Main Menu

সমাজ

 
 

যুব লীগের কর্তব্য — ভি. আই. লেনিন

১৯২০ সালের ২ অক্টোবর রাশিয়ার কমিউনিস্ট যুবলীগের তৃতীয় সারা রাশিয়া কংগ্রেসে ভাষণ (লেনিনের উদ্দেশে কংগ্রেসের তুমূল অভিনন্দনোচ্ছাস।)। কমরেডগণ, আমি আজ আলোচনা করতে চাই যুব কমিউনিস্ট লীগের মূল কর্তব্য কী এবং এই প্রসঙ্গেই, সমাজতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্রে সাধারণভাবে যুবজনের কীরূপ সংগঠন হওয়া উচিত তাই নিয়ে। সমস্যাটি আলোচনা করা আরও আবশ্যক এইজন্য যে, কমিউনিস্ট সমাজ সৃষ্টির সত্যিকার কর্তব্য পড়বে যুবজনেরই ওপর। কারণ একথা পরিষ্কার যে কর্মীদের যে-পুরুষ পুঁজিবাদী সমাজে মানুষ হয়েছে তারা শোষণের ওপর প্রতিষ্ঠিত সাবেকী পুঁজিবাদী সমাজ জীবনের বুনিয়াদটাই বড়ো জোর ধ্বংস করতে পারে। বড়ো জোর এমন একটা সমাজব্যবস্থা সৃষ্টির কর্তব্য পালন করতেRead More


সমাজতন্ত্র প্রলেতারিয়েতের মুক্তির পদ্ধতি সংক্রান্ত মতবাদ

সমাজতন্ত্র বা সমাজবাদ (ইংরেজি: Socialism) হচ্ছে এমন একটি সামাজিক এবং অর্থনৈতিক ব্যবস্থা যার বৈশিষ্ট্য হচ্ছে উৎপাদনের উপকরণের সামাজিক মালিকানা এবং অর্থনীতির একটি সমবায়ভিত্তিক ব্যবস্থাপনা। এছাড়াও একই সাথে এটি একটি রাজনৈতিক মতবাদ ও আন্দোলন যার লক্ষ্য হচ্ছে এই ধরনের সমাজব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা। অর্থাৎ এটি এমন একটি সামাজিক ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থা যেখানে সম্পদ ও অর্থের মালিকানা সামাজিক বা রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণাধীন অর্থাৎ এতে কোনো ব্যক্তিমালিকানা থাকে না। সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থায় জনসাধারণের প্রয়োজন অনুসারে দ্রব্য উৎপাদন হয়। সমাজতান্ত্রিক অর্থনীতিতে একটি দেশের কলকারখানা, খনি, জমি ইত্যাদি সামাজিক, সর্বজনীন বা রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি হিসেবে পরিগণিত হয়। সর্বজনীন ভূমি,Read More


সমাজতন্ত্র ও সাম্যবাদের পার্থক্যরেখাগুলো কোথায় ও কীভাবে?

সাম্যবাদী সমাজের গঠনের ধারনা গড়ে উঠেছে তার দুটি পর্ব বা স্তর বা ধাপ সমাজতন্ত্র (Socialism) ও সাম্যবাদের (Communism) বৈশিষ্ট্যকে নিয়ে। এই দুই পর্বের মধ্যে অনেক মিল আছে যেহেতু সেগুলো হলও একই ব্যবস্থার দুটি পর্ব। এই দুই পর্বের ভেতরে বেশ কিছু পার্থক্যও বিরাজমান, এবং এই পার্থক্যগুলো সাম্যবাদী সমাজের বিকাশের নিম্নতম ও উচ্চতম পর্বের প্রকাশ। পুঁজিবাদের পতনের পর সামাজিক সম্পর্কের নতুন সাম্যবাদী পর্যায়ে পৌঁছতে হলে প্রথম পর্যায় সমাজতন্ত্রকে অতিক্রম করতে হবে। সাম্যবাদী সমাজে পৌঁছতে হলে সমাজতান্ত্রিক সম্পর্ক সম্পূর্ণকরণের এক জটিল দীর্ঘ, এবং নানাভাবে বৈর এক প্রক্রিয়া পাড়ি দিতে হয়। অন্যভাবে বললে সমাজতন্ত্রেরRead More


