বড় র‍্যাকেটফিঙে বাংলাদেশের সুলভ আবাসিক পাখি

[otw_shortcode_info_box border_type=”bordered” border_color_class=”otw-red-border” border_style=”bordered” shadow=”shadow-inner” rounded_corners=”rounded-10″]দ্বিপদ নাম: Dicrurus paradiseus সমনাম: Cuculus paradiseus Linnaeus, 1766 বাংলা নাম: বড় র‍্যাকেটফিঙে, ভিমরাজ ইংরেজি নাম: Greater Racket-tailed Drongo. জীববৈজ্ঞানিক শ্রেণীবিন্যাস জগৎ/Kingdom: Animalia বিভাগ/Phylum: Chordata শ্রেণী/Class: Aves পরিবার/Family: Corviidae গণ/Genus: Dicrurus, Vieillot, 1760; প্রজাতি/Species: Dicrurus paradiseus (Linnaeus, 1766)[/otw_shortcode_info_box]

ভূমিকা: বড় র‍্যাকেটফিঙে বা ভিমরাজ (বৈজ্ঞানিক নাম: Dicrurus paradiseus; ইংরেজি নাম: greater racket-tailed drongo) হচ্ছে করভিডি পরিবারের Dicrurus গণের এশিয়ার একটি পাখির প্রজাতি। বাংলাদেশের পাখির তালিকায় Dicrurus গণে বাংলাদেশে রয়েছে এর ৭টি প্রজাতি এবং সারা পৃথিবীতে রয়েছে ২৩টি প্রজাতি। বাংলাদেশে প্রাপ্ত প্রজাতি সাতটি হচ্ছে ১. ব্রঞ্জ ফিঙে, ২. কাকঠুটোঁ ফিঙে, ৩. কেশরী ফিঙে, ৪. মেটে ফিঙে, ৫. কালা ফিঙে, ৬. বড় র‍্যাকেটফিঙে, ও ৭. ছোট র‍্যাকেটফিঙে। আমাদের আলোচ্য প্রজাতিটির নাম হচ্ছে বড় র‍্যাকেটফিঙে।

বর্ণনাঃ বড় র‍্যাকেটফিঙে আজব লেজ ও ঝুঁটিওয়ালা পোকা শিকারি পাখি। সাধারণত ৩৫ সেন্টিমিটার, ওজন ১২০ গ্রাম, ডানা ১৭ সেমি, ঠোঁট ৪ সেমি, পা ২.৭ সেমি, লেজ ১৫ সেন্টিমিটার এবং লেজের বাইরের পালক ৪৮ সেন্টিমিটার। মেয়ে ও ছেলেপাখির চেহারা অভিন্ন। লম্বা লেজের বাহির পালক দুটির শেষ প্রান্তে রয়েছে প্যাঁচানো উজ্জ্বল কালো ফিতা বা রেকেট। এদের গায়ের পালক নীলাভ কালো। ডানার তলায় সামান্য সাদা ছোপ। চোখের মণি লাল। মাথার সামনে ঝুঁটি রয়েছে। ঠোঁট ও পা কালো। স্ত্রী-পুরুষ দেখতে একই রকম। অপ্রাপ্ত বয়স্ক পাখিদের মাথায় ঝুঁটি থাকে না এবং লেজের ডগার বাড়তি পালকও থাকে না। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এসব গজায়।

স্বভাব: বড় র‍্যাকেটফিঙে সাধারণত সকল বন, প্যারাবন ও বাঁশঝাড়ে বিচরণ করে। এদের প্রধান খাবার কীটপতঙ্গ। এরা সাধারণত উড়ন্ত পোকামাকড় খায়। পোকা-মাকড় দেখলে ছোঁ মেরে শিকার ধরে। উড়ন্ত উঁইপোকা উড়ে উড়ে শিকার করতে দেখা যায়। ফুলের মধু বা নির্যাসও মাঝে মাঝে খেতে পারে এরা।

আরো পড়ুন:  পাখি বাড়াতে আমাদেরকে পাখি বাড়ানোর পদ্ধতি অনুসারে কাজ করতে হবে

বিস্তৃতি: বড় র‍্যাকেটফিঙে বাংলাদেশের সুলভ আবাসিক পাখি। চট্টগ্রাম, খুলনা ও সিলেট বিভাগের বনে পাওয়া যায়।

অবস্থা: ২০০৯ সালে এশিয়াটিক সোসাইটি কর্তৃক প্রকাশিত বাংলাদেশ উদ্ভিদ ও প্রাণী জ্ঞানকোষে এটিকে বাংলাদেশে ও বিশ্বে বিপদমুক্ত বলে বর্ণনা করা হয়েছে। বাংলাদেশের ১৯৭৪ সালের বন্যপ্রাণী আইনে একে সংরক্ষিত ঘোষণা করা হয়নি। তবে বাংলাদেশের ২০১২ সালের বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও প্রতিরক্ষা আইনে প্রজাতিটি সংরক্ষিত।

Leave a Comment

error: Content is protected !!