You are here
Home > Posts tagged "শহর"

ঘুড়ি

পিচ ঢালা রাস্তার এক পাশে মাথা উঁচিয়ে চালতা গাছ একদিন ভ্রমরের জন্য ফুটিয়েছিলো ফুল, কড়া রোদে পাতা নাচিয়ে তার সেকি হাসি।   এখনো হরেক রঙের পসরা নিয়ে হকার ডেকে যে টগবগে ছেলেদের নিয়ে যায় সন্ধ্যায় গুটি পায়ে, তারা আর স্বপ্ন দেখে না।   যে শিশুরা উজ্জ্বল দেয়ালে আঁকত রঙিন ছবি কেউ যেনও তাদের হাতে আজ যন্ত্রণার চিহ্ন গুঁজে মাঠ ভরা

স্বপ্নওয়ালা

এই শহরের গলি পথ প্রতিদিন নতুন করে আবিষ্কার করেছি কিন্তু তোমাকে পাইনি কোথাও, কত হেঁটেছি রেল লাইন ধরে পাথর গুণে গুণে পরিচিত একটিও পাথর পাইনি , শহরের শেষ প্রান্তে নদীর সাথে যখন মিলে প্রকৃতি তখন সন্ধ্যা নামে চায়ের দোকানে উপচে পড়া ভিড় নিয়ে, সে ভিড়ে তন্ন তন্ন করে খুঁজেছি— পাইনি তোমায়, হয়তো তুমি ঘুম জাগানিয়া হয়ে আছো

স্বপ্নবাজ বীর

আমরা পাশাপাশি দাঁড়িয়ে অশান্ত গ্রহের মাঝে, যেখানে জীবনের স্বপ্নকে গ্রাস করে নকল সুখের মরীচিকারাশি। চিন্তার বিশাল জগতকে আবদ্ধ করতে চায় হতাশায় জড়িত ব্যর্থ নগরবাসি রূপে, এখানে জুজুর ভয়ে মাথা নত করে প্রেমিকেরা।   তবুও স্বপ্ন দেখে, জীবনকে বাঁচিয়ে রেখে, ক্ষুদ্র নুড়ি নিয়ে নিত্য খেলা করি, তার নিচে বাড়তে থাকে আমাদের স্বপ্ন, জমতে থাকে সুপ্ত শক্তিরা। পথ ভুলানো মরীচিকাকে পরাজিত করে বীরেরা যখন

পেয়ালা

হাজার হাজার মানুষ ভেসে যাচ্ছে ব্যস্ত কংক্রিটের নির্মাণে রক্তাক্ত শব্দ দিয়ে আমরা ক’জন গড়ছি কুঁড়েঘর, রাস্তার পাশের উষ্ণ পেয়ালা প্রতিদিন ছুঁয়ে যায় যে ঠোঁট চুমুকে চুমুকে সেই ঠোঁটে ফুটে চলছে মুক্তির ফুলগুলো।   বিধস্ত নগরীতে খারাপ সময় একা আসেনি নিয়ে এসেছে সঙ্গে পাঁজর ভাঙা আইন, তিক্ততা নিয়ে আমাদের বেঁচে থাকার স্বাদ হয়ে গেছে সীমান্তে চাষ করা ছাঁচি লাউয়ের

দিগন্ত

বাতাসে আগুনের ফুলকি ছড়াতে ছড়াতে নির্ভীক যোদ্ধার মতো এগিয়ে চলে সভ্যতা, ইমারতের বন্দি ঘামকে আরেক বার জাগাতে, ভীষণ তোড়জোড় চলছে মৌমাছির।   শহরের ব্যস্ত রাস্তার কোলাহল যখন চলে যায় ঘরে, ক্লান্ত সিগন্যালগুলো তখন চায় প্রিয় পরশ কিছুক্ষণ, আঁধার বাতি জ্বালিয়ে ধীরে ধীরে ভারি হতে থাকে, আগুনের ফুলকি এসে আরেক বার জাগাতে চায় ঘামকে ।   কৌশলে রাত শেষে জ্বলন্ত জোনাকি

