আপনি যা পড়ছেন
মূলপাতা > প্রাণ > প্রাণী > পাখি > বর্গ-লেজি ফিঙেপাপিয়া বিশ্বে বিপদমুক্ত এবং বাংলাদেশের সুলভ পরিযায়ী পাখি

বর্গ-লেজি ফিঙেপাপিয়া বিশ্বে বিপদমুক্ত এবং বাংলাদেশের সুলভ পরিযায়ী পাখি

[otw_shortcode_info_box border_type=”bordered” border_color_class=”otw-red-border” border_style=”bordered” shadow=”shadow-inner” rounded_corners=”rounded-10″]দ্বিপদ নাম: Surniculus lugubris সমনাম: Cuculus lugubris Horsfield, 1821 বাংলা নাম: বর্গ-লেজি ফিঙেপাপিয়া, এশীয় ফিঙেপাপিয়া ইংরেজি নাম: Square-tailed Drongo-Cuckoo. জীববৈজ্ঞানিক শ্রেণীবিন্যাস জগৎ/রাজ্য Kingdom: Animalia বিভাগ/Phylum: Chordata শ্রেণী/Class: Aves পরিবার/Family: Cuculidae গণ/Genus: Surniculus, Lesson, 1830; প্রজাতি/Species: Surniculus lugubris (Horsfield, 1821)[/otw_shortcode_info_box]

ভূমিকা: বাংলাদেশের পাখির তালিকায় Surniculus গণে বাংলাদেশে রয়েছে এর ১টি প্রজাতি এবং পৃথিবীতে রয়েছে ৪টি প্রজাতি। বাংলাদেশে প্রাপ্ত ও আমাদের আলোচ্য প্রজাতিটির নাম হচ্ছে বর্গ-লেজি ফিঙেপাপিয়া।

বর্ণনা: বর্গ-লেজি ফিঙেপাপিয়া ডোরা অবসারণীওয়ালা কালো পাখি (দৈর্ঘ্য ২৫ সেমি., ডানা ১৪ সেমি., ঠোঁট ২.৫ সেমি., পা ২ সেমি., লেজ ১৪ সেমি.)। ব্রঞ্জ ফিঙে Dicrurus aeneus-র সঙ্গে বেশ মিল রয়েছে। সামান্য কিছু অংশে পার্থক্য ছাড়া পুরো দেহই চকচকে কালো। দেহের অবসারণী ও দীর্ঘ চেরালেজ দেহের বাকি অংশের চেয়ে কম চকচকে। লেজের নিচের কোর্ভাট ও লেজের একেবারে বাইরের পালকের গোড়ায় সাদা ডোরা রয়েছে। ঘাড়ের পিছনের ক্ষুদ্র সাদা পট্টি কেবল খুব কাছ থেকে চোখে পড়ে। চোখ কালচে বাদামি ও ঠোঁট বাদামি-কালো। পা ও পায়ের পাতা নীলচে-শ্লেট রঙের ও নখর শিঙ-বাদামি। ছেলে ও মেয়েপাখির মধ্যে চেহারায় কোন পার্থক্য নেই। অপ্রাপ্তবয়স্ক পাখি পূর্ণ বয়স্কের চেয়ে কম চকচকে ও লেজের নিচের কোর্ভাটে বেশ সাদা ডোরা থাকে। মাথা, স্ক্যাপুলার, ডানার কোর্ভাট ও বুকে ফুটকি আছে। সাদা ফুটকিসহ ছানারা অনুজ্জ্বল কালো। ৪টি উপ-প্রজাতির মধ্যে S. l. Dicruroides বাংলাদেশে পাওয়া যায়।

স্বভাব: বর্গ-লেজি ফিঙেপাপিয়া চিরসবুজ বন, বনের প্রান্তদেশ ও ঘেরা বাগানে পাওয়া যায়। সচরাচর একা বা জোড়ায় বিচরণ করে। সামান্য ওড়ে খাবার খায়। : শুঁয়োপোকা ও কোমল দেহের পোকামাকড় খায়। তা ছাড়া ফল ও ফুলের মিষ্টি রসও খেয়ে থাকে। মে-সেপ্টেম্বর প্রজনন ঋতু। পূর্বরাগের সময় ছেলেপাখি গাছের খোলা মগডাল থেকে ভোরে ও গোধূলিতে, মেঘাচ্ছন্ন সারাদিন ও পূর্ণিমা রাতে ডাকে। ৫-৮ বার উচ্চ মধুর সুরে শিস্ দিয়ে ডাকে:পিপ-পিপ-পিপ-পিপ-পিপ-পিপ…। বাসা তৈরি, ডিম ফোঁটানো কিংবা ছানার পরিচর্যা এর কোনটিই করে না। মেয়েপাখি খুদে পেঙ্গা যেমন-ফুলভেটা, চেরালেজ ও অন্য খুদে পাখির বাসায় ডিম পাড়ে।

