গণতন্ত্র শব্দটি ব্যবহার করেননি, তদুপরি তিনি বুর্জোয়াদের দ্বারা সম্পন্ন বিপ্লবের সাথে সাম্যবাদীদের দ্বারা সম্পন্ন বিপ্লবের পার্থক্যরেখাগুলো ফুটিয়ে তুলেছেন। আমরা মাও সেতুংয়ের আলোচনায় তেমন গুরুত্ব না দিয়ে লেনিনের ধারণাসমূহকে বোঝার চেষ্টা করব। লেনিন বুর্জোয়াদের দ্বারা সাধিত বুর্জোয়া গণতান্ত্রিক বিপ্লবের বিশ্লেষণের সাথে সাথে সাম্যবাদী প্রলেতারিয়েতের দ্বারা সাধিত নয়া গণতান্ত্রিক বিপ্লবের কর্মসূচি হাজির করেন। তিনি প্রলেতারিয়েতের কর্তৃত্বে অ নেতৃত্বে অর্জিত গণতন্ত্রকে বলেছেন প্রলেতারিয় গণতন্ত্র। তাঁর কাছেRead More


শ্রমিক ও যন্ত্রের বিরোধ এবং লুডবাদী আন্দোলন

ইউরোপের শিল্প বিপ্লবের ফলে একদিকে পুরোনো হস্তশিল্প ও কুটিরশিল্প ধ্বংসপ্রাপ্ত হয় আর অন্যদিকে শহরে শহরে যন্ত্রভিত্তিক শিল্পকারখানা প্রতিষ্ঠিত হয়।  শিল্প বিপ্লবের শুরুর দিকে পুঁজিবাদের নানা ক্ষতিকর অনুষঙ্গের আবির্ভাবের কারণে নতুনতর যন্ত্রপাতির নিয়োগ, অবাধ প্রতিযোগিতা, অতি উৎপাদন, মন্দা, ছাঁটাই ইত্যাদি ঘটতে থাকে এবং কর্মহীন বেকার মানুষ বাড়তে থাকে। সচেতন, রাজনৈতিক জ্ঞানসমৃদ্ধ শ্রমিকশ্রেণি পরিচালিত শ্রেণিসংগ্রাম সংগঠিত হবার পূর্বে এসব বেকার ও কর্মচ্যুত মানুষের মধ্যে এরূপ মনোভাবের উদয় হয়েছিল যে তারা বুঝেছিল তাদের এই দুরবস্থার জন্য যন্ত্র এবং কারখানাই দোষী। অষ্টাদশ শতকে একদল শ্রমিক এরূপ চিন্তা থেকে কারখানার যন্ত্রপাতি ধ্বংস করার নীতি গ্রহণRead More


দ্বৈত ক্ষমতা — ভি আই লেনিন

প্রত্যেকটি বিপ্লবেরই মূল প্রশ্ন হলো রাষ্ট্রক্ষমতার প্রশ্ন। এই প্রশ্নটি উপলব্ধ না হলে বিপ্লবে সজ্ঞান অংশগ্রহণ সম্ভবপর হতে পারে না, বিপ্লব পরিচালনার তো কথাই ওঠে না। আমাদের বিপ্লব সৃষ্টি করেছে দ্বৈত ক্ষমতা, এই হলো তার খুবই লক্ষণীয় বৈশিষ্ট্য। এই ঘটনাটিকে সর্বাগ্রে উপলব্ধি করতে হবে: এটা না বুঝলে আমরা এগোতে পারি না। আমাদের জানতে হবেই কী করে সম্পূরণ আর সংশোধন করতে হয় সাবেক “সূত্ৰগুলিকে”, যেমন বলশেভিকবাদের “সূত্ৰকে”, কেননা মোটের উপর সঠিক দেখা গেলেও সেগুলির সুনির্দিষ্ট বাস্তবায়ন পৃথক প্রতিপন্ন হয়েছে। দ্বৈত ক্ষমতার কথা আগে কেউ ভাবে নি, ভাবতে পারতও না । এই দ্বৈতRead More


