সিরাজগঞ্জের তাড়াশ থেকে ৭০টি কচ্ছপ উদ্ধার, ৩ জনের কারাদণ্ড

বাংলাদেশের সিরাজগঞ্জের তাড়াশে ৭০টি কচ্ছপসহ তিন ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। তাড়াশ উপজেলার রানীরহাট বাজারে ক্রেতা সেজে অভিযান চালিয়ে বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষন বিভাগের টহল দল কর্তৃক কচ্ছপ পাচারকারী চক্রের গডফাদার ও সিন্ডিকেট নেতাসহ তিন জনকে আটক করে। আটকের পর বাংলাদেশের ২০১২ সালের বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা আইনে তাদেরকে ১ বছর করে কারাদন্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমান আদালত। আটককৃতরা হলেন, বগুড়ার শেরপুর উপজেলার নিশি সিং ও সুনীল রায় এবং তাড়াশ উপজেলার উত্তর সিলট গ্রামের ধীরেন্দ্রনাথ। তাড়াশ উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা শরীফ রায়হান কবির ও রাজশাহী বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মোল্যা রেজাউল করিম জানান, সোমবার বিকেলে তাড়াশ উপজেলার উত্তর সীমান্তবর্তী রানীরহাটে অভিযান চালিয়ে কচ্ছপ বিক্রয় ও ধরার অপরাধে ৭০টি কচ্ছপসহ ৩জনকে আটক করা হয়। পরে প্রত্যককে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইনের আওতায় ১ বছর করে কারাদন্ড প্রদান করা হয়েছে। পরে বন বিভাগীয় কর্মকর্তা রেজাউল আলমকে সংগে নিয়ে কচ্ছপগুলো চলনবিলে অবমুক্ত করা হয়।

উল্লেখ্য বাংলাদেশের আইনে কচ্ছপ ধরা, শিকার, পাচার, বিক্রয়, খাওয়া  নিষিদ্ধ। আর একসাথে এতোগুলি কচ্ছপ উদ্ধার হওয়াই রহস্যজনক, বিদেশে পাচারের জন্যও সেগুলি দীর্ঘদিন ধরে জড়ো করা হতে পারে। আমাদের বনভুমি জলাভূমিগুলোতে বন্যপ্রাণী থাকলে পর্যটন খাতে যে আয় হতও তা ঐ প্রাণী হত্যা করা পাওয়া মাংসের দামের চেয়ে লক্ষ গুণ বেশি। একজন ফটোগ্রাফার একটি পাখির ফটো তুলতে গিয়ে কোনো এলাকায় দুদিনে ২০০০ টাকা খরচ করেন।

আমাদের স্মরণে রাখা দরকার আমরা মানুষ জন্মাতে পারি, কিন্তু কচ্ছপ জন্ম দিতে পারি না। কারণ বাংলাদেশের ২৯ প্রজাতির কচ্ছপের ভেতর ৫টি বিলুপ্ত আর বাকিগুলো সঙ্কটাপন্ন ও বিপন্ন। উত্তরবঙ্গে কচ্ছপ সংরক্ষণের জন্য অন্তত দশটি পুকুর এবং কয়েকটি নদীর ও বিলের কিছু অংশে কচ্ছপের আশ্রয়স্থল ঘোষণা করা দরকার। আর উদ্ধারকৃত কচ্ছপগুলোকে তাদের আবাসস্থলে সঠিকভাবে বেঁচে থাকছে কিনা তারও মনিটরিং দরকার।

আরো পড়ুন:  পানকৌড়ি পাখির নিরাপদ আশ্রয়স্থল ঠাকুরগাঁওয়ের কেউটান গ্রাম

Leave a Comment

error: Content is protected !!