Main Menu

সমাজতান্ত্রিক আন্দোলন

 
 

নিকারাগুয়ায় সমাজতান্ত্রিক আন্দোলন এবং বিপ্লবের পরাজয়

নিকারাগুয়া মধ্য আমেরিকার একটি ক্ষুদ্র দেশ। এই অঞ্চলের অন্যান্য দেশের মত নিকারাগুয়াও স্প্যানিশ সাম্রাজ্যবাদের দ্বারা নিপীড়িত দেশ ছিল এবং ১৮২১ সালে নিকারাগুয়া জাতীয় স্বাধীনতা লাভ করে। জাতীয় স্বাধীনতা লাভ করলেও নিকারাগুয়ার অর্থনীতিতে মার্কিন কর্তৃত্ব স্থাপিত হয় এবং দেশের রেলওয়ে, ব্যাংক, খনিজ সম্পদ সব কিছুই মার্কিন পুঁজি ও মার্কিন| কোম্পানী দ্বারা পরিচালিত হতে থাকে। দেশের তথাকথিত স্বাধীন সরকার ও সেনাবাহিনীও মার্কিন সরকারের প্রভাবাধীন হয়ে পড়ে এবং মার্কিন সৈন্যও নিকারাগুয়াতে অবস্থান করতে থাকে। এই অবস্থার বিরদ্ধে ১৯২৬ সালে নিকারাগুয়াতে এক বিদ্রোহ আরম্ভ হয়। এই বিদ্রোহের নেতা ছিলেন নিকারাগুয়ারই এক সেনানায়ক—জেনারেল সিজার অগাস্টোRead More


কিউবার সমাজতান্ত্রিক আন্দোলন ও ক্যাস্ত্রো প্রসঙ্গে

কিউবা (Cuba ) বর্তমান পৃথিবীর একটি অন্যতম সমাজতন্ত্র অভিমুখী দেশ এবং মধ্য ও দক্ষিণ আমেরিকার সমাজতান্ত্রিক আন্দোলন কিউবার সাফল্য দ্বারা বিশেষ ভাবে অনুপ্রাণিত। দীর্ঘকাল কিউবা ছিলো সাম্রাজ্যবাদী স্পেন দ্বারা নিপীড়িত একটি ক্ষুদ্র দেশ। ১৮৬৮ সালের স্পেনের বিরুদ্ধে কিউবার বিদ্রোহ দশ বৎসর কাল স্থায়ী হলেও শেষ পর্যন্ত তা ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়। ১৮৯৫ সালে কিউবায় আবার বিদ্রোহ দেখা দেয় এবং সেই সময় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রও স্পেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে। যুদ্ধে স্পেন পরাজিত হয় এবং কিউবা স্বাধীনতা লাভ করলেও কার্যত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের উপনিবেশ ও কর্তৃত্বই সেখানে স্থাপিত হয়। প্রতিবেশী রাষ্ট্রসমুহের তুলনায় কিউবার অর্থনৈতিকRead More


স্পেনের গৃহযুদ্ধ প্রসঙ্গ এবং প্রাসঙ্গিক ইতিহাস

স্পেনে ১৯৩১ সালে রাজতন্ত্রের পরিবর্তে প্রজাতন্ত্র স্থাপিত হয়। ১৯৩১ এবং ১৯৩৩ সালের নির্বাচনে ডানপন্থী ও মধ্যপন্থিরা জয়লাভ করে। নতুন সরকার অভিজাত শ্রেণির ক্ষমতা ও প্রতিপত্তি খর্ব করে বিভিন্ন আইন প্রণয়নের চেষ্টা করে। স্পেনে শক্তিশালী মধ্যবিত্ত শ্রেণি না থাকায় এই নতুন গণতান্ত্রিক সরকারের ভিত্তি অত্যন্ত দুর্বল হয়ে পড়ে। বামপন্থী এবং দক্ষিণপন্থী কোনো গোষ্ঠীই এই সরকারকে সমর্থন করে না। বামপন্থীদের দৃষ্টিতে এই সরকার ছিলো রক্ষণশীল আর দক্ষিণপন্থীরা এই সরকারকে অতিবৈপ্লবিক বলে মনে করে। এই অবস্থায় সরকারের মধ্যপন্থা নীতি জনসাধারণের বিশেষ সমর্থন লাভ করতে পারে না। ১৯৩৬ সালের স্পেনের সাধারণ নির্বাচনে বামপন্থী পপুলারRead More