স্বপ্নবাজ বীর

আমরা পাশাপাশি দাঁড়িয়ে অশান্ত গ্রহের মাঝে, যেখানে জীবনের স্বপ্নকে গ্রাস করে নকল সুখের মরীচিকারাশি। চিন্তার বিশাল জগতকে আবদ্ধ করতে চায় হতাশায় জড়িত ব্যর্থ নগরবাসি রূপে, এখানে জুজুর ভয়ে মাথা নত করে প্রেমিকেরা।   তবুও স্বপ্ন দেখে, জীবনকে বাঁচিয়ে রেখে, ক্ষুদ্র নুড়ি নিয়ে নিত্য খেলা করি, তার নিচে বাড়তে থাকে আমাদের স্বপ্ন, জমতে থাকে সুপ্ত শক্তিরা। পথ ভুলানো মরীচিকাকে পরাজিত করে বীরেরা যখন আসে ডাঙার মাটি ছুঁতে, নিঃশ্চুপ প্রেমিকেরা তখনই মাথা তুলে, উষ্ণ রক্ত নিয়ে প্রতিবাদে জেগে ওঠে।   ১৮ জুন, ২০১৪, ময়মনসিংহ চিত্রের ইতিহাস: কবিতায় ব্যবহৃত অংকিত চিত্রটি ভিনসেন্ট ভ্যানRead More


কবিতা জানাতে চায়

কবিতা নিরবে পাড়ি দেয় এক যুগ থেকে অন্য যুগে, সে ছবি আঁকে, সিন্দুকে বন্দি থাকা ইতিহাসের কষ্ট নিয়ে, সে প্রশ্ন করে, প্রতিবাদ জানায় সময়ের দাবি তুলে ধরে।   একটি কবিতা জানাতে চায় কৃষকের ন্যায্য পাওনার ভাষা, সভ্যতা গড়ে যে শ্রমিক তার কতটুকু মজুরি? উত্তপ্ত পথকে জুতা আর প্রখর তাপকে ছাতা বানায় যে বৃদ্ধ হকার;— পুঁজির বোঝা ঠেলে ঠেলে প্রশ্ন ওঠে, তাঁদের পাওনার শোধ কতোটা এগোলো?   পথের ফুল জানতে চায় পুঁজির লালসা কেন এতো বেশি কেন শ্রমিকের শত্রু আর কবিতার শত্রুরা এক হয়ে যায়, তাই তরুণ চোখে আগুন জ্বেলে কবিতাRead More


বিভাজন

এক যুগে আমি তোমার দাস আমাকে কেনাবেচা করেছো তোমার বেচাকেনার ঘাটে ঘাটে।   আরেক যুগে আমি তোমার দাস তোমার জমিকে করেছি চাষ চাবুক পেটানো দেহ নিয়ে।   পরের যুগে আমি তোমার দাস তোমার কলে আমার ঘামের দাগ তা দিয়ে কিনেছি বাঁচার সামান্য আশ।   এই যুগে আমি দেখতে চাই স্বপ্ন আমার শ্রমে গড়া সবার আবাসভূমি তাই খেটে চলি যৌথ খামার দেখব বলে।   ৩০ ডিসেম্বর, ২০১৩ ময়মনসিংহ চিত্রের ইতিহাস: কবিতায় ব্যবহৃত অংকিত চিত্রটি ভিনসেন্ট ভ্যান গগ (৩০ মার্চ ১৮৫৩ – ২৯ জুলাই ১৮৯০) আঁকা চিত্র গমখেতে কৃষক (TWheat Stacks withRead More


মৈত্রীর স্বরূপ এবং ব্যক্তি বিচ্ছিন্নতার উৎস

সামাজিক শ্রেণির ভেতরের মানুষগুলো যখন নানা উদ্দেশ্যে একত্রিত হয়, সংগঠন গড়ে তোলে, চিন্তার আদান-প্রদান করে, সংগঠনের কর্মসূচি প্রণয়ন করে তখন তাদের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ, ভ্রাতৃত্ব, বন্ধুত্ব, ঐক্য, সংহতি ইত্যাদি গড়ে ওঠে। দর্শনের আলোচনায় মৈত্রী (Fraternity) হচ্ছে প্রেম আর সংহতির ভিত্তিতে জনগণের ভেতর এক ধরনের নৈতিক সম্পর্ক। শিল্প, সংস্কৃতি, নৈতিকতা, দান, দক্ষতা ইত্যাদিকে কেন্দ্র করে মৈত্রী গড়ে ওঠে। মৈত্রীকে ফ্রান্স ও হাইতি প্রজাতন্ত্রের জাতীয় মূলমন্ত্রের অর্থাৎ স্বাধীনতা, সাম্য ও মৈত্রী’র একটি হিসেবে উল্লেখ করা হয়। ধর্মীয়, সরকারি, রাজনৈতিক, বাণিজ্যিক বা পারিবারিক বন্ধনের বাইরে কিছু মানুষের কোনো সামাজিক, সেবামূলক, পেশাগত উদ্দেশ্যমুখী ঐক্যকেRead More


