সরপুঁটি-এর বর্ণনা:
দেহ গভীর এবং মধ্যম চাপা। প্রান্তীয় মুখ থাকে। এদের দেহের পৃষ্ঠভাগ উঁচু। পুচ্ছপাখনার গোঁড়া অপেক্ষা তুন্ড শীর্ষের অধিক নিকটে থেকে উৎপন্ন হয়। বক্ষপাখনা তুন্ডবিহীন মাথার দৈর্ঘ্যের সমান। এদের দেহ রুপালি বর্ণের, পৃষ্ঠভাগ অপেক্ষাকৃত গাঢ় হয়। ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র বিন্দু দেখা যায়; তবে পাখনাগুলো ধূসর সাদা বর্ণের হয়।
বসবাস:
সরপুঁটি পানির উপরিভাগ এবং তলদেশ উভয় স্তরেই বাস করে এবং স্বাদু পানির অভ্যন্তরেই এদের চলাচল। সাধারণত স্থির ও অগভীর জলাশয়, পুকুরের ধারে অগভীর পানি, এবং নদীর কাদাময় তলদেশে বাস করে। এরা পুকুরের তলদেশ এবং মধ্যম স্তর থেকে খাবার সংগ্রহ করে (Mustafa et al., 1980)। এই প্রজাতির মাছ খাদ্যের জন্য জলজ উদ্ভিদ, কাদায় বসবাসকারী অমেরুদন্ডী প্রাণী এবং পোকামাকড়ের উপর নির্ভরশীল।
বিস্তৃতি:
সরপুঁটি প্রজাতির মাছ এশিয়া, বিশেষ করে আফগানিস্থান, পাকিস্তান, ভারত, নেপাল, বাংলাদেশ, ভূটান এবং শ্রীলংকায় ব্যাপকভাবে বিস্তৃত। আবার থাইল্যান্ডেও এই মাছ পাওয়া গিয়েছে।
চাষাবাদ:
P sarana বাণিজ্যিকভাবে কম গুরুত্বপূর্ণ । শীতকালে বেড় জালে বিল বা অগভীর জলাশয় এবং ডোবায় প্রচুর পরিমাণে এই মাছ ধরা পড়ে যা বাজারে সহজেই পাওয়া যায় । মৎস্য চাষীরা পুকুরে এই মাছের চাষ করে থাকে। ধানের কুড়া ব্যবহার করলে ছয় মাসে প্রতি হেক্টরে ১.২ মেট্রিকটন মাছ পাওয়া যায়। খামারে কৃত্রিমভাবে এই মাছের প্রজনন করা হয়। তবে থাই পুঁটির এর তুলনায় এই মাছে বৃদ্ধির হার কম। এই মাছ খেতে সুস্বাদু।
বর্তমান অবস্থা এবং সংরক্ষণ:
IUCN Bangladesh (2000) এর তালিকায় মহাবিপন্ন প্রজাতি হিসেবে চিহ্নিত। কিন্তু মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র এবং বাজারে এই মাছের সহজ প্রাপ্যতা প্রমাণ করে যে এটি এখনও মহাবিপন্ন প্রজাতির অন্তর্ভুক্ত নয়। তবে আবাসস্থল ধ্বংস এবং অতিরিক্ত মৎস্য আহোরণ এই প্রজাতির জন্য অন্যতম প্রধান হুমকি।
মন্তব্য: সিলেট জেলায় অবস্থিত ‘গাচের দাহার মৎস্য খামারে ’ সর্ব্বোচ্চ ৪২ সেমি দৈর্ঘ্য এবং ১.৪ কেজি ওজন বিশিষ্ট এই প্রজাতির মাছ পাওয়া গিয়েছে।
তথ্যসূত্র:
১. এ কে আতাউর রহমান, গাউছিয়া ওয়াহিদুন্নেছা চৌধুরী (অক্টোবর ২০০৯)। “স্বাদুপানির মাছ”। আহমেদ, জিয়া উদ্দিন; আবু তৈয়ব, আবু আহমদ; হুমায়ুন কবির, সৈয়দ মোহাম্মদ এবং অন্যান্য। বাংলাদেশ উদ্ভিদ ও প্রাণী জ্ঞানকোষ ২৩ (১ সংস্করণ)। ঢাকা: বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি। পৃ: ৯৯–১০০। আইএসবিএন 984-30000-0286-0
জন্ম ৮ জানুয়ারি ১৯৮৯। বাংলাদেশের ময়মনসিংহে আনন্দমোহন কলেজ থেকে বিএ সম্মান ও এমএ পাশ করেছেন। তাঁর প্রকাশিত কবিতাগ্রন্থ “স্বপ্নের পাখিরা ওড়ে যৌথ খামারে”, “ফুলকির জন্য অপেক্ষা”। যুগ্মভাবে সম্পাদিত বই “শাহেরা খাতুন স্মারক গ্রন্থ” এবং যুগ্মভাবে রচিত বই “নেত্রকোণা জেলা চরিতকোষ”। বিভিন্ন সাময়িকীতে তাঁর কবিতা প্রকাশিত হয়েছে। এছাড়া শিক্ষা জীবনের বিভিন্ন সময় রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক কাজের সাথে যুক্ত ছিলেন। বর্তমানে রোদ্দুরে ডট কমের সম্পাদক।