নাকতা হাঁস বিশ্বে বিপদমুক্ত ও বাংলাদেশে মহাবিপন্ন পরিযায়ী পাখি

[otw_shortcode_info_box border_type=”bordered” border_color_class=”otw-red-border” border_style=”bordered” shadow=”shadow-inner” rounded_corners=”rounded-10″]দ্বিপদ নাম: Sarkidiornis melanotos (Pennant, 1769) সমনাম: Anser melanotos Pennant, 1769 বাংলা নাম: নাকতা হাঁস, নকতা (আলী) ইংরেজি নাম: Knob-billed Duck (Comb Duck) জীববৈজ্ঞানিক শ্রেণীবিন্যাস জগৎ/রাজ্যKingdom: Animalia বিভাগ/Phylum: Chordata শ্রেণী/Class: Aves পরিবার/Family: Anatidae গণ/Genus: Sarkidiornis, Eyton, 1838; প্রজাতি/Species: Sarkidiornis melanotos (Pennant, 1769)[/otw_shortcode_info_box]

ভূমিকা: বাংলাদেশের পাখির তালিকায় Sarkidiornis গণে ১টি প্রজাতি রয়েছে এবং পৃথিবীতে রয়েছে ১টি প্রজাতি রয়েছে। বাংলাদেশ ও পৃথিবীর প্রজাতিটি হচ্ছে ১. বাদি হাঁস। 

বর্ণনা: নাকতা হাঁস বিরাট আকারের কালচে ডানার হাঁস (দৈর্ঘ্য ৬৬ সেমি, ওজন ২.২ কেজি, ডানা ৩৪ সেমি, ঠোঁট ৬.৪ সেমি, পা ৭ সেমি., লেজ ১৪.৫ সেমি)। ছেলে ও ছেলেহাঁসের আকার ও চেহারায় কিছুটা পার্থক্য আছে। ছেলেপাখির পিঠ দেখতে কালো, সবুজ ও বেগুনি আভা আছে; সাদা মাথা ও গলা; সাদা গলায় কালো তিলা এবং ঠোঁটে স্ফীত মাংসপিন্ড থাকে। মেয়েহাঁস অনেক ছোট ও এর অনুজ্জ্বল পিঠে বাদামি ফোঁটা ছিটানো; ঠোঁটে স্ফীত মাংসপিন্ড নেই। ছেলে ও মেয়েহাঁসের উভয়েরই চোখ ঘন বাদামি, ঠোঁট কালো এবং পা ও পায়ের পাতা ফ্যাকাসে। অপ্রাপ্তবয়স্ক হাঁসের হালকা ভ্রু-রেখা, অনুজ্জল দেহ, পিঠে পীতাভ আঁশের দাগ ও দেহতল লালচে-বাদামি। ২টি উপ-প্রজাতির মধ্যে S. m. melanotos বাংলাদেশে দেখা যায়।

স্বভাব: নাকতা হাঁস নলবনে ও বাদাভূমিতে বিচরণ করে; সাধারণত ৪-১০টির পারিবারিক দলে দেখা যায়, ২৫-১০০টির ঝাঁকও চোখে পড়ে। অগভীর জলাশয়ে সাঁতার কেটে ও মাথা পানিতে অল্প ডুবিয়ে খাবার খায়; খাদ্যতালিকায় আছে শস্যদানা, কচিকা-, জলজ উদ্ভিদের বীজ, ব্যাঙ ও জলজ পোকামাকড়। বেশ উড়তে সক্ষম। বিপদে পড়লে এরা পানিতে ডুব দিয়ে পালায়; তবে খাদ্যের খোঁজে তা করে না; প্রায়শঃ গাছের ডালে দাঁড়িয়ে বিশ্রাম করে। ছেলেপাখিরা নিচু স্বরে ব্যাঙের মত ডাকে এবং প্রজনন ঋতুতে গাড়ির হর্নের শব্দে ডাক দেয়। জুলাই-সেপ্টেম্বর মাসের প্রজনন ঋতুতে পানির কাছাকাছি কোন প্রাচীন গাছের প্রাকৃতিক গর্তে ডালপালা, ঘাস, শুকনো পাতা ও পালক দিয়ে বাসা বেঁধে ডিম পাড়ে। ডিমগুলো ফ্যাকাসে ও পীতাভ, সংখ্যায় ৭-১৫টি, মাপ ৬.২-৪.৩ সেমি। মেয়েহাঁস একাই ডিমে তা দেয়; ৩০ দিনে ডিম ফোটে।

