আপনি যা পড়ছেন
মূলপাতা > শিল্প > সঙ্গীত > ভার্শাভিয়াঙ্কা

ভার্শাভিয়াঙ্কা

ঝঞ্ঝা ঝড় মৃত্যু ঘিরে আজি চারিদিক
অন্ধকারের চক্রান্ত কঠিন
তবু সংগ্রামে চলো উদ্দাম নির্ভীক
রক্তপতাকা হাতে ঊর্ধ্বে উড্ডীন
তাই সম্মুখ পদভরে, মজদুর বাহাদুর
দুনিয়ার শোষিতের মুক্তিপথে
বিশ্বের মানবতার অন্তিম যুদ্ধে
চলো চলো ভেদি মরু গিরি সমুদ্দুর
শোন ঐ নারী শিশুর ক্ষুধার্ত ক্রন্দন
আমরা কি রব শুধু নীরব শ্রোতা
শত্রুর শিবিরে হানো হানো প্রহরণ
হোক না নিহত রণে বন্ধুভ্রাতা
যত সাম্রাজ্যের শিরের মুকুট
ধূলিতলে হবে আজ অবনত
বিশ্বের অধিকারী শ্রমজীবী সন্তান
মানুষের মুক্তির দিন আগত…

টিকা: গানটির অনুবাদ ও সুর করেন হেমাঙ্গ বিশ্বাস। জারতন্ত্রের বিরুদ্ধে প্রথম বড় ধরনের পোলিশ বিদ্রোহ হয় ১৮৩১ সালে, যাকে ‘ওয়ারশ অভ্যুত্থান’ বলা হয়। একটি ফরাসি কবিতা অনুকরণে এ অভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে দেশপ্রেমের গান ‘ভার্শাভিয়াঙ্কা’ রচিত হয়। ১৮৬৩ সালের অভ্যুত্থানের স্মরণে এর প্রলেতারিয় সংস্করণ রচিত হয় ১৮৭৮-এ। ১৮৯৭ সালে লেনিনের ঘনিষ্ঠ সহযোগী কিরজিজানভস্কি গানটি রুশে অনুবাদ করেন। ১৯০২-এ ‘ইসক্রা’র একটি গানের সংকলনে গানটি স্থান পায়। বাংলায় গানটি করেন হেমাঙ্গ বিশ্বাস। লেনিনের ভীষণ পছন্দের একটি গান। মৃত্যুর দুদিন আগেও তাঁকে গুনগুন করে গানটি গাইতে দেখা গেছে।

আরো পড়ুন:  ওরা আমাদের গান গাইতে দেয় না
হেমাঙ্গ বিশ্বাস
সিলেট জেলার হবিগঞ্জ মহকুমার চুনারুঘাট উপজেলার মিরাসি গ্রামে জন্ম নেয়া হেমাঙ্গ বিশ্বাস বাংলা গণসংগীতের জননন্দিত মহাযোদ্ধা। তিনি একজন বাঙালি সঙ্গীতশিল্পী, কবি, লেখক এবং সুরকার। মূলত লোকসঙ্গীতকে ভিত্তি করে গণসঙ্গীত সৃষ্টির ক্ষেত্রে তাঁর অবদান বাঙালির ইতিহাসে অবিস্মরণীয়।  “হেমাঙ্গ বিশ্বাসের গান” এবং "শঙ্খচিলের গান” তাঁর গানের দুটি সঙ্কলন।

Leave a Reply

Top
You cannot copy content of this page