স্মৃতিচারণ

কত কাল ভুলে ছিলাম জানিনা, চকচকে পথ ধরে আধো নগরায়নে গড়ে ওঠা আমার শহরকে,  রেলের ধুসর পাথরের পাশ ঘেঁষে নীরবে ঘুমিয়ে আছে আমার পরিচিত এক কালের গরিব ভূমি।   এখন কংক্রিটের ঢেউ এনে দিয়েছে ধনী আগন্তুক, তাদের ইমারতে স্থির জলাশয় হয়ে টলটলে থাকে স্মৃতি, ধূসর পাথরে পড়ে থাকা শ্যাওলার মতো মলিন হয়েছে তোমার প্রতি আমার আজকের প্রেম।   জগতের যে

সমাজতান্ত্রিক সমাজের বৈশিষ্ট্যসমূহ

পুঁজিবাদের উদ্ভব হয় স্বতঃস্ফূর্তভাবে, এটাকে সচেতনভাবে পরিকল্পনা অনুসারে গড়ে তোলা হয় না। পুঁজিবাদের আগের দুটি শোষণমূলক ব্যবস্থা দাস সমাজ এবং সামন্তবাদও দেখা দিয়েছিলো স্বতঃস্ফূর্তভাবে। সমাজতন্ত্রের বেলায় ব্যাপারটা পুঁজিবাদ এবং তার আগের বিভিন্ন রূপের সমাজ থেকে আলাদা। সমাজতন্ত্র স্বতঃস্ফূর্তভাবে দেখা দিতে পারে না। মার্কসবাদী লেনিনবাদী পার্টির নেতৃত্বে প্রলেতারিয়েত দ্বারা পরিচালিত সচেতন

ভূমি থেকে কৃষিজীবী জনগণের উচ্ছেদ — কার্ল মার্কস

ইংলন্ডে ভূমিদাসপ্রথা কার্য্যত অদৃশ্য হয় ১৪শ শতকের শেষ ভাগে। তখনকার এবং আরো বেশি করে ১৫শ শতকের জনগণের বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশই[১] ছিলো মুক্ত কৃষক-মালিক, তা তাদের স্বত্বাধিকার যে সামন্ত পাট্টাতেই ঢাকা থাক না কেন। বড়ো বড়ো সামন্ত মহালগুলিতে সাবেকী যে গোমস্তা ছিলো নিজেই একজন ভূমিদাস, তার জায়গায় এসে দাঁড়ায় মুক্ত খামারী।

কমিউনিজমের নীতিমালা — ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস

প্রশ্ন-১. কমিউনিজম কি? উত্তর: কমিউনিজম হলো প্রলেতারিয়েতের মুক্তির পদ্ধতি সংক্রান্ত মতবাদ। প্রশ্ন-২. প্রলেতারিয়েত কি? উত্তর: প্রলেতারিয়েত হলো সমাজের সেই শ্রেণি যে শ্রেণির সদস্যরা সম্পূর্ণ জীবিকার সংস্থান করে কেবল শ্রমশক্তি বিক্রি করে, কোনো রকমের পুঁজির মুনাফা দ্বারা নয়। প্রলেতারিয়েত তাঁদের নিয়েই গঠিত যাদের সুখ-দুঃখ, যাদের জীবন-মৃত্যু, যাদের সম্পূর্ণ অস্তিত্ব নির্ভর করে শ্রমশক্তির চাহিদার উপর—অর্থাৎ

কমিউনিস্ট পার্টির ইশতেহার, বুর্জোয়া ও প্রলেতারিয়েত

কার্ল মার্কস ও ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস কমিউনিস্ট পার্টির ইশতেহার, বুর্জোয়া ও প্রলেতারিয়েত দ্বিতীয় অংশ প্রথম অংশ, তৃতীয় অংশ, চতুর্থ অংশ, নিজেদের প্রস্তুত মালের জন্য অবিরত বর্ধমান এক বাজারের তাগিদ বুর্জোয়া শ্রেণিকে সারা পৃথিবীময় দৌড় করিয়ে বেড়ায়। সর্বত্র তাদের ঢুকতে হয়, সর্বত্র গেড়ে বসতে হয়, যোগসূত্র স্থাপন করতে হয় সর্বত্র। বুর্জোয়া শ্রেণি বিশ্ববাজারকে কাজে লাগাতে গিয়ে প্রতিটি

Top