আপনি যা পড়ছেন
মূলপাতা > শিল্প > সঙ্গীত > নদীনির্ভর মানব জীবনে জড়িয়ে থাকা দশটি জনপ্রিয় বিখ্যাত বাংলা ভাটিয়ালী গান

নদীনির্ভর মানব জীবনে জড়িয়ে থাকা দশটি জনপ্রিয় বিখ্যাত বাংলা ভাটিয়ালী গান

বাংলাভাষী অঞ্চলে সারা পৃথিবীর ন্যায় লোকসংগীত খুব জনপ্রিয়। নদনদী, হাওড়-বাওড় জলাভূমি বিধৌত বাংলাভাষী অঞ্চলের বাংলা লোকসংগীতের একটি জনপ্রিয় ধারা হচ্ছে ভাটিয়ালি বা ভাটিয়ালী গান (ইংরেজি: Bhatiali song)। ভাটির টানে নিজেকে ভাসিয়ে চলার আবেদন, ভাটিয়ালি গানে প্রমূর্ত। সেজন্য নদীমাতৃক বাংলাদেশ এ গানের জন্মভূমি।

মূল নিবন্ধ: ভাটিয়ালি গান হচ্ছে বাংলাভাষী অঞ্চলের বাংলা লোকসংগীতের একটি জনপ্রিয় ধারা

ভাটিয়ালি একক সঙ্গীত। তালের ব্যাপার নেই। থেমে থেমে গাওয়া যায়, আবার একটানা গাওয়া হয়। ভাটিয়ালী গানের বিষয়বস্তু দর্শন সংক্রান্ত। সারি বা যুথবদ্ধ গানের পরিণতিই কিন্তু একক গানের সুর। জীবনের মধ্যে যতই জড়িয়ে পড়তে লাগল ততই সে একা হতে শুরু করল। এসে গেল গভীর তত্ত্ব।[১] আমরা এখানে বাংলা ভাষার মণিমুক্তা থেকে শ্রেষ্ঠ দশটি বাংলা ভাটিয়ালী গান নির্বাচন করেছি যেগুলো গত কয়েক শতাব্দী জুড়ে বাঙালিরা শুনে চলেছেন। 

দেহতরী দিলাম ছাড়ি ও গুরু তোমারও নামে, আমি যদি ডুবে মরি

দেহতরী দিলাম ছাড়ি ও গুরু তোমারও নামে
আমি যদি ডুবে মরি
আমি যদি ডুবে মরি
কলংক তোমার নামে..
দেহতরী দিলাম ছাড়ি ও গুরু তোমারও নামে

বাজারীরা বাজার করে, কত রঙ্গের বাত্তি জ্বলে
গুরু
দোকানের সামনেএএএ
তারা জ্বালাইয়া বাত্তি করে ডাকাতি ও
তারা জ্বালাইয়া বাত্তি করে ডাকাতি ও
সদর মোকামেএএএ
গুরু তোমারও নামে….
দেহতরী দিলাম ছাড়ি ও গুরু তোমারও নামে

বাজার দেখে লাগে ধন্দ, বুঝি আমারই কপাল মন্দ
পইড়াছি ফেরে,
আমি নারায়গন্জো ছাইড়া আইলাম,
নারায়গন্জো ছাইড়া আইলাম
মদন গন্জের মোকামে…
দেহতরী দিলাম ছাড়ি ও গুরু তোমারও নামে

মদন গন্জে গেলে পরে কামকুম্ভীরে ধরবই তোরে
পড়বিরে ফেরে
আগে সিদ্ধীরগন্জো যাইয়া শেষে
সিদ্ধীরগন্জো যাইয়া শেষে
যাও নিত্যধামেএএএ….।
গুরু তোমারও নামে….

