গোলাপি হাঁস পৃথিবী ও বাংলাদেশ থেকে বিলুপ্ত পাখি

[otw_shortcode_info_box border_type=”bordered” border_color_class=”otw-red-border” border_style=”bordered” shadow=”shadow-inner” rounded_corners=”rounded-10″]দ্বিপদ নাম: Rhodonessa caryophyllacea সমনাম: Anas caryophyllacea Latham, 1790 বাংলা নাম: গোলাপি হাঁস, ইংরেজি নাম: Pink-headed Duck. জীববৈজ্ঞানিক শ্রেণীবিন্যাস জগৎ/রাজ্যKingdom: Animalia বিভাগ/Phylum: Chordata শ্রেণী/Class: Aves পরিবার/Family: Anatidae গণ/Genus: Rhodonessa, Reichenbach, 1853; প্রজাতি/Species: Rhodonessa caryophyllacea Latham, 1790[/otw_shortcode_info_box]

ভূমিকাঃ বাংলাদেশের পাখির তালিকায়  Rhodonessa গণে বাংলাদেশে এবং পৃথিবীতে একটি প্রজাতি ছিলো। আমাদের আলোচ্য এই হাঁসটি হচ্ছে গোলাপি হাঁস।

বর্ণনা: গোলাপি হাঁস লম্বা গোলাপি গলার মাঝারি আকারের হাঁস (দৈর্ঘ্য ৬০ সেমি, ওজন ৮৪০ গ্রাম, ডানা ২৬ সেমি, ঠোঁট ৫.৩ সেমি, পা ৪ সেমি, লেজ ১১.৫ সেমি)। ছেলে ও মেয়েহাঁসের চেহারায় বেশ পার্থক্য আছে। ছেলেহাঁসের মাথা, মুখ ও ঘাড় গোলাপি; কপাল কালচে বাদামি; ডানার অনেকটা অংশ গোলাপি: ডানার মধ্য-পালক ও ডানাতল-ঢাকনি; বাকি শরীর কালচে বাদামি। মেয়েহাঁসের ধূসর মাথায় হালকা গোলাপি আভা, চাঁদি ও ঘাড়ের পিছনে বাদামি; ডানার মধ্য-পালক ফ্যাকাসে বাদামি; দেহের বাকি অংশে হালকা বাদামি পালকের কিনারা সাদা ছিল। ছেলে ও মেয়েহাঁসের উভয়ের চোখ লাল; ঘন লাল ঠোঁট; লালচে পা ও পায়ের পাতা ছিল। অপ্রাপ্তবয়স্ক পাখির পালকের সাদা প্রান্ত ছাড়া মেয়েহাঁসের চেহারার সঙ্গে মিল ছিল।

স্বভাব: গোলাপি হাঁস বাদাবন, নলবন, ও উঁচু ঘাসভরা বিলে বিচরণ করত; সাধারণত ৬-৮টির ছোট দলে দেখা যেত। অগভীর পানিতে সাঁতার কেটে, মাথা ডুবিয়ে এবং ডুব দিয়ে পানির নিচে গিয়েআহার খোঁজ করত; খাদ্যতালিকায় ছিল জলজ আগাছা, ক্ষুদ্র শামুক, ও ছোট অমেরুদণ্ডী প্রাণী। গাছপালা ও লতাপাতার আড়াল ছেড়ে এরা সহজে বাইরে আসত না; মাঝে মাঝে ঘরঘরে গলায় শিস দিত ও গ্যাক গ্যাক করে ডাকত। জুন-জুলাই মাসের প্রজনন ঋতুতে তারা পানির পাশে মাটিতে লম্বা ঘাসের মধ্যে শুকনো ঘাসের স্তুপ বানিয়ে তার ওপর পালকের বাসা করে ডিম পাড়ত। ডিমগুলো ছিল গোল ও গজদন্তের মত সাদা, সংখ্যায় ৫-১০টি, মাপ ৪.৩ × ৪.২ সেমি।