বৈরি সমাজ বিকাশের চালিকাশক্তি শ্রেণিসংগ্রামের স্বরূপ

শ্রেণিসংগ্রাম (Class struggle) হচ্ছে শ্রেণি বিভক্ত সমাজে পরস্পরবিরোধী স্বার্থসংশ্লিষ্ট মুখ্য দুটি শ্রেণির মধ্যে প্রকট আকারের দ্বন্দ্ব-সংঘাত বা সংঘর্ষ যা বৈরি উৎপাদন সম্পর্কের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। শ্রেণি বিভক্ত সমাজব্যবস্থা শুরুর পরে দাসপ্রথা থেকে শুরু করে যত সমাজ দেখা দিয়েছে তাদের ইতিহাস হলো শ্রেণিগুলোর মধ্যে সংগ্রাম, শোষিত ও শোষক, নিপীড়িত ও নিপীড়ক শ্রেণিগুলোর মধ্যে সংগ্রামের ইতিহাস। এটি হচ্ছে বিপরীত স্বার্থের বহনকারী সামাজিক শ্রেণিগুলোর মধ্যেকার লড়াই। যেসব সামাজিক শ্রেণির স্বার্থ আপোষহীনরূপে বিপরীত সেইসব শ্রেণির মধ্যে পারস্পরিক সংগ্রামকে বলা হয় শ্রেণিসংগ্রাম। অর্থাৎ সুবিধাভোগী, অত্যাচারী, পরজীবীদের বিরুদ্ধে অধিকারহীন, অত্যাচারিত ও মেহনতিদের ব্যাপক জনগণের সংগ্রামই হচ্ছে শ্রেণিসংগ্রাম।Read More


সমাজতান্ত্রিক সমাজের বৈশিষ্ট্যসমূহ

পুঁজিবাদের উদ্ভব হয় স্বতঃস্ফূর্তভাবে, এটাকে সচেতনভাবে পরিকল্পনা অনুসারে গড়ে তোলা হয় না। পুঁজিবাদের আগের দুটি শোষণমূলক ব্যবস্থা দাস সমাজ এবং সামন্তবাদও দেখা দিয়েছিলো স্বতঃস্ফূর্তভাবে। সমাজতন্ত্রের বেলায় ব্যাপারটা পুঁজিবাদ এবং তার আগের বিভিন্ন রূপের সমাজ থেকে আলাদা। সমাজতন্ত্র স্বতঃস্ফূর্তভাবে দেখা দিতে পারে না। মার্কসবাদী লেনিনবাদী পার্টির নেতৃত্বে প্রলেতারিয়েত দ্বারা পরিচালিত সচেতন ক্রিয়াকলাপে সমাজতন্ত্র গড়ে তোলা হয়। পুঁজিবাদের বিলুপ্তির পরে যে সমাজ গড়ে উঠবে তার নাম সাম্যবাদী সমাজ। এই সাম্যবাদী সমাজের আছে দুটি স্তর। প্রথম স্তরের নাম সমাজতন্ত্র যার আরেক কেতাবি নাম উত্তরণ পর্ব। দ্বিতীয় স্তরের নাম সাম্যবাদ বা কমিউনিজম। সাম্যবাদের নিম্নতমRead More


ফয়েরবাখ সম্বন্ধে থিসিসসমূহ — কার্ল মার্কস

ফয়েরবাখ সম্বন্ধে থিসিসসমূহ[১] ১ ফয়েরবাখের বস্তুবাদ সমেত পূর্ববর্তী সমস্ত বস্তুবাদের প্রধান দোষ এই যে, তাতে বস্তুকে [Gegenstand]. বাস্তবতাকে, সংবেদ্যতাকে কেবল বিষয় [Objekt] রূপে বা ধ্যান রূপে ধরা হয়েছে, মানবিক সংবেদনগত ক্রিয়া হিসেবে, ব্যবহারিক কর্ম হিসেবে দেখা হয় নি, আত্মগতভাবে [subjectively] দেখা হয় নি। ফলে বস্তুবাদের বিপরীতে সক্রিয় দিকটি বিকশিত হয়েছে ভাববাদ দিয়ে, কিন্তু তা কেবল বিমূর্তভাবে, কেননা ভাববাদ অবশ্য সংবেদনগত ক্রিয়া ঠিক যা সেইভাবে সেটাকে জানে না। ফয়েরবাখ চান সংবেদনগত বিষয়কে চিন্তাগত বিষয় থেকে সত্যই পথক করতে, কিন্তু খোদ মানবিক ক্রিয়াটাকে, তিনি নৈর্ব্যক্তিক [gegenstāndliche] ক্রিয়া হিসেবে ধরেন না। অতএব, ‘খ্রিস্টধর্মেরRead More