সংবিধান সভা সম্বন্ধে থিসিস — ভি আই লেনিন

১. সংবিধান সভা বসাবার দাবিটা ছিলো বৈপ্লবিক সোশ্যাল-ডেমোক্রাসির কর্মসূচির খুবই ন্যায়সংগত একটা অঙ্গ, তার কারণ কোনো বুর্জোয়া প্রজাতন্ত্রে সংবিধান সভা হলো গণতান্ত্রিকতার সর্বোচ্চ আকার, আর কারণ হলো এই যে, কেরেনস্কির নেতৃত্বাধীন সাম্রাজ্যবাদী প্রজাতন্ত্র প্রাক-পার্লামেণ্ট স্থাপন করার সাহায্যে নির্বাচনে জয়াচুরি এবং নানা উপায়ে গণতান্ত্রিকতা লঙ্ঘনের আয়োজন করছিলো। ২. সংবিধান সভা বসাবার দাবি তোলার সঙ্গে সঙ্গে বৈপ্লবিক সোশ্যাল-ডেমোক্রাসি ১৯১৭ সালের বিপ্লবের শুরু থেকে বারংবার জোর দিয়ে বলেছে, সংবিধান সভা সহ সাধারণ বুর্জোয়া প্রজাতন্ত্রের চেয়ে উন্নততর আকারের গণতান্ত্রিকতা হলো সোভিয়েত প্রজাতন্ত্র। ৩. বুর্জোয়া ব্যবস্থা থেকে সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থায় উত্তরণের জন্য, প্রলেতারিয়েতের একনায়কত্বের জন্য (শ্রমিক,Read More


সোভিয়েত সরকারের আশু কর্তব্য সম্পর্কে ছয়টি থিসিস—ভি আই লেনিন

১. সোভিয়েত প্রজাতন্ত্রের আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি অতিমাত্রায় সুকঠিন ও সংকটাকীর্ণ, কেননা আন্তর্জাতিক পুঁজি ও সাম্রাজ্যবাদের অতি সুগভীর ও মূলগত স্বার্থই তাকে প্রবৃত্ত করছে শুধু রাশিয়ার ওপর সামরিক হানার প্রয়াসে নয়, রাশিয়াকে ভাগ-বাটোয়ারা করে নিয়ে সোভিয়েত শক্তিকে শ্বাসরুদ্ধে করার একটা রফাতেও। শুধু পশ্চিম ইউরোপে জাতিদের সাম্রাজ্যবাদী যুদ্ধের তীব্রতা এবং দুরপ্রাচ্যে জাপান ও আমেরিকার মধ্যে সাম্রাজ্যবাদী প্রতিযোগিতা এই প্রয়াসকে অচল অথবা সংযত করছে, তাও কেবল অংশত এবং খুব সম্ভব খানিকটা সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য। সেই কারণে সোভিয়েত প্রজাতন্ত্রের অত্যাবশ্যক রণকৌশল হওয়া উচিত: একদিকে, দেশের দ্রুততম অর্থনৈতিক উন্নয়ন, তার প্রতিরক্ষা সামর্থ্য বৃদ্ধি, পরাক্রান্ত সমাজতান্ত্রিক ফৌজRead More


আশ্চর্য ভবিষ্যতবাণী —ভি আই লেনিন

ঈশ্বরের কৃপায় আজকাল আর কেউ দৈবরহস্যে বিশ্বাসী নয়। বিস্ময়কর দৈববাণী এখন রপকথার গল্প। কিন্তু বৈজ্ঞানিক ভবিষ্যদ্বাণী সত্য বটে। আর আজকাল যখন প্রায়ই লজ্জাকর হতাশা এবং এমন কি নৈরাশ্যও দেখা যায় তখন এমন একটি বৈজ্ঞানিক ভবিষ্যদ্বাণী স্মরণ করা যাক যা সত্য প্রমাণিত হয়েছে। ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস ১৮৮৭ সালে সিগিজমুন্ডে বর্কখেইম লিখিত ‘১৮০৬-১৮০৭ সালের জামার্ন শ্রেষ্ঠ দেশপ্রেমিকদের স্মরণে’ (‘Zur Erinnerung für die deutschen Mordspatrioten 1806-1807″) পুস্তিকার মুখবন্ধে  আসন্ন যুদ্ধ সম্পর্কে লিখেছিলেন। (এটা হল ১৮৮৮ সালে হটিঙ্গেন-জুরিখ থেকে ‘সোশ্যাল-ডেমোক্র্যাটিক লাইব্রেরি’ প্রকাশিত পুন্তিকা নং XXIV.) ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস ত্রিশ বছরের বেশি সময় আগে এভাবেই ভাবী বিশ্বযুদ্ধRead More


