পাহাড়ি নীলকণ্ঠ বিশ্বে বিপদমুক্ত এবং বাংলাদেশে মহাবিপন্ন পরিযায়ী পাখি

[otw_shortcode_info_box border_color_class=”otw-red-border” border_style=”bordered” shadow=”shadow-inner” rounded_corners=”rounded-10″]দ্বিপদ নাম: Eurystomus orientalis সমনাম: Corvus benghalensis Linnaeus, 1758 বাংলা নাম: পাহাড়ি নীলকণ্ঠ ইংরেজি নাম: Oriental Dollarbird, Eastern Broad-billed Roller. জীববৈজ্ঞানিক শ্রেণীবিন্যাস জগৎ/রাজ্য Kingdom: Animalia বিভাগ/Phylum: Chordata শ্রেণী/Class: Aves পরিবার/Family: Coraiidae গণ/Genus: Eurystomus, Vieillot, 1816; প্রজাতি/Species: Eurystomus orientalis (Linnaeus, 1766)[/otw_shortcode_info_box]

ভূমিকা: বাংলাদেশের পাখির তালিকায় Eurystomus গণে বাংলাদেশে রয়েছে এর ১টি প্রজাতি এবং পৃথিবীতে ৪টি প্রজাতি। বাংলাদেশে প্রাপ্ত প্রজাতিটি হচ্ছে আমাদের আলোচ্য পাহাড়ি নীলকণ্ঠ।

বর্ণনা: পাহাড়ি নীলকণ্ঠ লাল ঠোঁট ও পা-ওয়ালা কালচে নীল পাখি (দৈর্ঘ্য ৩০ সেমি, ওজন ১৫০ গ্রাম, ডানা ১৮.৫ সেমি, ঠোঁট ৩ সেমি, পা ২ সেমি, লেজ ১০সেমি)। প্রাপ্তবয়স্ক পাখির পুরো দেহ কালচে নীল; মাথা, ওড়ার পালক ও লেজওপর-ঢাকনি কালচে থেকে প্রায় বাদামি; গলায় নীল আভা; ওড়ার সময় ডানার প্রান্ত-পালকের গোড়ার রূপালী-সাদা গোল ছোপ চোখে পড়ে, যা দেখে এর ইংরেজী নামকরণ হয়েছে। এর চোখ হলদে-বাদামি এবং চোখের বলয়; অনেক চওড়া ঠোঁট; ঠোঁট, পা, পায়ের পাতা ও নখর লাল। ছেলে ও মেয়েপাখির চেহারা অভিন্ন। অপ্রাপ্তবয়স্ক পাখির ঠোঁট অনুজ্জ্বল। ১১টি উপ-প্রজাতির মধ্যে E. o. callonyx বাংলাদেশে আছে।

স্বভাব: পাহাড়ি নীলকণ্ঠ— চিরসবুজ বন, বনের প্রান্ত ও খামারে বিচরণ করে; সাধারণত একা বা জোড়ায় থাকে। গাছের পাতহীন মগডালে এরা বসে থাকে এবং হঠাৎ ওড়ে এসে শিকার ধরে ডালে ফিরে যায়; আহার্য তালিকায় আছে নানা জাতের উড়ন্তÍ পোকামাকড়। সাধারণত ডালে বসে মাঝে মাঝে এরা কর্কশ শব্দে ডাকে: ক্যাক ..; এবং ওড়ার সময় ডাকে: ক-চক-চক-চক..। মার্চ-জুন মাসের প্রজনন ঋতুতে ডাল থেকে ওড়ে খাড়া নিচে ঝাঁপ দেয় ও আবর্তিত হয়ে উপরে ওড়ে ওঠে; এবং মাটির প্রাকৃতিক গর্তে ও গাছের কোটরে বাসা বেঁধে ডিম পাড়ে। ডিমগুলো সাদা; সংখ্যায় ৩-৪টি; মাপ ৩.৬×২.৮ সেমি। ১৭-২০দিনে ডিম ফোটে; ৩০দিনে ছানার গায়ে ওড়ার পালক গজায়।

আরো পড়ুন:  ল্যাঞ্জা রাতচরা বাংলাদেশের সুলভ আবাসিক পাখি

বিস্তৃতি: পাহাড়ি নীলকণ্ঠ বাংলাদেশের দুর্লভ পরিযায়ী পাখি; গ্রীষ্মে প্রজননের জন্য চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের চিরসবুজ বনে বিচরণ করে। নিউগিনি, চীন, মিয়ানমার, ভারত, নেপাল, ভুটান ও শ্রীলংকাসহ অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ-পূর্ব ও দক্ষিণ এশিয়ায় এর বৈশ্বিক বিস্তৃতি রয়েছে।

অবস্থা: পাহাড়ি নীলকণ্ঠ বিশ্বে বিপদমুক্ত ও বাংলাদেশে মহাবিপন্ন বলে বিবেচিত। বিগত তিন প্রজন্ম ধরে এদের সংখ্যা কমেছে, তবে দুনিয়ায় এখন ১০,০০০-এর অধিক পূর্ণবয়স্ক পাখি আছে, তাই এখনও আশঙ্কাজনক পর্যায়ে এই প্রজাতি পৌঁছেনি। সে কারণে আই. ইউ. সি. এন. এই প্রজাতিটিকে ন্যূনতম বিপদগ্রস্ত (Least Concern LC) বলে ঘোষণা করেছে।[২] বাংলাদেশের ১৯৭৪[১] ও ২০১২ সালের বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইনে এই পাহাড়ী নীলকণ্ঠকে সংরক্ষিত ঘোষণা করা হয়েছে।[৩]।

বিবিধ: পাহাড়ি নীলকণ্ঠের বৈজ্ঞানিক নামের অর্থ উদয়ী বড়মুখ ( গ্রীক: eurustmos = প্রশস্ত মুখ; ল্যাটিন: orientalis = প্রাচ্য )।

তথ্যসূত্র:

১. ইনাম আল হক ও সুপ্রিয় চাকমা, (আগস্ট ২০০৯)। “পাখি”। আহমাদ, মোনাওয়ার; কবির, হুমায়ুন, সৈয়দ মোহাম্মদ; আহমদ, আবু তৈয়ব আবু। বাংলাদেশ উদ্ভিদ ও প্রাণী জ্ঞানকোষ ২৬ (১ সংস্করণ)। ঢাকা: বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি। পৃষ্ঠা – ৫১। আইএসবিএন 984-30000-0286-0।

২. “Eurystomus orientalis“, http://www.iucnredlist.org/details/22682920/0,  The IUCN Red List of Threatened Species। সংগ্রহের তারিখ: ৭ সেপ্টেম্বর ২০১৮।

৩. বাংলাদেশ গেজেট, অতিরিক্ত সংখ্যা, জুলাই ১০, ২০১২, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার, পৃষ্ঠা-১১৮৪৫৪।

Leave a Comment

error: Content is protected !!