সারেগামা হচ্ছে ভারতে গণহত্যাকারী সন্ত্রাসবাদী সংগঠন গোয়েঙ্কা গ্রুপের সহযোগী

সারেগামা ইন্ডিয়া লিমিটেড (ইংরেজি: Saregama India Limited) হচ্ছে ভারতের একটি অবৈধ সংগীত কোম্পানি। ৩ নভেম্বর ২০০৩ তারিখে এটা অবৈধভাবে পশ্চিমবঙ্গে কোম্পানির আগের নাম “দ্যা গ্রামোফোন কোম্পানী অব ইন্ডিয়া লিমিটেড” বদলে থেকে “সারেগামা ইন্ডিয়া লিমিটেড” নাম করে। এই থেকে এটি পুরনো চুক্তি বাতিল না করে জোরপূর্বক বাঙালি শিল্পী ও কলাকুশলীদের মেধাস্বত্বের অপব্যবহার করে আসছে। এটি ভারতের সন্ত্রাসবাদী সংগঠন গোয়েঙ্কা গ্রুপের (ইংরেজি: RPSG Group) সংগঠনের সাথে জড়িত। এই সারেগামা হচ্ছে বোম্বাইয়ের কোম্পানি, টাইমস ইন্ডিয়াও একই গ্রুপের। তারা বিজেপিকে ক্ষমতায় আনতে হাজার হাজার কোটি টাকা খরচ করেছে। সেই টাকায় বিজেপি গণহত্যা চালাচ্ছে।

ইউটিউব হচ্ছে গুগলের সহযোগী প্রতিষ্ঠান। সেই ইউটিউবে আমরা অনেকেই গান শুনি। সেই গানটি লিখেছেন হয়ত সলিল চৌধুরী। তিনি মারা গেছেন ১৯৯৫ সালে। আইন অনুসারে তার লেখা গানের স্বত্ব সলীল চৌধুরী এবং তার উত্তরাধিকারীদের। এখন সলিল চৌধুরী উত্তরাধিকারী কেউ বেঁচে থাকলে তারা ২০৫০ সাল পর্যন্ত আর্থিক সম্মাননা পাবার কথা।

আর উল্টোদিকে “দ্যা গ্রামোফোন কোম্পানী অব ইন্ডিয়া লিমিটেড” একসময় গান বের করত। হয়ত সলিল চৌধুরীর কোনো একটি এলবাম তারা বের করেছিল, আমরা জানি না কি চুক্তি হয়েছিল সলিল চৌধুরীর সাথে। এখন নাম বদলে সারেগামা সলিল চৌধুরীর সেই গানের কপিরাইট দাবি করছে। অথচ আমরা কেউ জানি না, সারেগামা সলিল চৌধুরীর উত্তরাধিকারীদের কোনো টাকা দেয় কি না; আমরা কেউ সে খোঁজ রাখি না। এবং আমরা জানি সলিল চৌধুরী কোনোদিনও বিজেপি করেননি।

কিন্তু ঐ যে সারেগামা, তারা কিন্তু সলিল চৌধুরীর গানের কপিরাইট রেখেছে। ফলে কেউ ইউটিউবে গান শুনলেই বা বিজ্ঞাপন দেখলেই টাকা যাচ্ছে সারেগামার কাছে। এই সারেগামা ইউটিউবে বেআইনিভাবে অনেক রবীন্দ্রসংগীতের কপিরাইট দাবি করছে।

এখন একজন স্কুল শিক্ষক, তিনি নারী অথবা পুরুষ, ময়মনসিংহ-কুড়িগ্রাম-গোয়ালপাড়া বা বীরভূমে একটি গানের স্কুল চালান, তিনি সলিল চৌধুরীর একটি গান গাইলেন, সেটিকে ইউটিউবে আপলোড করলেন, তার মালিকানাও দাবী করছে সারেগামা। ফলে আপনার অজ্ঞতা কীভাবে মানুষ হত্যার মেশিন চালু করেছে তা আমরা যত তাড়াতাড়ি বুঝব ততই মঙ্গল। কেননা সলিল চৌধুরী বিজেপি করেননি কোনোদিন, এমনকি কংগ্রেসও নয়।

আরো পড়ুন:  কংগ্রেস সােসালিস্ট পার্টি ছিলো ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের মধ্যে একটি সমাজতান্ত্রিক দল

বই প্রকাশনা বা গানের প্রকাশনা হোক, আমাদের বিবেচনা করতে হবে, প্রথমত প্রকাশনা একটি ইন্ডাস্ট্রি। এটা উৎপাদন এবং অবশ্যই পুঁজিবাদের বেশ কিছু নিয়ম মেনে এটা ক্রিয়া করে। এটুকু ভাবলেই মুনাফা এবং মূল্যের দিকটা আমরা খেয়াল করব।

প্রকাশনা যেহেতু উৎপাদন করে, ফলে কাঁচামাল ও মজুরির মূল্য দিতে হয়। বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গে কেবল মজুরি পান না লেখক ও গীতিকার, যদিও তিনি তো মানসিক শ্রম দিয়ে হলেও কিছু উৎপাদন করেন। তবে সব লেখক পান না, নয় কতিপয় লেখক ভালো রয়ালটি পান। আমার ধারণা যত লেখক তার ২০% রয়ালটি পান।

বাংলাদেশে বইয়ের দাম ভয়ংকর কম, পৃথিবীর কোথাও এতো কম দামে বই পাওয়া যায় না। বাংলাদেশে বইয়ের দাম বাড়লে এটির ত্রুটিগুলো কিছুটা দূর করা যেত। যারা শুধু লেখালেখিকে পেশা হিসেবে নিতে চাইবেন, তারা যদি রয়ালটি না পান তবে কী খাবেন, কী পরবেন, ফলে লেখকদের প্রফেসনালিজম তৈরি হয়নি।

বাংলাদেশে কপিরাইট আইনে দশ বছর কোনো বই প্রকাশক বের করতে পারেন। দশ বছর পর চুক্তি রিনিউ করতে হয়, এটার সমস্যা হচ্ছে লেখক সারা জীবন বা ৩০-৫০ বা মৃত্যুর পর আরো ৫০ বছর কপির অধিকার প্রকাশকের কাছে বিক্রি করতে পারে না। ফলে আইন অনুযায়ী এখানে বই লেখাটা ফসল বা পোশাক বা অন্যান্য উৎপাদনের বৈশিষ্ট্য থেকে আলাদা হয়ে গেছে, এতে লেখক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

যতদিন কায়িক শ্রম ও মানসিক শ্রমের পার্থক্য থাকবে এবং পুঁজিবাদ থাকবে, ততদিন লেখকের বা গায়কের কপিরাইট রাখার প্রয়োজন। তবে সকল সময়ে সতর্ক চোখ জারি রাখতে হবে। সাম্যবাদী আন্দোলনের কর্মীরা পুঁজিবাদীদের পকেট মোটা করতে দিবে কেন?

Leave a Comment

error: Content is protected !!