আপনি যা পড়ছেন
মূলপাতা > প্রাণ > প্রাণী > পাখি > তামাটে কাঠকুড়ালি বিশ্বে বিপদমুক্ত এবং বাংলাদেশের বিরল আবাসিক পাখি

তামাটে কাঠকুড়ালি বিশ্বে বিপদমুক্ত এবং বাংলাদেশের বিরল আবাসিক পাখি

[otw_shortcode_info_box border_type=”bordered” border_color_class=”otw-red-border” border_style=”bordered” shadow=”shadow-inner” rounded_corners=”rounded-10″]দ্বিপদ নাম: Blythipicus pyrrhotis সমনাম: Picus pyrrhotis (Hodgson, 1837) বাংলা নাম: তামাটে কাঠকুড়ালি ইংরেজি নাম: Bay Woodpecker. জীববৈজ্ঞানিক শ্রেণীবিন্যাস জগৎ/রাজ্যKingdom: Animalia বিভাগ/Phylum: Chordata শ্রেণী/Class: Aves পরিবার/Family: Picidae গণ/Genus: Blythipicus, Bonaparte, 1854; প্রজাতি/Species: Blythipicus pyrrhotis (Hodgson, 1837)[/otw_shortcode_info_box]

ভূমিকা: বাংলাদেশের পাখির তালিকায় Blythipicus গণে বাংলাদেশে রয়েছে এর ১টি প্রজাতি এবং পৃথিবীতে ২টি প্রজাতি। বাংলাদেশে প্রাপ্ত ও আমাদের আলোচ্য প্রজাতিটির নাম হচ্ছে তামাটে কাঠকুড়ালি।

বর্ণনা: তামাটে কাঠকুড়ালি লাল ডানায় বাদামি ডোরা দেওয়া পাহাড়ি কাঠঠোকরা (দৈর্ঘ্য ২৭ সেমি, ওজন ১৭০ গ্রাম, ডানা ১৪৫ সেমি, ঠোঁট ৫ সেমি, পা ৩ সেমি, লেজ ৯ সেমি)। মেয়েপাখি ছেলেপাখির চেয়ে কিছুটা ছোট। প্রাপ্তবয়স্ক পাখির পিঠ লাল ও দেহতল কালচে বাদামি; কাঁধ-ঢাকনি ও ডানায় প্রশস্ত কালচে বাদামি ডোরা আছে; ঠোঁট ফ্যাকাসে, চোখ অনুজ্জ্বল গাঢ় লাল ও পা শিঙ-বাদামি। ছেলেপাখির কান-ঢাকনি ও ঘাড়ের পাশে উজ্জ্বল লাল পট্টি রয়েছে। অপ্রাপ্তবয়স্ক পাখির মাথায় ছিটা-দাগ থাকে কাঁধ-ঢাকনিতে বেশি স্পষ্ট দাগ ও ঘাড়ের পাশে লাল ছিটা থাকে। ৫টি উপ-প্রজাতির মধ্যে B. p. pyrrhotis বাংলাদেশে পাওয়া যায়।

স্বভাব: তামাটে কাঠকুড়ালি ঘন প্রশস্ত পাতার চিরসবুজ বন, বাঁশবন ও পাহাড়ি বনে বিচরণ করে; একা, জোড়ায় বা পারিবারিক দলে দেখা যায়। মৃত গাছের কাটা গোড়া, পতিত কাঠের গুঁড়ি, শেওলাঢাকা গাছের কা- ও মাটির কাছাকাছি বাঁশে ঠুকরে এরা খাবার সংগ্রহ করে; খাদ্যতালিকায় রয়েছে সাদা পিঁপড়া ও গুবরে পোকার লার্ভা। আহারের সময় উচ্চ সুরে এরা বারবার ডাকে: চ্যাক, চ্যাক, চ্যাক …; প্রতিযোগীকে হুমকি দেবার জন্য ডাকে: কেরেরে-কেরেরে-কেরেরে। মার্চ-জুন মাসের প্রজনন ঋতুতে ভূমি থেকে ১-৪ মিটারের মধ্যে গাছের কাণ্ডে গর্ত খুঁড়ে বাসা বানিয়ে ডিম পাড়ে। ডিমগুলো সাদা, সংখ্যায় ৩-৪টি; মাপ ২.৯×২.১ সেমি। ছেলে ও মেয়ে উভয়ই বাসার সব কাজ করে।