দেহতরী দিলাম ছাড়ি ও গুরু তোমারও নামে
দেহতরী দিলাম ছাড়িয়া……

পদ্মারে আমার সাধের পদ্মা, পদ্মা কও কও আমারে

গীতিকার ও সুরকার ও শিল্পী: হেমাঙ্গ বিশ্বাস

আরো পড়ুন:  আমরা তো ভুলি নাই শহীদ একথা ভুলবো না তোমার কলিজার খুনে রাঙাইলো কে

“পদ্মা কও, কও আমারে
(আইজ) মন-বাঁশুরী কাইন্দা মরে তোমার বালুচরে।।

পদ্মারে, তুমি আমার ভালোবাসা
তুমি আমার স্বপ্ন আশা
কে বলেরে কীর্ত্তিনাশা কূলভাঙ্গা তোরে
ও যে-জন ভাঙলো কূল ভাঙলো বাসারে
সর্বনাশা চিন্ নিলা তারে।।

পদ্মারে, পরান মাঝি হাইল ধরিত
হুসেন মাঝি গুণ টানিত
ভাটিয়ালী সুর নাচিত ঢেউ-এর নূপুরে
কত চান্দের বাতি জ্বলতো জলেরে
রাইতের নিঝুম আন্ধারে।।

পদ্মারে, কোন বিভেদের বালুচরে
তোর ময়ূরপঙ্খী ভাঙলো ওরে
কোন কালসাপে দংশিলা তোর
সুজন নাইয়ারে
আজ ভেলায় ভাসে বেহুলা বাংলারে
বধূর বিষের জ্বালা অন্তরে।।”

হেমাঙ্গ বিশ্বাসের গাওয়া একটি ভাটিয়ালী গান

আষাঢ় মাইস্যা ভাসা পানি রে, পুবালী বাতাসে; বাদাম দেইখ্যা,

— গীতিকার: উকিল মুন্সী

আষাঢ় মাইস্যা ভাসা পানি রে
পুবালী বাতাসে-
বাদাম দেইখ্যা, চাইয়া থাকি
আমার নি কেউ আসে রে।।
যেদিন হতে নতুন পানি
আসল বাড়ির ঘাটে
অভাগিনীর মনে কত শত কথা উঠে রে।।
কত আসে কত যায় রে
নায় নাইওরির নৌকা
মায়ে ঝিয়ে বইনে বইনে
হইতেছে যে দেখা রে।।
আমি যে ছিলাম ভাই রে
বাপের গলায় ফাঁস
আমারে যে দিয়া গেল
সীতা বনবাস রে।।
আমারে নিল না নাইওর
পানি হইতে তাজা
দিনের পথ আধলে যাইতাম
রাস্তা হইত সোজা রে।।
ভাগ্য যাহার ভাল নাইওর
যাইবে আষাঢ় মাসে
উকিলেরই হইবে নাইওর
কার্তিক মাসের শেষে রে।।

হারাতে দেবনা মেঘনা যমুনা পদ্মার স্রোত ধারা।

গীতিকার: গাজী মাজহারুল আনোয়ার

হারাতে দেবনা মেঘনা যমুনা পদ্মার স্রোত ধারা।
হারাতে দেবনা ভাটিয়ালী গান বাঊলের একতারা।।
হারাতে বাঁশ বাগানের মাথার উপর চাঁদটা
হারাতে দেবনা কাজলা দিদির রাতটা।
হারাতে দেব না কড়কড়া ভাত তরকারি ঝোল সরপড়া।।
হারাতে দেবনা টিনের চালে আষাঢ় মাসের বৃষ্টি
হারাতে দেবনা বধূর চোখে লাজুক লাজুক দৃষ্টি
হারাতে দেবনা মসলা তামাক দাদার শখের গড়গড়া।।

নাও ছাড়িয়া দে পাল উড়াইয়া দে

কথা ও সুর: গিরীণ চক্রবর্তী

আরো পড়ুন:  আমরা করবো জয় নিশ্চয়, আহা বুকের গভীরে আছে প্রত্যয় আমরা করবো জয়!

