সবুজ ময়ূর বিশ্বে সংকটাপন্ন ও বাংলাদেশের বিলুপ্ত পাখি

[otw_shortcode_info_box border_type=”bordered” border_color_class=”otw-red-border” border_style=”bordered” shadow=”shadow-inner” rounded_corners=”rounded-10″]দ্বিপদ নাম: Pavo mutics Linnaeus, 1760 সমনাম: নেই বাংলা নাম: সবুজ ময়ূর, বর্মী ময়ূর (অ্যাক্ট) ইংরেজি নাম: Green Peafowl (Burmese Peafowl) জীববৈজ্ঞানিক শ্রেণীবিন্যাস জগৎ/রাজ্য Kingdom: Animalia বিভাগ/Phylum: Chordata শ্রেণী/Class: Aves পরিবার/Family: Phasianidae গণ/Genus: Pavo, Linnaeus, 1758; প্রজাতি/Species: Pavo mutics Linnaeus, 1760[/otw_shortcode_info_box]

ভূমিকাঃ বাংলাদেশের পাখির তালিকায় পাভো গণে ২টি প্রজাতি রয়েছে এবং পৃথিবীতে রয়েছে ২টি প্রজাতি রয়েছে। বাংলাদেশের প্রজাতি দুটি হচ্ছে দেশি ময়ুর ও সবুজ ময়ুর। আমাদের আলোচ্য পাখিটি হচ্ছে সবুজ ময়ুর বা বর্মী ময়ূর।

বর্ণনা: সবুজ ময়ূর বা বর্মী ময়ূর হচ্ছে ঘন সবুজ রঙের ভূচর পাখি (দৈর্ঘ্য ১০০-৩০০ সেমি, ওজন ৪.৫ কেজি, ডানা ৪৫ সেমি, ঠোঁট ৪.৩ সেমি, পা ১৫.২ সেমি, লেজ ৪.৩ সেমি, পেখম ১৫০ সেমি)। ছেলেপাখির চেহারা ও আকার মেয়েপাখি থেকে অনেকটা আলাদা। ছেলেপাখির পিঠ ও ঘাড় সবুজ; পালকহীন মুখের চামড়া নীল-হলুদ মেশানো; ডানা-ঢাকনি সবুজ, ডানার মধ্যভাগ ও গোড়ার পালক বাদামি; লেজের পেখমের প্রান্তে কালো চক্রের মধ্যে বেগুনি ফোঁটা; দেহতলে সরু কালো ঢেউসহ পিতল, সবুজ ও বেগুনি দাগ। স্ত্রীপাখির পিঠ গাঢ় বাদামি; লেজ পেখমহীন; ডানা-ঢাকনি, পিঠের শেষভাগ ও কোমর কালচে বাদামি; লেজে পীতাভ, বাদামি ও কালো রঙের ডোরা আছে। অপ্রাপ্তবয়স্ক পাখির সবুজাভ ও তামাটে কোমর ছাড়া দেখতে ময়ূরীর মত। ৩টি উপ-প্রজাতির মধ্যে P.g. spificer বাংলাদেশে ছিল।

স্বভাব: সবুজ ময়ূর বনতলে ও বনের প্রান্তে বিচরণ করে; সাধারণত একটি ঝাঁকে একটি পুরুষ ৩-৫টি স্ত্রী থাকে। এরা মাটি আঁচড়ে, ঝরা-পাতা উল্টে খাবার খোঁজে; খাদ্যতালিকায় রয়েছে বীজ, শস্যদানা, ফুলের কলি, রসালো ফল, পোকামাকড়, কেঁচো, সাপ ও টিকটিকি। জোরে পাখা ঝাপটে এরা প্লত উড়তে পারে; ভোরে ও গোধূলিতে বেশি সরব ও সক্রিয় হয়; পুরুষপাখির উঁচু স্বরের ডাক: ইয়েই-অও..; আর স্ত্রীপাখির ডাক: অ্যাও-অ্যা.. ; ভয় পেলে এরা ডাকে: কের-র-র-রু..। জানুয়ারি-মে মাসের প্রজনন ঋতুতে পুরুষপাখি পেখম মেলে ধীরে ধীরে ঘুরতে থাকে। ঘন ঝোপের নিচে মাটিতে বাসা বানিয়ে স্ত্রীপাখি ডিম পাড়ে। ডিমগুলো পীতাভ, সংখ্যায় ৩-৬ টি, মাপ ৭.২-৫.৩ সেমি। স্ত্রীপাখি একাই ডিমে তা দেয়; ২৬-২৮ দিনে ডিম ফোটে।

আরো পড়ুন:  দেশি মেটেধনেশ বিশ্বে বিপদমুক্ত এবং বাংলাদেশের বিলুপ্ত আবাসিক পাখি

বিস্তৃতি: সবুজ ময়ূর বাংলাদেশের প্রাক্তন আবাসিক পাখি; চট্টগ্রাম বিভাগের চিরসবুজ বনে দেখা মিলত, এখন নেই। এখন ভারত থেকে ইন্দোনেশিয়া পর্যন্ত এর বৈশ্বিক বিস্তৃতি রয়েছে।

অবস্থা: সবুজ ময়ূর বিশ্বে সংকটাপন্ন ও বাংলাদেশে অপ্রতুল-তথ্য শ্রেণিতে রয়েছে। এটি বাংলাদেশের বিলুপ্ত পাখি; বাংলাদেশের ১৯৭৪ সালের বন্যপ্রাণী আইনে এ প্রজাতি সংরক্ষিত।

বিবিধ: সবুজ ময়ূরের বৈজ্ঞানিক নামের অর্থ ছোট-ময়ূর (ল্যাটিন : Pavo = ময়ূর, muticus = খুদে/সংক্ষিপ্ত)।

তথ্যসূত্র:

১. ইনাম আল হক ও মো: শাহরিয়ার মাহমুদ, (আগস্ট ২০০৯)। “পাখি”। আহমাদ, মোনাওয়ার; কবির, হুমায়ুন, সৈয়দ মোহাম্মদ; আহমদ, আবু তৈয়ব আবু। বাংলাদেশ উদ্ভিদ ও প্রাণী জ্ঞানকোষ ২৬ (১ সংস্করণ)। ঢাকা: বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি। পৃষ্ঠা -০০। আইএসবিএন 984-30000-0286-0।

Leave a Comment

error: Content is protected !!