বিস্তৃতি: বর্গ-লেজি ফিঙেপাপিয়া বাংলাদেশের সুলভ পরিযায়ী পাখি; চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের চিরসবুজ বনে বিচরণ করে। পাকিস্তান, ভারত, নেপাল, ভুটান, শ্রীলংকা, চিনসহ দক্ষিণ থেকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় এর বৈশ্বিক বিস্তৃতি রয়েছে।

অবস্থা: বর্গ-লেজি ফিঙেপাপিয়া বিশ্বে ও বাংলাদেশে বিপদমুক্ত বলে বিবেচিত। বিগত তিন প্রজন্ম ধরে এদের সংখ্যা কমেছে, তবে দুনিয়ায় এখন ১০,০০০-এর অধিক পূর্ণবয়স্ক পাখি আছে, তাই এখনও আশঙ্কাজনক পর্যায়ে এই প্রজাতি পৌঁছেনি। সে কারণে আই. ইউ. সি. এন. এই প্রজাতিটিকে ন্যূনতম বিপদগ্রস্ত (Least Concern LC) বলে ঘোষণা করেছে।[২] বাংলাদেশের ১৯৭৪[১] ও ২০১২ সালের বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইনে এই বর্গ-লেজি ফিঙেপাপিয়াকে সংরক্ষিত ঘোষণা করা হয়েছে।[৩]

বিবিধ: বর্গ-লেজি ফিঙেপাপিয়ার বৈজ্ঞানিক নামের অর্থ শোকাতুর ফিঙেপাপিয়া (ফ্রেঞ্চ: Surniculus = ফিঙেপাপিয়া; ল্যাটিন: lugubris = শোকাতুর)।

তথ্যসূত্র:

১. মো: আনোয়ারুল ইসলাম ও সুপ্রিয় চাকমা, (আগস্ট ২০০৯)। “পাখি”। আহমাদ, মোনাওয়ার; কবির, হুমায়ুন, সৈয়দ মোহাম্মদ; আহমদ, আবু তৈয়ব আবু। বাংলাদেশ উদ্ভিদ ও প্রাণী জ্ঞানকোষ ২৬ (১ সংস্করণ)। ঢাকা: বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি। পৃষ্ঠা – ৭৩। আইএসবিএন 984-30000-0286-0।

২. “Surniculus lugubris“, http://www.iucnredlist.org/details/22728167/0,  The IUCN Red List of Threatened Species। সংগ্রহের তারিখ: ১১ সেপ্টেম্বর ২০১৮।

৩. বাংলাদেশ গেজেট, অতিরিক্ত সংখ্যা, জুলাই ১০, ২০১২, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার, পৃষ্ঠা-১১৮৪৫৫।

আরো পড়ুন:  পাকরা পাপিয়া বিশ্বে বিপদমুক্ত এবং বাংলাদেশের দুর্লভ পরিযায়ী পাখি
Anup Sadi
অনুপ সাদির প্রথম কবিতার বই “পৃথিবীর রাষ্ট্রনীতি আর তোমাদের বংশবাতি” প্রকাশিত হয় ২০০৪ সালে। তাঁর মোট প্রকাশিত গ্রন্থ ১১টি। সাম্প্রতিক সময়ে প্রকাশিত তাঁর “সমাজতন্ত্র” ও “মার্কসবাদ” গ্রন্থ দুটি পাঠকমহলে ব্যাপকভাবে সমাদৃত হয়েছে। ২০১০ সালে সম্পাদনা করেন “বাঙালির গণতান্ত্রিক চিন্তাধারা” নামের একটি প্রবন্ধগ্রন্থ। জন্ম ১৬ জুন, ১৯৭৭। তিনি লেখাপড়া করেছেন ঢাকা কলেজ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। ২০০০ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি সাহিত্যে এম এ পাস করেন।

Leave a Reply

Top
You cannot copy content of this page