ডুমেরিলের কালোমাথা সাপ বাংলাদেশে অপ্রতুল তথ্যশ্রেণির সাপ

সাপের প্রজাতি

ডুমেরিলের কালোমাথা সাপ

বৈজ্ঞানিক নাম: Sibynophis subpunctatus (Duméril and Bibron, 1854) সমনাম: Oligodon subpuntatus Duméril and Bibron, 1854; Polyodontophis subpunctatus Boulenger, 1890; Sibynophis subpunctatus Schmidt, 1926.; বাংলা নাম: ডুমেরিলের কালোমাথা সাপ, কালাে মাইটা ব্যান্ড সাপ, কালাে মাথা সাপ, ইঁটেল চাপা, মণি সাপ; ইংরেজি নাম: Dumeril’s Black-headed Snake.
জীববৈজ্ঞানিক শ্রেণীবিন্যাস
জগৎ/রাজ্য: Animalia বিভাগ: Chordata উপপর্ব: Vertebrata শ্রেণী: Reptilia বর্গ: Squamata উপবর্গ: Serpentes পরিবার: Colubridae গণ: Sibynophis, প্রজাতি: Sibynophis subpunctatus (Duméril and Bibron, 1854)

ভূমিকাডুমেরিলের কালোমাথা সাপ কলুব্রিডি পরিবারের সিবিনোফিস গণের একটি সাপের প্রজাতি। বাংলাদেশের সাপের তালিকায় এই গণে বাংলাদেশে রয়েছে ২টি প্রজাতি এবং পৃথিবীতে রয়েছে এই ৯টি প্রজাতি। বাংলাদেশে প্রাপ্ত এই গণের দুটি প্রজাতি হচ্ছে ক. ক্যান্টরের কালোমাথা সাপ এবং খ. ডুমেরিলের কালোমাথা সাপ। আমাদের আলোচ্য প্রজাতিটি হচ্ছে ডুমেরিলের কালোমাথা সাপ।

বর্ণনা: ডুমেরিলের কালোমাথা সাপের দেহ হালকাপাতলা, আঁইশ মসৃণ, মাথা কালাে, দেহের দৈর্ঘ্য প্রায় ২৫ সেমি, দেহের সর্বোচ্চ দৈর্ঘ্য ৪৬ সেমি পর্যন্ত উল্লেখ করা হয়েছে। দেগের উপরিভাগ বাদামী রঙের এবং অঙ্কীয়ভাগ হলুদ রঙের এবং প্রতিটি অঙ্কীয় শিল্ডের বাহিরের সীমানা সংলগ্ন কালাে ফোঁটা থাকে। দেহ এবং লেজ বাদামী রঙের, দেহের midback বরাবর একটি সিরিজে কালাে দাগ থাকে। গ্রীবাতে সাদা কলার থাকে। দেহের পার্শ্বদেশ কখনাে ধূসর এবং কালাে দাগ বা কালাে রেখার মাধ্যমে brown back থেকে পৃথক । মাথা ও nape গাঢ় বাদামী রঙের বা কালাে রঙের, ঠোট হলুদ রঙের, চোখের মধ্যবর্তী স্থানে আড়াআড়ি ব্যান্ড থাকে, দুটি চওড়া ব্যান্ড nape-এর গাঢ় দাগের পামাে বিদ্যমান (Boulenger, 1890; Smith, 1943)।

আঁইশের বিন্যাস ১৭:১৭:১৭ সারি; অঙ্কীয় আঁইশের সংখ্যা ১৭২২১৫; পায়ুর আঁইশ বিভক্ত; নি-পুচ্ছের আঁইশ জোড়ায় থাকে; পুরুষ সাপের ক্ষেত্রে ৬০-৭৬টি এবং স্ত্রী সাপের ক্ষেত্রে ৫৪-৬৩ টি। সুপ্রাল্যাবিয়াল ৮ বা ৯ টি, ৪র্থ থেকে ৫মটি চোখের কাছাকাছি অবস্থিত (যখন ৮টি তখন ৩য় থেকে ৫ম টি)। প্রিঅকুলার ১টি; পােষ্টঅকুলার ২টি; অগ্রটেম্পরাল ২টি; প্যারাইটাল পােষ্টঅকুলার-এর কাছাকাছি অবস্থিত (Whitaker and Captain, 2004)।

আরো পড়ুন:  বাংলাদেশে প্রাপ্ত ১৯৯ প্রজাতির উভচর ও সরীসৃপের তালিকা

স্বভাব ও আবাসস্থল: এই প্রজাতির সাপ পঁচা পাতা, পাথরের নিচে এবং কাঠের গুঁড়িতে বাস করে। এরা দিনের বেলায় ও রাত্রের বেলায় সক্রিয় থাকে। এরা খাদ্য হিসেবে টিকটিকি, অঞ্জন এবং ছােট সাপ গ্রহণ করে। এরা ২-৫টি ডিম পাড়ে (Whitaker and Captain, 2004)।

বিস্তার: ভারত, মিয়ানমার, শ্রীলংকা এবং নেপালে বিস্তৃত (Whitaker and Captain, 2004)। বাংলাদেশের কক্সবাজারে এই প্রজাতির সাপ পাওয়া যায় (IUCN Bangladesh, 2003)।

অবস্থান: এই প্রজাতির সাপ সম্পর্কে বাংলাদেশে তথ্য উপাত্ত যথেষ্ট নয় (IUCN-Bangladesh, 2003)।

আলোকচিত্রের ইতিহাস: এই লেখায় ব্যবহৃত ডুমেরিলের কালোমাথা সাপের ছবিটি Atish Gawai-এর তোলা।

তথ্যসূত্র:

১. এম কামরুজ্জামান, জিয়া উদ্দিন আহমেদ (প্র. সম্পা.), বাংলাদেশ উদ্ভিদ ও প্রাণী জ্ঞানকোষ: উভচর প্রাণী ও সরীসৃপ, খণ্ড: ২৫ (ঢাকা: বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি, ২০০৯), পৃ. ১৬২।

Leave a Comment

error: Content is protected !!