ধলাগলা মাছরাঙা বিশ্বে বিপদমুক্ত এবং বাংলাদেশের সুলভ আবাসিক পাখি

[otw_shortcode_info_box border_type=”bordered” border_color_class=”otw-red-border” border_style=”bordered” shadow=”shadow-inner” rounded_corners=”rounded-10″]দ্বিপদ নাম: Halcyon smyrnensis সমনাম: Alcedo smyrnensis Linnaeus, 1766 বাংলা নাম: ধলাগলা মাছরাঙা, ইংরেজি নাম: White-throated Kingfisher. জীববৈজ্ঞানিক শ্রেণীবিন্যাস জগৎ/রাজ্য Kingdom: Animalia বিভাগ/Phylum: Chordata শ্রেণী/Class: Aves পরিবার/Family: Dalcelonidae গণ/Genus: Halcyon, Swainson, 1821; প্রজাতি/Species: Halcyon smyrnensis (Linnaeus, 1758)[/otw_shortcode_info_box]

ভূমিকা: বাংলাদেশের পাখির তালিকায় Halcyon গণে বাংলাদেশে রয়েছে এর ৩টি প্রজাতি এবং পৃথিবীতে ১১টি প্রজাতি। বাংলাদেশে প্রাপ্ত প্রজাতি তিনটি হচ্ছে ১. লাল মাছরাঙা, ২. কালাটুপি মাছরাঙা ও ৩. ধলাগলা মাছরাঙা। আমাদের আলোচ্য প্রজাতিটির নাম হচ্ছে ধলাগলা মাছরাঙা।

বর্ণনা: ধলাগলা মাছরাঙা সাদা গলার বিশ্বজনীন মাছরাঙা (দৈর্ঘ্য ২৮ সেমি, ডানা ১১.৮ সেমি, ঠোঁট ৬ সেমি, পা ১.৬ সেমি, লেজ ৭.৫ সেমি)। পূর্ণবয়স্ক পাখির পিঠ নীলকান্তমণি-নীল ও দেহতল চকলেট-বাদামি। মাথা ও ঘাড় চকলেট-বাদামি এবং পাছা ও লেজসহ পিঠ উজ্জ্বল নীলকান্তমণি-নীল। থুতনি, গলা ও বুকের মাঝামাঝি পর্যন্ত বিস্তৃত উজ্জ্বল সাদা রঙ সামনে স্পষ্ট জামার গঠন লাভ করেছে। ওড়ার সময় কালো প্রাথমিক পালকের গোড়ার সাদা পট্টি নজরে আসে। ঠোঁট লাল ও মুখ কমলা রঙের। চোখ বাদামি। উজ্জ্বল পিছনের পা ও পদতলসহ পা ও পায়ের পাতা প্রবাল-লাল। ছেলে ও মেয়েপাখির চেহারায় পার্থক্য নেই। বাদামি ঠোঁট ও কালচে ঢেউ খেলানো বুকসহ অনুজ্জ্বল গায়ের রঙ ছাড়া অপ্রাপ্তবয়স্ক ও পূর্ণবয়স্ক পাখির চেহারার মধ্যে পার্থক্য নেই। ৪টি উপ-প্রজাতির মধ্যে H. s. fusca বাংলাদেশে রয়েছে (২টি উপ-প্রজাতি অবিচ্ছেদ্য বলে কয়েকজন লেখক মত দিয়েছেন)।