প্রলেতারিয়েতগণ অষ্টাদশ শতক পরবর্তীকালের শ্রমশক্তি বিক্রিকারী শ্রমিক শ্রেণি

প্রলেতারিয়েত (ইংরেজিতে Proletariat) হচ্ছে পুঁজিবাদী সমাজের অন্যতম প্রধান শ্রেণি। প্রলেতারিয়েত হচ্ছে উৎপাদনের উপায় থেকে বঞ্চিত মজুরি শ্রমিকের শ্রেণি, যারা নিজ শ্রমশক্তি বিক্রয় করে জীবনধারণ করে এবং বুর্জোয়াদের দ্বারা শোষিত হয় সাম্যবাদী ও শ্রমিক শ্রেণির পার্টির নেতৃত্বে সামাজিক প্রগতি ও শান্তির লক্ষ্যে প্রলেতারিয়েত পুঁজিবাদের বিরুদ্ধে সকল নিপীড়িত ও শোষিত জনগণের সংগ্রাম পরিচালনা করে।[১] প্রলেতারিয়েত বা প্রলেতারিয়ানদের শ্রেণিকে ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস বলেছেন উনিশ শতকের শ্রমিক শ্রেণি এবং সাম্যবাদকে বলেছেন প্রলেতারিয়েতের মুক্তির পদ্ধতি সংক্রান্ত মতবাদ। তিনি তাঁর ‘কমিউনিজমের নীতিমালা’ নামক লেখায় এ সম্পর্কে ১০টি প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন। প্রলেতারিয়েত কী প্রশ্নের উত্তরে তিনি লিখেছেন, “প্রলেতারিয়েতRead More


সদর দফতরে কামান দাগো — মাও সেতুং

আমার প্রথম বড় হরফের পোস্টার চিনের প্রথম মার্কসবাদী-লেনিনবাদি বড় হরফের পোস্টার এবং ‘পিপলস ডেইলি’-তে এর উপর ভাষ্যকারের নিবন্ধ_এগুলো বাস্তবিকই চমৎকারভাবে লিখিত। কমরেডগণ, এগুলো পুনরায় পড়ুন। কিন্তু বিগত পঞ্চাশ দিন বা অনুরূপ সময়ে কেন্দ্র থেকে শুরু করে নিচে স্থানীয় স্তর পর্যন্ত কিছু নেতৃস্থানীয় কমরেড পুরোপুরি উল্টোভাবে কাজ করেছে। বুর্জোয়াদের প্রতিক্রিয়াশীল অবস্থান গ্রহণ করে তারা এক বুর্জোয়া একনায়কত্ব চাপিয়ে দিয়েছে এবং সর্বহারার মহান সাংস্কৃতিক বিপ্লবের উত্তাল তরঙ্গময় আন্দোলনকে আঘাত করেছে। তারা তথ্যগুলোকে উল্টে দিয়েছে এবং কালো ও সাদাকে গুলিয়ে ফেলেছে, বিপ্লবীদেরকে ঘেরাও করেছে ও দমন করেছে, তাদের নিজেদের থেকে ভিন্ন এমন মতামতগুলোকেRead More


মার্কস ও নিউ রাইনিশ গেজেট — ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস

আমরা যাকে জার্মান কমিউনিস্ট পার্টি বলতাম, ফেব্রুয়ারি বিপ্লবের আরম্ভে তা ছিলো শুধু একটি স্বল্পসংখ্যকের কোষকেন্দ্র, ছিল গোপন প্রচারমূলক সমিতি হিসাবে সংগঠিত কমিউনিস্ট লীগ। সেই সময়ে জার্মানিতে সংঘ ও সভা সমিতির কোনো অধিকার ছিলো না বলেই লীগকে গুপ্ত সংগঠন হতে হয়েছিলো। বিদেশের বিভিন্ন শ্রমিক সংস্থা থেকে লীগ তার সদস্য সংগ্রহ করতো। এইসব সংস্থা ছাড়াও জার্মান দেশেই এর প্রায় ত্রিশটি সমিতি বা বিভাগ ছিলো আর নানা জায়গায় বিচ্ছিন্নভাবে সদস্য ছিলো। এই ক্ষুদ্র সংগ্রামী বাহিনীর ছিলো একজন প্রথম শ্রেণির নেতা। তিনি মার্কস। সবাই স্বেচ্ছায় তার নেতৃত্ব মেনে নিত। আর তাঁরই দৌলতে লীগ নীতিRead More