নয়া গণতান্ত্রিক বিপ্লব প্রসঙ্গে লেনিনবাদ

নয়া গণতান্ত্রিক বিপ্লব হচ্ছে মাও সেতুং কর্তৃক সৃষ্ট একটি বৈপ্লবিক মতবাদ। লেনিন এই মতবাদের পূর্ব প্রতিনিধি, যিনি এই বিপ্লবের গোড়াপত্তন এবং বিশ্লেষণ প্রদান করেন। যদিও লেনিন নয়া গণতন্ত্র শব্দটি ব্যবহার করেননি, তদুপরি তিনি বুর্জোয়াদের দ্বারা সম্পন্ন বিপ্লবের সাথে সাম্যবাদীদের দ্বারা সম্পন্ন বিপ্লবের পার্থক্যরেখাগুলো ফুটিয়ে তুলেছেন। আমরা মাও সেতুংয়ের আলোচনায় তেমন গুরুত্ব না দিয়ে লেনিনের ধারণাসমূহকে বোঝার চেষ্টা করব। লেনিন বুর্জোয়াদের দ্বারা সাধিত বুর্জোয়া গণতান্ত্রিক বিপ্লবের বিশ্লেষণের সাথে সাথে সাম্যবাদী প্রলেতারিয়েতের দ্বারা সাধিত নয়া গণতান্ত্রিক বিপ্লবের কর্মসূচি হাজির করেন। তিনি প্রলেতারিয়েতের কর্তৃত্বে অ নেতৃত্বে অর্জিত গণতন্ত্রকে বলেছেন প্রলেতারিয় গণতন্ত্র। তাঁর কাছেRead More


নিরীক্ষকের পরামর্শ — ভি আই লেনিন

এই পঙক্তিগুলি লিখছি ৮ অক্টোবর, সামান্যই আশা আছে যে তা ৯ তারিখে পেত্রগ্রাদের কমরেডদের হাতে পৌছবে। সম্ভবত বিলম্ব হবে, কেননা উত্তরাঞ্চলের সোভিয়েতগুলির কংগ্রেস নির্ধারিত হয়েছে ১০ অক্টোবর। তাহলেও আমার ‘নিরীক্ষকের পরামর্শ’[Advice of an Onlooker] পেশ করতে চেষ্টা করছি এই ঘটনাচক্রের জন্য যে পেত্রগ্রাদ ও গোটা অঞ্চলের শ্রমিক ও সৈনিকদের সম্ভাব্য অভিযান অচিরেই শুরু হবে, কিন্তু এখনো হয় নি। সমস্ত ক্ষমতা যে সোভিয়েতগুলির হাতে আনতে হবে তা স্পষ্ট। তেমনি প্রত্যেক বলশেভিকের কাছে এটাও তর্কাতীত হওয়া উচিত যে সাধারণভাবে সারা বিশ্বের এবং বিশেষত যুধ্যমান দেশগুলির মেহনতী ও শোষিতদের পক্ষ থেকে, বিশেষ করেRead More