স্বভাব: ধলাগলা মাছরাঙা বনের প্রান্তদেশ, আবাদি জমি, বাগান, শুষ্ক পাতাঝরা বন, জলাধার, নদী, খাল, ডোবা, গ্রামের পুষ্করিণী, নর্দমা, উপকূল ও প্যারাবনে বিচরণ করে; সাধারণত একা বা আলাদা জোড়ায় দেখা যায়। বেড়া, বৈদ্যুতিক তার বা গাছের ডালে বসে মাটিতে বা পানিতে শিকার পর্যবেক্ষণ করে। খাবারের বেশীর ভাগই পোকামাকড়: ফড়িং, ঝিঁঝিঁপোকা, ম্যানট্সি, গুবরে পোকা, পিঁপড়া, ডানাওয়ালা উই, পঙ্গপাল ও অন্য ধরনের ফড়িং। ওড়ার সময় উচ্চ সুরে ডাকে: কে-কে-কেক..; এবং শিস্ মেরে গান গায়: কিলিলিলি…। মার্চ-জুন প্রজনন ঋতু। খাড়া পাড়ে গর্ত খুঁড়ে বাসা বানায় ও মেয়েপাখি ৪-৭টি ডিম পাড়ে। ডিম সাদা গোল ডিম্বাকার, মাপ ২.৯ × ২.৬ সেমি।

আরো পড়ুন:  মেঘহও মাছরাঙা বিশ্বে বিপদমুক্ত এবং বাংলাদেশের দুর্লভ আবাসিক পাখি

বিস্তৃতি: ধলাগলা মাছরাঙা বাংলাদেশের সুলভ আবাসিক পাখি; সব বিভাগের সকল জলাশয় ও পল্লী এলাকায় বিচরণ করে। তুর্কি ও মধ্যপ্রাচ্য থেকে পাকিস্তান, ভারত, নেপাল, ভুটান, শ্রীলংকা থেকে মিয়ানমার, চীন, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও ফিলিপাইনে এর বৈশ্বিক বিস্তৃতি রয়েছে।

অবস্থা: ধলাগলা মাছরাঙা বিশ্বে ও বাংলাদেশে বিপদমুক্ত বলে বিবেচিত। বিগত তিন প্রজন্ম ধরে এদের সংখ্যা কমেছে, তবে দুনিয়ায় এখন ১০,০০০-এর অধিক পূর্ণবয়স্ক পাখি আছে, তাই এখনও আশঙ্কাজনক পর্যায়ে এই প্রজাতি পৌঁছেনি। সে কারণে আই. ইউ. সি. এন. এই প্রজাতিটিকে ন্যূনতম বিপদগ্রস্ত (Least Concern LC) বলে ঘোষণা করেছে।[২] বাংলাদেশের ১৯৭৪[১] ও ২০১২ সালের বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইনে এই ধলাগলা মাছরাঙাকে সংরক্ষিত ঘোষণা করা হয়েছে।[৩]

বিবিধ: ধলাগলা মাছরাঙার বৈজ্ঞানিক নামের অর্থ স্মাইর্নার মাছরাঙা (গ্রীক: halkuon = মাছরাঙার সঙ্গে সম্পর্কিত পৌরাণিক পাখি; smyrnensis =স্মাইর্না শহর, তুর্কি)।

তথ্যসূত্র:

১. মো: আনোয়ারুল ইসলাম ও  এম. কামরুজ্জামান, (আগস্ট ২০০৯)। “পাখি”। আহমাদ, মোনাওয়ার; কবির, হুমায়ুন, সৈয়দ মোহাম্মদ; আহমদ, আবু তৈয়ব আবু। বাংলাদেশ উদ্ভিদ ও প্রাণী জ্ঞানকোষ ২৬ (১ সংস্করণ)। ঢাকা: বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি। পৃষ্ঠা – ৭৩। আইএসবিএন 984-30000-0286-0।

২. “Halcyon smyrnensis“, http://www.iucnredlist.org/details/22725846/0,  The IUCN Red List of Threatened Species। সংগ্রহের তারিখ: ৭ সেপ্টেম্বর ২০১৮।

৩. বাংলাদেশ গেজেট, অতিরিক্ত সংখ্যা, জুলাই ১০, ২০১২, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার, পৃষ্ঠা-১১৮৫০৯।

Leave a Comment

error: Content is protected !!