বাংলা কাঠঠোকরা বিশ্বে বিপদমুক্ত এবং বাংলাদেশের সুলভ আবাসিক পাখি

[otw_shortcode_info_box border_type=”bordered” border_color_class=”otw-red-border” border_style=”bordered” shadow=”shadow-inner” rounded_corners=”rounded-10″]দ্বিপদ নাম: Dinopium benghalense সমনাম: Picus benghalensis Linnaeus, 1758 বাংলা নাম: বাংলা কাঠঠোকরা ইংরেজি নাম: Lesser Goldenback (Black-rumped flameback). জীববৈজ্ঞানিক শ্রেণীবিন্যাস জগৎ/রাজ্যKingdom: Animalia বিভাগ/Phylum: Chordata শ্রেণী/Class: Aves পরিবার/Family: Picidae গণ/Genus: Dinopium, Rafinesque, 1814; প্রজাতি/Species: Dinopium benghalense (Linnaeus, 1758)[/otw_shortcode_info_box]

ভূমিকা: বাংলাদেশের পাখির তালিকায় Dinopium গণে বাংলাদেশে রয়েছে এর ৩টি প্রজাতি এবং পৃথিবীতে ৪টি প্রজাতি। বাংলাদেশে প্রাপ্ত প্রজাতি তিনটি হচ্ছে, ১. বাংলা কাঠঠোকরা, ২. পাতি কাঠঠোকরা ও ৩. হিমালয়ী কাঠঠোকরা। আমাদের আলোচ্য প্রজাতিটির নাম হচ্ছে বাংলা কাঠঠোকরা।

বর্ণনা: বাংলা কাঠঠোকরা বাংলাদেশের অতিচেনা কাঠঠোকরা (দৈর্ঘ্য ২৯ সেমি, ওজন ১০০ গ্রাম, ডানা ১৪.২ সেমি, ঠোঁট ৩.৭ সেমি, পা ২.৫ সেমি, লেজ ৯ সেমি)। প্রাপ্তবয়স্ক পাখির পিঠ সোনালী-হলুদ; দেহতলে কালো আঁইশের দাগ; ওড়ার পালক ও লেজ কালো; থুতনিতে কালো ডোরা; সাদা ঘাড়ের পাশে কালো দাগ; বুকে মোটা কালো আঁইশের দাগ; চোখে কালো ডোরা; ডানার গোড়ার ও মধ্য-পালক ঢাকনিতে সাদা বা ফ্যাকাসে ফুটকি এবং পিঠ ও ডানার অবশেষ সোনালী। সবুজ গোলকসহ এর চোখ লালচে-বাদামি; পা ও পায়ের পাতা ধূসর সবুজ এবং ঠোঁট শিঙ-রঙ ও কালোর মিশ্রণ। ছেলে ও মেয়েপাখির চেহারায় পার্থক্য তাদের চাঁদিও ঝুটির রঙে: ছেলেপাখির চাঁদি ও ঝুটি উজ্জ্বল লাল এবং মেয়েপাখির সাদা বিন্দুসহ চাঁদির সামনের অংশ কালো ও পিছনের ঝুটি লাল। তরুণ পাখির অনুজ্জ্বল দেহ ও চাঁদির সামনের ভাগের সাদা বিন্দু ছাড়া দেখতে মেয়েপাখির মত। ৪টি উপ-প্রজাতির মধ্যে D. b. benghalense বাংলাদেশে আছে।

স্বভাব: বাংলা কাঠঠোকরা বন, বাগান ও লোকালয়ে সর্বত্র বিচরণ করে; একাকী, জোড়ায় বা পারিবারিক দলে দেখা যায়। গাছের কাণ্ড ও ডালে হাতুড়ির মত আঘাত করে অথবা মাটিতে ঝরাপাতা উল্টে এরা খাবার সংগ্রহ করে; খাদ্যতালিকায় রয়েছে পিঁপড়া, শুয়ো পোকা, বিছা, মাকড়সা, অন্যান্য পোকামাকড় এবং ফুল ও ফলের রস। শক্ত পা ও অনমনীয় লেজে ভর দিয়ে ছোট ছোট লাফ মেরে এরা গাছের কাণ্ড বেয়ে উপরের ওঠে; ওড়ার সময় উচ্চ স্বরে ডাকে: কিয়ি কিয়ি কিয়ি-কিয়ি-কিয়িকিয়িইরররর-র-র-র..। ফেব্রুয়ারি-জুলাই মাসের প্রজনন ঋতুতে গাছের কাণ্ডে গর্ত খুড়ে বাসা বেঁধে এরা ডিম পাড়ে। ডিমগুলো সাদা, সংখ্যায় ৩টি, মাপ ২.৮×২.০ সেমি। ছেলে ও  মেয়েপাখির উভয়ই বাসার সব কাজ করে। বাসায় হামলা হলে ছানারা সাপের মত হিস হিস শব্দ করে।

আরো পড়ুন:  খয়রা কাঠকুড়ালি বিশ্বে বিপদমুক্ত এবং বাংলাদেশের সুলভ আবাসিক পাখি

বিস্তৃতি: বাংলা কাঠঠোকরা বাংলাদেশের সুলভ আবাসিক পাখি; সব বিভাগের সব বনে ও লোকালয়ে রয়েছে। পাকিস্তান, ভারত ও শ্রীলংকাসহ দক্ষিণ এশিয়ায় এর বৈশ্বিক বিস্তৃতি রয়েছে।

অবস্থা: বাংলা কাঠঠোকরা বিশ্বে ও বাংলাদেশে বিপদমুক্ত বলে বিবেচিত। বিগত তিন প্রজন্ম ধরে এদের সংখ্যা কমেছে, তবে দুনিয়ায় এখন ১০,০০০-এর অধিক পূর্ণবয়স্ক পাখি আছে, তাই এখনও আশঙ্কাজনক পর্যায়ে এই প্রজাতি পৌঁছেনি। সেকারণে আই. ইউ. সি. এন. এই প্রজাতিটিকে ন্যূনতম বিপদগ্রস্ত (Least Concern LC) বলে ঘোষণা করেছে।[২] বাংলাদেশের ১৯৭৪[১] ও ২০১২ সালের বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইনে এই প্রজাতিটি সংরক্ষিত।[৩]

বিবিধ: বাংলা কাঠঠোকরার বৈজ্ঞানিক নামের অর্থ বাংলার বলীয়ান (গ্রীক : deinos = শক্তিমান, opos = চেহারা; bengalense = বাংলার)। পাখিটি বাংলাদেশে শুধু ‘কাঠঠোকরা’ নামে পরিচিত।

তথ্যসূত্র:

১. ইনাম আল হক ও এম. কামরুজ্জামান, (আগস্ট ২০০৯)। “পাখি”। আহমাদ, মোনাওয়ার; কবির, হুমায়ুন, সৈয়দ মোহাম্মদ; আহমদ, আবু তৈয়ব আবু। বাংলাদেশ উদ্ভিদ ও প্রাণী জ্ঞানকোষ ২৬ (১ সংস্করণ)। ঢাকা: বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি। পৃষ্ঠা – ৪১। আইএসবিএন 984-30000-0286-0।

২. “Dinopium benghalense“, http://www.iucnredlist.org/details/61517196/0,  The IUCN Red List of Threatened Species। সংগ্রহের তারিখ: ২ সেপ্টেম্বর ২০১৮।

৩. বাংলাদেশ গেজেট, অতিরিক্ত সংখ্যা, জুলাই ১০, ২০১২, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার, পৃষ্ঠা-১১৮৪৫২।

Leave a Comment

error: Content is protected !!