You cannot copy content of this page
আপনি যা পড়ছেন
মূলপাতা > Posts tagged "বাস্তববাদী কবিতা"

বুড়ি বসন্ত

ফুল থাক ফুলের মতো/ খাঁড়া খাঁড়ার মতো/ ফুল তুলে কেউ যেন আমাকে কাটতে/ খাড়া তুলে কেউ আমাকে/ যেন গন্ধ শোঁকাতে না আসে/ যার যে জায়গা/ সেখানেই সে যেন/ মাটি কামড়ে প’ড়ে থাকে/ জল থাক জলের মতো/ আগুন আগুনের মতো/ এ ওর পা মাড়িয়ে দিয়ে/ জল যেন জ্বালাতে/ আগুন যেন জুড়োতে না চায় আরো পড়ুন

অগত্যা

তিন কাল গিয়ে এক কালে ঠেকা বুড়ো/ সব পাতা ঝ’রে গেলে শীতে/ ফু দিয়ে স্মৃতিতে/ একা সে আঁটকুড়ো/ ব’সে ব’সে সারাক্ষণ ফোলায় ফাঁপায় / রঙিন বুদ্বুদ/ যেখানে যা পায়/ মাটিতে লাগিয়ে মুখ খুঁটে খায় খুদ/ পাখিদের মতন হুবহু/ এক থেকে/ সেও হতে চেয়েছিল বহু/ একা তাকে ফেলে রেখে গিয়েছে প্রত্যেকে/ দাঁতে আরো জোর কমবে চোখে কমবে জ্যোতি/ জিভ আরো বেশি করে চাইতে থাকবে নুন-ঝাল-টক/ তখনই ফিরিয়ে নেবে বস্তু তার দেহ থেকে গতি আরো পড়ুন

জল নেমে গেলে পলি

দেবতার থানে ধ’রে দিয়ে পাঁচসিকে/ কিনে নেব ত্রাণ -/ আমরা নই সে চিজ/ হানা দিলে বান/ ডেকে তুলে পড়শিকে/ চলে আমাদের তদন্ত তজবিজ।/ পেটে পড়ে টান,/ পড়ক –/ উঁচুতে টাঙাই শিকে/ পদ্মপাতায় ভালো ক’রে মুড়ে/ মাটির হাঁড়ির মুখ/ হাতের নাগাল থেকে ঢের দূরে/ তুলে রেখে দিই বীজ আরো পড়ুন

একমাত্র তোমাকে সত্য বলে মানি — সমর সেন

একমাত্র তোমাকে সত্য বলে মানি/ দারুণ গ্রীষ্মে অভীপ্সা-ব্যাকুল মন/ তোমার আদেশে শহরের দিগ্বিজয়ে ঘোরে/ তোমার আদেশে সন্ন্যাসীর সাধনা-সঙিন দিনগুলি/ যুবতী-সঙ্কুল আসরে/ সান্ধ্য-সঙ্গীতে সংহত। প্রভু, পৃথিবীতে তোমার লীলা অবিরাম,/ এ্যাসেম্বলি – হলে বিরহছলে মিলন আনো/ প্রবীণ কবির মুখে আবার আনো/ স্বদেশী গান। আরো পড়ুন

কি বলেন

ভাবছি।/ একটা গাড়ি কিনব ?/ না কি একটা বাড়ি?/ আমার মতে, গাড়িই ভালো –/ না কি বলেন, বাড়ি ।/ বাড়ি হলেও মন্দ হয় না/ কিন্তু দেখুন, গাড়ি –/ কত সুবিধে। মনে করলেই/ ডায়মণ্ডহারবার/ কিংবা ধরুন, উইকেণ্ডে রাঁচি! আরো পড়ুন

