সরপুঁটি দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের জনপ্রিয় সুস্বাদু মাছ

মাছ

সরপুঁটি

বৈজ্ঞানিক নাম: Puntius sarana (Hamilton, 1822) সমনাম: Cyprinus sarana Hamilton, 1822, Fishes of the Ganges, p. 307; Barbus deliciosus McClelland, 1839, Asiat. Res., pp. 217-471; Barbus sarana Day, 1878, Fishes of India, p. 560; Barbus (Puntius) sarana Bhuiyan, 1964, Fishes of Dacca, p. 33; Puntius sarana Rahman, 1974, Bangladesh J. Sci. Ind. Res. 9(3-4): 151. ইংরেজি নাম: Olive Barb. স্থানীয় নাম: সরপুঁটি, সরনা পুঁটি, সরাল পুঁটি, কুর্টি 
জীববৈজ্ঞানিক শ্রেণিবিন্যাস 
জগৎ: Animalia পর্ব: Chordata শ্রেণী: Actinopterygii বর্গ: Cypriniformes পরিবার: Cyprinidae গণ: Systomus প্রজাতি: S. sarana

বর্ণনা: দেহ গভীর এবং মধ্যম চাপা। প্রান্তীয় মুখ থাকে। এদের দেহের পৃষ্ঠভাগ উঁচু। পুচ্ছপাখনার গোঁড়া অপেক্ষা তুন্ড শীর্ষের অধিক নিকটে থেকে উৎপন্ন হয়। বক্ষপাখনা তুন্ডবিহীন মাথার দৈর্ঘ্যের সমান। এদের দেহ রুপালি বর্ণের, পৃষ্ঠভাগ অপেক্ষাকৃত গাঢ় হয়। ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র বিন্দু দেখা যায়; তবে পাখনাগুলো ধূসর সাদা বর্ণের হয় (Rahman, 2005)।

বসবাস: সরপুঁটি পানির উপরিভাগ এবং তলদেশ উভয় স্তরেই বাস করে এবং স্বাদু পানির অভ্যন্তরেই এদের চলাচল। সাধারণত স্থির ও অগভীর জলাশয়, পুকুরের ধারে অগভীর পানি, এবং নদীর কাদাময় তলদেশে বাস করে। এরা পুকুরের তলদেশ এবং মধ্যম স্তর থেকে খাবার সংগ্রহ করে (Mustafa et al., 1980)। এই প্রজাতির মাছ খাদ্যের জন্য জলজ উদ্ভিদ, কাদায় বসবাসকারী অমেরুদন্ডী প্রাণী এবং পোকামাকড়ের উপর নির্ভরশীল।

বিস্তৃতি: সরপুঁটি প্রজাতির মাছ এশিয়া, বিশেষ করে আফগানিস্থান, পাকিস্তান, ভারত, নেপাল, বাংলাদেশ, ভূটান এবং শ্রীলংকায় ব্যাপকভাবে বিস্তৃত। আবার থাইল্যান্ডেও এই মাছ পাওয়া গিয়েছে।

চাষাবাদ: P sarana বাণিজ্যিকভাবে কম গুরুত্বপূর্ণ । শীতকালে বেড় জালে বিল বা অগভীর জলাশয় এবং ডোবায় প্রচুর পরিমাণে এই মাছ ধরা পড়ে যা বাজারে সহজেই পাওয়া যায় । মৎস্য চাষীরা পুকুরে এই মাছের চাষ করে থাকে। ধানের কুড়া ব্যবহার করলে ছয় মাসে প্রতি হেক্টরে ১.২ মেট্রিকটন মাছ পাওয়া যায় (Akhtaruzzaman et al., 1990)। খামারে কৃত্রিমভাবে এই মাছের প্রজনন করা হয়। তবে থাই পুঁটির (Barboleus gonionofus) এর তুলনায় এই মাছে বৃদ্ধির হার কম। এই মাছ খেতে সুস্বাদু।

আরো পড়ুন:  তিত পুঁটি দক্ষিণ এশিয়ার ক্ষুদ্রাকৃতির বর্ণময় স্বাদুপানির মাছ

বর্তমান অবস্থা এবং সংরক্ষণ: IUCN Bangladesh (2000) এর তালিকায় মহাবিপন্ন প্রজাতি হিসেবে চিহ্নিত। কিন্তু মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র এবং বাজারে এই মাছের সহজ প্রাপ্যতা প্রমাণ করে যে এটি এখনও মহাবিপন্ন প্রজাতির অন্তর্ভুক্ত নয়। তবে আবাসস্থল ধ্বংস এবং অতিরিক্ত মৎস্য আহোরণ এই প্রজাতির জন্য অন্যতম প্রধান হুমকি।

মন্তব্য: সিলেট জেলায় অবস্থিত ‘গাচের দাহার মৎস্য খামারে ’ সর্ব্বোচ্চ ৪২ সেমি দৈর্ঘ্য এবং ১.৪ কেজি ওজন বিশিষ্ট এই প্রজাতির মাছ পাওয়া গিয়েছে (Rahman, 2005)।

তথ্যসূত্র:

১. এ কে আতাউর রহমান, গাউছিয়া ওয়াহিদুন্নেছা চৌধুরী (অক্টোবর ২০০৯)। “স্বাদুপানির মাছ”।  আহমেদ, জিয়া উদ্দিন; আবু তৈয়ব, আবু আহমদ; হুমায়ুন কবির, সৈয়দ মোহাম্মদ এবং অন্যান্য। বাংলাদেশ উদ্ভিদ ও প্রাণী জ্ঞানকোষ  ২৩ (১ সংস্করণ)। ঢাকা: বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি। পৃ: ৯৯–১০০। আইএসবিএন 984-30000-0286-0

Leave a Comment

error: Content is protected !!