বৈকাল তিলিহাঁস বিশ্বে বিপদমুক্ত এবং বাংলাদেশের অনিয়মিত পাখি

[otw_shortcode_info_box border_type=”bordered” border_color_class=”otw-red-border” border_style=”bordered” shadow=”shadow-inner” rounded_corners=”rounded-10″]দ্বিপদ নাম: Sibirionetta formosa সমনাম: Anas formosa, Georgi, 1775 বাংলা নাম: বৈকাল তিলিহাঁস ইংরেজি নাম: Baikal Teal জীববৈজ্ঞানিক শ্রেণীবিন্যাস জগৎ/রাজ্যKingdom: Animalia বিভাগ/Phylum: Chordata শ্রেণী/Class: Aves পরিবার/Family: Anatidae গণ/Genus: Sibirionetta প্রজাতি/Species: Sibirionetta formosa Georgi, 1775[/otw_shortcode_info_box]

ভূমিকা: বাংলাদেশের পাখির তালিকায় Sibirionetta গণে বাংলাদেশে রয়েছে ১টি প্রজাতি এবং পৃথিবীতেও ১টি প্রজাতি রয়েছে। আমাদের আলোচ্য হাঁসটি হচ্ছে বৈকাল তিলিহাঁস।

বর্ণনা: বৈকাল তিলিহাঁস রঙিন এক খুদে হাঁস (দৈর্ঘ্য ৪১ সেমি, ওজন ২০০গ্রাম, ডানা ২১.৫ সেমি, ঠোঁট ৩.৫ সেমি, পা ৩.৩ সেমি, লেজ ৯ সেমি)। ছেলে ওমেয়েপাখির চেহারায় পার্থক্য আছে। প্রজননকালে ছেলেহাঁসের মাথায় ও মুখেনানা রঙের নকশা হয়; মাথার চাঁদি, ঘাড়, ঘাড়ের পিছনভাগ ও গলা কালো; পীতাভমুখে দুটি স্পষ্ট পট্টি থাকে: কালো খাড়া এক পট্টি চোখ থেকে নেমে গলায় ওসবুজ এক পট্টি চোখের পিছন থেকে মাথার পাশ দিয়ে চলে যায়; বুকে কালো ফুটকি; বগল ধূসর; পেট সাদা; ব্রঞ্জ-সবুজে মেশানো ডানার পতাকা; এবং লেজের তলায়স্লেট-রঙ। মেয়েহাঁসেরদেহ বাদামি; মাথার কালচে চাঁদি ও ঠোঁটের গোড়ায়সাদা পট্টি আছে। ছেলে ও মেয়েহাঁসেরউভয়ের চোখ বাদামি; ঠোঁট কালচে-নীলবা কালো; এবং পা ও পায়ের পাতা স্লেট-নীল। প্রজননকাল ছাড়া ছেলেহাঁসেরলালচে বুক ও বগল ছাড়া দেখতে মেয়েহাঁসের মত। ঠোঁটের গোড়ায় সাদা পট্টিছাড়া অপ্রাপ্তবয়স্ক হাঁসও দেখতে মেয়েহাঁসের মত।

বৈকাল তিলিহাঁস, মেয়ে, আলোকচিত্র: Dhanabir Singh

স্বভাব: বৈকাল তিলিহাঁস লতাপাতা-সমৃদ্ধ মিঠাপানির বড় জলাভূমিতে বিচরণ করে; সাধারণত একা, জোড়ায় বা অন্য হাঁসের দলে মিশে থাকতে দেখা যায়। পানিতে মাথা ডুবিয়ে খাবার খোঁজে; খাদ্যতালিকায় রয়েছে জলজ উদ্ভিদের পাতা, মূল, কচিকা- ও বীজ, পোকামাকড়, কেঁচো, শামুক-জাতীয় প্রাণী, ইত্যাদি। প্রয়োজনে পানি থেকে এরা খাড়া উঠে যেতে পারে; ঘন ঘন ডানা সঞ্চালন করে প্লত উড়ে যায়। প্রজনন ঋতুতে পুরুষহাঁসেরা মুরগির মত ডাকে: ওট-ওট-ওট… এবং স্ত্রীহাঁসেরা নিচু কম্পিত কণ্ঠে সাড়া দেয়। গ্রীষ্মে এরা সাইবেরিয়ার পূর্বাঞ্চলে পানির ধারে উঁচু ঘাসের জমিতে বাসা করে ডিম পাড়ে। ডিমগুলো সবুজাভ-ধূসর; সংখ্যায় ৮-১০টি।

আরো পড়ুন:  দেশি মেটেহাঁস বিশ্বে বিপদমুক্ত এবং বাংলাদেশের দুর্লভ আবাসিক পাখি

বিস্তৃতি: বৈকাল তিলিহাঁস বাংলাদেশের অনিয়মিত পাখি; শীতে ঢাকা ও সিলেট বিভাগের জলাশয়ে দেখতে পাওয়ার দু’টি তথ্য রয়েছে। পৃথিবীতে এর বিস্তৃতি কেবল এশিয়ার সাইবেরিয়া, চিন, কোরিয়া ও জাপানে সীমাবদ্ধ; পাকিস্তান, ভারত নেপাল ও মিয়ানমারে কালেভদ্রে আসে।

অবস্থা: বৈকাল তিলিহাঁস বিশ্বে সংকটাপন্ন বলে বিবেচিত। বিগত তিন প্রজন্ম ধরে এদের সংখ্যা কমেছে, তবে দুনিয়ায় এখন এঁদের যথেষ্ট পূর্ণবয়স্ক পাখি আছে, তাই এখনও আশঙ্কাজনক পর্যায়ে এই প্রজাতি পৌঁছেনি। সেকারণে আই. ইউ. সি. এন. এই প্রজাতিটিকে ২০১২ সালের মূল্যায়নে ন্যূনতম বিপদগ্রস্ত (Least Concern LC) বলে ঘোষণা করেছে। যদিও ২০০৮ সালের পূর্বে এটি সংকটাপন্ন হিসেবে বিবেচিত ছিল।[২] বাংলাদেশের ২০১২ সালের বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইনে এই প্রজাতিটি সংরক্ষিত।[৩]

বিবিধ: বৈকাল তিলিহাঁসের আগের বৈজ্ঞানিক নামের অর্থ সুন্দর হাঁস (ল্যাটিন : Anas = হাঁস, formosus = সুন্দর)।

তথ্যসূত্র:

১. মনিরুল এইচ খান, (আগস্ট ২০০৯)। “পাখি”। আহমাদ, মোনাওয়ার; কবির, হুমায়ুন, সৈয়দ মোহাম্মদ; আহমদ, আবু তৈয়ব আবু। বাংলাদেশ উদ্ভিদ ও প্রাণী জ্ঞানকোষ ২৬ (১ সংস্করণ)। ঢাকা: বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি। পৃষ্ঠা ২৫-২৬। আইএসবিএন 984-30000-0286-0।

২. “Sibirionetta formosa“, http://www.iucnredlist.org/details/22680317/0,  The IUCN Red List of Threatened Species। সংগ্রহের তারিখ: ২৫ আগস্ট ২০১৮।

৩. বাংলাদেশ গেজেট, অতিরিক্ত সংখ্যা, জুলাই ১০, ২০১২, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার, পৃষ্ঠা-১১৮৪৫০।

Leave a Comment

error: Content is protected !!