হেঁ-হেঁ আলির ছড়া

কাণ্ড মহকুমার সদরে ভাই দেখে এলাম কাণ্ড একজন ডালে একজন পাতায় খোঁজে গাছের কাণ্ড দেখতে তালপাতার সেপাই মাথাগুলো প্রকাণ্ড তাকায় না ফলফুলে লক্ষ্য একদম মূলে বলে না অবিশ্যি খুলে তারা ছাড়া বাকি সবাই কেন অকালকুষ্মাণ্ড এ কয় ওরে, শিখো রে পৌঁছুতে হয় কী ক'রে সোজা সটান শিকড়ে— ব'লে যেই না হাত দেয় ছেড়ে চিৎ ক'রে দেয় ব্রহ্মাণ্ড।। বাঘে চরাতে নিয়ে গেছিলম গো মালিক তিন শো শব্দ গো মালিক তিন

মেজাজ

থলির ভেতর হাত ঢেকে শাশুড়ি বিড় বিড় ক'রে মালা জপছেন; বউ গটগট করে হেটে গেল। আওয়াজটা বেয়াড়া; রোজকার আটপৌরে নয়। যেন বাড়িতে ফেরিওয়ালা ডেকে শখ করে নতুন কেনা হয়েছে। সুতরাং মালাটা থেমে গেল; এবং চোখ দুটো বিষ হয়ে ঘাড়টাকে হেলিয়ে দিয়ে যেদিকে বউ যাচ্ছিল সেইদিকে ঢ'লে পড়ল। নিচের চোয়ালটা সামনে ঠেলে দাঁতে দাঁত লাগল। বিলক্ষণ রাগ দেখিয়ে পরমুহূর্তেই শাশুড়ির দাঁত চোখ ঘাড় চোয়াল যে যার জায়গায়

পুপে

মেয়ে আমার পুপে যখনই যায় ছাতে ছোট্ট ছোট্ট হাতে প্রকান্ড নীল আকাশটা চায় না দিলে নেয় লুফে। পুপে যখন বড় হবে তখন অন্য বায়না মেলায় কিনে দিতে হবে চিরুনি আর আয়না। আমি যতই হই না কেন আলসে, বাপের ঘরে থাকবে নাকো জানি চিরকাল সে। সিঁদুর পরতে গিয়ে যখন খুলবে রুপোর কৌটো: হঠাৎ মনে হতেও পারে কী যেন তার ছিল। হয়ত তখন খুলে দেখবে মুঠো প্রকান্ড নীল সেই

ড্যাং ড্যাং ক’রে

এক পায়ে ঊর্ধ্ব বাহু হয়ে দাঁড়িয়ে জটাধারী একটি গাছ ঝুঁকে প'ড়ে যত দেখে তত অবাক হয়— ট্যাঁকে বাচ্চা নিয়ে এ বাড়ি ও বাড়ি বাসন মাজে রাত্তিরে গাছতলায় মাদুর বিছিয়ে শোয় যে মেয়েকে স্বামীও নেয় না যমেরও অরুচি — ছি ছি! আবার তার ছেলে হবে! জলের কলে সেই লজ্জাকে ঢাকতে হাঁটি- হাঁটি পায়ে মার হাতে ছেঁড়া শাড়িটা এগিয়ে দেয় লজ্জাকে মাথার মণি করা ছোট্ট একটি জীবন— ক'দিন

কেন এল না

সারাটা দিন ছেলেটা নেচে নেচে বেড়িয়েছে। রাস্তায় আলো জ্বলছে অনেকক্ষণ এখনও বাবা কেন এল না, মা? বলে গেল মাইনে নিয়ে সকাল- সকাল ফিরবে। পুজোর যা কেনাকাটা এইবেলা সেরে ফেলতে হবে। বলে গেল। সেই মানুষ এখনও এলো না। কড়ার গায়ে খুন্তিটা আজ একটু বেশি রকম নড়ছে। ফ্যান গালতে গিয়ে পা-টা পুড়ে গেল। জানালার দিকে মুখ করে ছেলেটা বই নিয়ে বসল মাদুরে সামনে ইতিহাসের পাতা খোলা— ঘড়িতে টিকটিক

Top