বিস্তৃতি: তামাটে কাঠকুড়ালি বাংলাদেশের বিরল আবাসিক পাখি; চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের উঁচু এলাকার চিরসবুজ বনে পাওয়া যায়। হিমালয় ও চিনের দক্ষিণাঞ্চল থেকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় এর বৈশ্বিক বিস্তৃতি রয়েছে; দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় ভারত, নেপাল,ভুটান, থাইল্যান্ড, লাওস, ভিয়েতনাম ও মালয়েশিয়ায় রয়েছে।

অবস্থা: তামাটে কাঠকুড়ালি বিশ্বে বিপদমুক্ত এবং বাংলাদেশে অপ্রতুল-তথ্য শ্রেণিতে রয়েছে। বিগত তিন প্রজন্ম ধরে এদের সংখ্যা কমেছে, তবে দুনিয়ায় এখন ১০,০০০-এর অধিক পূর্ণবয়স্ক পাখি আছে, তাই এখনও আশঙ্কাজনক পর্যায়ে এই প্রজাতি পৌঁছেনি। সেকারণে আই. ইউ. সি. এন. এই প্রজাতিটিকে ন্যূনতম বিপদগ্রস্ত (Least Concern LC) বলে ঘোষণা করেছে।[২] বাংলাদেশের ১৯৭৪[১] ও ২০১২ সালের বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইনে এই প্রজাতিটি সংরক্ষিত।[৩]

বিবিধ: তামাটে কাঠকুড়ালির বৈজ্ঞানিক নামের অর্থ ব্লাইদ-এর অগ্নিকর্ণ (Blythipicus = এডওয়ার্ড ব্লাইদ, ইংরেজ প্রাণিবিদ, ১৮১০-১৮৭৩; গ্রীক : pyrrhos = শিখা বর্ণ, otis = কান ওয়ালা)।

তথ্যসূত্র:

১. ইনাম আল হক ও এম. কামরুজ্জামান, (আগস্ট ২০০৯)। “পাখি”। আহমাদ, মোনাওয়ার; কবির, হুমায়ুন, সৈয়দ মোহাম্মদ; আহমদ, আবু তৈয়ব আবু। বাংলাদেশ উদ্ভিদ ও প্রাণী জ্ঞানকোষ ২৬ (১ সংস্করণ)। ঢাকা: বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি। পৃষ্ঠা – ৪১। আইএসবিএন 984-30000-0286-0।

২. “Blythipicus pyrrhotis“, http://www.iucnredlist.org/details/22681546/0,  The IUCN Red List of Threatened Species। সংগ্রহের তারিখ: ৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮।

৩. বাংলাদেশ গেজেট, অতিরিক্ত সংখ্যা, জুলাই ১০, ২০১২, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার, পৃষ্ঠা-১১৮৪৫২।

আরো পড়ুন:  কলজেবুটি কাঠকুড়ালি বিশ্বে বিপদমুক্ত এবং বাংলাদেশের অনিয়মিত পাখি
Anup Sadi
অনুপ সাদির প্রথম কবিতার বই “পৃথিবীর রাষ্ট্রনীতি আর তোমাদের বংশবাতি” প্রকাশিত হয় ২০০৪ সালে। তাঁর মোট প্রকাশিত গ্রন্থ ১১টি। সাম্প্রতিক সময়ে প্রকাশিত তাঁর “সমাজতন্ত্র” ও “মার্কসবাদ” গ্রন্থ দুটি পাঠকমহলে ব্যাপকভাবে সমাদৃত হয়েছে। ২০১০ সালে সম্পাদনা করেন “বাঙালির গণতান্ত্রিক চিন্তাধারা” নামের একটি প্রবন্ধগ্রন্থ। জন্ম ১৬ জুন, ১৯৭৭। তিনি লেখাপড়া করেছেন ঢাকা কলেজ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। ২০০০ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি সাহিত্যে এম এ পাস করেন।

Leave a Reply

Top
You cannot copy content of this page