এক দেশে সমাজতন্ত্র, স্তালিন ত্রতস্কি বিতর্ক

এক দেশে সমাজতন্ত্রের (Socialism in one country) তত্ত্বটি মূলত ভ্লাদিমির লেনিনের উদ্ভাবিত। ১৯২৪ সালে ইওসিফ স্তালিন এটিকে সামনে নিয়ে আসেন, ১৯২৫ সালে নিকোলাই বুখারিন এটিকে বিস্তৃত করেন এবং অবশেষে সোভিয়েত ইউনিয়ন এটিকে রাষ্ট্রীয় নীতি হিসেবে গ্রহণ করে। ইউরোপে ১৯১৭-১৯২১ সালের ভেতরে জার্মানি এবং হাংগেরিতে প্রলেতারিয় বিপ্লবের পরাজয় বলশেভিকদের আসন্ন বিশ্ব-বিপ্লবের আশাকে শেষ করে দেয় এবং স্তালিনকে “এক দেশে সমাজতন্ত্রের” ধারনাকে বিকশিত করতে বাধ্য করে। মার্কসবাদে, এই ঘটনার পূর্বে, বলা হতো যে সমাজতন্ত্র অবশ্যই গোটা পৃথিবীতে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে; এবং এখান থেকেই লিওঁ ত্রতস্কি’র সাথে “চিরস্থায়ি বিপ্লবের” বিতর্কে স্তালিনসহ অনেক বিশেষজ্ঞRead More


বিশ্বজুড়ে মার্কসবাদ, মুক্তি কোন পথে

মার্কসবাদের উদ্ভব উনিশ শতকে হলেও বিশ শতকে এই মতবাদের প্রায়োগিক দিক জাজ্বল্যমানরূপে দেখা দেয়। ১৯১৭ সালের রুশ বিপ্লবের পর একে একে ষোলটি রাষ্ট্র, পৃথিবীর জনসংখ্যার প্রায় এক তৃতীয়াংশ মার্কসবাদী বিশ্বের বাস্তব উদাহরণ হয়ে ওঠে। সোভিয়েত ইউনিয়ন, পোল্যান্ড, পূর্ব জার্মানি, হাঙ্গেরি, বুলগেরিয়া, চেকশ্লোভাকিয়া, রুমানিয়া, যুগোশ্লাভিয়া, আলবেনিয়া, চীন, উত্তর কোরিয়া, মঙ্গোলিয়া, ভিয়েতনাম, লাওস, কম্বোডিয়া, কিউবা সমাজতন্ত্র অভিমুখী দেশ হিসেবে আবির্ভূত হয়। পৃথিবীর দেশে দেশে মার্কসবাদী দল ক্রমাগত বিস্তার লাভ করতে থাকে। কিন্তু অর্ধ শতক যেতে না যেতেই সমাজতন্ত্র অভিমুখী দেশসমূহের ভেতরে শুরু হলো আলোড়ন। ১৯৬০-এর দশকের মহাবিতর্কে দেশে দেশে মার্কসবাদী রাজনৈতিক দলগুলোRead More


মতামত

অনুপ সাদির সমাজতন্ত্র বিষয়ক বই অনুপ সাদির বই সমাজতন্ত্র, প্রচ্ছদ: ধ্রুব এষ, লেখক অনুপ সাদির সমাজতন্ত্র নামের গ্রন্থটি ফেব্রুয়ারি, ২০১৫-তে প্রকাশিত হয় ভাষাপ্রকাশ, ঢাকা থেকে। গ্রন্থটির মোট পৃষ্ঠাসংখ্যা ১৩৬ এবং মূল্য ২০০ টাকা। এখানে গ্রন্থটির ভূমিকা দেয়া হলো। ভূমিকা: সমাজতন্ত্র শুধু সমাজবিজ্ঞান, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বা দর্শনের আলোচনার বিষয় নয়, এ-সম্পর্কিত আলোচনা ও ক্রিয়া আমাদের অনেকের দৈনন্দিন জীবনের অংশ। অথচ এ-বিষয়ে পুস্তকের অভাব থেকেই গেছে। তাই বিষয়টি সম্পর্কে বাংলা ভাষার পাঠকদের প্রাথমিক ধারণা দেবার উদ্দেশ্যে এই বইটি লেখা হয়েছে। এ-গ্রন্থে সমাজতন্ত্র সম্পর্কিত তাত্ত্বিক বিষয়গুলোর সাথে এর প্রায়োগিক দিকের আলোচনা করবার চেষ্টা করাRead More