নাও ছাড়িয়া দে পাল উড়াইয়া দে
ছল ছলাইয়া চলুক রে নাও মাঝ দইরা দিয়া চলুক মাঝ দইরা দিয়া।।

উড়ালি বিড়ালি বাওয়ে নাওয়ের বাদাম নড়ে (আরে)।
আথালি পাথালি পানি ছলাৎ। ছলাৎ করে রে।

আরে খল খলাইয়া হাইসা উঠে
বৈঠার হাতল চাইয়া হাসে, বৌঠার হাতল চাইয়া।।

ঢেউয়ের তালে পাওয়ের ফালে নাওয়ের গলই কাঁপে
তির তিরাইয়া নাওয়ের খৈয়াই রোইদ তুফান মাপে,
মাপে রোইদ তুফান মাপে

চিরলি পিরলি পুলে ভ্রমর-ভ্রমরী খেলে রে (আরে)।
বাদল উদালি কায়ে পানিতে জমিতে হেলে রে

আরে তুর তুরাইয়া আইলো দেওয়া দ্বীপ্তি হাতে লইয়া
আইলো দ্বীপ্তি হাতে লইয়া।

শালি ধানের শ্যামলা বনে হইলদা পঙ্খি ডাকে
চিকমিকাইয়া হাসে রে চান সইশা ক্ষেতের ফাকে
ফাকে সইশা ক্ষতের ফাকে

সোনালি রূপালি রঙে রাঙা হইলো নদী (আরে)।
মিতালী পাতাইতাম মুই মনের মিতা পাইতাম যদি রে

আরে ঝিলমিলাইয়া খালর পানি নাচে থৈইয়া থৈইয়া
পানি নাচে থৈইয়া থৈইয়া।।

শিল্পী শৈবাল দাসের গাওয়া এই গানটি শুনুন

কে যাও ভাটির দেশের নাইয়ারে ভাইটালি গান গাইয়া

কে যাও ভাটির দেশের নাইয়ারে
ভাইটালি গান গাইয়া,
তুমি ধীরে ধীর বাও নৌকা
একবার চাও ফিরিয়া রে।।

তোমার গানের সুরে ভাসি
গান গায় উজান বইয়ানদীর কূলে এসে ঢেউ লাগিয়া
কূল গেল ভাঙিয়া রে।।

তুমি কি সুন্দর নাইয়া
সুন্দর নায়ের ছৈইয়ারুনুঝুনু বাদ্য বাজে
ছৈয়ার ভিতর দিয়া রে।।

রঙিন কাঠের নৌকাখানি
রঙিন নায়ের দুড়া হায়রে… রঙিন পাল উড়াইয়া যাও,
কত সুরেরই গান গাইয়া রে।।

আবদুল আলীমের কণ্ঠে ‘কে যাও ভাটির দেশের নাইয়া’
Anup Sadi
অনুপ সাদির প্রথম কবিতার বই “পৃথিবীর রাষ্ট্রনীতি আর তোমাদের বংশবাতি” প্রকাশিত হয় ২০০৪ সালে। তাঁর মোট প্রকাশিত গ্রন্থ ১১টি। সাম্প্রতিক সময়ে প্রকাশিত তাঁর “সমাজতন্ত্র” ও “মার্কসবাদ” গ্রন্থ দুটি পাঠকমহলে ব্যাপকভাবে সমাদৃত হয়েছে। ২০১০ সালে সম্পাদনা করেন “বাঙালির গণতান্ত্রিক চিন্তাধারা” নামের একটি প্রবন্ধগ্রন্থ। জন্ম ১৬ জুন, ১৯৭৭। তিনি লেখাপড়া করেছেন ঢাকা কলেজ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। ২০০০ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি সাহিত্যে এম এ পাস করেন।

Leave a Reply

Top
You cannot copy content of this page