আরো পড়ুন:  উত্তুরে ল্যাঞ্জাহাঁস বিশ্বে বিপদমুক্ত এবং বাংলাদেশের সুলভ পরিযায়ী পাখি

বিস্তৃতি: নাকতা হাঁস বাংলাদেশের প্রাক্তন আবাসিক এবং বর্তমানে বিরল পরিযায়ী পাখি; এখন শীতে ঢাকা ও সিলেট বিভাগের আর্দ্রভূমি ও হাওরে চোখে পড়ে যেখানে তারা আগে স্থায়িভাবে বাস করত। বাসা তৈরির উপযুক্ত জায়গার অভাবে এখন এ দেশে এর প্রজনন সম্ভব নয়। দক্ষিণ আমেরিকা, আফ্রিকা ও এশিয়ায় এর বৈশ্বিক বিস্তৃতি রয়েছে; এশিয়ার মধ্যে দক্ষিণ চিন, মিয়ানমার, থাইল্যান্ড, কাম্পুচিয়া, লাওস, এবং ভুটান ও মালদ্বীপ ব্যতীত ভারত উপমহাদেশের অন্যান্য দেশে আছে।

অবস্থা: নাকতা হাঁস বিশ্বে বিপদমুক্ত ও বাংলাদেশে মহাবিপন্ন বলে বিবেচিত। বিগত তিন প্রজন্ম ধরে এদের সংখ্যা কমেছে, তবে দুনিয়ায় এখন ১০,০০০-এর অধিক পূর্ণবয়স্ক পাখি আছে, তাই এখনও আশঙ্কাজনক পর্যায়ে এই প্রজাতি পৌঁছেনি। সেকারণে আই. ইউ. সি. এন. এই প্রজাতিটিকে ন্যূনতম বিপদগ্রস্ত (Least Concern LC) বলে ঘোষণা করেছে।[২] বাংলাদেশের ১৯৭৪[১] ও ২০১২ সালের বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইনে এই প্রজাতিটি সংরক্ষিত।[৩]

বিবিধ: নাকতা হাঁসের বৈজ্ঞানিক নামের অর্থ নাকওয়ালা কালোপিঠ (গ্রিক: sarc = মাংসল উপাঙ্গ, ornis = পাখি, melas = কালো, notos = পিঠের)।

তথ্যসূত্র:

১. মো: আনোয়ারুল ইসলাম ও এম কামরুজ্জামান, (আগস্ট ২০০৯)। “পাখি”। আহমাদ, মোনাওয়ার; কবির, হুমায়ুন, সৈয়দ মোহাম্মদ; আহমদ, আবু তৈয়ব আবু। বাংলাদেশ উদ্ভিদ ও প্রাণী জ্ঞানকোষ ২৬ (১ সংস্করণ)। ঢাকা: বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি। পৃষ্ঠা ১৯-২০। আইএসবিএন 984-30000-0286-0।

২. “Sarkidiornis melanotos“, http://www.iucnredlist.org/details/45953631/0,  The IUCN Red List of Threatened Species। সংগ্রহের তারিখ: ২৩ আগস্ট ২০১৮।

৩. বাংলাদেশ গেজেট, অতিরিক্ত সংখ্যা, জুলাই ১০, ২০১২, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার, পৃষ্ঠা-১১৮৪৪৯।

Leave a Comment

error: Content is protected !!