আরো পড়ুন:  উত্তুরে ল্যাঞ্জাহাঁস বিশ্বে বিপদমুক্ত এবং বাংলাদেশের সুলভ পরিযায়ী পাখি
চেন্নাইয়ের যাদুঘরে গোলাপি হাঁসের সংগ্রহ, আলোকচিত্র: PJeganathan

বিস্তৃতি: গোলাপি হাঁস বাংলাদেশের প্রাক্তন আবাসিক পাখি; ঢাকা, খুলনা, রাজশাহী ও সিলেট বিভাগের মিঠা পানির জলাভূমিতে দেখা যেত। ১৯৩৫ সালে সর্বশেষ পাখিটি দেখা গিয়েছিল; এখন বিলুপ্ত হয়েছে বলে আশঙ্কা করা হয়। এদেশ ছাড়া ভারত, নেপাল ও মিয়ানমারে এর বৈশ্বিক বিস্তৃতি ছিল।

অবস্থা: গোলাপি হাঁস বিশ্বে মহাবিপন্ন বলে বিবেচিত এবং জানামতে পৃথিবী থেকে বিলুপ্ত হয়েছে। বাংলাদেশের ১৯৭৪ সালের বন্যপ্রাণী আইনে এই প্রজাতিটি সংরক্ষিত।[১]। ১৯৪৯ সাল থেকে এই প্রজাতিটি নিশ্চিতভাবে দেখা যায় নি; এদেরকে সবসময় বিরল বলে মনে করা হতো এবং শিকার এবং বাসস্থান ক্ষতির যৌথতায় মারাত্মকভাবে হ্রাস পেয়েছে। তবে, উত্তর মায়ানমারের দূরবর্তী জলাভূমিগুলিতে থাকতে পারে যার জন্য আরও বেশি সার্ভে দরকার যেখানে ২০০৬ সালে সম্ভাব্য সাম্প্রতিককালে দেখার বিশ্বস্ত স্থানীয় রিপোর্ট পাওয়া গিয়েছে। কোনও অবশিষ্ট সংখ্যা খুব কম হতে পারে এবং এই কারণে এটিকে মহাবিপন্ন হিসাবে গণ্য করা হয়।[২]

বিবিধ: গোলাপি হাঁসের বৈজ্ঞানিক নামের অর্থ গোলাপি হাঁস (গ্রিক: Rhodo = গোলাপি, nessa = হাঁস; ল্যাটিন: caryophyllaceus = গোলাপি)।

ছবির ইতিহাস: এখানে ব্যবহৃত সাদা-কালো ফটোটিকে রঙিন করা হয়েছে ফ্রাংক টডের বই Natural History of the Waterfowl California: Ibis Publishing, 1996. এই ফটোটি আরো ব্যবহার করেছেন ২০০৫ সালে প্রকাশিত Kumar, et.al., Handbook on Indian Wetland Birds and Their Conservation, নামের বইতে। বাংলাদেশের উদ্ভিদ ও প্রাণী জ্ঞানকোষেও এই ফটোটি ব্যবহার করা হয়েছে। ফটোটি তুলেছেন Raymond Sawyer. 

তথ্যসূত্র:

১. ইনাম আল হক ও মো: শাহরিয়ার মাহমুদ, (আগস্ট ২০০৯)। “পাখি”। আহমাদ, মোনাওয়ার; কবির, হুমায়ুন, সৈয়দ মোহাম্মদ; আহমদ, আবু তৈয়ব আবু। বাংলাদেশ উদ্ভিদ ও প্রাণী জ্ঞানকোষ ২৬ (১ সংস্করণ)। ঢাকা: বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি। পৃষ্ঠা – ২৮-২৯। আইএসবিএন 984-30000-0286-0।

২. “Rhodonessa caryophyllacea“, http://www.iucnredlist.org/details/22680344/0,  The IUCN Red List of Threatened Species। সংগ্রহের তারিখ: ২৯ আগস্ট ২০১৮।

আরো পড়ুন:  পাতি তিলিহাঁস বিশ্বে বিপদমুক্ত এবং বাংলাদেশের সুলভ পরিযায়ী পাখি

Leave a Comment

error: Content is protected !!