পাতি শরালি বিশ্বে ন্যূনতম বিপদগ্রস্ত এবং বাংলাদেশের সুলভ আবাসিক পাখি

পাতি শরালি

দ্বিপদ নাম: Dendrocygna javanica
সমনাম: Anser javanica Horsfield, 1821
বাংলা নাম: পাতি শরালি, শরালি (আলী)
ইংরেজি নাম: Lesser Whistling Duck
জীববৈজ্ঞানিক শ্রেণীবিন্যাস
জগৎ/রাজ্যKingdom: Animalia
বিভাগ/Phylum: Chordata
শ্রেণী/Class: Aves
পরিবার/Family: Dendrocygnidae
গণ/Genus: Dendrocygna, Swainson, 1837;
প্রজাতি/Species: Dendrocygna javanica (Horsfield, 1821)

ভূমিকাঃ বাংলাদেশের পাখির তালিকায় Dendrocygna গণে ২টি প্রজাতি রয়েছে এবং পৃথিবীতে রয়েছে ৮টি প্রজাতি। বাংলাদেশের প্রজাতি দুটি হচ্ছে রাজ শরালি এবং পাতি শরালি। আমাদের আলোচ্য পাখিটি হচ্ছে পাতি শরালি।

বর্ণনা: পাতি শরালি কালচে-বাদামি রঙের লম্বা ঘাড়ওয়ালা হাঁস (দৈর্ঘ্য ৪২ সেমি, ওজন ৫০০ গ্রাম, ডানা ১৮.৭ সেমি, ঠোঁট ৪ সেমি, পা ৪.৫ সেমি, লেজ ৫.৫ সেমি)। প্রাপ্তবয়স্ক পাখির ধূসরাভ ও পীত রঙের মাথায় গাঢ় বাদামি টুপি; ঘাড়ের উপরিভাগ ধূসর পীতাভ; ওড়ার পালক কালচে; ডানার আগা, কোমর, ও লেজ-ঢাকনি উজ্জ্বল তামাটে; বগল হালকা হলুদ; পিঠে আঁইশের মত দাগ; হালকা হলুদ তলপেটসহ দেহতল তামাটে। এর চোখ মলিন বাদামি, ঠোঁট স্লেট-ধূসর ও চোখের পাতা উজ্জ্বল হলুদ; পা ও পায়ের পাতা ফ্যাকাসে-নীল; আঙুলের পর্দা ও নখর কালচে। পুরুষ ও স্ত্রীপাখির চেহারা অভিন্ন। অনুজ্জ্বল অপ্রাপ্তবয়স্ক পাখির দেহতল ধূসরাভ-পীতাভ।[১]

স্বভাব: পাতি শরালি মিঠাপানির পুকুর, বিল, ঝিল, নদীতীর ইত্যাদি অগভীর জলাশয়ে বিচরণ করে; সাধারণত ঝাঁকে থাকতে দেখা যায়। রাতে জলমগ্ন জমিতে অল্প ডুব দিয়ে, সাঁতরে বা হেঁটে এরা আহার খোঁজে; খাদ্যতালিকায় আছে জলজ আগাছা, কচিকা-, শস্যদানা, মরা মাছ, পোকামাকড় ও জলজ অমেরুদন্ডী প্রাণী। দিনে এরা পানিতে, মাটিতে অথবা গাছে বিশ্রাম নেয় অথবা ঘুমায়। ওড়ার সময় এদের ডানার বিশেষ পালক থেকে নূপুরের মত ঝন্-ঝন্ শব্দ হয়; তা ছাড়া সাধারণত শিস দিয়ে ডাকে: হুই-হুয়ি..। জুন-অক্টোবর মাসের প্রজনন ঋতুতে গাছের গর্তে, তাল ও নারকেল গাছের মাথায়, নলবনে ও জলবেষ্টিত ঝোপে লতাপাতা ও ঘাস স্তূপ করে বাসা বেঁধে এরা ডিম পাড়ে। ডিমগুলো সাদা, সংখ্যায় ৭-১২ টি, মাপ ৪.৭-২.৬ সেমি। স্ত্রীপাখি একা ডিমে তা দেয়; ২২-২৪ দিনে ডিম ফোটে। পুরুষ ও স্ত্রীপাখি উভয়ে মিলে ছানা পাহারা দেয়।[১]

বিস্তৃতি: পাতি শরালি বাংলাদেশের সুলভ আবাসিক পাখি; শীতে অনেক পরিযায়ী পাতি শরালি এ দেশে আসে; দেশের সব বিভাগের সব জলাশয়ে এদের দেখা যায়। পৃথিবীতে এর বিস্তৃতি দক্ষিণ, পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় পাকিস্তান, ভারত, নেপাল, শ্রীলংকা, চিন, তাইওয়ান, মিয়ানমার, থাইল্যান্ড, ইন্দোচিন, মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়া।

অবস্থা: পাতি শরালি বিশ্বে ও বাংলাদেশে বিপদমুক্ত বলে বিবেচিত। বিগত কয়েক দশক ধরে এদের সংখ্যা কমছে, তবে এখনও আশঙ্কাজনক পর্যায়ে যেয়ে পৌঁছেনি। সেকারণে আই. ইউ. সি. এন. এই প্রজাতিটিকে ন্যূনতম বিপদগ্রস্ত বলে ঘোষণা করেছে।[২] বাংলাদেশের ১৯৭৪[১] ও ২০১২ সালের বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইনে এই প্রজাতিটি সংরক্ষিত।[৩]

বিবিধ: পাতি শরালির বৈজ্ঞানিক নামের অর্থ জাভা দ্বীপের বৃক্ষবাসী-হাঁস (গ্রিক : dendron = বৃক্ষ, cygnus = হাঁস, javanica = জাভা দ্বীপের, ইন্দোনেশিয়া)।


আরো পড়ুন

তথ্যসূত্র:

১. মো: আনোয়ারুল ইসলাম ও মো: শাহরিয়ার মাহমুদ, (আগস্ট ২০০৯)। “পাখি”। আহমাদ, মোনাওয়ার; কবির, হুমায়ুন, সৈয়দ মোহাম্মদ; আহমদ, আবু তৈয়ব আবু। বাংলাদেশ উদ্ভিদ ও প্রাণী জ্ঞানকোষ ২৬ (১ সংস্করণ)। ঢাকা: বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি। পৃষ্ঠা -১৩-১৪। আইএসবিএন 984-30000-0286-0।
২. “Dendrocygna javanica“, http://www.iucnredlist.org/details/22679758/0,  The IUCN Red List of Threatened Species। সংগ্রহের তারিখ: ২৩ আগস্ট ২০১৮।
৩. বাংলাদেশ গেজেট, অতিরিক্ত সংখ্যা, জুলাই ১০, ২০১২, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার, পৃষ্ঠা-১১৮৪৪৯।

Leave a Comment

error: Content is protected !!