ঝুটিয়াল মাছরাঙা বিশ্বে বিপদমুক্ত এবং বাংলাদেশের বিরল আবাসিক পাখি

[otw_shortcode_info_box border_type=”bordered” border_color_class=”otw-red-border” border_style=”bordered” shadow=”shadow-inner” rounded_corners=”rounded-10″]দ্বিপদ নাম: Megaceryle lugubris সমনাম: Alcedo chloris Boddaert, 1783 বাংলা নাম: ঝুটিয়াল মাছরাঙা, ইংরেজি নাম: Crested Kingfisher. জীববৈজ্ঞানিক শ্রেণীবিন্যাস জগৎ/রাজ্য Kingdom: Animalia বিভাগ/Phylum: Chordata শ্রেণী/Class: Aves পরিবার/Family: Cerylidae গণ/Genus: Megaceryle, Kaup, 1848; প্রজাতি/Species: Megaceryle lugubris (Temminck, 1834)[/otw_shortcode_info_box]

ভূমিকা: বাংলাদেশের পাখির তালিকায় Megaceryle গণে বাংলাদেশে রয়েছে এর ১টি প্রজাতি এবং পৃথিবীতে ৪টি প্রজাতি। বাংলাদেশে প্রাপ্ত এবং আমাদের আলোচ্য প্রজাতিটির নাম হচ্ছে ঝুটিয়াল মাছরাঙা।

বর্ণনা: ঝুটিয়াল মাছরাঙা ডোরাওয়ালা ঝুটির পাকরা জলার পাখি (দৈর্ঘ্য ৪১ সেমি., ওজন ২৫৫ গ্রাম, ডানা ১৮.৫ সেমি., ঠোঁট ৭.৩ সেমি., পা ১.৬ সেমি., লেজ ১১.২ সেমি.)। পিঠ নীল-ধূসর ও দেহতল সাদা। কালো দীর্ঘ কেশের ঝুটিতে কিছু সাদা অংশ থাকে। গলাবন্ধ সাদা। সূক্ষ্ম সাদা ফুটকি ও ডোরা সমেত পিঠ ও পাছা কালচে দেখায়। ডানা ও লেজে কালোর ওপর সাদা ডোরা থাকে। বগলে সূক্ষ্ম বাদামি ফুটকি ও বুকে কালো ফেটা এবং বগলে কালো ডোরা রয়েছে। কালো ঠোঁটের গোড়ার অর্ধেক ফ্যাকাসে ধূসর। চোখ কালো। পা ও পায়ের পাতা ধূসরাভ-জলপাই ও কালচে নখরের আগা সাদাটে। লিপ্তপাদের নরম চামড়া উজ্জ্বল বাদামি-সাদা। মেয়ে ও অপ্রাপ্তবয়স্ক পাখিকে ছেলেপাখি থেকে কেবল তাদের ডানার নিচের কোর্ভাটের ফ্যাকাসে লাল রঙের সাহায্যে পৃথক করা যায়। ৪টি উপ-প্রজাতির মধ্যে M. l. guttulatta বাংলাদেশে পাওয়া যায়।

স্বভাব: ঝুটিয়াল মাছরাঙা বন সংলগ্ন বড় স্রোতধারা ও প্লত প্রবহমান নদীতে বিচরণ করে; নিভৃতচারী পাখি, তবে জোড়ায় থাকতে দেখা গেছে। কূল উপচে পড়া বা প্লত প্রবহমান নদীতে হঠাৎ ডুব দিয়ে শিকার ধরে মাছ খায়। দ্রুত উড়তে পারে ও ধীরে ধীরে পাখা চালিয়ে প্রবহমান পানির কিছুটা ওপর দিয়ে উড়ে যায়। সাধারণত একটি মাত্র তীক্ষ্ণ শব্দে ডাকে: ক্লিক। তা ছাড়া অবিরাম ডাকে: পিঙ…। মার্চ-এপ্রিল মাস প্রজনন ঋতু। নদীর খাড়া পাড়ে ১.৫ মিটার দীর্ঘ সমতল সুড়ঙ্গ তৈরি করে মাছের কাঁটা বিছিয়ে বাসা বাঁধে ও মেয়েপাখি ৪-৫টি ডিম পাড়ে। ডিমগুলো সাদা, মাপ ৩.৮ × ৩.২ সেমি.।

আরো পড়ুন:  উদয়ী বামনরাঙা বিশ্বে বিপদমুক্ত এবং বাংলাদেশের অনিয়মিত পাখি

বিস্তৃতি: ঝুটিয়াল মাছরাঙা বাংলাদেশের বিরল আবাসিক পাখি; চট্টগ্রাম বিভাগের চিরসবুজ বনের নদীতে দেখা গেছে বলে দুটি তথ্য রয়েছে। পাকিস্তান, ভারত, নেপাল, ভুটান, মিয়ানমার, চীন, থাইল্যাল্ড, লাওস, ভিয়েতনাম ও জাপানসহ হিমালয় থেকে পূর্ব এশিয়া পর্যন্ত এর বৈশ্বিক বিস্তৃতি রয়েছে।

অবস্থা: ঝুটিয়াল মাছরাঙা বিশ্বে বিপদমুক্ত ও বাংলাদেশে অপ্রতুল-তথ্য শ্রেণিতে রয়েছে। বিগত তিন প্রজন্ম ধরে এদের সংখ্যা কমেছে, তবে দুনিয়ায় এখন ১০,০০০-এর অধিক পূর্ণবয়স্ক পাখি আছে, তাই এখনও আশঙ্কাজনক পর্যায়ে এই প্রজাতি পৌঁছেনি। সে কারণে আই. ইউ. সি. এন. এই প্রজাতিটিকে ন্যূনতম বিপদগ্রস্ত (Least Concern LC) বলে ঘোষণা করেছে।[২] বাংলাদেশের ১৯৭৪[১] ও ২০১২ সালের বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইনে এই ধলাঘাড় মাছরাঙাকে সংরক্ষিত ঘোষণা করা হয়েছে।[৩]

বিবিধ: ঝুটিয়াল মাছরাঙার বৈজ্ঞানিক নামের অর্থ শোকাকূল পাখি (গ্রীক: megas = বড়, ceryle = ক্যারোলস, এ্যারিস্টটল উল্লেখানুসারে একটি পাখি; ল্যাটিন: lugubris = শোকাকূল)।

তথ্যসূত্র:

১. ইনাম আল হক ও এম. কামরুজ্জামান, (আগস্ট ২০০৯)। “পাখি”। আহমাদ, মোনাওয়ার; কবির, হুমায়ুন, সৈয়দ মোহাম্মদ; আহমদ, আবু তৈয়ব আবু। বাংলাদেশ উদ্ভিদ ও প্রাণী জ্ঞানকোষ ২৬ (১ সংস্করণ)। ঢাকা: বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি। পৃষ্ঠা – ৭৩। আইএসবিএন 984-30000-0286-0।

২. “Megaceryle lugubris“, http://www.iucnredlist.org/details/22683620/0,  The IUCN Red List of Threatened Species। সংগ্রহের তারিখ: ৭ সেপ্টেম্বর ২০১৮।

৩. বাংলাদেশ গেজেট, অতিরিক্ত সংখ্যা, জুলাই ১০, ২০১২, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার, পৃষ্ঠা-১১৮৫০৯।

Leave a Comment

error: Content is protected !!